প্রতিবেদন

শিল্প খাতে সিআইপি হলেন ৪৮ ব্যবসায়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা সিআইপি হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। এর মধ্যে রপ্তানিতে বড় ভূমিকা রাখা ব্যবসায়ীদের সিআইপি ঘোষণা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আর শিল্প স্থাপন, পণ্য উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সিআইপি স্বীকৃতি দেয় শিল্প মন্ত্রণালয়।
সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১৬৪ ব্যবসায়ীকে ২০১৭ সালের জন্য সিআইপি সনদ তুলে দিয়েছে। আর শিল্প মন্ত্রণালয় গত ২৯ সেপ্টেম্বর বেসরকারি খাতে শিল্প স্থাপন, পণ্য উৎপাদন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জাতীয় আয় বাড়ানোসহ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ৪৮ ব্যবসায়ীকে শিল্প খাতের সিআইপি হিসেবে ঘোষণা করেছে। সরকারের সিআইপি নীতিমালা অনুযায়ী ২০১৭ সালের জন্য তাদের সিআইপি ঘোষণা করা হয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয় ঘোষিত ৪৮ সিআইপির মধ্যে ৬ জন পদাধিকারবলে এবং বাকি ৪২ জন বৃহৎ, মাঝারি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে অবদানের জন্য এ স্বীকৃতি পেয়েছেন। নির্বাচিতরা আগামী ১ বছর ব্যবসা সংক্রান্ত কাজে ভ্রমণের সময় বিমান, রেল, সড়ক ও জলপথে সরকারি যানবাহনে আসন সংরক্ষণে অগ্রাধিকার পাওয়াসহ বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ-২ ব্যবহার করতে পারবেন। মেয়াদকালে শিল্প বিষয়ক নীতিনির্ধারণী যেকোনো কমিটিতে সরকার তাদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করবে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের সিআইপিদের নামের তালিকা গত ২৫ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। উপসচিব মোছা. মাকছুদা শিল্পী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বৃহৎ শিল্প (উৎপাদন) শ্রেণিতে সিআইপি হয়েছেন বিএসআরএম স্টিলসের চেয়ারম্যান আলী হোসাইন আকবর আলী, ডিঅ্যান্ডএস প্রিটি ফ্যাশনসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী তালুকদার, জিন্নাত ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল জব্বার, জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিকেল ডিভাইসেসের পরিচালক মো. আবদুর রাজ্জাক, নান্নু স্পিনিং মিলসের এমডি বি এম শোয়েব, হ্যামস গার্মেন্টসের এমডি ইঞ্জিনিয়ার মো. সফিকুর রহমান, বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি মো. পারভেজ রহমান। তালিকায় আরও রয়েছেন আরএকে সিরামিকসের (বাংলাদেশ) এমডি এস এ কে একরামুজ্জামান, বেঙ্গল পলি অ্যান্ড পেপার স্যাকের এমডি ফিরোজ আলম, বাদশা টেক্সটাইলের এমডি মো. বাদশা মিয়া, বিবিএস কেবলসের এমডি প্রকৌশলী মো. আবু নোমান হাওলাদার, বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেডের পরিচালক সাফওয়ান সোবহান, মীর সিরামিকের পরিচালক মাহরীন নাসির, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের এমডি অঞ্জন চৌধুরী ও ইউনিভার্সেল জিন্সের এমডি মো. নাছিরউদ্দিন।
সেবা খাতের বৃহৎ শিল্পমালিকদের মধ্যে সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন এসটিএস হোল্ডিং লিমিটেড বা অ্যাপোলো হসপিটালস লিমিটেডের এমডি খন্দকার মনির উদ্দীন, নাভানা রিয়েল এস্টেটের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম, দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান, মীর আক্তার হোসেন লিমিটেডের এমডি মীর নাসির হোসেন ও ইন্ট্রাকো রিফিউলিং স্টেশনের এমডি মোহাম্মদ রিয়াদ আলী।
উৎপাদনমুখী মাঝারি শিল্পমালিকদের মধ্যে সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন জজ ভূঞা টেক্সটাইল মিলসের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ ফায়জুর রহমান ভূঞা, প্রমি অ্যাগ্রো ফুডসের চেয়ারম্যান মো. এনামুল হাসান খান, অকো-টেক্সের এমডি আবদুস সোবহান, সিটাডেল অ্যাপারেলসের এমডি মো. মাহিদুল ইসলাম খান, মাধবদী ডাইং ফিনিশিং মিলসের এমডি মো. নিজামউদ্দিন ভূঁইয়া লিটন, ফু-ওয়াং ফুডসের এমডি আরিফ আহমেদ চৌধুরী, ফারইস্ট ড্রেসেসের এমডি আজমাত রহমান, কুলিয়ারচর সি ফুডসের (কক্সবাজার) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুছা মিয়া ও বসুমতি ডিস্ট্রিবিউশনের এমডি জেড এম গোলাম নবী।
সেবাধর্মী মাঝারি শিল্পমালিকদের মধ্যে সিআইপি নির্বাচিতরা হলেন নাভানা লিমিটেডের চেয়ারম্যান সফিউল ইসলাম, শান্তা হোল্ডিংসের পরিচালক জেসমিন সুলতানা ও স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ার্সের এমডি খান মো. আফতাবউদ্দিন।
উৎপাদনমুখী ক্ষুদ্র শিল্প শ্রেণিতে সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন অন্বেষা স্টাইলের এমডি ইউএম আশেক, সোনালী ফেব্রিক্স অ্যান্ড টেক্সটাইল মিলসের এমডি মো. আলী হোসেন, কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি মো. মিজবার রহমান, আমানত শাহ উইভিং প্রসেসিংয়ের পরিচালক রেজাউল করিম ও হান্ড্রেড প্লাস এক্সপোর পরিচালক সৈয়দ হারুন গণি।
সেবামুখী ক্ষুদ্র শিল্পমালিকদের মধ্যে ফেয়ার ডিস্ট্রিবিউশনসের এমডি রুহুল আলম আল মাহবুব, যমুনা মিটার ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি আবুল কালাম ভূঁইয়া ও টেকনো মিডিয়া লিমিটেডের এমডি যশোদা জীবন দেবনাথ।
এছাড়া কুটির শিল্প শ্রেণিতে সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন হক ড্রাইসেল লিমিটেডের এমডি আদম তমিজি হক এবং স্মার্ট লেদার প্রোডাক্টসের স্বত্বাধিকারী মাসুদা ইয়াসমিন ঊর্মি।
পদাধিকারবলে ২০১৭ সালে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি হিসেবে থাকা আবদুল মাতলুব আহমাদ, বিজিএমইএ’র তখনকার সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, ফরেন ইনভেস্টর্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ওই সময়কার প্রেসিডেন্ট রূপালী হক চৌধুরী, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তৎকালীন সভাপতি সেলিমা আহমাদ, বাংলাদেশ অ্যামপ্লয়ার্স ফেডারেশনের ২০১৭ সালের সভাপতি সালাহউদ্দিন কাসেম খান এবং জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতির ওই সময়কার সভাপতি মির্জা নূরুল গণী শোভন সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন।