রাজনীতি

তিন সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। মেয়াদপূর্তির কারণে আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে এই তিনটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসাবে মাস দুয়েক এগিয়ে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন সম্পন্ন করার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন।
ইসির সিটি নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতির কারণে এরই মধ্যে বিএনপির একাধিক নেতা মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য তৎপরতা শুরু করেছেন। বিএনপি অবশ্য বলছে, বর্তমান সরকারের অধীনে তারা কোনো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে না, কিন্তু তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা দেখে মনে হয়, তিন সিটির মেয়র নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে তারা বরাবরের মতো নির্বাচনি মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়বে। সেক্ষেত্রে তারা হয়ত সরকারকে ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার সুযোগ না দেয়ার পুরনো কথাই বলবে।
জানা গেছে, তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিতে ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি জোরদার করছে বিএনপি। ইতোমধ্যেই কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা পেয়ে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রস্তুতিসভা শুরু করেছে দলের নেতাকর্মীরা। লন্ডন থেকে তারেক রহমানও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। এ তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রার্থীও ঠিক করে ফেলেছে বিএনপি। তবে কৌশলগত কারণে প্রার্থীদের নাম আগাম ঘোষণা করছে না। নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে মেয়র পদপ্রার্থীদের নাম ঘোষণা করার কৌশল নেয়া হয়েছে।
সূত্র বলছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি এখন থেকে প্রতিটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে গুরুত্ব দিচ্ছে। বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিজয়ের পর থেকে দলের নেতাকর্মীদের মনোবলও কিছুটা চাঙা হয়েছে। তবে তারা সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল এ তিন সিটি করপোরেশনে নির্বাচন হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন অনুযায়ী ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট করতে হয়। সে হিসাবে চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এই ৩ সিটি করপোরেশনে।
জানা যায়, দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ধরা পড়ায় এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগ ও সরকারি দল সমর্থক ভিসিদের অপকর্ম ফাঁস হওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিএনপি এখন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছে। সেই সঙ্গে ৩ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব ইস্যু সামনে রেখে বিএনপি নির্বাচনি প্রস্তুতি জোরদার করছে। এ কৌশল কাজে লাগিয়ে মোটামুটি সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন করা গেলে বিএনপি সফল হতে পারবে বলে নেতাকর্মীরা মনে করছে।
জানা যায়, ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে অংশ নিতে বিএনপির বেশ ক’জন নেতা দৌড়ঝাঁপ করছেন। তবে সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে ৩ জনকে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করে রেখেছে দলীয় হাইকমান্ড। এ তিনজন হলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জন্য বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে ও দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইসরাক হোসেন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জন্য মেয়র পদে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন ঠিক করা হয়েছে মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনকে। শেষ পর্যন্ত এ তিন জনকেই মনোনয়ন দেয়া হবে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন।
সূত্র মতে, তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিএনপি। আর এ জন্যই এ ৩ সিটি এলাকার সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ নির্দেশ পেয়ে ইতোমধ্যেই ৩ সিটি করপোরেশন এলাকায় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রস্তুতিসভা শুরু হয়েছে। সভাগুলো কেন্দ্র থেকে সমন্বয় করা হচ্ছে। এছাড়া লন্ডন থেকে তারেক রহমানও তার ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে এ বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, বিগত নির্বাচনে ৩ সিটি করপোরেশনেই অংশ নিয়েছিল বিএনপি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে তাবিথ আউয়াল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে সাবেক মেয়র মঞ্জুর আলম মেয়র পদে নির্বাচন করেন। নির্বাচনের দিন বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়ার পরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেয়েছিল বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা। বিশেষ করে চট্টগ্রামের মেয়র মঞ্জুর আলম বিএনপির নির্বাচন বর্জনের ঘোষণায় চরম হতাশ হন। বর্জনের ঘোষণা না দিলে তিনি মেয়র নির্বাচিত হতেন বলেও প্রকাশ্যে বলে বেড়ান। তাই বিএনপির নির্বাচন বর্জনের ঘোষণার কারণে ওই নির্বাচনের কিছুদিন পর তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন।
ইসি সূত্রে জানা যায়, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এ তিন সিটি করপোরেশনেই এক সময় বিএনপি সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী থাকলেও এখন অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে। তাই এ তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হওয়ার চেষ্টার পাশাপাশি দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে চাঙা করতে চায় বিএনপি।