প্রতিবেদন

বিমানের রাজহংস উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সদ্যক্রয়কৃত এয়ারক্রাফট রাজহংস উদ্বোধন করেছেন। এটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চতুর্থ ড্রিমলাইনার।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) ভিভিআইপি টারমাকে ফিতা কেটে রাজহংসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বিমানের অভ্যন্তরভাগ পরিদর্শন করেন এবং পাইলট ও ক্রুদের সঙ্গে কথা বলেন। এ উপলক্ষে দেশ ও জাতির অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিমানের বহরে চতুর্থ বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার যুক্ত হয়েছে। এটি জাতীয় পতাকাবাহী বিমানবহরে যুক্ত হওয়া ১৬তম বিমান।
বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের বিমান কারখানা থেকে ওই দিনই সরাসরি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিল ও অন্যান্য উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা জলকামান স্যালুট জানিয়ে বিমানবন্দরে ড্রিমলাইনারটি গ্রহণ করেন।
এর আগে, গত বছরের আগস্ট ও ডিসেম্বর মাসে প্রথম ও দ্বিতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার আকাশবীণা ও হংসবলাকা ঢাকায় এসে পৌঁছায়। গত জুলাই মাসে তৃতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার গাঙচিল ঢাকায় অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি ড্রিমলাইনারের নামকরণ করেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০০৮ সালে মার্কিন বিমাননির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির ১০টি নতুন বিমান ক্রয়ের জন্য ২ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী বোয়িং ইতোমধ্যে ৪টি ৭৭৭-৩০০ইআর ও ২টি ৭৩৭-৮০০ এবং ৪টি ড্রিমলাইনার বিমান হস্তান্তর করেছে।
২৭১ আসনের রাজহংস বোয়িং ৭৮৭-৮’কে অন্যান্য বিমানের তুলনায় ২০ শতাংশ জ্বালানিসাশ্রয়ী বিমান হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। বিমানটি ঘণ্টায় ৬৫০ মাইল বেগে একটানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে এবং ৪৩ হাজার ফুট উচ্চতায় ওয়াই ফাই পরিষেবা দিতে সক্ষম। এর ফলে যাত্রীরা আকাশ থেকে ইন্টারনেটের সাহায্যে বিশ্বের যেকোনো স্থানে তাদের বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।
রাজহংস উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য আরো ২টি বোয়িং বিমান কেনার ইঙ্গিত দিয়ে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে বিমানগুলো রয়েছে সেগুলো ছাড়াও বিমানবহরে আরো ৩টি ড্যাশ বোম্বাডিয়ার বিমান যোগ হবে। আমরা আরো একটি খবর পেয়েছি যে, বোয়িং শিগগিরই তাদের আরো ২টি বিমান বিক্রয় করবে, সেগুলোর জন্য কেউ অর্ডার দেয়নি। সুযোগটা আমরা নেব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ভালো রয়েছে। কাজেই নিজস্ব অর্থে আরো দুটি বিমান ক্রয় করলে সমস্যা হবে না।
তিনি যাত্রীসেবা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে যাত্রী পরিবহন বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্টদের মনোনিবেশ করার নির্দেশ দেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক, বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল মুহাম্মাদ এনামুল বারী (অব.) ও বিমানের নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও মোকাব্বির হোসেইন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
এ বছর হজ ফ্লাইট সুচারুরূপে পরিচালিত হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের হজ ফ্লাইটে একেবারে নির্ঝঞ্ঝাট, চমৎকারভাবে হাজিরা গিয়ে ফিরে এসেছেন। এভাবে হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ঠিক একইভাবে যেন আমাদের যাত্রীরাও অন্যান্য জায়গায় যারা যাবেন, তারাও যেন ভালোভাবে যাতায়াতটা করতে পারেন।
সরকার বিমানের বিভিন্ন বন্ধ স্টেশন নতুনভাবে খোলার এবং নতুন গন্তব্য সৃষ্টির উদ্যোগ নিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইনশাআল্লাহ লন্ডনে আমরা আরো দুইটি স্লট নিতে পারবো।
পাশাপাশি বোয়িংয়ের ড্রিম লাইনার নিয়ে ভবিষ্যতে ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে যাওয়ারও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিষ্ঠা করে যাওয়া রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বাংলাদেশ বিমানের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশে নতুন নতুন বিমানবন্দর গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান বিমানবন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে সরকারের উদ্যোগসমূহও তুলে আনেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন, ইতোমধ্যে কক্সবাজারের বিমানবন্দরটিকে আমরা উন্নয়ন করছি। তাছাড়া সিলেট, সৈয়দপুর, রাজশাহী, বরিশাল; অর্থাৎ ২০০১ এর পর যেগুলো একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো সবগুলো আমরা চালু করেছি এবং উন্নত করেছি। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পরই ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম ও সিলেটে দু’টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আমরা করে দিই।
সরকার দেশকে আর্থিকভাবে আরো উন্নত করার নানা পদক্ষেপ নেয়ায় দেশের রপ্তানি বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রেও আমরা চাচ্ছি খাদ্য এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য যাতে রপ্তানি করতে পারি এবং অন্যান্য পণ্য রপ্তানির সুযোগটা যেন আরো বৃদ্ধি পায়। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা দুটি কার্গো বিমান ক্রয় করবো। তাছাড়া উন্নত মানের কার্গো ভিলেজ আমরা তৈরি করে দেবো, যাতে আরো সহজভাবে এই রপ্তানিটা আমরা করতে পারি।