কলাম

সরকারের অভিযানের পাশাপাশি দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনও গড়ে তুলতে হবে

যেকোনো দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার ভয়ানক এক সামাজিক ব্যাধির নাম হচ্ছে দুর্নীতি। দুর্নীতি মানে হচ্ছে অসৎ উপায়ে অন্যের সম্পত্তি নিজের বলে আত্মসাৎ করা, অযোগ্য কাউকে অর্থের বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেয়া, কোনো বৈধ বা অবৈধ কাজ সম্পন্ন করতে ঘুষ দেয়া ও নেয়া, পরীায় বেশি নম্বর দিয়ে ভালো শিার্থীদের সম্ভাবনা নষ্ট করে দেয়াসহ অনেক কিছু।
বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে দুর্নীতি এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। অথচ আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের চেতনাগুলোর মধ্যে ছিল আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার, অর্থনৈতিক ও সামাজিক েেত্র সমতা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর আমাদের অর্জন ও ব্যর্থতার হিসাব-নিকাশ করলে দেখা যাবে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অংশ হয়ে পড়েছে।
দুর্নীতির মতো জাতীয় ব্যাধির কারণে সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে এবং সুষম রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে, যদিও জাতীয় এই সমস্যা প্রতিরোধ করার ল্েয দুদককে একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান সৃষ্টির ফলে মতাবান দুর্নীতিবাজরা কিছুটা শঙ্কিত হয়েছে সত্য, কিন্তু সমাজ বা রাষ্ট্র প্রত্যাশিত পর্যায়ে দুর্নীতিমুক্ত হয়নি।
বঙ্গবন্ধু ও সাড়ে ৭ কোটি বাঙালি অনেক ত্যাগ ও কষ্টের বিনিময়ে আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। কিন্তু আজ দুর্নীতি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ও চেতনাকে অবমাননা করছে। সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে আদর্শ ও নৈতিকতা। এ অবস্থার পরিবর্তন করতে এ দেশের যুবসমাজ সবচেয়ে বড় শক্তি এবং অপার সম্ভাবনা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অদম্য আগ্রহ, সৃজনশীলতা এবং সুন্দর বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন নিয়ে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে তাদের সর্বাত্মক অংশগ্রহণ আজ সময়ের দাবি।
দেশের যেকোনো অর্জনে অতীতে তরুণেরাই অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। এই তরুণদের বিবেক জাগ্রত করে ধীরে ধীরে সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে। পঁচাত্তর সালে এক ভাষণে জাতির জনক দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। শুধু রাষ্ট্রের একার পে দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব নয়। এই ব্যাধির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু।
আমরাও মনে করি, দুর্নীতি দমনের জন্য বিবেক জাগ্রত রাখতে হবে। দুর্নীতিবাজকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। জনগণ সচেতন না হলে সরকার তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একার পক্ষে সমাজ বা রাষ্ট্রকে দুর্নীতিমুক্ত করা যাবে না। তাই সরকারের চলমান অভিযানের পাশাপাশি দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনও গড়ে তুলতে হবে। তা হলেই কেবল সমাজ ও রাষ্ট্র দুর্নীতিমুক্ত হবে।