ফিচার

সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়ে কিছু প্রাথমিক সাধারণ কথা

অ্যাডভোকেট মোমিন শেখ
(পূর্ব প্রকাশের পর)
ফারায়েজের ব্যতিক্রম নিয়মগুলো আলোচনার আগে উত্তরাধিকারগণের মধ্যে অংশ বণ্টন করার পূর্বে কী করণীয় তা নিচে দেয়া হলো:

মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারগণের
মধ্যে অংশ বণ্টন করার পূর্বে করণীয়
১. মনে রাখতে হবে, মৃত ব্যক্তির স্থাবর ও অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তি তাঁর উত্তরাধিকারদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে।
২. মৃত ব্যক্তি তাঁর মৃত্যুর পূর্বে ৩ মাসের মধ্যে কোনো শ্রমিক, শিল্পী অথবা গৃহকর্মীর পারিশ্রমিক না দিয়ে থাকলে তাঁদের পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে হবে।
৩. প্রথমেই মরহুমের জানাযা, কাফন-দাফন এবং যাবতীয় সৎকারের ব্যয় বহন করতে হবে।
অতঃপর যদি তাঁর কোনো ঋণ থাকে তা পরিশোধ করতে হবে। যদি কোনো সম্পত্তি উইল করে থাকেন তা বণ্টন করতে হবে।

সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে
কতিপয় সাধারণ কথা
প্রথমেই নির্ধারণ করতে হবে মৃত ব্যক্তির অংশীদার কারা এবং তাঁদের মধ্যে অবশিষ্ট সম্পত্তি যা থাকবে তা উত্তরাধিকারদের মধ্যে বণ্টন বা ভাগ করে দিতে হবে। মৃত ব্যক্তির অংশীদারদের অংশ বণ্টন করার পর যে সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকবে তা অবশিষ্টভোগীদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে। মৃত ব্যক্তির যদি কোনো অংশীদার না থাকে সেক্ষেত্রে অবশিষ্ট সমস্ত সম্পত্তিই অবশিষ্টভোগীরা ফারায়েজের নীতি অনুসারে প্রাপ্ত হবেন। যেকোনো অবস্থাতেই অংশীদার এবং অবশিষ্টভোগীরা উপস্থিত থাকলে দূরের আত্মীয়গণ সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন।
উপরোক্ত উত্তরাধিকারীগণ অর্থাৎ অংশীদার, অবশিষ্টভোগী এবং দূরবর্তী আত্মীয়গণ না থাকলে মৃত ব্যক্তির সমস্ত সম্পত্তির মালিক হবে রাষ্ট্র।

ফারায়েজ সম্পর্কে কয়েকটি
ব্যতিক্রম নীতি
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৪ ধারা, আউলনীতি, রাদ্দনীতি, ভাগ্যবান আত্মীয়, দুর্ভাগ্যবান আত্মীয়, ওমরিয়াতান নীতি, মিম্বোরিয়ার নীতি, বৈপিত্রেয়-বৈমাত্রেয় ভাই-বোনের নীতি ইত্যাদি। অনেকেই বলেছেন, রাদ্দনীতি ঠিক আউলনীতির বিপরীত। রাদ্দনীতি ঠিক আউলনীতির বিপরীত হলেও তা হুবহু বিপরীত নয়। সেখানেও রয়েছে কিছু ব্যতিক্রম ও সমালোচনা।

মুসলিম পারিবারিক আইন
অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৪ ধারা
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৪ ধারার বিধানটি আসলে এতিম বা অনাথ শিশুর উত্তরাধিকার নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। যেহেতু উত্তরাধিকার আইনের মৌলিক বিধান হলো যিনি রক্তের সম্পর্কে সবচেয়ে কাছের আত্মীয় তিনি দূরবর্তী আত্মীয়কে বাদ দিবে বা বঞ্চিত করবে। সুন্নী বা হানাফী বা ইসলামিক শরিয়ত আইনের বিধান অনুযায়ী কোনো মুসলিম পিতা জীবিত থাকাবস্থায় তাঁর কোনো পুত্র বা কন্যা মৃত্যুবরণ করলে ওই মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তানাদি জীবিত থাকলে তাঁরা ওই সম্পত্তিতে অর্থাৎ দাদার সম্পত্তিতে দাদার মৃত্যুর পর সাধারণত অংশ পেত না। ইসলামিক শরিয়ত বা হানাফী আইনে এটি একটি প্রতিষ্ঠিত নীতি। এ আইনে প্রতিনিধিত্বের নীতি স্বীকার করা হয়নি। সন্তানদের পিতার মৃত্যুতে সমস্ত সম্পত্তির মালিক হতেন দাদা। ফলে এতিম সন্তানেরা তাদের দাদার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ত। দাদা মালিক হওয়ায় শরিয়তের আইন মোতাবেক নাতি-নাতনিদের সম্পত্তির অংশ দিতে পারতেন না। যদিও দান এবং উইলের বিধান ছিল। কিন্তু পারিবারিক বিভিন্ন কারণে দান এবং উইল করাও দাদার পক্ষে অনেক সময় সম্ভব হয়নি। দান এবং উইল ব্যতীত অন্য কোনো পথ না থাকায় এতিম সন্তানেরা মারাত্মকভাবে অসহায়, দুর্বল ও ভূমিহীন দরিদ্র মানুষে পরিণত হতে থাকে। এ অবস্থা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং এক সময়ে নাতি-নাতনিরা বাবা ও দাদার বিশাল সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে পথের ফকির হয়ে বেড়াতে লাগলো। দিনে দিনে বিষয়টি মানবিক ও ন্যায়পরায়নতার দৃষ্টিকোণ থেকে সামগ্রিকভাবে সকলের মধ্যে একটি জাগরণ সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের নজরে আসে।
১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ জারি হওয়ার পূর্বে ৭ অক্টোবর ১৯৫৮ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন সংশোধনের জন্য যে আইন কমিশন গঠন করা হয়েছিল সেই কমিশনের কিছু সুপারিশ কার্যকর করার ঘোষণা প্রদান করা হয়। ১৯৬১ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট কর্তৃক এ অধ্যাদেশটি জারি করা হয়, যা ৮নং অধ্যাদেশ নামে পরিচিত। ১৯৬১ সালের ১৫ জুলাই আইনটি কার্যকর হওয়ায় অধ্যাদেশটির ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা নেই। অধ্যাদেশটি কার্যকর হওয়ার পূর্বে হানাফী আইনে প্রতিনিধিত্বের বিধান ছিল না বা স্বীকার করা হয়নি।
আইনের শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকেই স্মরণ রাখতে হবে যে, ১৯৬১ সালের ১৫ জুলাই তারিখের পূর্বে কোনো হানাফী মুসলমানের মৃত্যু হলে তাঁর ত্যাজ্য সম্পত্তি বণ্টন করতে হবে হানাফী আইনে। বিশেষ করে আইনের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে অঙ্কের মধ্যে যদি কোনো হানাফী মুসলমানের মৃত্যু ১৯৬১ সালের ১৫ জুলাই তারিখের পূর্বের কোনো তারিখ উল্লেখ থাকে তাহলে অঙ্কটির সমাধান হানাফী বা কোরআনিক আইনের নিয়মানুযায়ী সমাধান করতে হবে। আর যদি প্রশ্নে উল্লিখিত মৃত্যুর তারিখটি ১৯৬১ সালের পর হয় তাহলে অঙ্কটির সমাধান ‘মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১’ অর্থাৎ প্রতিনিধিত্বের নিয়ম মোতাবেক সমাধান করতে হবে। প্রশ্নে যদি হানাফী এবং মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ দু’টোই উল্লেখ থাকে অথবা দু’টোর কোনোটিই উল্লেখ না থাকে তাহলে দু’টি নিয়মেই অঙ্কটির সমাধান করতে হবে।
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৪ ধারায় বলা হয়েছে যে, যার সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারা হবে তাঁর মৃত্যুর পূর্বে তাঁর কোনো পুত্র বা কন্যা মারা গেলে এবং উক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারার সময় উক্ত পুত্র বা কন্যার কোনো সন্তানাদি জীবিত থাকলে তাঁরা প্রতিনিধিত্বের নিয়ম মোতাবেক সম্পত্তির ওই অংশ পাবে; যা তাঁদের পিতা কিংবা মাতা বেঁচে থাকলে পেত।
ফারায়েজ সংক্রান্ত ব্যতিক্রম নীতিগুলোর অধিকাংশই হযরত ওমর (রা.)-র সময়কার এবং ওই সকল সমস্যার সমাধান তিনি নিজেই দিয়ে গেছেন। মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তি ফারায়েজের সাধারণ নিয়ম বাস্তবায়নের সময় কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বা অসামঞ্জস্য দেখা যায়। অর্থাৎ সম্পত্তি বণ্টনের সাধারণ আইন প্রয়োগের ফলে প্রত্যেক উত্তরাধিকার তাঁর ন্যায্য প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত হয়। যদিও আউল এবং রাদনীতি নিয়ে ইসলামিক চিন্তাবিদদের পক্ষে-বিপক্ষে রয়েছে নানা রকমের সমালোচনা এবং মতবিরোধ। কেউ বলছেন, হযরত ওমর (রা.) এ নীতির প্রবর্তক, আবার কেউ বলছেন হযরত আলী (রা.)।
বিশিষ্ট লেখক ও ফারায়েজ চিন্তাবিদ গাজী শামছুর রহমানের ‘ইসলামি আইনের ভাষ্য’ বইয়ের ২৯৯ পৃষ্ঠার শেষের দিকে বলেছেন হযরত আলী আউল নীতির প্রবর্তক। আবার একই বইয়ের ৩০৫ পৃষ্ঠায় মোহাম্মাদ ফেরদাউস খান রচিত বইয়ের উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে সুন্নী এবং ইবাদিয়াগণের মতে হযরত ওমর (রা.) এ নীতির প্রবর্তক।
অধ্যক্ষ আলতাফ হোসেনের ইসলামিক জুরিসপ্রুডেন্স ও মুসলিম আইন সহায়িকা এবং এম হাবিবুর রহমানের মুসলিম আইন প্রথম খ-েও বলা হয়েছে হযরত ওমরের (রা.) কথা। কথিত একই বিষয়ের সমস্যা বিভিন্ন বইয়ে ভিন্ন ভিন্নভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
তাই এ বিভ্রান্তি দূর হওয়া প্রয়োজন; যা দূর হওয়া বেশ কঠিন বলেই মনে হয়।
বিতর্ক যাই থাকুক না কেন এ ধরনের অবস্থা থেকে ন্যায়পরায়নতার ভিত্তিতে উদ্ভূত সমস্যার ন্যায্য সমাধান দিতেই আউলনীতিসহ কয়েকটি নিয়ম বা নীতিসমূহ বাস্তব অবস্থায় তৈরি করতে হয়েছে এবং সুন্নী মুসলিমগণ তা গ্রহণ করে নিয়েছেন।

আউল (উড়পঃৎরহব ড়ভ অঁষড়ৎ রহপৎবধংব) নীতি বা বৃদ্ধিকরণনীতি
মুসলিম উত্তরাধিকার বা ফারায়েজ আইনের বিধান অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া মোট সম্পত্তি তার উত্তরাধিকারদের মধ্যে নির্দিষ্ট অংশ বণ্টন করার পর বণ্টনকৃত অংশের যোগফল যদি মোট সম্পত্তি থেকে বেশি হয় তখন এই বেশি অংশটুকু আবার বণ্টিত উত্তরাধিকারদের মধ্যে আনুপাতিক হারে কমিয়ে বা হ্রাস করে বণ্টন করার নিয়মকেই আউলনীতি বলা হয়। অর্থাৎ কোরআনিক প্রাপকদের বণ্টিত অংশসমূহের সমষ্টি বা যোগফল যখন এক থেকে বেশি হয় বা অধিক হয় তখন যে নীতির সাহায্যে এ সমস্যার সমাধান দেয়া হয় তাকেই আউল নীতি বলে। সম্পত্তি বণ্টনের সময় মোট সম্পত্তিকে অর্থাৎ ষোল আনা সম্পত্তিকে ১ (এক) ধরে নিয়েই বণ্টন করতে হবে। সুরা আন নেসায় উত্তাধিকারদের মধ্যে স্ব স্ব অংশ বণ্টনের সময় দেখা যায় সম্পত্তি বণ্টনে কোনো সরল সংখ্যা ব্যবহার করা হয়নি, ভগ্নাংশ ব্যবহার করেছেন। বণ্টনের পর যদি মোট সম্পত্তির যোগফল ষোল আনা বা এক না হয়ে যে ভগ্নাংশ পাওয়া যায় এবং সেই ভগ্নাংশের হর অপেক্ষা লব যদি বড় হয় বা বেশি হয় অর্থাৎ ভাগকৃত বা বণ্টনকৃত অংশের চেয়ে বেশি হয় তখন হরকে বৃদ্ধি করে লবের সমান করতে হবে এবং প্রত্যেক অংশীদারকে আনুপাতিক হারে বণ্টন করতে হবে। তখন সম্পত্তি ষোল আনা পূর্ণ হয়।
অনেকেই প্রশ্ন করেন, আউলনীতিতে যদি সম্পত্তির অংশের বৃদ্ধি না ঘটে তাহলে এ-নীতিটির নাম আউলনীতি বা বৃদ্ধিকরণনীতি কেন বলা হলো? মূলত হরকে বৃদ্ধি করে লবের সমান করা হয় বলে এ-নীতিকে আউল বা বৃদ্ধিকরণনীতি বলা হয়।
হযরত ওমর (রা.) মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুতবা পড়ছিলেন এমন সময় জনৈক ব্যক্তি হযরত ওমরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, জনৈক ব্যক্তি তাঁর পিতা, মাতা, ২ কন্যা এবং স্ত্রীকে রেখে মারা গেছেন, তাঁর সম্পত্তি উত্তরাধিকারদের মধ্যে কোরআনের বিধানানুযায়ী বণ্টনের পর অংশগুলোর যোগফল একের বেশি হয়ে যায়।
যেমনÑ
পিতা = ১/৬ অংশ, অংশীদার হিসেবে
মাতা = ১/৬ অংশ অংশীদার হিসেবে
২ কন্যা = ২/৩ অংশ অংশীদার হিসেবে
স্ত্রী = ১/৮ অংশ অংশীদার হিসেবে
মোট সম্পত্তি = ৯/৮ অংশ অংশীদার হিসেবে
হযরত ওমর (রা.) হিসাব করে দেখলেন এবং বেশ চিন্তিত হয়ে পড়লেন। হযরত আলী তখন প্রস্তাব করলেন স্ত্রীকে ১/৮ অংশের পরিবর্তে ১/৯ অংশ দেয়া হোক। তাতেও যোগফল একের বেশি হয়ে যায় অর্থাৎ মোট সম্পত্তি যোগফল দাঁড়ায় ১০/৯। তারপরও সমস্যা থেকেই যায়। পরবর্তীতে আলোচনা করে দেখা যায় আনুপাতিক হারে প্রত্যেককে বেশি অংশটুকু বণ্টন করে দিলে মোট সম্পত্তির যোগফল এক (১) হয়ে যায়। হযরত ওমর (রা.) মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়ে এ সমস্যার সমাধান দেন বলে এ-নীতিটির নাম মিম্বরিয়া নীতি হিসেবে পরিচিত। উল্লিখিত সমস্যায় মোট সম্পত্তির যোগফল দাঁড়ায় ৯/৮ অংশ। এখানে দেখা যাচ্ছে লব বড় এবং হর ছোট। আলোচ্য বণ্টনে হর ৮ কে বৃদ্ধি করে লব ৯-এর সমান এবং হর ৯ কে বৃদ্ধি করে লব ১০-এর সমান করতে হবে; তবেই সমস্যার সমাধান হবে। একটি ভগ্নাংশের উপরের সংখ্যাটিকে লব এবং নিচের সংখ্যাটিকে হর বলে। যেমন ১/২ ভগ্নাংশটির ১ হলো লব এবং ২ হলো হর অর্থাৎ ১/২ = লব/হর ইত্যাদি।

আরও একটি উদাহরণ নিচে দেয়া হলো। কোনো মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি তাঁর অংশীদারদের মধ্যে বণ্টনের পর মোট সম্পত্তির যোগফল যদি ২৭/২৪ অংশ হয় তাহলে বুঝতে হবে এক্ষেত্রে আউলনীতি প্রয়োগ করতে হবে। কারণ এখানে লব হরের চেয়ে বড়। লব বড় হলে বুঝতে হবে মূল সম্পত্তির চেয়ে বণ্টনের পর সম্পত্তির যোগফল বেশি হয়েছে। এই বেশি সম্পত্তিটুকু কমাতে হবে। হরকে লবের সমান করতে হবে অর্থাৎ ২৪ কে ২৭ বানাতে হবে। মোট কথা হরের সাথে ৩ যোগ করে ২৭ করতে হবে। আর যদি লব ছোট হয়, হর বড় হয় তাহলে রদ্দের সাধারণ নীতি প্রয়োগ করতে হবে; অর্থাৎ হরকে কমিয়ে আনতে হবে।
পবিত্র কোরআনের সুরা আন নিসার ১১, ১২, এবং ১৭৬নং আয়াতে মোট ৬টি নির্দিষ্ট ভগ্নাংশ। যেমন ১/২, ১/৪, ১/৮, ২/৩, ১/৩ এবং ১/৬। এ ভগ্নাংশগুলোকে যতভাবেই যোগ বিয়োগ করি না কেন এদের লসাগু মৌলিকভাবে উল্লিখিত ২, ৩, ৪, ৬, ৮, ১২ এবং ২৪ হবে। এখানে মোট ৭টি সংখ্যার বাইরে অন্য কোনো সংখ্যা হবে না; অর্থাৎ ৬টি ভগ্নাংশের লসাগু হবে ২, ৩, ৪, ৬, ৮, ১২ ও ২৪। এই ৭টি সংখ্যার বাইরে অন্য কোনো সংখ্যা হবে না। এ ৭টি সংখ্যা দিয়েই মূল সম্পত্তির বণ্টন করতে হয়। ৭টি সংখ্যার মধ্যে ৪টি সংখ্যার আউল হয় না যেমন ২, ৩, ৪ ও ৮। তবে অবশিষ্ট ৩টি সংখ্যারই সময়ভেদে আউল হয়। যেমন ৬, ১২ ও ২৪। এক্ষেত্রে ৬-এর আউল ৭, ৮, ৯ এবং ১০ পর্যন্ত হতে পারে। ১২ সংখ্যার আউল ১৩, ১৫ এবং ১৭ পর্যন্ত হতে পারে, আর ২৪ সংখ্যার আউল হয় মাত্র একটি সংখ্যা। সেটি হলো ২৭। মনে রাখতে হবে এ-সংখ্যাগুলো ভগ্নাংশের যোগফলের লসাগু।
Ñ(চলবে)
লেখক: আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ