রাজনীতি

অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে বিপর্যস্ত বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০০৬ সালের পর থেকে একের পর এক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে রাজনীতি করতে গিয়ে নানামুখী সংকটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পক্ষে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই দায় হয়ে পড়েছে। গুটিকয়েক নেতাকর্মী নিয়ে ছোটখাটো মানববন্ধন আর পল্টনের অফিস থেকে প্রেস রিলিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে বিএনপির রাজনীতি। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে প্রায় ২ বছর ধরে কারাগারে থাকলেও তার মুক্তির বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি কেন্দ্রীয় নেতারা। দলটির মহানগর কমিটির নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে দ্বৈত নীতি গ্রহণ করেছেন। তারা নতুন করে আবার যেন জেলে যেতে না হয়, সে চেষ্টায়ই আছেন সর্বক্ষণ। সরকারি দলের নেতাদের পোঁ ধরে তারা রিলাক্সড মুডেই দিন পার করছেন।
মহানগর কমিটিসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে যে সিদ্ধান্তহীনতা ও পারস্পরিক অবিশ্বস্ততায় হাবুডুবু খাচ্ছেনÑ তা এখন স্পষ্ট। বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে নেতৃত্বের সিদ্ধান্তহীনতা একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন। তারা বলেছেন, সিদ্ধান্তহীনতার পেছনে নেতাদের মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতি এবং অগ্রাধিকার বা সমস্যা চিহ্নিত করতে না পারাসহ বেশ কিছু বিষয় রয়েছে। এ অবস্থায় একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে চরম হ-য-ব-র-ল অবস্থায় আছে বিএনপি।
সংসদে যোগ দেয়া অথবা না দেয়া, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আইনি পদক্ষেপ নেয়া অথবা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করা Ñ এরকমের নানা বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে এক যুগের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না বলে মনে করছে দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তারা মনে করছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে যারা আছেন এবং মহানগর কমিটির সাবেক নেতারা খালেদা জিয়ার বিষয়ে বিশ্বাসঘাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। স্থায়ী কমিটির কোনো সদস্যই কোনো সদস্যকে বিশ্বাস করেন না। মহানগর কমিটির পুরনো নেতারা নতুন কমিটির নেতাদের পাত্তা দেন না। নেতায় নেতায় এই অবিশ্বস্ততা এবং পরস্পরকে পাত্তা না দেয়ার প্রবণতা এতই প্রকট যে, সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে মতপার্থক্যটা এখন ওপেন। ফলে কোনো ইস্যুতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এক জায়গায় পৌঁছতে পারছে না বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় জেলে রয়েছেন। আর দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মামলার কারণে দেশে আসতে পারছেন না। দলটির নেতারা বলছেন, তাদের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা লন্ডনে থাকা তারেক রহমানের সাথে আলোচনা করে যৌথভাবে দল চালাচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দলের চাইতে নিজের ব্যক্তিগত হিসাবনিকাশকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন বেশি। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের এই মনোবৃত্তি পুরোপুরি পেয়ে বসেছে ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্যদেরও। বলা হয়, ঢাকা মহানগর কমিটির নেতাদের সন্দেহজনক আচরণ এবং সরকারি দলের নেতাদের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে চলার মনোবৃত্তির কারণেই খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন বা যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি জমাতে পারছে না বিএনপি।
ঢাকা মহানগর কমিটিকে বিএনপির আন্দোলনের প্রাণ বলা হয়। অথচ এই কমিটি গত এক যুগে কার্যকর একটি আন্দোলনও গড়ে তুলতে পারেনি। এর পেছনে অনেক কারণ আছে। এর অন্যতম হলো মহানগরের প্রভাবশালী নেতা মির্জা আব্বাস, সাদেক হোসেন খোকা, সালাহউদ্দিন আহমেদ, আব্দুস সালাম ও তাদের অনুসারীরা মহানগর রাজনীতিতে এখনও নিজেদের অপরিহার্য মনে করে নতুন কমিটির নেতাদের নিজেদের কব্জায় রাখতে চাচ্ছেন। মির্জা আব্বাস ও সাদেক হোসেন খোকা মনে করেন, তাদের ছাড়া অন্য কোনো নেতাকে দিয়ে আন্দোলন জমানো আদৌ সম্ভব নয়। মহানগর রাজনীতি নিয়ন্ত্রণে যে অর্থের প্রয়োজন হয় সেই অর্থের জোগানের চাবি মির্জা আব্বাস ও সাদেক হোসেন খোকা দিনের পর দিন নিজেদের হাতেই রেখে দিতে চাচ্ছেন।
ঢাকা মহানগর কমিটির বেহাল অবস্থা সম্পর্কে বিএনপির নেতারা বলছেন, মির্জা আব্বাস ও সাদেক হোসেন খোকা তাদের বৃত্তেই ধরে রাখতে চান মহানগর কমিটিকে। এই দুই নেতা ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে বিএনপির ঢাকা মহানগর কমিটিকে কখনোই সক্রিয় হতে দেননি। ঢাকা মহানগর কমিটি খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন প্রশ্নে কোনো জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি মূলত মির্জা আব্বাস ও সাদেক হোসেন খোকার দ্বিমুখী আচরণের কারণে। এদের প্রথমজন খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য গলা ফাটালেও সরকারি দলের নেতাদের সঙ্গেই তার ব্যাংক ব্যবসাসহ যাবতীয় কাজকারবার। দ্বিতীয়জন সরকারের সঙ্গে নেগোশিয়েট করে এখন আমেরিকা প্রবাসী হয়ে বিএনপির রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছেন। মহানগর কমিটিকে চাঙা করার জন্য এই দুই জনের কার্যকর কোনো তৎপরতাই নেই। সরকারের কাছে ভালো হওয়ার জন্য বরং তারা বিএনপির মহানগর কমিটিকে বৃত্তবন্দি করে রেখেছেন। এখন তারা ব্যস্ত আছেন মনোনয়ন বাণিজ্যে। ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে স্ত্রী আফরোজাকে মনোনয়ন পাইয়ে দেয়ার জন্য সক্রিয় হয়ে উঠেছেন মির্জা আব্বাস। অপরদিকে সাদেক হোসেন খোকা সক্রিয় আছেন নিজ পুত্রকে মেয়র পদে মনোনয়ন পাইয়ে দেয়ার কাজে। খালেদা জিয়া তাদের কাছে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই নয়। বিএনপি চেয়ারপারসন মুক্তি পাক বা না পাক তাতে এই দুই নেতার মনে হয় কিছুই যায়-আসে না। তাছাড়া এই দুই নেতা মনে করেন, তারা এখন আর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গুডবুকে নেই। তারেকের সাম্প্রতিক কর্মকা-েও মনে হচ্ছে মির্জা আব্বাস ও সাদেক হোসেন খোকার আসনে তিনি বসাতে চাচ্ছেন রুহুল কবীর রিজভীকে।
জানা যায়, দলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্যই তারেক রহমান একেক সময় একেকজন নেতাকে সামনে আনেন এবং ওই নেতা আবার ক্ষমতাশালী হিসেবে দলের মধ্যে আবির্ভূত হন। মহাসচিব মির্জা ফখরুল হলেও দলের অনেক কাজ তিনি করান জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীকে দিয়ে। এতে দলের মধ্যে বিভেদ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। আবার লন্ডনে তারেক রহমান কাদের পরামর্শে চলছেন, এ নিয়েও ঢাকায় নানা গুঞ্জন আছে। কেউ কেউ বলছেন, তারেক রহমান আগের জায়গায়ই আছেন; উপলব্ধি বা কোনো ধরনের গুণগত পরিবর্তন তার হয়নি।
অনেকের মতে, জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে খুব একটা স্বস্তি বোধ করেন না তারেক রহমান। তাই অপেক্ষাকৃত কনিষ্ঠ বা মধ্যম সারির নেতাদের তিনি সামনে নিয়ে আসতে চাইছেন। কিন্তু তার অনুসারী ওই নেতাদের কারণেই ২০০১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী জোট সরকারের দুর্নাম হয়েছিল বলে মনে করা হয়। ফলে তার নেতৃত্বে দল কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, এ নিয়েও অনেকের মধ্যে সংশয় আছে।
বিএনপির এই বেহাল ও বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে অনেকটা হঠাৎ করেই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে নানামুখী তৎপরতা। তবে এই ইস্যুতে বিএনপির ভেতর থেকেই বেরিয়ে আসছে পরস্পরবিরোধী মত। একদিকে বিএনপির সংসদ সদস্যরা ছুটছেন সরকারের কাছে, অন্যদিকে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কোনো কোনো নেতা চলছেন অন্য পথে। কেউ কেউ প্রকাশ্যেই আবদার করছেন, আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ যেন জামিন আবেদনের বিরোধিতা না করে।
জানা যায়, বিএনপির সংসদ সদস্যদের তৎপরতার নির্দেশনা ছিল লন্ডনে বসবাসরত দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। তার নির্দেশনায় দলীয় এমপিরা খালেদা জিয়া ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির নেতারা এক জায়গায় দাবি করছেন আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি, আরেক জায়গায় সরকার পক্ষকে জামিনে বিরোধিতা না জানানোর অনুরোধ করছেন। এমন অনুরোধের অর্থ হচ্ছে প্রকারান্তরে সরকারের কাছে অনুকম্পা চাওয়া। বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের কেউ চান দেশেই খালেদা জিয়ার চিকিৎসা, আবার কেউ চান তাঁকে বিদেশে নিতে।
অবশ্য এর আগে খালেদা জিয়ার জামিন ইস্যুতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্যের সঙ্গে সরকারের এক উপদেষ্টার বৈঠকও ভেস্তে যায়। অন্যদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের কাছে বিভিন্ন সময়ে বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি তুলে ধরেন এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেন। কূটনীতিকরা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বিষয়ে সচেতন হলেও তাঁর মুক্তির বিষয়ে কোনো কথা বলেননি।
এদিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিএনপির ৭ সংসদ সদস্যের সাক্ষাতের পেছনে সরকারের হাত আছে কি না বা তাঁরা সমঝোতার কোনো বার্তা নিয়ে গিয়েছিলেন কি না তা নিয়েও রয়েছে জল্পনাকল্পনা। তবে ৭ সংসদ সদস্যই জানিয়েছেন, তারা কোনো সমঝোতার বার্তা নিয়ে খালেদা জিয়ার কাছে যাননি। সংসদ সদস্যরা তিনটি বিষয় পরিষ্কার করেছেন। ১. খালেদা জিয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় জামিনের বাইরে অন্য কোনো পন্থায় মুক্তি পেতে চান না। ২. তারা যে দৌড়ঝাঁপ করছেন সেটি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই করছেন এবং ৩. খালেদা জিয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় জামিনে সবচেয়ে বড় বাধা সরকার। এই পদক্ষেপে কিছুটা হলেও সরকারকেও চাপে রাখা যাবে। এই দুই প্রক্রিয়ায় কাজ না হলে বর্তমান সরকারের প্রথম বছর পূর্তিকে সামনে রেখে রাজপথের আন্দোলনকেই তাঁরা বেছে নেবেন।
এদিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের পর সচিবালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করেন বিএনপির হারুনুর রশীদ এমপি। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, খালেদা জিয়া নানা রোগে আক্রান্ত। তার জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। আগে তার মুক্তি হোক। তারপর দেখা যাবে- চিকিৎসা দেশে হবে, নাকি বিদেশে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও তো কিছুদিন আগে লন্ডনে তার চোখের অপারেশন করিয়েছেন, যা দেশে সম্ভব ছিল। কাজেই সামর্থ্য থাকলে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কেন বিদেশে হবে না?
হারুনুর রশীদ আরও বলেন, প্যারোল নিয়ে আগে কোনো আলোচনা হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকেও প্যারোলের কোনো প্রস্তাব দেয়া হয়নি। আর পরিবার ও দলের পক্ষ থেকেও তার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে কোনো আবেদন করা হয়নি। প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি মিডিয়া থেকে এসেছে। এটা মিডিয়ার সৃষ্টি।
খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে ওবায়দুল কাদের কী বলেছেন, সে প্রসঙ্গে হারুনুর রশীদ বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে কথা বলেছি। তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।
খালেদা জিয়ার জামিন ও বিএনপির এমপির সাক্ষাৎসহ সার্বিক বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি খালেদা জিয়া জামিন পেলে যে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চান, সে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। তবে জামিন পেলে চিকিৎসকরা যদি খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার পরামর্শ দেন, তখনই সরকার বিষয়টি দেখবে। তাছাড়া খালেদা জিয়ার সঙ্গে তো আমাদের কোনো শত্রুতা নেই।
হারুনুর রশীদ কার নির্দেশনায় এমন তৎপরতা চালাচ্ছেন, তা নিয়েও বিএনপিতে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলা চলছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির কিছু নেতা বলছেন, তারেক রহমানের নির্দেশনায় হারুনুর রশীদের এমন দৌড়াদৌড়ি বেমানান। এতে সরকারের কাছে নতজানু মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। নতজানু না হয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনই উত্তম পথ। কারণ, সরকার সহজেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে না।
আরেক পক্ষ বলছে, ৭ এমপি ঠিক কাজই করছে। আন্দোলন করার মুরোদ বিএনপির নেই। সেক্ষেত্রে সরকারের হাতে-পায়ে ধরে হলেও খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যবস্থা করা হবে শ্রেয়।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি; যারা ক্ষমতার মূল অংশীদার হিসেবে রাজনৈতিক মাঠে বরাবরই সক্রিয় ছিল। কিন্তু ১/১১-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে রাজনৈতিক ওই সমীকরণ তথা বৃত্ত থেকে ছিটকে পড়ে বিএনপি। কারাবন্দি হন বিএনপি চেয়ারপরসন খালেদা জিয়ার পুত্র ও দলের অন্যতম কান্ডারি তারেক রহমান। পরবর্তীতে কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেন তারেক রহমান। এরপর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে বিএনপি সংসদের সরকারি দল অথবা বিরোধী দল উভয় স্থান থেকেই ছিটকে পড়ে। এমনকি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক মাঠেও তাদের অবস্থান সংকুচিত হয়ে ক্রমেই দুর্বল হতে থাকে। দলের শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থক বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্রমেই দল ছাড়তে থাকে অথবা রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। অনেকে আবার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে ব্যবসাবাণিজ্য করে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। এতে বিএনপি ক্রমেই দুর্বল হতে থাকে। সর্বশেষ গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে দলের ওপর চরম বিপর্যয় নেমে আসে। দল হয়ে পড়ে নেতৃত্বশূন্য এবং অনিশ্চিত গন্তব্যে হাঁটতে থাকে বিএনপি।