প্রতিবেদন

জাতীয় স্বার্থে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে নৌবাহিনীর প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ জাতীয় স্বার্থে সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অধিকতর দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে এবং জেটি, যুদ্ধজাহাজ ও সমরাস্ত্র ব্যবহার করে আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব নির্বিঘেœ সফলতার সাথে পালন করুন।
রাষ্ট্রপতি গত ২ অক্টোবর বিএনএস তিতুমীর ঘাঁটিকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড (জাতীয় পতাকা) প্রদান উপলক্ষে এই ঘাঁটির প্যারেড মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন যে, পরবর্তী প্রজন্মের নৌবাহিনী সদস্যরা দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তরুণ প্রজন্ম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখবে।
সমুদ্রে নৌবাহিনীর দুঃসাহসিক কাজের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আপনাদের মূল কর্মক্ষেত্র উত্তাল সাগরে কঠোর পরিশ্রম ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে আপনারা উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।
রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীসমূহের প্রধান (কমান্ডার-ইন-চিফ) মো. আবদুল হামিদ বিশ্বব্যাপী দেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে তাদের সর্বাত্মক প্রয়াস অব্যাহত রাখতে নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের রয়েছে ৭১০ কিলোমিটার উপকূলবর্তী অঞ্চল। এই বিশাল এলাকার প্রায় ৩ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমুদ্রসম্পদের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্যের ৯০ শতাংশ সমুদ্রপথে সম্পন্ন হয়।
রাষ্ট্রপতি ইতোমধ্যে সামুদ্রিক জলসীমায় টহল ও নজরদারি বাড়াতে সরকার আরো দু’টি সামুদ্রিক পেট্রোল বিমান কিনছে বলে উল্লেখ করে বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিমান চলাচল সুবিধাসহ পটুয়াখালীতে দেশের বৃহত্তম শেরে বাংলা বিমানঘাঁটির নির্মাণকাজ চলছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার প্রশিক্ষণ প্রদান ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে অধিক গুরুত্বারোপ করেছে। বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবনদানকারী মুক্তিযোদ্ধা, বিশেষ করে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনসহ নৌবাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এসময় তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিএনএস তিতুমীর ঘাঁটিকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড সার্টিফিকেট (জাতীয় পতাকা) হস্তান্তর করেন।
বিএনএস তিতুমীর বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি নৌঘাঁটি। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৩১ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে শহীদ সৈয়দ মীর নিছার আলী তিতুমীরের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়। তিতুমীর ঘাঁটি মূলত সরবরাহ শাখার কর্মকর্তা ও নাবিকদের কর্মজীবনের বিভিন্ন স্তরে পেশাগত প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অন্যতম বৃহৎ এই তিতুমীর ঘাঁটিতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ সদস্য কর্মরত রয়েছে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, শেখ সালাহউদ্দীন জুয়েল এমপি, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।