প্রতিবেদন

৩টি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ অক্টোবর ৬০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে সম পদ্মা (জশলদিয়া) ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (পর্যায়-১) এবং সাভার উপজেলায় তেতুলঝরা-ভাকুর্তা ওয়েল কনস্ট্রাকশন প্রজেক্ট (পর্যায়-১) উদ্বোধন করেছেন। এছাড়াও তিনি ৬০ কোটি লিটার পানি শোধনে সম নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অপর একটি প্রকল্প গান্ধাপুর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক অনুষ্ঠানে এই ৩টি প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় স্থাপিত পদ্মা (জশলদিয়া) ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ৪৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করবে এবং সাভারের তেতুলঝরা-ভাকুর্তা ওয়েল ফিল্ড প্ল্যান্ট ১৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করবে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গান্ধাপুর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ সম্পন্ন হলে ৫০ কোটি লিটার পানি পাওয়া যাবে।
ঢাকা নগরবাসীর ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা মেটাতে এসব প্ল্যান্ট নির্মিত হয়েছে। প্লান্টে পদ্মা নদীর পানি শোধন করে পাইপ লাইনের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো হবে। পদ্মা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা।
ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অন্যান্য এলাকার চেয়ে পানি সরবরাহসংকট তীব্র হয়ে ওঠে। ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে কাছাকাছি সাভার থেকে প্রতিদিন ১৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহের জন্য ঢাকা ওয়াসা ৫৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তেতুলঝরা-ভাকুর্তা ওয়েল ফিল্ড প্ল্যান্ট বাস্তবায়ন করেছে। এই প্রকল্পে ৪৬টি উৎপাদন কূপ এবং ৪৮ কিলোমিটার সরবরাহ লাইনের মাধ্যমে মিরপুরে পানি সরবরাহ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী ঢাকা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার প্ল্যান্ট প্রকল্পের অধীনে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গান্ধাপুর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন। এই প্রকল্পে প্রায় ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। এখানে মেঘনা নদী থেকে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানি শোধন করা হবে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-এডিবি, ফ্রেঞ্জ ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি-এএফডি, ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলাল উদ্দীন আহমেদ, বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জি মিং, ঢাকায় দণি কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত হু কাং-ইল, এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ এবং ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান বক্তব্য রাখেন। রাজধানীতে ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা মেটাতে ঢাকা ওয়াসার গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্প তুলে ধরে অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও উপস্থাপন করা হয়।
২টি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের উদ্বোধন ও ১টি প্লান্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকার জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে গ্রাম পর্যন্ত সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের ল্য হচ্ছে শহর থেকে গ্রাম পর্যায়ের মানুষের কাছে নিরাপদ খাবার পানি পৌঁছে দেয়া। আমরা বর্তমানে কেবল ঢাকা নয়, বিভাগীয় শহরগুলোতেও নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ করছি।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার জন্য নিরাপদ পানি’ এই স্লোগানকে ধারণ করে ঢাকা ওয়াসা রাজধানীর বস্তিগুলোতেও আইনসম্মত উপায়ে নিরাপদ পানি সংযোগের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে। পর্যায়ক্রমে সব বস্তিকে পানি সরবরাহের আওতায় আনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে বৃষ্টির পানি সংরণ ও ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা না কমালে আমাদেরকে গুরুতর পরিণতি মোকাবিলা করতে হবে। ২০২১ সালের মধ্যে সব বিভাগীয় শহরে ভূ-উপরিস্থ পানির উৎসের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ল্েয কাজ চলছে। বৃষ্টির পানি সংরণের ব্যবস্থার জন্য শিল্পাঞ্চল ও আবাসিক এলাকায় জলাধার নির্মাণ এবং বর্জ্য ও দূষিত পানি নিষ্কাশনের পদপে নেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সেচ কাজে বৃষ্টি ও ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বৃষ্টির পানি সংরণে ৪ হাজার ৭০০ জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সব নদীর নাব্যতা বজায় রাখা এবং সেগুলোকে জলাধার হিসেবে ব্যবহার করতে নদী খননের কাজ চলছে। পরিস্রবনের মাধ্যমে ৭ হাজার পুকুর লবণাক্ততামুক্ত হয়েছে। এছাড়া লবণাক্ত অঞ্চলে ৩২ হাজার ৬০০ গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে।
সবার জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানি সরবরাহ, স্যুয়ারেজ ও ড্রেনেজ সিস্টেম নিয়ে আমাদের সরকার ৩টি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করেছে। পাশাপাশি ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ অ্যাক্ট, ন্যাশনাল ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন অ্যাক্ট ২০১৪ পাস এবং ১৯৯৯ সালে জাতীয় পানি নীতি এবং ন্যাশনাল পলিসি ফর আর্সেনিক মিটিগেশন অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন প্ল্যান গ্রহণ করা হয়।
এমডিজির সফল বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের ঘোষিত এসডিজি-২০৩০এর ১৭টি ল্েযর মধ্যে ৬ নম্বরটি হচ্ছে সবার জন্য স্যানিটেশনের টেকসই ব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করা। আমরা সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এসডিজি সমন্বিত করেছি এবং এটি বাস্তবায়ন হচ্ছে।