প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রতিবেদন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে ৭ সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরিত : দুই প্রতিবেশীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিশ্বের কাছে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বহুমাত্রিক সহযোগিতার কারণে দুই দেশের দ্বিপাকি সম্পর্ক সমগ্র বিশ্বের কাছে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অপরদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত সবসময় গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, এই দুই প্রতিবেশীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিশ্বের কাছে একটি সুন্দর উদাহরণ। আজকের পর এই সম্পর্ক আরো নতুন উচ্চতায় আসীন হলো।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেলে ঐতিহাসিক হায়দরাবাদ হাউজে ৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে যে ঐতিহাসিক বৈঠক হয়, সেখানে দুই নেতা অভিন্ন এ মন্তব্য করেন।
ঐতিহাসিক হায়দরাবাদ হাউজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপাকি বৈঠকের পর উভয় নেতার উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে ৭টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বারিত হয়। দ্বিপীয় বৈঠক শুরুর আগে দুই নেতা কিছুণ একান্তে কথা বলেন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩ অক্টোবর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ৪ দিন ভারত সফর করেছেন। স্মরণ করা যেতে পারে যে, টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তাঁর প্রথম দিল্লি সফর। তিনি ২০১৭ সালের এপ্রিলে সর্বশেষ দিল্লি সফর করেছিলেন।
বৈঠকের পর বাংলাদেশ ও ভারত সমুদ্র উপকূলে নজরদারি, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার, এলওসি বাস্তবায়নসহ কয়েকটি বিষয়ে দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের দ্বিপাকি সম্পর্ক জোরদার করার অংশ হিসেবে ৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বারিত হয়।
এর মধ্যে ৪টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), ১টি স্ট্যান্টার্ড অপারেশন প্রসিডিউর (এসওপি), ১টি চুক্তি এবং অপরটি ১টি কর্মসূচির নবায়ন। এগুলো হচ্ছে সমুদ্র উপকূলে নজরদারি (কোস্টাল সারভেইলেন্স সিস্টেম-সিএসএস) বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক, ভারতের পণ্য পরিবহনে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার বিষয়ক চুক্তি সম্পর্কিত একটি এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) স্বার এবং ত্রিপুরার সাব্রুম শহরে পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্পে ফেনী নদী থেকে ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি প্রত্যাহার বিষয়ে বাংলাদেশের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও ভারতের জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ১টি সমঝোতা স্মারক।
তাছাড়া ভারত থেকে নেয়া ঋণের প্রকল্প বাস্তবায়নের (এলওসি) বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। এছাড়া হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি সমঝোতা স্মারক, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি বিষয়ে চুক্তি নবায়ন এবং যুব উন্নয়নে বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং ভারতের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ল্েয ১টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।
জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দিন এবং বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাস উপকূলীয় নজরদারি সিস্টেম (কোস্টাল সারভেইলেন্স সিস্টেম-সিএসএস) বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বার করেন।
ত্রিপুরায় সাব্রুম শহরে পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্পে ফেনী নদী থেকে ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি প্রত্যাহার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার এবং ভারতের পানিসম্পদ সচিব উপেন্দ্র প্রসাদ সিং স্বার করেন।
ভারত থেকে নেয়া ঋণ চুক্তি (এলওসি) বাস্তবায়ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যকার চুক্তিতেও এই দু’জনই স্বার করেন।
দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বার এবং সমঝোতা স্মারক বিনিময়ের পর দুই প্রধানমন্ত্রী ভিডিও লিংকের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত অংশীদারিত্বমূলক ৩টি দ্বিপাকি উন্নয়ন প্রকল্প যৌথভাবে উদ্বোধন করেন। প্রকল্পগুলো হচ্ছে খুলনার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া প্রফেশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিআইপিএসডিআই), রামকৃষ্ণ মিশন ঢাকায় ‘বিবেকানন্দ ভবন’ নামে একটি ছাত্র হোস্টেল নির্মাণ এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতের ত্রিপুরাতে এলপিজি আমদানি প্রকল্প।
উদ্বোধন-পরবর্তী ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, গত এক দশকে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন প্রচলিত েেত্র সহযোগিতা ও সহায়তা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে দুই দেশ বিভিন্ন নতুন এবং অপ্রচলিত েেত্রও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে সুনীল অর্থনীতি, সমুদ্রসীমা, পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, মহাকাশ গবেষণা, ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ রপ্তানি এবং সাইবার নিরাপত্তা।
শেখ হাসিনা বলেন, এই বহুমুখী ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার কারণে দুই দেশের দ্বিপাকি সম্পর্ক সমগ্র বিশ্বের কাছে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।
তিনি আরো বলেন, আমি বিশ্বাস করি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এই সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরো সুদৃঢ় হবে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে ভারত সরকার ও জনগণের সর্বাত্মক সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের দ্বিপাকি সম্পর্কের েেত্র এটি চিরদিনের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
ভারতের আর্থিক অনুদানে ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনে ৪ তলা ‘বিবেকানন্দ ভবন’ (ছাত্র হোস্টেল) নির্মাণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে বসবাসরত শিার্থীদের শিার বিকাশে এই ভবনটি ভূমিকা রাখবে। শিার্থীরা স্বামী বিবেকানন্দের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুলনায় ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে স্থাপিত বাংলাদেশ-ভারত প্রফেশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের উন্নত মানের যন্ত্রপাতি ওই অঞ্চলের ুদ্র-মাঝারি প্রতিষ্ঠানকে নানা ধরনের সেবা দেয়ার মাধ্যমে ব্যবসাবাণিজ্য প্রসারে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিন শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিআইপিএসডিআই এই অঞ্চলের যুবকদের বিভিন্ন প্রশিণ দেয়ার মাধ্যমে তাদের দ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
শেখ হাসিনা অভিমত ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ থেকে ভারতে এলপিজি রপ্তানির সিদ্ধান্ত দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। এর ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা সহজ হবে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় প্রকল্প ৩টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ ও ভারতের সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের যৌথ অংশীদারিত্বমূলক বিভিন্ন প্রকল্পের সফল পরিসমাপ্তির আশা প্রকাশ করেন।

শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে
অনুষ্ঠিত বৈঠক-পরবর্তী যৌথ বিবৃতি
৫ অক্টোবর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর ৫৩ দফাবিশিষ্ট যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী মোদি (শেখ হাসিনাকে) অবহিত করেছেন যে, তার সরকার ভারতের সংশ্লিষ্ট সকল পকে নিয়ে সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে তিস্তা চুক্তিটি সম্পাদনের জন্য কাজ করছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে প্রস্তাবিত তিস্তা চুক্তি স্বারে ভারতীয় প কাজ করছে।
অপরদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ৮ বছর আগে দুই দেশের সরকারের সম্মতি অনুযায়ী বাংলাদেশ এ চুক্তি আশু স্বারের জন্য গভীর আগ্রহ নিয়ে অপো করছে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালে দুই সরকারের সম্মতি অনুযায়ী তিস্তা নদীর পানি বণ্টনে ফ্রেমওয়ার্ক অব ইন্টেরিম অ্যাগ্রিমেন্ট আশু স্বার ও বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের জনগণ অপোয় রয়েছে Ñ একথা বলার পরিপ্রেেিত মোদি তার বক্তব্য দেন।
বিবৃতি অনুযায়ী দুই প্রধানমন্ত্রী যুগপৎ অপর ৬টি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনেও দ্রুততার সাথে সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত বিনিময় এবং ফ্রেমওয়ার্ক অব ইন্টেরিম অ্যাগ্রিমেন্টের খসড়া প্রস্তুত করার জন্য যৌথ নদী কমিশনের কারিগরি পর্যায়ের কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছেন। মনু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতী, ধরলা ও দুধকুমার নদীর কথা উল্লেখ করে এতে বলা হয়, দুই নেতা ফেনী নদীর পানি বণ্টনে খসড়া ফ্রেমওয়ার্ক অব ইন্টেরিম অ্যাগ্রিমেন্ট সুনির্দিষ্ট করারও নির্দেশ দেন।
মোদির সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাাৎকালে রোহিঙ্গা সমস্যাও উঠে আসে উল্লেখ করে বলা হয়, মোদি এসব বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদ, দ্রুত ও স্থায়ীভাবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তাদের নিজ বাড়ি-ঘরে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হন।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতিসহ তাদের (রোহিঙ্গাদের) ফিরে যাওয়া সুগম করতে বৃহত্তর প্রয়াস গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও তারা (দুই নেতা) একমত পোষণ করেন।
এতে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেয়ার েেত্র বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেন।
মোদি বলেন, নয়াদিল্লি কক্সবাজারের অস্থায়ী ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে বাংলাদেশ সরকারের মানবিক প্রয়াসে সহায়তা করতে পঞ্চম কিস্তি মানবিক সহায়তা সরবরাহ করবে। সহায়তার এ কিস্তিতে থাকবে তাঁবু, ত্রাণ ও উদ্ধার সরঞ্জাম এবং মিয়ানমার থেকে আসা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নারীদের দতা উন্নয়নে ১ হাজারটি সেলাই মেশিন।
শেখ হাসিনা মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত লোকদের প্রয়োজন মোতাবেক সহায়তার লক্ষ্যে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মানবিক সহায়তার জন্য ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং অপরাধমুক্ত সীমান্ত নিশ্চিত করতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কার্যকর এবং যত দ্রুত সম্ভব দুই দেশের অন্যান্য স্থানেও সীমান্ত বেড়া নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে তাদের নিজ নিজ সীমান্ত বাহিনীকে নির্দেশ প্রদানের ওপর দুই প্রধানমন্ত্রীই গুরুত্বারোপ করেছেন।
দুই নেতাই সীমান্তে বেসামরিক লোকের হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এ ধরনের ঘটনা জিরোতে নামিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সীমান্ত বাহিনীকে নির্দেশ প্রদানে সম্মত হন।
বিবৃতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স নীতি এবং অত্র অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে শেখ হাসিনার নির্দেশনার প্রশংসা করেন। তবে বিবৃতিতে বলা হয়, এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার েেত্র উল্লেখযোগ্য হুমকিগুলোর মধ্যে সন্ত্রাস একটি। বিবৃতিতে দুই নেতাই যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকা- সমর্থন করার কোনো যুক্তি নেই বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
শেখ হাসিনা এবং মোদি সম্প্রতি ভারতে অনুষ্ঠিত দু’দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে জঙ্গিবাদ, চরমপন্থি, সন্ত্রাস, চোরাচালান, জাল মুদ্রা পাচার এবং সংঘটিত অপরাধের বিরুদ্ধে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রদানে সম্মতির বিষয়টি পুনরুল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে বাংলাদেশের প থেকে পাট পণ্যসহ ভারতে রপ্তানিকৃত বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক হ্রাসের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য ভারত সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
নেতৃদ্বয় ১২টি সীমান্ত হাট প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত করতে তাদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। শেখ হাসিনা ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশে দেশটির আগ্রহের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ এর আগে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশের অনুমতি প্রদানের অনুরোধ জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং এই সফরের সময়সূচি কূটনৈতিক মাধ্যমে চূড়ান্ত করার বিষয়েও উভয়ে একমত হন।
দ্বিপাকি বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপাকি সম্পর্কে উভয় নেতাই সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প বাস্তবায়নে ভারতের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
দুই নেতা আগামীতে দু’টি বর্ষপূর্তি উদযাপনেও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এর একটি হচ্ছে ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাকি সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন।
উভয় প্রধানমন্ত্রীই ২০২০ সালে জন্মশতবর্ষ উদযাপনের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ফিচার ফিল্মের সহ-প্রযোজনার জন্য এনএফডিসি ও বিএফডিসির মধ্যে চুক্তির কাজ ত্বরান্বিত করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করেন।