খেলা

অস্ট্রেলিয়ার নারী ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগে বাংলাদেশের রুমানা-জ্যোতি

ক্রীড়া প্রতিবেদক
আবারো অস্ট্রেলিয়ার নারী ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ-বিগ ব্যাশে অংশ নেয়ার সুযোগ মিলেছে রুমানা আহমেদের। তার সঙ্গী এবার উইকেটরক্ষক ও ব্যাটার নিগার সুলতানা জ্যোতি। আইসিসির উইমেন্স গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট স্কোয়াডের অংশ হিসেবে বিগ ব্যাশে খেলবেন এই দু’জন।
বিগ ব্যাশ শুরু হবে ১৮ অক্টোবর। তার আগে আইসিসির উইমেন্স গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট স্কোয়াড ৬টি টি-টুয়েন্টি খেলবে বিগ ব্যাশের দলগুলোর সঙ্গে। ৯ থেকে ১৪ অক্টোবর হবে ম্যাচগুলো। এরপর ডেভেলপমেন্ট স্কোয়াডের খেলোয়াড়রা বিভিন্ন বিগ ব্যাশ দলে যোগ দেবেন। রোমানা খেলবেন হোবার্ট হ্যারিকেনসের হয়ে, আর নিগার সুলতানা খেলবেন মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে।
নারী ক্রিকেট উন্নয়নের জন্য আইসিসির বিভিন্ন পদক্ষেপের একটি এই উইমেন্স গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট স্কোয়াড। ১৩ সদস্যের স্কোয়াডে বাংলাদেশ ছাড়াও স্কটল্যান্ড, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাপুয়া নিউগিনি ও পাকিস্তানের নারী ক্রিকেটাররা সুযোগ পেয়েছেন।
বাংলাদেশে লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার রুমানা ২০১৮-১৯ মৌসুমে সুযোগ পান বিগ ব্যাশে। ব্রিসবেন হিটে ছিলেন তিনি। তবে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। গত বছর তার সঙ্গে সুযোগ পেয়েছিলেন লেগ স্পিনার খাদিজাতুল কুবরা। এবার অবশ্য তার পরিবর্তে সুযোগ মিলেছে জ্যোতির।

রুমানা আহমেদ
রুমানা আহমেদের জন্ম ২৯ মে, ১৯৯১ সালে খুলনা জেলায়। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে থাকেন।
ডানহাতি ব্যাটসম্যান এবং ডানহাতি লেগ ব্রেক বোলার তিনি। রুমানা বাংলাদেশের সেরা মহিলা অল-রাউন্ডারদের অন্যতম। বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ওডিআই হ্যাট্রিক করার বিরল রেকর্ড গড়েন তিনি।
একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রুমানার অভিষেক ঘটে ২০১২ সালের ২৫ আগস্টে আয়ারল্যান্ড মহিলা ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে। তার সেরা বোলিং পরিসংখ্যান হচ্ছে ভারতের বিপক্ষে ২০ রান দিয়ে ৪ উইকেট লাভ।
২০১৬ সালে আয়ারল্যান্ড সফরে বাংলাদেশের পক্ষে তৃতীয় একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হ্যাট্রিক করেন তিনি। বাংলাদেশের পক্ষে তার এ হ্যাট্রিকটি আন্তর্জাতিক মহিলা ক্রিকেটে প্রথম। খেলায় তিনি ৩/২০ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে বাংলাদেশকে ১০ রানের নাটকীয় বিজয় এনে দেন এবং ১-০ ব্যবধানে ওডিআই সিরিজ জয়ে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। তিনি একে একে কিম গার্থ, ক্লার শিলিংটন ও মেরি ওয়ালড্রনকে আউট করেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন খাদিজাতুল কুবরা ও লেগ স্পিনার ফাহিমা খাতুন। তারা উভয়েই দুই উইকেট করে নেন। তন্মধ্যে ফাহিমা নিজস্ব সেরা বোলিং গড়েন ২/১৩। অপর বামহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার পান এক উইকেট। ওডিআই সিরিজে রুমানা ম্যান অব দ্য সিরিজ পুরস্কার লাভ করেন।
রুমানার টি-টুয়েন্টি আন্তর্জাতিকে অভিষেক ঘটে ২০১২ সালের ২৮ আগস্ট আয়ারল্যান্ড মহিলা ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে। ১২ জানুয়ারি, ২০১৭ সালে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ৫ ওডিআইয়ের সিরিজে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেন রুমানা। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩২ রান দিয়ে কোনো উইকেট না পেলেও ৩৭ রান সংগ্রহ করেন। ওই খেলায় তার দল ৮৬ রানে পরাজিত হয়।
বাংলাদেশ ২০১০ সালে চীনের গুয়াংজুতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসের মহিলা ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় চীন জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে রৌপ্যপদক লাভ করে। রুমানা ওই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের অন্যতম খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি ব্যাট ও বলে ভালো দক্ষতা দেখাতে সমর্থ হন।

নিগার সুলতানা জ্যোতি
নিগার সুলতানা জ্যোতির জন্ম ১ আগস্ট, ১৯৯৭ সালে শেরপুর জেলায়। বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য তিনি। তিনি মূলত উইকেট কিপারের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। পাশাপাশি ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবেও নিগার সুলতানা দলে ভূমিকা রাখছেন।
৬ অক্টোবর, ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে তার ওডিআই অভিষেক ঘটে। করাচীতে অনুষ্ঠিত ওই খেলায় তিনি ১০৯ বল মোকাবিলা করে দু’টি বাউন্ডারি সহযোগে অপরাজিত ৩০ রান সংগ্রহ করেন। এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সালে একই দলের বিপক্ষে করাচীতে অনুষ্ঠিত টি-টুয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত হন তিনি।
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সালে আইসিসি বিশ্ব টি-টুয়েন্টি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক ঘোষিত মহিলা দলে তিনি অন্যতম সদস্য মনোনীত হন। ১৫ মার্চ, ২০১৬ সালে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী খেলায় ভারতের বিপক্ষে অপরাজিত ২৭ রান করলেও তার দল ৭২ রানে পরাজিত হয়।
গত আগস্টে স্কটল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১৯ আইসিসি মহিলা বিশ্ব টি-টুয়েন্টি বাছাইপর্ব প্রতিযোগিতার জন্য বাংলাদেশের দলীয় স্কোয়াড তালিকায় তার নাম ছিল।