প্রতিবেদন

শেখ হাসিনার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ প্রশংসিত হচ্ছে সর্বমহলে

এম নিজাম উদ্দিন
বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, যেকোনো রাজনৈতিক সরকারের একটি শ্রেণি যখন দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং সেই শ্রেণিটির দেখাদেখি যখন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশায় দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেই দুর্নীতি নির্মূলের কথা বলে ওয়ান-ইলেভেনজাতীয় একটি অনির্বাচিত সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে যায়। শাসকের আসনে বসেই সেই অনির্বাচিত সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে। হুঙ্কার ছাড়ে, তাদের অভিযানে রুই-কাতলা থেকে শুরু করে চুনোপুঁটিও রেহাই পাবে না। কিন্তু পরে দেখা যায়, সেই অনির্বাচিত সরকারটি নিজেই দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং সর্বশেষ ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের এই ধুয়া তুলেই ক্ষমতায় এসেছিল এবং পরে তারা নিজেরাই দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল।
তবে বাংলাদেশ তথা পুরো বিশ্বে শেখ হাসিনার সৃষ্ট সাম্প্রতিককালের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানটি একেবারেই বিরল একটি উদাহরণ। কারণ কোনো নির্বাচিত সরকার দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালাতে চায় না এজন্যই যে, তাতে সরকারি দলের দুর্বৃত্তরাই ধরা পড়বে এবং সরকারের বদনাম হবে। সরকারের আশপাশে থেকে এই দুর্বৃত্তরা রীতিমতো মাফিয়া হয়ে ওঠায় এবং তাদের দ্বারা সরকার পতনের আশঙ্কা থাকায় কোনো নির্বাচিত সরকারই ওই বিষয়ে হাত দিতে চায় না। নির্বাচিত সরকারের মধ্যে একমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারই নিজ দলের দৃর্বৃত্তদের ধরতে অভিযান পরিচালনায় নেমেছিল। তার মাশুল বঙ্গবন্ধুকে দিতে হয়েছিল নিজের জীবন দিয়ে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পেছনে কিছু বিপথগামী সেনা অফিসারের ভূমিকা থাকলেও সেই সেনা অফিসারদের কিন্তু প্ররোচিত করেছিল বঙ্গবন্ধু সরকারে থাকা তাঁর নিজ দলের কিছু দুর্র্বৃত্তই।
সেই দুর্র্বৃত্ত শ্রেণির নতুন সংস্করণ কিন্তু এখনো সরকারি দল আওয়ামী লীগে আছে। দুর্বৃত্ত শ্রেণিটি এই ভেবে সমানে দুর্নীতি করে যাচ্ছিল যে, তারা যেহেতু সরকারি দলের প্রভাবশালী পর্যায়ে আছে, সেহেতু তাদের ধরার কেউ নেই। তাদেরকে ধরার মতো যে শেখ হাসিনা আছেন, এটা তারা ভুলেই গিয়েছিল। তাদের ধারণাতেই ছিল না, নির্বাচিত সরকারের প্রধান হয়ে শেখ হাসিনা নিজ দলের দুর্বৃত্তদের ধরতেই শুদ্ধি অভিযানের নির্দেশ দেবেন। কিন্তু শেখ হাসিনা সে নির্দেশ দিয়েছেন এবং দুর্বৃত্ত পাকড়াওয়ের সাঁড়াশি অভিযান চলছে দেশজুড়ে। এতে মুষ্টিমেয় দুর্নীতিবাজ আতঙ্কিত ও অখুশি হলেও খুশি দেশের অধিকাংশ মানুষ। তারা শেখ হাসিনা সরকারের ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর ভাগ্যবরণকে আমলে নেননি। তিনি ঝুঁকি নিয়েই দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন। ওয়ান-ইলেভেনের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেছেন, সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে আগ থেকেই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যাতে ওয়ান-ইলেভেনজাতীয় ঘটনা পুনরায় না ঘটতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, ওয়ান-ইলেভেন পুনরায় ঘটবে না। যদি কোনো অনিয়ম থেকে থাকে আমি ব্যবস্থা নেব, আমরা ব্যবস্থা নেব এবং সে যে-ই হোক না কেন, এমনকি তারা আমার দলের এবং পরিবারের সদস্য হলেও।
তিনি বলেন, যদি আমি দুর্নীতিবাজদের শাস্তি দিতে চাই, আমার ঘর থেকেই তা আগে শুরু করতে হবে। নিজের দলের লোকদের আগে ধরছি। এই অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশে এক শ্রেণির লোক দুর্নীতির মাধ্যমে ধনী হচ্ছে। এই অর্থ চটের বস্তাতেও লুকিয়ে রাখা হচ্ছে এবং ওয়ান-ইলেভেনের পট পরিবর্তনের পর আমরা এটা দেখেছি। হঠাৎ করে যে সম্পদ আসে তা দেখানো কিছু লোকের স্বভাব। সমাজের এই অংশটিকে আমাদের আঘাত করতে হবে।
জনগণের জন্যই তাঁর রাজনীতি এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েই ক্ষমতায় এসেছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সব সময় জনগণের মঙ্গলের কথাই চিন্তা করি।
বঙ্গবন্ধুকন্যা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কুপ্রভাব যাতে দল বা সমাজে না পড়ে, আমার দল ও সমাজের ওপর ক্ষতিকারক কোনো প্রভাব পড়ছে কি না সেটা আমাকেই দেখতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, এতে আমার দলেরই অনেকে অখুশি। কিন্তু তাতে আমার কিছু যায়-আসে না। সবার জীবনমান উন্নত হোক, এটা আমি চাই। কিন্তু অবৈধ পথে কাউকে সম্পদশালী হতে দেয়া যাবে না।
প্রধানমন্ত্রী দুর্বৃত্তদের উদ্দেশে বলেছেন, এই যে অনিয়ম, সেটির শুরু কোথায়, গোড়াটা কোথায়, সেটি তো দেখতে হবে। পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর যারাই অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করতে শুরু করেছে, ক্ষমতায় বসে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট দিয়ে রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করতে চাইছে, তখনই তারা একটি এলিট শ্রেণি তৈরি করেছে, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন শুরু হয়েছে। মানি ইজ নো প্রবলেম Ñ এমন কথা বলেই তো কাড়ি কাড়ি টাকা দিয়ে রাজনীতিকে নষ্ট করা হয়েছে। এখনো তারাই ঘুষ খাবে, দুর্নীতি করবে, সব কিছু করবে আবার হালাল মাংসও খুঁজবে। এটাই তো ওদের চরিত্র। মসজিদে যাবে নামাজ পড়তে, সেখানে গিয়েও তার ফুটানি দেখাতে হবে, তার বডিগার্ড থাকবে, তার জন্য জায়গা নির্দিষ্ট করে রাখতে হবে, তার গাড়ি ঢুকবে বলে সব গাড়ি বন্ধ হয়ে যাবে, তার স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স লাগবে Ñ যাদের কোনো লাইসেন্স নেই, কোনো নিয়ম নেই, কিছু নেই, মনে হয় কোনো দেশের রাজা এসেছে নামাজ পড়তে। এমন বৈষম্য কেন থাকবে?
প্রধানমন্ত্রী দৃর্বৃত্তদের উদ্দেশ করে বলেছেন, মানুষ যত ওপরে ওঠে, তত ভদ্র হতে হয়, হাম্বল হতে হয়। আর আমাদের উল্টো। এটা হয় তখনই, যখন হঠাৎ করে পয়সার জোরে নিচ থেকে অনেক ওপরে যায়, তখন তারা ভাবে ‘মুই কী হনুরে’। সমাজের এই জায়গাটায় একটি আঘাত দেয়ার প্রয়োজন ছিল। অসৎ উপায়ে অর্জিত অর্থের বাহাদুরি, সে সম্পদের শো-অফ করা, আর যারা সৎ পথে চলবে, তারা একেবারে মরে থাকবে, এটা তো হতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার কোনো সম্পদের মোহ নেই। ক্ষমতারও মোহ নেই। আমার বাবা দেশটা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। আমি দেশটাকে গড়ে তুলতে চাই তাঁর আদর্শ দিয়ে, স্বপ্ন নিয়ে। আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি। আজ অর্থনীতি উন্নত হচ্ছে। সবাই ভালো থাকুক Ñ এটা আমি চাই। কিন্তু এই সুযোগ নিয়ে মুষ্টিমেয় লোক সমাজটাকে কলুষিত করবে, এটা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ওয়ান-ইলেভেন আসবে না। ওয়ান-ইলেভেন আসা লাগবে না। যা করার আমি নিজেই করব। কোনো অপরাধীই ছাড় পাবে না, সে যে দলেরই হোক। ঋণখেলাপি কমিয়ে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে। দুর্নীতি, জুয়া ও ক্যাসিনো সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।
ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, স্পোর্টসকে প্রমোট করার জন্য আমরা নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়েছি। কিন্তু এসব সুবিধা ব্যবহার করে এরা যে ক্যাসিনো নিয়ে আসবে ভাবতেও পারিনি। এসব অবৈধ কর্মকা- গ্রহণযোগ্য নয়। তাই পদক্ষেপ নিয়েছি। এখন ‘কেঁচো খুঁড়তে সাপ’ বের হয়ে আসছে। আরও কী বের হয় দেখুন। অপেক্ষা করুন, একবার যখন ধরেছি তখন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে সম্প্রতি অভিযান শুরু হয়েছে। সারাদেশেই এখন আলোচনার শীর্ষে রয়েছে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে চলমান এই অভিযানে দুর্নীতিবাজ মহল আতঙ্কিত হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি নেমে এসেছে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে দেশের মানুষ সমর্থন দিচ্ছে। জনগণের কাছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ও আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে। নিজ দলের দুর্নীতিবাজ নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া শুরু করায় জনগণ বলতে শুরু করেছেন, ওয়ান-ইলেভেন জাতীয় ঘটনা ফিরে আসার পথ রুদ্ধ করে দেয়ার মিশনেই নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কারণ ১/১১ জাতীয় সরকারগুলোর কর্মকা- এখন শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের নেতৃত্বেই পরিচালিত হচ্ছে।
এমতাবস্থায় অনেকেই এখন মন্তব্য করছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ থেকে জঙ্গিবাদের মূলোৎপাটন করেছেন, সন্ত্রাস দমন করেছেন। একমাত্র তাঁর পক্ষেই সম্ভব পিতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া। দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে তাঁর পিতা মৃত্যুকে ডেকে এনেছিলেন, কিন্তু শেখ হাসিনা মৃত্যুকে ভয় পান না।
দুর্নীতি করলে কেউ যে ছাড় পাবেন না, এমনকি আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কোনো নেতা, শীর্ষ আমলা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিবহন নেতা যে অভিযানের বাইরে নেই, তা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন। তাঁর সময়োপযোগী ও দৃঢ়চেতা সিদ্ধান্তে দুর্নীতিবাজদের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। রাজধানীর রাস্তায় এখন বিলাসবহুল গাড়ি দেখা যাচ্ছে না, যে গাড়িতে চেপে দুর্বৃত্তরা শো-ডাউন করত, এমনকি মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যেত নিজস্ব সিকিউরিটি বাহিনী পরিবৃত হয়ে গাড়িবহর নিয়ে।
আওয়ামী লীগের আদর্শিক ও ত্যাগী নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করে অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। তারা বলেছেন, সবচেয়ে ভালো লক্ষণ এই যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের দল থেকেই শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। দুর্নীতির মূলোৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই অভিযান অব্যাহত রাখবেন এবং আরো বিস্তৃত করবেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, ‘ছাত্রলীগের পর যুবলীগকে ধরেছি, একে একে সকলকে ধরব।’
দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে এ পর্যন্ত যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে অনেক গডফাদারের নাম চলে এসেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা অনেক আমলা, মন্ত্রী, এমপি, প্রভাবশালী রাজনীতিক এমনকি কিছু ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার নামও বলেছেন, নাম এসেছে প্রভাবশালী অনেক সাংবাদিকের; যারা আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে অবৈধ উপায়ে কাড়ি কাড়ি টাকা বানিয়েছেন এবং বিদেশে পাচার করেছেন।
শেখ হাসিনার গৃহীত চলমান ‘শুদ্ধি অভিযানে’ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে চলা অনেক গডফাদার। দুর্নীতিবাজের তালিকায় নিজেদের নাম রয়েছে কি না সেটি জানতে ক্ষমতাসীন দলের অনেক এমপি দ্বারস্থ হচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের। কেন্দ্রীয় নেতারা তালিকায় তাদের নিজের নামই রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সন্দিহান হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে যুবলীগ নেতাদের পরিচালিত ক্যাসিনো থেকে যারা টাকার ভাগ পেতেন, তারা আছেন সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে। তারা প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকা তালিকায় নিজের নামটি আছে কি না, তা জানতে না পেরে নাওয়া-খাওয়াও ভুলতে বসেছেন।
জানা গেছে, বিভিন্ন অপরাধ ও অনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত সাবেক ১০ মন্ত্রী, ৫০ এমপি, ৪ সিটি মেয়র, ৬ পৌর মেয়র, সাবেক ও বর্তমানে কর্মরত প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শতাধিক কর্মকর্তা এবং ১২৮ জন প্রভাবশালী সাংবাদিকের নাম শেখ হাসিনার হাতে থাকা তালিকায় আছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে বলে জানা যায়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজস্ব টিম দিয়ে এদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখেছেন এবং অনেকের বিরুদ্ধেই অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন।
দেখা যাচ্ছে, অপরাধ নির্মূল এবং দলের শুদ্ধি অভিযানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদক্ষেপ ও জিরো টলারেন্স নীতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে স্বাগত জানাচ্ছে সারাদেশের সাধারণ মানুষ। অনেকে বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ে জড়িত অল্পসংখ্যক নেতার কারণে পুরো আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি এখন প্রশ্নের মুখে। তবে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে।
তারা আরো বলেন, শেখ হাসিনার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সর্বমহলে এজন্যই প্রশংসিত হচ্ছে যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর এই কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেক চাপ ও হুমকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এড়িয়ে গেছেন এবং সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে শুদ্ধি অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন। ওয়ান-ইলেভেন মার্কা না হয়ে একটা প্রকৃত শুদ্ধি অভিযানের প্রয়োজন অবশ্যম্ভাবী ছিল, সেটা দেশের আপামর জনসাধারণ স্বীকার করে এবং প্রত্যাশাও করে। শেখ হাসিনা ঠিক সেই ব্যতিক্রমী কাজটিই করছেন।