প্রতিবেদন

অবশেষে ভাঙা হচ্ছে হাতিরঝিলের বিজিএমইএ ভবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
অবশেষে ভাঙা ও অপসারণের কাজ শুরু হচ্ছে রাজধানীর হাতিরঝিলে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ভবন। বিশাল এ ভবনটি বিস্ফোরক দিয়ে ভাঙার কথা থাকলেও পাশেই অবস্থিত পাঁচ তারকা হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের নিরাপত্তার কথা ভেবে সে চিন্তা থেকে সরে আসে সরকার। ভবনটি এখন ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেই যথাসম্ভব দ্রুত ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয় গণপূর্ত অধিদপ্তর। সর্বোচ্চ ৬ মাসের মধ্যেই ভবনটি সম্পূর্ণ ভাঙা হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
গত ১৬ এপ্রিল বহুল আলোচিত বিজিএমইএ ভবনটি ভাঙা ও মালামাল অপসারণের জন্য নিলাম দরপত্র আহ্বান করে রাজউক। এর প্রায় ৭ মাসের মাথায় সংশ্লিষ্ট সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান করা হলো।
সূত্র জানায়, ভাঙার কাজ শুরুর পরবর্তী সর্বোচ্চ ৬ মাসের মধ্যে দুটি বেজমেন্টসহ ১৫ তলা ভবনটি ভাঙার সকল কাজ শেষ করতে দরপত্রের নিলাম পাওয়া সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালাম অ্যান্ড ব্রাদার্সকে কাজ শুরুর অনুমতি (কার্যাদেশ) প্রদান করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপ (রাজউক)। সালাম অ্যান্ড ব্রাদার্স রাজউকের কাছ থেকে ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকায় এই কার্যাদেশ পায়।
ভবনটি ভাঙার কাজ তদারকি করতে রাজউক কর্তৃক একটি বিশেষ টিম ও ঠিকাদার কর্তৃক একটি পৃথক টিম গঠন করা হবে। টিম দুটি যেকোনো প্রকার সমস্যা দেখলে যৌথভাবে পর্যবেণ করে তা তাৎণিকভাবে সমাধান করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয় রাজউক।
ভবনটি ভাঙার সময় যাতে কোনো প্রকার শব্দ দূষণ, বালি দূষণ বা কোনো প্রকার নিরাপত্তাহীনতাজনিত সমস্যার সৃষ্টি না হয় সেদিকে বিশেষভাবে ল্য রাখতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েক ধাপে সময় নিয়ে ভবনটির বিভিন্ন অংশের ভাঙার কাজ করা হবে তা নিয়ে একটি পরিকল্পনা তৈরি করে নিলামে পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর আগে বিশাল এ ভবনটি ধাপে ধাপে মোট ১১ মাসে সুষ্ঠুভাবে ও নিরাপদে ভাঙা সম্ভব বলে রাজউকের কাছে সময় চায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর প্রেেিত রাজউক ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় আবেদিত বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই শেষে বিবেচনাপূর্বক নির্ধারিত ৬ মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ ভবনটি ভাঙার সকল কাজ সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেয়। এর প্রেেিত রাজউক ঠিকাদারকে চিঠি প্রদান করে।
সূত্র জানায়, ৬ অক্টোবর হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প শীর্ষক প্রকল্পের রাজউক অংশের পরিচালক কর্তৃক ভাঙার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালাম এ্যান্ড ব্রাদার্সকে কার্যাদেশের চিঠি প্রদান করে। এতে বলা হয়, দুটি বেজমেন্টসহ ১৫ তলাবিশিষ্ট বিজিএমইএ ভবন ভাঙা ও মালামাল অপসারণের জন্য ১ কোটি ৭০ ল টাকা সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ায় মেসার্স সালাম এ্যান্ড ব্রাদার্সকে নিলাম মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশে শর্তসাপেে অনুমোদন দেয় রাজউক।
চিঠিতে শর্ত হিসেবে বলা হয়, চিঠি প্রাপ্তির ৩ দিনের মধ্যে চুক্তিপত্র করতে রাজউকে দাখিল করতে হবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। একই সঙ্গে ভবন ভাঙার কাজ চলাকালীন সার্বণিক কাজ তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দাখিল করতে হবে। এতে কারা কিভাবে মনিটরিং করবেন তার বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে। চিঠি প্রাপ্তির পর ৭ দিনের মধ্যেই নিলামের দর অনুযায়ী সকল অর্থ ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।
উল্লেখ্য, বিজিএমইএ ভবন অপসারণে আপিল বিভাগের দেয়া ১ বছর সময় শেষ হয়েছে গত ১২ এপ্রিল। ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল সর্বোচ্চ আদালত ভবনটি অপসারণে বিজিএমইএকে ১ বছর ১০ দিন সময় দেয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাতিরঝিলের বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে আদালত নতুন করে আর কোনো সময় না দেয়ায় এখন ভবনটি ভাঙার সব কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আপিল বিভাগের দেয়া ১ বছর সময় শেষ হওয়ার মধ্যেই ভবন থেকে তাদের মালামাল সরিয়ে নিয়েছে বিজিএমইএ।
উল্লেখ্য, জলাধার আইন ভেঙে নির্মিত বিজিএমইএ ভবনকে সৌন্দর্যম-িত হাতিরঝিল প্রকল্পের একটি ক্যান্সার বলেছিল হাইকোর্ট। ওই ভবন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় আপিলেও বহাল থাকে। পরে বিজিএমইএ রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। ভবনটি টিকিয়ে রাখতে বিজিএমইএ নেতারা বহু চেষ্টা করেছেন। দীর্ঘ ৮ বছর মামলা লড়ে পরাজিত হন তারা।
ভবনটি সরাতে একাধিকবার সময় নেয় বিজিএমইএ। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৫০ শতাংশ কম মূল্যে উত্তরার ১৭ নং সেক্টরে ১১০ কাঠা জমির ওপর ১৩ তলা ভবন নির্মিত হচ্ছে। ২০১৭ সালে নতুন এই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ৬ তলার নির্মাণকাজ শেষ হওয়া ভবনটির পুরো কাজ শেষ হতে পারে ২০২০ সালের জুনে। তবে কয়েকটি তলার নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায় এবং আদালতের বাধ্যবাধকতা থাকায় গত এপ্রিল থেকেই বিজিএমইএর প্রধান কার্যালয় উত্তরায় স্থানান্তর করা হয়।