খেলা

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজে বড় জয় পায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল

ক্রীড়া প্রতিবেদক
নিউজিল্যান্ড অনূর্ধ-১৯ ক্রিকেট দলের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ অনূর্র্ধ-১৯ ক্রিকেট দল। তৃতীয় ম্যাচে মাহমুদুল হাসান জয়ের অপরাজিত ১০৩ রানে ৮ উইকেটে জিতে বাংলাদেশের যুবারা। টানা তিন ম্যাচ জিতে সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচটি অবশ্য হেরে যায় বাংলাদেশ। পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে জয়লাভ করলেও নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করা সম্ভব হয়নি বাংলাদেশের। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল এখন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডে গিয়ে সিরিজ জয় দূরে থাক, কোনো ফরম্যাটেই একটি ম্যাচও জিততে পারেনি। সেখানে যুবারা সিরিজ জয় করে নিল।
প্রথম ওয়ানডে: সহজ জয়ে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে হারিয়ে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে শুভ সূচনা করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। লিঙ্কনের বার্ট সাটকিফ ওভালে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে ৬ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ। ১৭৭ রানের ল্েয ব্যাটিংয়ে নেমে ১১ ওভার বাকি থাকতেই ১৮০ রান করে আকবর আলির দল।
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৮ ওভারে ১৭৬ রানে গুঁড়িয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন বেন পমার। বাংলাদেশ দলের বোলারদের মধ্যে ৩টি করে উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। ২টি উইকেট নেন শামিম হোসেন। ১টি করে উইকেট নেন তানজিব হাসান সাকিব ও রাকিবুল হাসান।
ব্যাটিংয়ে নেমে সর্বোচ্চ ৬৫ রান করেন অধিনায়ক ও উইকেটকিপার আকবর আলি। ৬১ বলে খেলা তার হার না মানা ইনিংসটিতে রয়েছে ১১টি চারের মার। ২৪ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন শাহাদাত হোসেন। ২৬ রান করেন তৌহিদ হৃদয়।
দ্বিতীয় ওয়ানডে: স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও দাপুটে জয় পায় বাংলাদেশ। এই জয়ে ৫ ম্যাচের সিরিজটি নিজেদের করে নেয়ার পথে অনেকটা এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।
লিঙ্কন ওভালে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে ৬ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ। ২১ বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের জন্য ২৪৩ রানের ল্েয পৌঁছে যায় তারা। ম্যাচে ১ রানের জন্য আফসোস ছিল মাহমুদুল হাসান জয়ের। উইকেট ছাড়ার আগে ১২৫ বলে খেলে ১০ চারে ৯৯ রানের ইনিংস খেলেন তিন নম্বরে নামা এই ব্যাটার। ৬৩ বলে ৬৫ রান করেন ওপেনিং ব্যাটসম্যান তানজিদ হাসান। ৪০ রান করেন তৌহিদ হৃদয়।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটে ২৪২ রান করে নিউজিল্যান্ড দল। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১১২ রান করেন টমাস জোহরাব। অন্যদের মধ্যে বেন পমার ৪০ ও ওলি হোয়াইট ৩০ রান করেন।
বাংলাদেশ দলের বোলারদের মধ্যে ৩টি করে উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী; ২টি উইকেট নেন শামিম হোসেন।
তৃতীয় ওয়ানডে: টানা তৃতীয় ওয়ানডে জিতে সিরিজ জয় করে বাংলাদেশ। এটি সম্ভব হয় আসলে মাহমুদুল হাসান জয়ের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও মাহমুদুল ৯৯ রান করে দলকে জেতান। ১ রানের জন্য সেঞ্চুরি করতে না পারার আপে থাকে। সেই আপে তৃতীয় ওয়ানডেতে দূর করেন মাহমুদুল। ৯৫ বলে ১৬ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ১০৩ রানের ইনিংস উপহার দেন।
লিংকনের বার্ট সাটকিফ ওভালে হওয়া ম্যাচটিতে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। লেহম্যানের অপরাজিত ১১৬ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ৫০ ওভারে ২২৩ রান করে নিউজিল্যান্ড।
জবাব দিতে নেমে ১১ রানেই প্রথম উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। এরপর মাহমুদুল ব্যাট হাতে নেমে হাল ধরেন। দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদ হাসান তামিমকে নিয়ে ৯০ রানের জুটি গড়েন তিনি। ওপেনার তামিম ৬৫ রানের ইনিংস খেলে দলের ১০১ রানে আউট হন, এরপর আর কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। তৃতীয় উইকেটে তৌহিদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে ১২৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন মাহমুদুল। তাতে ২ উইকেট হারিয়ে ৩৬.৫ ওভারে ২২৯ রান করে ম্যাচ জিতে যায় বাংলাদেশ।
চতুর্থ ওয়ানডে: সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডেতে শেষ ওভারে গিয়ে নিউজিল্যান্ডের কাছে হার মানে বাংলাদেশ। ম্যাচটিতে ৪ উইকেটে হারে বাংলাদেশ। ৫ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেট হারিয়ে জয়ের ল্েয পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড।
ম্যাচে ফের্গুস লেহম্যান ৭৬ ও অধিনায়ক জেসে ট্যাশঅফ অপরাজিত ৬৬ রান করেন। অন্যদের মধ্যে অলিয়ে হোয়াইট ৪৫ ও উইলিয়াম কার্ক ৩৪ রান করেন।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে ৭৮ রানে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন আসাদউল্লাহ গালিব। ১টি করে উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম ও অভিষেক দাস।
এর আগে ৪ ফিফটিতে ৮ উইকেটে ২৯৫ রান করে বাংলাদেশ। অর্ধশতক হাঁকান তানজিদ হাসান ৫১, পারভেজ হোসেন ইমন ৫৫, তৌহিদ হৃদয় ৭৩ ও আকবর আলি ৬৬।
পঞ্চম ওয়ানডে: প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে রেকর্ডসংখ্যক ৩১৬ রান। ওপেনিং জুটিতেই ১২০ রান সংগ্রহ করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন। তানজিদ করেন ৭১ রান, পারভেজের সংগ্রহ ৪৮। এছাড়া শাহাদাত হোসেন ও অভিষেক দাস উভয়ে ৪৮ রান করেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২৪৩ রানেই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। ফলে ৭৩ রানের বড় জয় পায় বাংলাদেশ।