প্রতিবেদন

এবার নোবেল পুরস্কার পেলেন যারা

স্বদেশ খবর ডেস্ক
১৯০১ সালে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তিত হয়। ওই বছর থেকে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সফল এবং অনন্যসাধারণ গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকা-ের জন্য এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। মোট ৬টি বিষয়ে পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিষয়গুলো হলো: পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাশাস্ত্র, অর্থনীতি, সাহিত্য এবং শান্তি।
নোবেল পুরস্কারকে এ সকল েেত্র বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পদক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদেরকে ইংরেজিতে নোবেল লরিয়েট বলা হয়।
সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের ১৮৯৫ সালে করে যাওয়া একটি উইলের মর্মানুসারে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। নোবেল মৃত্যুর পূর্বে উইলের মাধ্যমে এই পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দিয়ে যান। শুধু শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয় অসলো, নরওয়ে থেকে। বাকি েেত্র সুইডেনের স্টকহোম থেকে এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
বিভিন্ন বিষয়ে চলতি বছর যারা (একটি বাদে) নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন স্বদেশ খবর পাঠকদের জন্য তাদের নাম ও বিষয় উল্লেখ করা হলো:
চিকিৎসা শাস্ত্র
চিকিৎসা বিজ্ঞানে চলতি বছর যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ৩ বিজ্ঞানী। তারা হলেন উইলিয়াম জি. কেলিন জুনিয়র, স্যার পিটার জে. র‌্যাটকিফ ও গ্রেগ এল. সেমেনজা। শরীরে কোষগুলো কিভাবে অক্সিজেনের সহজলভ্যতার সঙ্গে খাপ খায় তা নিয়ে যুগান্তকরী গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে তারা এ পুরস্কার পেয়েছেন।
স্টকহোমে ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট এক ঘোষণায় বলছে, চিকিৎসায় নোবেলজয়ী এই ৩ বিজ্ঞানী ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার ভাগাভাগি করে নেবেন।

পদার্থবিজ্ঞান
মহাবিশ্ব নিয়ে যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য এবার ৩ বিজ্ঞানীকে পদার্থে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে। সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে এক অনুষ্ঠানে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী হিসেবে জেমস পেবলস, মিচেল মেয়র ও ডিডিয়ের কুইলজের নাম ঘোষণা করা হয়। জেমস পেবলস কানাডীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এবং অন্য দুজন সুইস নাগরিক।
মহাবিশ্বের বিবর্তন বিষয়ক গবেষণা ও দূরবর্তী একটি গ্রহ আবিষ্কারের কৃতিত্বের জন্য এই ৩ বিজ্ঞানীকে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে। দূরবর্তী গ্রহটি ১৯৯৫ সালে আবিষ্কার করা হয়, যা সূর্যের মতো একটি নত্রকে প্রদণি করছে।
নোবেল পুরস্কারের ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার ভাগ করে নেবেন জেমস পেবলস, মিচেল মেয়র ও ডিডিয়ের কুইলজ।

রসায়ন
মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক গাড়ি সব যন্ত্রে আজকের দিনে যে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ব্যবহৃত হচ্ছে, তার উন্নয়ন ঘটানোয় তিন বিজ্ঞানী পেয়েছেন এবারের রসায়ন শাস্ত্রের নোবেল। রয়াল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এ পুরস্কারের জন্য মার্কিন বিজ্ঞানী জন বি গুডএনাফ ও এম স্ট্যানলি হুইটিংহ্যাম এবং জাপানের আকিরা ইয়োশিনোর নাম ঘোষণা করে।
নোবেল কমিটির ভাষ্য, ওই তিন বিজ্ঞানী আসলে একটা রিচার্জেবল পৃথিবী তৈরি করেছেন, যা মানুষের প্রাত্যহিক জীবনকে সহজ করেছে।
এই তিন বিজ্ঞানী পুরস্কারের ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার ভাগ করে নেবেন। আগামী ১০ ডিসেম্বর সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হবে।
সাহিত্য
সাহিত্যে ২০১৯ ও ২০১৮ সালের নোবেল ঘোষণা করেছে সুইডিশ একাডেমি। চলতি বছরের পুরস্কারটি পেয়েছেন অস্ট্রিয়ান ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও অনুবাদক পিটার হ্যান্দকে। অন্যদিকে ২০১৮ সালের স্থগিত হওয়া নোবেল পেয়েছেন পোল্যান্ডের লেখক, অধিকারকর্মী ও বুদ্ধিজীবী ওলগা তুকারজুক।
একসঙ্গে ২ বছরের সাহিত্যে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে নোবেল কমিটি। উভয় বিজয়ী ৯০ লাখ করে সুইডিশ ক্রোনার পাবেন। সাহিত্যে অবদানের জন্য এর আগে পিটার হ্যান্দকে ফ্রাঞ্জ কাফকা পুরস্কার, আমেরিকা অ্যাওয়ার্ড, ইন্টারন্যাশনাল ইবসেন অ্যাওয়ার্ডসহ একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। অন্যদিকে গত বছরই ‘ফাইটস’ উপন্যাসের জন্য ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ পান ওলগা তুকারজুক।
২০১৯ সালের সাহিত্যে নোবেলজয়ী ৭৬ বছর বয়সী অস্ট্রিয়ান নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক পিটার হ্যান্দকের জন্ম ১৯৪২ সালে। উপন্যাস ও নাটক লেখার পাশাপাশি অনুবাদক হিসেবেও খ্যাতি রয়েছে এই নোবেল জয়ীর। পাশাপাশি মুসলিমবিদ্বেষী হিসেবে কুখ্যাতিও রয়েছে তার।
এবারই প্রথম সাহিত্যে আগের বারেরটাসহ ২ বছরের নোবেল একসঙ্গে ঘোষণা করা হলো। শুধু তা নয়, এবারই প্রথম এ বিভাগে নোবেল ঘোষণার আগে নির্ধারিত দিনণের ব্যাপারেও জানানো হয়। বিতর্কের কারণে গত বছর এ বিভাগে পুরস্কার স্থগিত রাখা হয়।
২০১৮ সালের জন্য নোবেল জয়ী পোলিশ লেখক ওলগা তুকারজুক গত বছর তার ‘ফাইটস’ উপন্যাসের জন্য সাহিত্যের আরেক মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ম্যান বুকার জিতেছিলেন। পোল্যান্ডে ১৯৬২ সালে তার জন্ম। ৫৭ বছর বয়সী লেখিকা ওলগা পোলিশ সাহিত্যের বর্তমান প্রজন্মের ঔপন্যাসিকদের মধ্যে প্রথম সারির একজন।

শান্তি
২০১৯ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হয়েছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলী। শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সহযোগিতামূলক অবদানের জন্য তাকে এই পুরস্কার দেয়া হয়েছে।
শান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অর্জনে তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ছাড়াও প্রতিবেশী দেশ ইরিত্রিয়ার সঙ্গে ২০ বছর ধরে চলা সীমান্ত সংঘাত নিরসনে তার নিষ্পত্তিমূলক উদ্যোগের জন্য তাকে এবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। ইথিওপিয়া ছাড়াও আফ্রিকার পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে শান্তি এবং এ ল্েয সমন্বয় সাধনের জন্য যারা নিরলস কাজ করেছেন, তাদের অংশীদারিমূলক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপও এ পুরস্কারটি প্রদান করা হলো বলে জানায় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি।
নোবেল পাওয়ার ঘোষণা শোনার পর উচ্ছ্বসিত ও বিনম্র আবি আহমেদ নোবেল কমিটিকে টেলিফোন করে বলেন, আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। এই পুরস্কার আফ্রিকা, ইথিওপিয়াকে দেয়া হয়েছে। আমি কল্পনা করতে পারছি, এই পুরস্কারকে ইতিবাচকভাবে নিয়ে আফ্রিকান নেতারা শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিজেদের আরো গভীরভাবে নিয়োজিত করবেন।
আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে শান্তিতে নোবেল বিজয়ীকে সোনার মেডেল, নোবেল ডিপ্লোমা এবং ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার হিসেবে দেয়া হবে।

অর্থনীতি
১৪ অক্টোবর সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৪টায় ঘোষণা করা হয় অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীর নাম। স্বদেশ খবর ১৩ অক্টোবর রবিবার রাতে প্রেসে যাওয়ার কারণে অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীর নামটি মুদ্রণ করা গেল না।