আন্তর্জাতিক

শি চিন পিংয়ের নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগোচ্ছে চীন

মেজবাহউদ্দিন সাকিল
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ১ অক্টোবর চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং বলেছেন, কোনো শক্তিই চীন বা এর জনগণকে রুখে দিতে পারবে না। এই শক্তিধর দেশের ভিত্তি কাঁপানোর মতো কোনো শক্তি নেই। কোনো শক্তিই চীনের জনগণ এবং চীনকে সামনে যেতে বাধা দিতে পারে না।
শি চিন পিং বিশেষভাবে কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে বরং নিজ দেশের প্রতি জোর দিয়ে বলেছেন, চীন শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে।
শি তার ১০ মিনিটেরও কম সময়ের বক্তৃতায় বলেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি দীর্ঘকাল বেঁচে থাকুক এবং চীনা জনগণ দীর্ঘজীবী হোক।
ব্যাপক আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে গণচীন প্রতিষ্ঠার ৭০ বছর পূর্তি উদযাপন করল চীন। কমিউনিস্ট বাহিনী রক্তাক্ত একটি গৃহযুদ্ধে জয় পাওয়ার পর ১৯৪৯ সালের ১ অক্টোবর মাও সে তুং গণচীন প্রতিষ্ঠা করেন। তারপর থেকে অসাধারণ গতিতে আধুনিক চীনের উন্নয়ন ঘটে, কিন্তু আধুনিক রাষ্ট্র হলেও চীন বিশ্বের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রণমূলক রাষ্ট্র।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী পেচিংয়ের কেন্দ্রস্থলে বৃহৎ সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। তিয়েনয়ানমেন স্কয়ারের ওই কুচকাওয়াজে ১৫ হাজার সৈন্য অংশ নেয় এবং চীনের সর্বাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি প্রদর্শনী করা হয়। যে জায়গায় দাঁড়িয়ে মাও গণচীন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন, ঠিক সে জায়গায় দাঁড়িয়ে মাওয়ের অনুরূপ পোশাকে সজ্জিত শি চিন পিং বক্তব্য রাখেন। জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে একমাত্র তিনিই মাওয়ের পোশাক পরে ছিলেন। মাওয়ের স্মৃতির ঝাঁপি মেলে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান শি। ঐক্য, চলমান সংগ্রাম ও চীনের অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন। এরপর একটি গাড়িতে দাঁড়িয়ে তিনি সামরিক কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। এ সময় মাঝে মাঝে হাত নাড়েন তিনি, আর সৈন্যরা জোরালো শব্দে আনুগত্য প্রকাশ করে জবাব দেয়।
৭০ বছর আগে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতাসীন কুয়োমিনটাং (কেএমটি) বা জাতীয় পার্টিকে পরাজিত করার পর মাও সে তুং গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন। রাজতন্ত্রের পতনের পর এই পক্ষ দুটি ১৯২০ সাল থেকে রক্তক্ষয়ী এক গৃহযুদ্ধে পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়ছিল।
চীনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানগুলোতে দেখানো হয়, চীন উঠে দাঁড়িয়েছে, ধনী হয়েছে এবং আগের দশকগুলো থেকে শক্তিশালী হয়েছে। ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের অন্যতম ঝাং গে বলেন, প্রধান বিষয় হলো চীনের কাহিনিগুলো বলা এবং পার্টি ও দেশের ওপর চীনা জনগণের বিশ্বাস তুলে ধরা।
চীন বলছে, তারা সম্পূর্ণ নতুন একটি রাজনৈতিক পদ্ধতির, যাকে চীনা ধরনের সমাজতন্ত্র বলা হচ্ছে, উন্নয়ন ঘটিয়েছে এবং এই পদ্ধতিটি লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়েছে।
কুচকাওয়াজে দেশটির প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা, জনগণের মধ্য থেকে নির্বাচিত কিছু ব্যক্তি এবং ৯৭ দেশের সামরিক অ্যাটাশে উপস্থিত ছিলেন।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র সম্প্রতি বলেন, এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে পেচিং পেশিশক্তি দেখাচ্ছে না বা এর প্রয়োজনীয়তাও দেখছে না। শান্তিকামী ও দায়বদ্ধ চীনকে উপস্থাপন করাই এ প্রদর্শনীর লক্ষ্য।
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামরিক বাহিনীর ৫৯টি পৃথক বিভাগের ১৫ হাজার সদস্য এ কুচকাওয়াজে অংশ নেয়, ৫৮০টি সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয় এবং ১৬০টি এয়ারক্রাফট আকাশে উড়ে। চাং অ্যান এভিনিউতে প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। এরপর পদাতিক সৈন্য, সমরাস্ত্র ও বিমানগুলো তিয়েনয়ানমেন স্কয়ার অতিক্রম করে এগিয়ে যায়। কুচকাওয়াজে চীনের ৮ হাজার সদস্যের শক্তিশালী শান্তিরক্ষী বাহিনীর একটি দলও প্রথমবারের মতো অংশ নেয়। নিজেদের বানানো নতুন ক্ষেপণাস্ত্র, স্টিলথ ও মনুষ্যবিহীন যন্ত্রের সক্ষমতার এ প্রদর্শনী নিয়ে দেশটির সেনাবাহিনী (পিএলএ) খুব উৎফুল্ল ছিল।
শি চিন পিংয়ের নেতৃত্বে চীন এখন বিশাল এক স্বপ্ন নিয়ে বিভোর। এটি হচ্ছে ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড অর্থাৎ এক অঞ্চল এক পথ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন। বলা যায়, শি চিন পিংয়ের ব্রেন চাইল্ড হচ্ছে ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রকল্প।
এতে আছে চীনের সাথে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের অন্তত ৭০টি দেশের জলে ও স্থলে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা। আছে এসব অঞ্চলের অবকাঠামো নির্মাণ, সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য বাড়ানোর উন্নয়ন পরিকল্পনা।
স্থলভিত্তিক সিল্ক রোড ইকোনমিক বেল্ট এবং সমুদ্রগামী মেরিটাইম সিল্ক রোড এই উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত। শি চিন পিংয়ের বিশ্বাস, তাদের এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলে নতুন করে চীনা জাতির মহান পুনরুত্থান ঘটবে।
ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোডকে সংক্ষেপে ওবর অথবা ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ ইনিশিয়েটিভও বলা হয়। এর মাধ্যমে চীন তার উন্নয়নের সাথে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলের উন্নয়নের যোগসূত্র রচনা করতে চাইছে। এটাকে চীন সম্মিলিত উন্নয়নের ‘চীনা স্বপ্ন’ বলেও বর্ণনা করছে।
চীনাদের কাছে এখন একমাত্র অগ্রাধিকার ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড। এ প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইটি) নামে চীনের নেতৃত্বে ১০ হাজার কোটি ডলারের মূলধনে একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এছাড়া চীন ৪ হাজার কোটি ডলারের সিল্ক রোড তহবিল গঠন করেছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশটি রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগিয়েছে। প্রকল্পটির ব্যাপারে চীনের সাথে ৪৪টি দেশের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং প্রকল্পের সাথে জড়িত দেশগুলোকে আগ্রহী করে তোলার জন্য ইতোমধ্যে বাংলাদেশসহ সবগুলো দেশ সফর করেছেন।
ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড নামের এই নতুন চীনা স্বপ্নের জন্মদাতা তিনিই। ২০১৩ সালের অক্টোবরে পৃথিবীর সামনে প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং তার এই ভিশনারি পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এটি চীনের সাথে বাইরের দুনিয়ার সম্পর্ক পুননির্ধারণে ভূমিকা রাখছে।
বর্তমানে ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড বিশ্বের একটি আলোচিত বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) এবং ট্রান্স আটলান্টিক ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পার্টনারশিপ (টিটিআইপি) চুক্তির বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রকল্পকে।
প্রাচীন সিল্ক রোডকে ভিত্তি করেই নতুন এই ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোডের পরিকল্পনা করেছেন শি চিন পিং। এ প্রকল্পে জড়িত ৭০টি দেশে ৪-৮ লাখ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হতে পারে। এতে ৩টি বেল্ট প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে নর্থ বেল্ট মধ্য এশিয়া থেকে রাশিয়া ও ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃৃত হবে।
সেন্ট্রাল বেল্ট মধ্য এশিয়া থেকে পশ্চিম এশিয়া হয়ে পারস্য উপসাগর এবং ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত যাবে। আর সাউথ বেল্ট চীন থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
অন্যদিকে মেরিটাইম সিল্ক রোডের মাধ্যমে যুক্ত করা হবে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলো এবং উত্তর আফ্রিকা। এটি দক্ষিণ চীন সাগর, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর এবং ভারত মহাসাগরকে এক বেল্টে নিয়ে আসবে। এ প্রকল্পে অর্থায়ন করার জন্য প্রতিষ্ঠিত এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক বা এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংকের বৃহত্তর মালিকানা থাকবে চীনের হাতে।
ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বাংলাদেশসহ ৫৭টি দেশ। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে এটি কার্যক্রম শুরু করেছে। জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ এর সদস্য না হলেও কানাডা এর সদস্য হয়েছে। এছাড়া ব্রিটেন, জার্মানি, ইতালি ও ফিলিপাইনের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোও এর সদস্য। বছরে ১ থেকে দেড় হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে ব্যাংকটির।
তবে ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের আগেই এ অঞ্চলের অবকাঠামো খাতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে চীন। যেমন, কাজাখস্তানে তেল পাইপলাইন তৈরি করেছে। রাশিয়া থেকে চীনে তেল সরবরাহের জন্য আরো একটি পাইপলাইন বানিয়েছে। এ অঞ্চলে সড়ক, সেতু ও টানেল নির্মাণ করছে চীনা কোম্পানিগুলো।
ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রকল্পের অংশ হিসেবে চীন দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে যেমন গুরুত্ব দিচ্ছে, তেমনি গুরুত্ব দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যকেও। চীনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড নীতিতে ইরান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তেমনি মধ্যপ্রাচ্যে চীনের এ প্রকল্প হতে হলে ইরানের পাশাপাশি মিশর ও ইসরাইলও চীনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
ইতোমধ্যে চীন মিশরে সাড়ে ৪ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। ইরানের সাথেও চীন ৬ হাজার কোটি ডলারে বাণিজ্যচুক্তি করেছে। চীন সফলভাবেই মিশর, ইরান ও ইসরাইলকে ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রকল্পে ঢোকাতে পেরেছে।
দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমারের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে তোলা হয়েছে বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডোর। তেমনি চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি)। বাংলাদেশ, ভারত, চীন, মিয়ানমার – ৪টি দেশের নামের আদ্যক্ষর নিয়ে গড়ে তোলা বিসিআইএম করিডোরের আওতায় চীন ও ভারতের মধ্যে প্রথমবারের মতো এক্সপ্রেসওয়ে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে যুক্ত করবে। এ করিডোরের মাধ্যমে ৪টি দেশের পণ্য ও জ্বালানির বাজার আরো সম্প্রসারিত হবে। এতে অশুল্ক বাধা কমবে, বাণিজ্যসুবিধা এবং অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়বে। এই করিডোর ১৬ লাখ ৫০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাকে সংযুক্ত করবে, যেখানে বাস করছে প্রায় ৪৪ কোটি মানুষ। বিসিআইএম করিডোরের ধারণাটি বহু আগে বাংলাদেশেরই দেয়া। কুনমিং ইনিশিয়েটিভ নামে চীনের কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে আঞ্চলিক সহযোগিতার এই ধারণাটি প্রথম দেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান। এ জন্য তাকে বিসিআইএমের স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।
এই করিডোর সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথে চীনের কুনমিং, ভারতের কলকাতা, বাংলাদেশের ঢাকা ও চট্টগ্রাম এবং মিয়ানমারের মান্দালয়কে যুক্ত করবে। বিসিআইএম করিডোর বাস্তবায়ন নিয়ে ভারত ও মিয়ানমারের কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও ভারতের বিচ্ছিন্ন পূর্বাঞ্চলীয় ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো চীন ও এশিয়ার অন্যান্য দেশের সাথে সংযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় এখন ভারতও এই প্রকল্প নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
চীন সম্পর্কে এক সময় ফ্রান্সের সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের উক্তি ছিল, ‘চীন ঘুমন্ত পরাশক্তি’। চীন এখন আর ঘুমন্ত নেই। চীন জেগে উঠেছে এবং বিশ্বায়নকে জোরালোভাবে সমর্থন করছে। আর ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড স্বপ্নের মাধ্যমে চীনকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং এখন সর্বাধিক আলোচিত নেতা। তাকে মাও সেতুং ও দেং শিয়াও পিংয়ের মতো প্রভাবশালী নেতা মনে করা হয়। দল ও সরকারে তার একটি অনন্য শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হয়েছে।
তিনি চীন কমিউনিস্ট পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি এবং সে দেশের কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সভাপতি। ৬৫ বছর বয়সী এই নেতা ২০১২ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। সুদর্শন প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির এক সম্মেলনে কোর লিডার বা মর্মস্থল নেতা ঘোষণা করা হয়। তার আগে মাও সেতুং ও দেং শিয়াও পিং এ উপাধি পেয়েছিলেন।
শি চিন পিংকে আজীবন প্রেসিডেন্ট হিসেবেও ঘোষণা করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে চীনের কোনো নেতাই বিরল এ সম্মানে ভূষিত হননি। এ ঘোষণার অর্থ হলো চীনের ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা তার আনুগত্য নিঃশর্তভাবে মেনে নিয়েছেন। শি চিন পিং যেভাবে চীনের দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরেছেন তা অনেককেই বিস্মিত করেছে।