ফিচার

ম্যালওয়্যার দ্বারা সৃষ্ট ফায়ারফক্সের সমস্যার সমাধান

স্বদেশ খবর ডেস্ক
ম্যালওয়্যার হলো এক ধরনের ‘ম্যালিশিয়াস সফটওয়্যার’। এই শব্দটি সাধারণত ব্যবহার করা হয় কম্পিউটারে ইনস্টল হওয়া এক ধরনের সফটওয়্যারকে বোঝাতে যেটি তৈরি হয়েছে এমনভাবে, যাতে এটি ব্যবহারকারীকে না জানিয়েই তার কম্পিউটারে অনুপ্রবেশ করতে এবং সিস্টেমের বিভিন্ন ক্ষতি করতে পারে।
অনেক সময় দেখা যায়, কম্পিউটারে ইনস্টল হওয়া ম্যালওয়ারের কারণে ফায়ারফক্সের বিভিন্ন সমস্যা হয়ে থাকে। আপনি হয়ত তা সম্বন্ধে অবগত নন। ম্যালওয়ারের সাধারণ লক্ষণগুলো কী এবং কিভাবে ম্যালওয়্যারকে ইনস্টল হওয়া হতে বিরত রাখা যায় এবং এ থেকে বাঁচার উপায় কী Ñ তা স্বদেশ খবর পাঠকদের সতর্কতার উদ্দেশ্যে বর্ণনা করা হলো।
ম্যালওয়ারের সাধারণ লক্ষণ অসংখ্য। যদিও আপনার পপ আপ ব্লক করা রয়েছে তবুও কিছু বিজ্ঞাপনি পপ আপ সবসমই দেখা যায়।
আপনার অনুসন্ধানগুলো অন্য সাইটে চলে যাচ্ছে। কারণ আপনি সেই ওয়েবসাইটটির তথ্য গ্রহণ করেন এবং আপনি তাদেরকে ব্লক করতে পারছেন না।
আপনার হোম পেজ হাইজ্যাক করা হয়েছে। ফায়ারফক্স একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট লোড করতে পারছে না বা ওয়েবসাইটটির লোড কখনো শেষ হচ্ছে না। আরও তথ্যের জন্য ফায়ারফক্স কখনই লোডিং শেষ করছে না এবং ফায়ারফক্স নির্দিষ্ট কিছু ওয়েবসাইট লোড করতে পারছে না।
ফায়ারফক্স অনেকবার ক্র্যাশ বা হ্যাং করছে।
ফায়ারফক্স চালু হয় না।
ফেসবুকের সংযোগের ক্ষেত্রে সমস্যা।
ফায়ারফক্স অনেকগুলো ট্যাব অথবা উইন্ডো খুলে রাখছে।
অযাচিত টুলবার ইনস্টল হয়ে রয়েছে।

ম্যালওয়্যার ইনস্টল হওয়া
থেকে কিভাবে রক্ষা পাবেন
কিছু সাধারণ নিয়মকানুন মেনে চললেই আপনার কম্পিউটারে ম্যালওয়্যার ইনস্টল হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। আপনার অপারেটিং সিস্টেম এবং অন্য সফটওয়্যারগুলোর হালনাগাদ সংস্করণ রাখুন। অনিরাপদ সফটওয়্যারগুলো সাধারণত অন্যান্য সফটওয়্যারের নিরাপত্তার ফাঁকের যথাযথ সুযোগ নিয়ে থাকে। এই ফাঁকগুলো পরবর্তী সংস্করণে সাধারণত সমাধান করা হয়ে থাকে। নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি যে সকল সফটওয়্যার ও প্লাগইন ব্যবহার করছেন সেগুলোর প্রত্যেকটির সর্বশেষ সংস্করণ আপনি ব্যবহার করছেন কি না। সেটি জানতে আপনি উইন্ডোজ আপডেট সেন্টার ব্যবহার করতে পারেন। প্লাগইনগুলোর সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার করছেন কি না তা নিশ্চিত হতে মোজিলার প্লাগইন পরীক্ষার ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন।
কিছু ওয়েবসাইট আপনাকে নানা সফটওয়্যার ইনস্টল করতে প্রস্তাব করবে। যেমন আপনার ব্রাউজারকে আরও দ্রুত করতে, আপনাকে ওয়েবে অনুসন্ধান করতে আরও সাহায্য করতে, আপনাকে কিছু টুলবার ইনস্টল করতে ইত্যাদি। কিন্তু এগুলো এমনিতেই ফায়ারফক্সে রয়েছে। এগুলো পেতে আলাদা করে অন্য কোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।
কিছু অযাচিত সফটওয়্যার আবার প্যাকেজ আকারেও এসে থাকে। সাধারণত এ প্রোগ্রামগুলো আপনার ব্রাউজিংয়ের অভ্যাসের নানা তথ্য সংগ্রহ করে এবং তাদের নির্মাতাদের কাছে সেই তথ্যগুলো পাঠায়। এভাবে এই সফটওয়্যারগুলো ফায়ারফক্সে হস্তক্ষেপ করে। নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি মোজিলার অ্যাড-অনের ওয়েবসাইট হতেই একমাত্র অ্যাড-অনস ইনস্টল করছেন এবং আরও নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি ংড়ভঃধিৎব রিুধৎফ এ অযাচিত প্রোগ্রামগুলো আনচেক করেছেন।
আপনার সিস্টেমে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করানোর জন্য অনেক অনিরাপদ ওয়েবসাইট আপনাকে পপ-আপ উইন্ডোর মতো নানা ছবি এবং নানা ধরনের অ্যানিমেশন দেখাবে। এগুলো ডাউনলোড করবেন না।
কোনো ভুয়া ফায়ারফক্স চালাবেন না। শুধু সড়ুরষষধ.ড়ৎম/ভরৎবভড়ী হতেই ফায়ারফক্স ডাউনলোড করুন।
অ্যান্টি-ভাইরাস এবং অ্যান্টি-স্পাইওয়্যার সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা চালু করুন এবং আপনার সিস্টেমকে প্রতিনিয়ত স্ক্যান করুন। নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনার অ্যান্টি-ভাইরাস এবং অ্যান্টি-স্পাইওয়্যারের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা সচল রয়েছে। প্রতি মাসে একবার অন্তত আপনার কম্পিউটার স্ক্যান করুন।
যদি আপনার অ্যান্টি-ভাইরাস এবং অ্যান্টি-স্পাইওয়্যার সফটওয়্যার কোনো ম্যালওয়্যার শনাক্ত না করে থাকে তাহলে বিনামূল্যের ম্যালওয়্যার অনুসন্ধানের প্রোগ্রামগুলো দ্বারা আপনার সিস্টেম স্ক্যান করুন। সবগুলো প্রোগ্রাম দ্বারা আপনার স্ক্যান করা উচিত। কারণ প্রত্যেকটি ম্যালওয়্যার আলাদা আলাদা ধরনের ম্যালওয়্যার শনাক্ত করে থাকে এবং স্ক্যানের পূর্বে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি প্রত্যেকটিকে হালনাগাদ করেছেন এবং তাদের সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার করছেন।
সতর্কতা: অ্যান্টি-ভাইরাস এবং অ্যান্টি-স্পাইওয়্যার সফটওয়্যার হয়ত কিছু কিছু সময় ভুল নির্দেশনা তৈরি করতে পারে। সেজন্য আক্রান্ত ফাইলকে না মুছে তাদেরকে য়ঁধৎধহঃরহরহম করে রাখা উচিত।
ম্যালওয়্যার সমস্যা ধরার পর যতক্ষণ পর্যন্ত সমাধানের পথ না পাবেন, ততক্ষণ ফোন কিংবা পিসি বন্ধ রাখুন। এতে ম্যালওয়্যার দূর হবে না ঠিকই, কিন্তু ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে দেবে। ফোন বন্ধ করে কারও সঙ্গে আলাপ করুন। কিভাবে ম্যালওয়্যার দূর করবেন, তার উপায় বের করে তারপর ফোন অন করুন।
ফোন চালু রাখার দরকার হলে পাওয়ার বাটন চেপে ধরুন। তারপর ঝধভব গড়ফব-এ চলে যান। ঝধভব গড়ফব পেলে অরৎঢ়ষধহব সড়ফব-এ ফোন সচল রাখতে পারেন।
সেটিংসে গিয়ে অ্যাপ লিস্ট দেখতে হবে। কোন অ্যাপ আপনার ফোনের ক্ষতি করছে, সেটি শনাক্ত করে আন-ইনস্টল করে দিতে হবে। এভাবে অ্যাপটি ফোন থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।