রাজনীতি

আওয়ামী লীগের চার সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণায় পদ পেতে নেতাদের দৌড়ঝাঁপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগের চার সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ হয়েছে। নভেম্বর মাসের চার শনিবার চারটি সংগঠনের সম্মেলন হবে। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমে দলের দপ্তর থেকে তারিখ নির্ধারণ করে সহযোগী সংগঠনগুলোকে চিঠি দেয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষক লীগের সম্মেলন ২ নভেম্বর, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৯ নভেম্বর, শ্রমিক লীগের ১৬ নভেম্বর ও যুবলীগের সম্মেলন ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
যুবলীগের সম্মেলন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে বলে সংগঠনটির দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। যুবলীগের সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
তবে অন্য তিন সংগঠনের ভেন্যু এখনো নির্ধারিত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংগঠন তিনটির শীর্ষ নেতারা। কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুল হক রেজা স্বদেশ খবরকে জানিয়েছেন, ২ নভেম্বর কৃষক লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ভেন্যুর বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। কৃষক লীগের সবাই আশা করছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি সম্মেলনের প্রধান অতিথি হবেন।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার স্বদেশ খবরকে জানিয়েছেন, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সম্মেলন করার তাগিদ রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ৯ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের ভেন্যুর বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন বলে তারা আশা করছেন।
জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুকুর মাহমুদ স্বদেশ খবরকে জানিয়েছেন, ১৬ নভেম্বর জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠানের চিঠি শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় অফিসে পৌঁছেছে। সম্মেলনের ভেন্যু কোথায় হবে এবং প্রধান অতিথি কে হবেন, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে শ্রমিক লীগ নেতৃবৃন্দ ভেন্যু হিসেবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র এবং প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশা করছে।
জানা গেছে, চারটি সংগঠনেরই সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলন হয়েছিল ২০১২ সালে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ৩ বছর পরপর আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সে হিসেবে সবগুলো সংগঠনেরই ২০১৫ সালে পরবর্তী সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছে ২০১২ সালের ১৪ জুলাই। আরেক সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০১২ সালের ১১ জুলাই। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন। জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন হয়েছিল ২০১২ সালের ১৯ জুলাই।
এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর দলের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের যৌথ সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই বৈঠকেই আওয়ামী লীগের সম্মেলনের সময় ২০ ও ২১ ডিসেম্বর চূড়ান্ত হয়। এর পর থেকেই সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন নিয়ে আলোচনা চলছিল।
আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতিতে যখন দলের নেতাকর্মীরা ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন, ঠিক সে সময়েই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান। আওয়ামী লীগ ও দলের সহযোগী সংগঠনের একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ নেতাকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এ অভিযান। ২১তম জাতীয় কাউন্সিল ও চার সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্মেলনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের দুর্নীতিবাজ নেতারা যখন পদ-পদবি পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে, ঠিক সে সময়ে এ অভিযান তাদের ভড়কে দেয়। পদ-পদবি পাওয়ার আশা বাদ দিয়ে তারা আত্মগোপনে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এর বিপরীতে উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন কিন ইমেজধারী নেতারা। তাঁরা এই ভেবে উজ্জীবিত হন যে, এতদিন তাঁরা দুর্নীতিবাজ নেতাদের দাপটে দলে যেভাবে কোণঠাসা ছিলেন, এখন আর তা হবে না। আগামী কাউন্সিলে তাঁরা যোগ্যতা অনুযায়ী পদ-পদবি পাবেন।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের কাউন্সিলের ৬ মাস আগে থেকেই তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতাদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে থাকেন। সম্মেলনে নেতৃত্ব নির্ধারণ করতেই এটি করা হয়। এবারও সম্মেলনের আগে সব পর্যায়ের নেতাদের সম্পর্কে জরিপের নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি গত কয়েক মাসে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বেড়ে যাওয়ায় তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ ও শ্রমিক লীগের পদধারী নেতাদের সম্পর্কে খবর নিতে বলেন।
জানা গেছে, এবার জাতীয় কাউন্সিল ও চার সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনের আগে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এ জন্যই এই কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে কোনো বিতর্কিত এবং দুর্নীতিবাজ দলের নেতৃত্বে আসতে না পারেন।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগের আগামী জাতীয় কাউন্সিল ও চার সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনে অনেক পরিবর্তন আসবে। অনেকেই বাদ পড়ে যাবেন আবার অনেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ পড়ে যাবেন। শেখ হাসিনার নির্দেশের পর উপজেলা ও জেলা থেকে অনেকের দুর্নীতি ও অপরাধের তথ্য আসছে। তবে আওয়ামী লীগের কিন ইমেজধারী নেতাকর্মীদের মেসেজ হলো, দল থেকে দুর্নীতিবাজ বের করলে সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়বে এবং দল শক্তিশালী হবে।
জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের মতে, এই অভিযানে দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা খুশি। এতদিন দুর্নীতিবাজদের দাপটে এবং এমপিদের লোকজনের দৌরাত্ম্যে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অতিষ্ঠ ছিল।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগের চার সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ে এবার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। মেয়াদপূর্তির পর প্রায় ৪ বছর পার হয়ে যাওয়ায় চার সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে এক ধরনের বিলাসিতা ভর করেছে। দলের ভাবমূর্তির চেয়ে তারা নিজেদের ব্যক্তিগত লাভকেই প্রাধান্য দিচ্ছিলেন বেশি। এই মনোভাবের কারণে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চার সহযোগী সংগঠনকেই ঢেলে সাজাবেন। আর এরই অংশ হিসেবে নতুন পদ-পদবি পাওয়ার জন্য নেতাদের মধ্যে শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ।