ফিচার

সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়ে কিছু প্রাথমিক সাধারণ কথা

অ্যাডভোকেট মোমিন শেখ
(পূর্ব প্রকাশের পর)
কোন কোন সম্পত্তি উত্তরাধিকারের বিষয়বস্তু
একজন সুন্নি মুসলিম তার মৃত্যুর পর তার মালিকানাধীন মোট সম্পত্তি থেকে দাফন-কাফনসহ সকল ব্যয়, তার যেকোনো ঋণ ও উইলের দাবি যদি থাকে তা পরিশোধ করার পর যে পরিমাণ সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকবে সেই সম্পত্তি উত্তরাধিকারযোগ্য সম্পত্তি বলে বিবেচিত হবে। ইসলামী বিধান অনুযায়ী কোনো মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যুর সময় তার স্বত্ব আছে বা মালিকানাধীন স্থাবর, অস্থাবর, দৃশ্যমান বা অদৃশ্যমান সম্পত্তিসমূহ উত্তরাধিকারের বিষয়বস্তু বা উত্তরাধিকারযোগ্য সম্পত্তি বলে বিবেচিত হবে।

উত্তরাধিকার কখন সৃষ্টি হয়
উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত অথবা অন্য যেকোনো প্রকারে যেমন ক্রয়সূত্রে, উইলসূত্রে, দানসূত্রে বা এজমালিসূত্রে ইত্যাদি যেকোনো প্রকারেই সম্পত্তির মালিক হোক, এ ধরনের কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলেই কেবল তার সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার সৃষ্টির প্রশ্ন আসবে এবং উত্তরাধিকার সৃষ্টি হবে। অর্থাৎ যখনই কোনো মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যু হবে ঠিক তখনই মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ওপর ওয়ারিশদের উত্তরাধিকার জন্মে। মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ওয়ারিশসূত্রে সম্পত্তিতে কোনো প্রকার উত্তরাধিকার সৃষ্টি হয় না। মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ হয়নি বলে তার মালিকানা স্বত্ব হস্তান্তর বন্ধ থাকতে পারে না। তবে হিন্দু আইনে যে দিন শিশু জন্মগ্রহণ করে ওই সময় থেকেই সে ওই পরিবারের সম্পত্তির অংশীদার হয়ে যায়।
মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারগণের মধ্যে অংশ বণ্টন করার পূর্বের করণীয় সম্পর্কে নিচে আলোকপাত করা হলো:
ষ মনে রাখতে হবে, মৃত ব্যক্তির স্থাবর ও অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তি তার উত্তরাধিকারদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে।
ষ মৃত ব্যক্তি তার মৃত্যুর পূর্বে ৩ মাসের মধ্যে কোনো শ্রমিক, শিল্পী অথবা গৃহকর্মীর পারিশ্রমিক না দিয়ে থাকলে তাদের পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে হবে। প্রথমেই মরহুমের জানাজা, দাফন-কাফন এবং সৎকারের যাবতীয় ব্যয় বহন করতে হবে।
ষ অতঃপর যদি তার কোনো ঋণ থাকে তা পরিশোধ করতে হবে।
ষ যদি কোনো সম্পত্তি উইল করে থাকেন তা বণ্টন করতে হবে।
সম্পত্তির উত্তরাধিকার বা ওয়ারিশ হন না যারা
১. নরহত্যাকারী: যদি প্রমাণ হয় তিনি হত্যা করেছেন, যেমন যিনি খুন করেছেন তিনি যদি তার (যাকে খুন করা হয়েছে) উত্তরাধিকারী হন তবে সে সম্পত্তির ওয়ারিশ থেকে বঞ্চিত হবে। এক্ষেত্রে হত্যাকারী অবশ্যই এমন আত্মীয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে যেন তারা পরস্পর সম্পত্তির উত্তরাধিকার হন। যেমন কোনো সন্তান যদি তার পিতার হত্যাকারী হয় এবং যদি প্রমাণ হয় যে সে তার পিতার হত্যাকারী, তবে ওই সন্তান তার পিতার সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। এ ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা না থাকলে সম্পত্তির লোভে খুন করার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকবে।
২. ধর্ম ত্যাগকারী: ধর্ম পরিবর্তন করলে অর্থাৎ যদি কোনো মুসলমান স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে তাকে মুরতাদ বলে। মুরতাদ ব্যক্তি কাফিরদের শামিল। সে কারণে ধর্মত্যাগীরা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে ওয়ারিশ হবে না। তবে সে মুসলিম থাকা অবস্থায় যদি কোনো সম্পত্তি অর্জন করে থাকে, সেই সম্পত্তিতে তার মুসলিম আত্মীয়গণের ওয়ারিশ হতে বাধা নেই। ইসলাম ধর্ম ত্যাগের পর তার উপার্জিত সম্পত্তি হচ্ছে কাফিরদের সম্পত্তি। মুসলিম চিন্তাবিদ ও হাদিসের আলোকে ধর্ম ত্যাগের পর অর্জিত সম্পত্তিতে তার মুসলিম আত্মীয়গণ ওয়ারিশ হবে না। ধর্মত্যাগী যদি মহিলা হন তবে তার অর্জিত সমস্ত সম্পত্তি হানাফি আইনমতে তার মুসলমান ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে। তবে কোনো এলাকার বা স্থানের সমস্ত ব্যক্তিই যদি ধর্ম ত্যাগ করে তা হলে তারা একে অপরের ওয়ারিশ হবে।
উল্লিখিত আলোচনা থেকে দেখা যাচ্ছে, ধর্মত্যাগী পুরুষ ও মহিলার উত্তরাধিকারের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য বিদ্যমান। কারণ ধর্মত্যাগী মহিলা মুসলমান থাকা অবস্থায় যে সম্পত্তি অর্জন করে এবং ধর্মত্যাগ করার পরে অর্জিত সম্পত্তিতে মুসলিম উত্তরাধিকারগণ ওয়ারিশ হবে। পুরুষদের বেলায় দু’টি অবস্থা লক্ষ্য করা যায়। যেমন মুসলমান থাকা অবস্থায় অর্জিত সম্পত্তিতে মুসলিম উত্তরাধিকারগণ অংশ পাবে। ইসলাম ধর্মত্যাগ করার পর অর্জিত সম্পত্তিতে মুসলিম উত্তরাধিকারগণ ওয়ারিশ হবে না।
৩. জারজ সন্তান: জারজ সন্তান বৈধ সন্তানের সাথে ওয়ারিশদার হবে না। তবে মায়ের সম্পত্তি থাকলে পাবে (বিয়ের দিন থেকে ৬ মাস পরে সন্তান হলে বৈধ হবে)। কারণ জারজ সন্তান কেবল মায়ের সন্তান হিসেবেই পরিচিত বলে মা এবং মায়ের আত্মীয়-স্বজনের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার হয়। (বাফাতুন বনাম বেলাইতি খানম, (১৯০৩) ৩০ ক্যাল, ৬৮৩)
৪. দাস ব্যক্তি: দাস ব্যক্তিরা স্বাধীন ব্যক্তির সাথে ওয়ারিশ হবে না। ১৮৪৩ সালের ৫নং আইন দ্বারা দাসত্বের অবসান ঘটেছে।
৫. তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী: স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পর যদি স্বামী মৃত্যুবরণ করে তাহলে মৃত স্বামীর সম্পত্তিতে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ওয়ারিশ হবে না।
৬. পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত সন্তানের ওয়ারিশ কোনো ব্যক্তির স্ত্রীর পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত সন্তান তার ওয়ারিশ হবে না। অনুরূপভাবে তিনি তার স্ত্রীর পূর্ব স¦ামীর ঔরসজাত সন্তানের ওয়ারিশ হবে না।
৭. সৎ পুত্র ও কন্যার ওয়ারিশ: সৎ মাতার সৎ পুত্র ও কন্যা তার সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার হবে না। একইভাবে সৎ মাতাও সৎ পুত্র ও কন্যার সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার হবে না।
৮. কাফিরের ওয়ারিশ: কোনো মুসলমান কোনো কাফিরের ওয়ারিশ হবে না এবং কোনো কাফিরও কোনো মুসলমানের ওয়ারিশ হবে না।

যুদ্ধবন্দির উত্তরাধিকার
কোনো মুসলমান যদি যুদ্ধাবস্থায় কাফেরদের হাতে বন্দি হয় তবে তার উত্তরাধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে ৩টি শর্ত লক্ষ্যণীয়Ñ
১. সে যদি তার নিজ ধর্ম অর্থাৎ ইসলাম ধর্ম ত্যাগ না করে তাহলে অন্যান্য মুসলমানের মতো সে উত্তরাধিকার হবে।
২. সে যদি তার নিজ ধর্ম অর্থাৎ ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে তাহলে তাকে মুরতাদ বা কাফির হিসেবে গণ্য করা হবে। এ অবস্থায় তার উত্তরাধিকার হবে মুরতাদ বা কাফিরের ন্যায়।
৩. আর যদি বন্দির মুরতাদ হওয়া, জীবিত থাকা অথবা মৃত্যুবরণ করা কোনোটারই খবর জানা না যায় তাহলে তাকে হারিয়ে যাওয়া বা নিরুদ্দেশ ব্যক্তি হিসেবে ধরে তার উত্তরাধিকারের বিষয়টি সমাধান করতে হবে।

পানিতে নিমজ্জিত, আগুনে দগ্ধ
এবং বিধ্বস্ত ব্যক্তিদের উত্তরাধিকার
একসাথে যে সকল ব্যক্তি নৌকা, স্টিমার ও লঞ্চ ডুবিতে মৃত্যুবরণ করেন বা একই সাথে আগুনে পুড়ে, ছাদ বা উঁচু দেয়াল চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ করেন এদের মধ্যে কে আগে মারা গেছে তা জানা সম্ভব না হয় বা জানার কোনো উপায় থাকে না, এক্ষেত্রে সকলেই একসাথে এবং একই সময়ে মারা গেছে বলে ধরতে হবে। আর এ সকল মৃত ব্যক্তির মধ্যে পারস্পরিক উত্তরাধিকার নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এটাই গ্রহণযোগ্য অভিমত বলে বিবেচিত। এ অভিমত দিয়েছেন ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেকী ও ইমাম শাফেয়ী। এদের মধ্যে পারস্পরিক উত্তরাধিকার করা যাবে না বিধায় তাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি তাদের নিজ নিজ জীবিত উত্তরাধিকারদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে। একইভাবে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, ট্রেন বা বাস দুর্ঘটনায় বা উঁচু পাহাড় ধসে মৃত্যুবরণ করেন বা প্রাকৃতিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন তাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তিও নিজ নিজ উত্তরাধিকারদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে। আবার ভিন্নমত দিয়েছেন হযরত আলী (রা.) ও ইবনে মাসউদ (রা.)। তাদের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন উত্তরাধিকার সংশ্লিষ্ট মৃত ব্যক্তিগণ পারস্পরিক উত্তরাধিকার হবেন অর্থাৎ একসাথে মৃত্যুবরণকারীরা একে অন্যের ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকার হবেন। প্রত্যেকের প্রকৃত সম্পদের মধ্যে অন্যজনের ওয়ারিশ হওয়ার কারণ হলো একসাথে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন মৃত্যুর আগে তারা সকলে অবশ্যই জীবিত ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় একজনের মৃত্যুর সময় অন্যজনের জীবিত থাকা এবং বেঁচে থাকা একটি সন্দেহের ব্যাপার। আর এ সন্দেহের দ্বারা নিশ্চিত বাঁচা-মরার বিষয়টি দূর করা সম্ভব নয়। তাই এ ক্ষেত্রে একে অন্যের উত্তরাধিকার হবে।

গর্ভস্থ সন্তানের উত্তরাধিকার
গর্ভস্থ সন্তানের সম্পত্তির উত্তরাধিকারের প্রশ্নে ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ প্রচারিত আছে। যেমন ইমাম আবু হানিফার মতে, গর্ভধারণের সর্বোচ্চ মেয়াদ ২ বছর এবং সর্বনিম্ন মেয়াদ ৬ মাস। লাইছ ইবনে সাদ-এর মতে ৩ বছর। ইমাম শাফেয়ীর মতে ৪ বছর। ইমাম যুহরীর মতে ৭ বছর। গর্ভধারণের সবচেয়ে কম স্থিতিকাল হলো ৬ মাস। ইমাম আবু হানিফার মত হলো সন্তানের দুধ পানের মেয়াদকাল যেহেতু ২ বছর সেহেতু মাতৃগর্ভের স্থিতিকাল সর্বনিম্ন ৬ মাসের কম হতে পারে না। বর্তমানে ২ বছর, ৩ বছর এবং ৭ বছর পর্যন্ত কোনো সন্তান মায়ের গর্ভে অবস্থান করার ঘটনা দেখা যায় না। জন্মের সময় সন্তান মৃত্যুবরণ করলে তার উত্তরাধিকার কিভাবে নির্ধারণ হবে এ বিষয়ে দুটি নিয়মের কথা বলা হয়েছে।
১. জন্মের সময় গর্ভ থেকে প্রথমে যদি মাথা বের হয়ে সন্তানের বুক পর্যন্ত দেখা যায় এবং তারপর মৃত্যুবরণ করে তবে সে সন্তান উত্তরাধিকার হবে। আর যদি বুক বের হওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করে তবে সে উত্তরাধিকার হবে না।
২. আর জন্মের সময় গর্ভ থেকে প্রথমে যদি পা আগে বের হয়ে নাভি পর্যন্ত দেখা যায় এবং তারপর মৃত্যুবরণ করে তবে সে সন্তান উত্তরাধিকার হবে। নাভি দেখার আগেই যদি সে মৃত্যুবরণ করে তা হলে উত্তরাধিকার হবে না। তবে জন্মের সময় এ ধরনের পরিস্থিতি সঠিকভাবে পর্যবেক্ষেণ করে উত্তরাধিকার নির্ধারণ করা খুবই কঠিন কাজ।

নিখোঁজ বা নিরুদ্দেশ
ব্যক্তির উত্তরাধিকার
এক কথায় হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে নিখোঁজ বা নিরুদ্দেশ ব্যক্তি বলে। যাকে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও পাওয়া যায় না ফারায়েজের নিয়ম অনুসারে তাকে নিখোঁজ বা নিরুদ্দেশ ব্যক্তি বলে। আরবিতে তাকে মফকুদ ব্যক্তি বলে। নিখোঁজ বা নিরুদ্দেশ ব্যক্তির যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো খোঁজ বা তথ্য পাওয়া যাবে না ততক্ষণ পর্যন্ত তার সমস্ত সম্পত্তির বণ্টন স্থগিত রাখতে হবে। সে কারণে তার সম্পত্তিতে কেউ উত্তরাধিকার হবে না এবং অন্য কারও সম্পত্তিতে সে নিজেও উত্তরাধিকার হবে না। কারণ নিখোঁজের মেয়াদকাল পর্যন্ত তিনি তার সম্পদের মধ্যেই বেঁচে থাকেন। নিখোঁজ ব্যক্তির বেঁচে থাকা বা জীবিত থাকার মেয়াদ সম্পর্কে বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে। নিচে প্রধান ৩ শ্রেণির মতবাদ উল্লেখ করা হলো।
হানাফী মতবাদ: হানাফী মতবাদের নীতিতে হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তির জন্য তার জন্ম তারিখ থেকে ১২০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে এবং পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে। কিন্তু সাক্ষ্য আইনের ১০৮ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো মুসলমান ব্যক্তিকে ৭ বছর যাবৎ খুঁজে পাওয়া না গেলে এবং সে বেঁচে নেই বলে প্রমাণিত হলে আইনানুযায়ী মৃত বলে ধরে নিতে হবে।
মালিকী মতবাদ: মালিকী মতবাদের নীতিতে হারিয়ে যাওয়া বা নিখোঁজ ব্যক্তির জন্য ৭০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে এবং পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে। ইমাম আবু ইউসুফের মতে ১০৫ বছর, আবার অনেকেই বলেন ৯০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
শিয়া ও হাম্বালী মতবাদ: এ মতবাদের নীতিতে কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার পর যেকোনো সময় আদালতের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে।

বৃহন্নলা বা খুনসা বা খোজা
বা হিজড়ার উত্তরাধিকার
সমাজে এমন কিছু ব্যক্তি দেখা যায় যাদের মধ্যে পুরুষ কিংবা নারী কোনোটারই পরিপূর্ণ লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্য দেখতে পাওয়া যায় না বা উভয় লিঙ্গের আংশিক লক্ষণ দেখা যায় তাদেরকে বৃহন্নলা বা খুনসা বা হিজড়া বা খোজা বলে। এদের ফারায়েজ বা উত্তরাধিকার নিয়ে নানা মতভেদ রয়েছে। তবে ইমাম আবু হানিফার (রা.) সিদ্ধান্তকেই অধিকাংশ সাহাবি সমর্থন করেছেন। সেটি হলো ভাই ও বোনের মধ্যে বোনের অংশটিকে বিবেচনা করেছেন অর্থাৎ বোন যতখানি সম্পত্তি পাবে বৃহন্নলা বা খুনসাও ঠিক ততখানি সম্পত্তি পাবে। যেমন কোনো ব্যক্তি যদি এক পুত্র, এক কন্যা এবং এক খুনসা বা খোজা বা হিজড়া সন্তান রেখে মারা যান, এক্ষেত্রে বোনের সমান পরিমাণ সম্পত্তি খুনসা বা খোজা বা হিজড়া পাবেন। এদেরকে নপুংসকও বলা হয়। যেহেতু এরা পুরুষ না নারী, পুত্র না কন্যা Ñ তা নির্ধারণ করা যায় না তাই কম অংশ ধরে অর্থাৎ কন্যা বা বোনের অংশ ধরেই তাদের অংশ বণ্টন করা হয়।
Ñ(চলবে)
লেখক: আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ