প্রতিবেদন

একনজরে সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগ

বিশেষ প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা ‘সকলের জন্য আবাসন, কেউ থাকবে না গৃহহীন’ বাস্তবায়নের ল্েয গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সবার জন্য আবাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে একই মন্ত্রণালয়াধীন রাজউক। এই দুই সংস্থার পাশাপাশি গণপূর্ত অধিদপ্তর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ফ্যাট নির্মাণ ছাড়াও সরকারি অফিস ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পালন করে।
গত ৭ অক্টোবর বিশ্ব বসতি দিবসকে সামনে রেখে এক প্রশ্নের জবাবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জানান, বর্তমানে সরকারের চলমান প্রকল্পগুলো হলো রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপরে (রাজউক) বাস্তবায়নাধীন পূর্বাচল নতুন শহর, উত্তরা তৃতীয় পর্বে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে ২১৪ একর জমিতে ১৫ হাজার ৩৬টি ফ্যাট নির্মাণ, ঝিলমিল রেসিডেন্সিয়াল পার্কে ৮৫টি বহুতল ভবনে ১৩ হাজার ৭২০টি ফ্যাট নির্মাণ। গণপূর্ত অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ঢাকার বেইলি রোডে মন্ত্রীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ (মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট-৩), মাদারীপুরে সরকারি অফিসগুলোর জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ, ঢাকার মালিবাগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৪৫৬টি ফ্যাট নির্মাণ, ঢাকার আজিমপুরে বিচারকদের জন্য বহুতলবিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মাণ, ঢাকা মহানগরীর গুলশান, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরে ২০টি পরিত্যক্ত বাড়িতে ৩৯৮টি সরকারি আবাসিক ফ্যাট নির্মাণ, গোপালগঞ্জে বহুতলবিশিষ্ট সমন্বিত অফিস ভবন নির্মাণ এবং জিগাতলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২৮৮টি আবাসিক ফ্যাট নির্মাণ প্রকল্প। তাছাড়া ঢাকার গুলশান, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া ও ধানমন্ডি এলাকার ৯টি পরিত্যক্ত বাড়িতে বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্প।
এছাড়া জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন মোহাম্মদপুর ‘এফ’ ব্লকে ৯০০টি আবাসিক ফ্যাট, মিরপুর ১৫ নম্বর সেকশনে সরকারি ও আধাসরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ‘জয়নগর’ ৫২০টি আবাসিক ফ্যাট নির্মাণ, লালমাটিয়া নিউ কলোনিতে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ১৩২টি (সংশোধিত ১৫৩টি) আবাসিক ফ্যাট নির্মাণ, মিরপুর ৯ নম্বর সেকশনে ১০৪০টি আবাসিক ফ্যাট নির্মাণ প্রকল্প।
এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো. রাশিদুল ইসলাম স্বদেশ খবরকে বলেন, ‘সকলের জন্য আবাসন, কেউ থাকবে না গৃহহীন’ স্লোগানের আলোকে সরকারের গৃহায়ন নীতিমালা অনুযায়ী জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপ ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য আবাসিক প্লট উন্নয়ন/ফ্যাট নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে।
দরিদ্রবান্ধব বর্তমান সরকারের জাতীয় গৃহায়ন নীতিমালা-২০১৬ তে মধ্যম ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বস্তিবাসীদের জন্যও সুপরিকল্পিত আবাসনের ল্েয জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপকে ম্যান্ডেট দেয়া হয়েছে। জাতীয় গৃহায়ন নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন, ‘টেকসই উন্নয়ন ল্যমাত্রা-১১’ অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ সৃষ্টি এবং বস্তি এলাকার বসতি উন্নয়নের মাধ্যমে শহরগুলোকে নিরাপদ ও টেকসইকরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপ, জাতীয় গৃহায়ন নীতিমালার আলোকে সারাদেশের আবাসন বা গৃহায়নের বিষয়ে সার্বিক দায়িত্ব পালন করে আসছে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপ নিম্ন, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত, দরিদ্রতম ও ছিন্নমূল শ্রেণির মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ল্েয বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করছে।
৭ অক্টোবর বিশ্ব বসতি দিবসকে সামনে রেখে অপর এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম স্বদেশ খবরকে বলেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপরে আওতায় সারাদেশে ৩৫টি জেলা ও ৯টি উপজেলা পর্যায়ে সর্বমোট ৮ হাজার ৭৭৯ দশমিক ৮২ একর জমির ওপর ৬৫টি হাউজিং এস্টেট রয়েছে। এসব হাউজিং এস্টেটে এ পর্যন্ত জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য বাসস্থান সংক্রান্ত যেসব সুবিধাদি নিশ্চিত করেছে তা নিম্নরূপ:
জমির পরিমাণ (একর) ৮৭৭৯.৮২, মোট আবাসিক প্লট ২৭০৮৮টি, মোট আবাসিক ফ্যাট ২৫৫৯টি, মোট বাণিজ্যিক প্লট ১০৬৯টি, মোট প্রাতিষ্ঠানিক প্লট (সংখ্যায়) ৪৩০টি, মোট শিল্প প্লট (সংখ্যায়) ৬১৪টি, মোট পুর্নবাসন প্লট (সংখ্যায়) ৩৬৩২টি, নির্মিত আধাপাকা টিনসেড বাড়ি ৭৯১৭টি, অনির্মিত আধাপাকা টিনসেড বাড়ি ২০০টি, দোকান (সংখ্যায়) ৪৫০টি, নিউকিয়াস বাড়ি ২০৪২৬টি।
মোট জেলা: ৩৫টি
ঢাকা, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চাঁদপুর, কুমিল্লা, মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, রাজশাহী, দিনাজপুর, নীলফামারী, রংপুর, বগুড়া, জয়পুরহাট কুষ্টিয়া, পাবনা, চুয়াডাঙ্গা, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, খুলনা, ফরিদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মাগুরা, নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও ঝিনাইদহ।

মোট উপজেলা: ৯টি
টংগী-গাজীপুর, ঈশ্বরদী-পাবনা, দর্শনা-চুয়াডাঙ্গা, ফুলতলা-খুলনা, শিবচর-মাদারীপুর, ফুলবাড়ী-দিনাজপুর, সৈয়দপুর-নীলফামারী, শান্তাহার-বগুড়া, সদর (বাদলডাঙ্গা)- ফরিদপুর।

বর্তমানে দেশের ১৪টি জেলা এবং ৭টি উপজেলায় ১৪টি প্লট উন্নয়ন প্রকল্প, ১৪টি ফ্যাট নির্মাণ প্রকল্প, ৩টি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প এবং অন্যান্য ২টি প্রকল্পসহ মোট ৩৩টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ চলমান রয়েছে। এ সকল প্রকল্পে ২ হাজার ৫৯১টি আবাসিক প্লট, ৭১৮৯টি আবাসিক ফ্যাট, ৮১৯টি বাণিজ্যিক দোকান ও বিভিন্ন আয়তনের বাণিজ্যিক স্পেস নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এছাড়া জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপ কর্তৃক প্রস্তাবিত বা অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন ২টি প্লট উন্নয়ন প্রকল্প এবং ৮টি ফ্যাট নির্মাণ প্রকল্প এবং অন্যান্য প্রকল্পসহ মোট ১০টি প্রকল্প রয়েছে। এ সকল প্রকল্পে ৩১৯টি আবাসিক প্লট এবং ১১ হাজার ১৯২টি আবাসিক ফ্যাট নির্মাণ করা হবে।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপ ঢাকা শহরে বসবাসরত বস্তিবাসীদের জন্য মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনে ভাড়াভিত্তিক ৫৩৩টি ফ্যাট নির্মাণ প্রকল্প দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক ইচ্ছায় শুরু করা হয়েছে এবং তিনি নিজে প্রকল্পটি উদ্বোধন করেছেন।
এছাড়া মিরপুর ৯ নম্বর সেকশনে বস্তিবাসীদের জন্য ভাড়াভিত্তিক আরো ৯ হাজার ৪৭৭টি ফ্যাট নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চলমান প্রকল্পটিতে প্রতিটি ফ্যাটের আয়তন ৬৫৭ বর্গফুট। লিফট, সাবস্টেশন, জেনারেটর, উন্মুক্ত জলাধার, খেলার মাঠসহ সকল প্রকার আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। ফ্যাটে বসবাসকারী নিম্ন আয়ের বস্তিবাসীদের প্রতিটি ফ্যাটের মাসিক ভাড়া দৈনিক কিস্তিতে ২৪৫ টাকা অথবা মাসিক ভিত্তিতে ৭ হাজার ৩৬৫ টাকা হারে পরিশোধ করতে হবে।
এছাড়া ঢাকার মোহাম্মদপুরস্থ জেনেভা ক্যাম্পে বসবাসরত অবাঙালি বিহারীদের পুনর্বাসনের ল্েয বসিলার কলাতলী এলাকায় সকল নাগরিক সুযোগ-সুবিধাসহ প্রায় ৮০০টি ফ্যাট নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।