কলাম

কার্বন নিঃসরণমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে মনোযোগ বাড়াতে হবে

বর্তমান যান্ত্রিক বিশ্বে প্রযুক্তিগত যত উন্নয়ন ও অগ্রগতি, তাতে ফুয়েল বা জ্বালানির ভূমিকা অপরিহার্য। আজকের এই আধুনিক জীবন যেমন যন্ত্র ছাড়া অবান্তর, তেমনি জ্বালানি ছাড়া যান্ত্রিক সভ্যতা অসম্ভব। গোটা বিশ্বের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৮০ ভাগেরও বেশি জোগান দেয় ফসিল ফুয়েল বা জীবাশ্ম-জ্বালানি; বিশেষ করে পেট্রোলিয়াম তেল, কয়লা এবং প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক জ্বালানি। বলা যায়, জীবাশ্ম-জ্বালানির ওপর আমরা আজ অনেকাংশে নির্ভরশীল। কিন্তু গোটা বিশ্বই আজ জীবাশ্ম-জ্বালানি নির্ভরতা নিয়ে উদ্বিগ্ন। কারণ সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণ করে এই জীবাশ্ম-জ্বালানি।
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত সারা বিশ্বে সব ধরনের জীবাশ্ম-জ্বালানির ব্যবহার ছিল শূন্যের কোটায়, যা ক্রমবর্ধমান হারে বেড়ে গত শতকের শেষ দিকে এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ মিলিয়ন টন প্রাকৃতিক গ্যাস, ৬ হাজার মিলিয়ন টন পেট্রোলিয়াম তেল এবং ২ হাজার মিলিয়ন টন কয়লা। অন্যদিকে জীবাশ্ম-জ্বালানির সঞ্চিত ভা-ার সীমিত ও অ-নবায়নযোগ্য এবং ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ৪০-৫০ বছরের মধ্যে এই মজুদ নিঃশেষ হয়ে যাবে।
এ অবস্থায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে মনোযোগ দিয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীর ওপর দেশের প্রথম পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে ১৯৫৭ সালে শুরু হয়।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম লক্ষ্য হলো গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা এবং ডিজেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো, যার ফলে কমবে কার্বন নিঃসরণ। নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস হিসেবে সরকার সৌর শক্তি, বায়ু শক্তি, জলবিদ্যুৎ, বায়ো ম্যাস, বায়ো ফুয়েল, জিও থার্মাল, নদীর স্রোত, সমুদ্রের ঢেউ ইত্যাদিকে শনাক্ত করেছে। এই কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশ সরকার ২০২০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ খাতে ব্যবহৃত জ্বালানির ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াটের সমান।
আমরা মনে করি, জাতীয় গ্রিডে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে হবে। স্রেডা ও ইডকলকে আরো সক্রিয় করার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের প্রণোদনা বাড়াতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের টার্গেটে সীমাবদ্ধ না থেকে এটিকে যাতে ৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা যায়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এখন থেকেই গ্রহণ করতে হবে।