প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রতিবেদন

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের অপপ্রচারের মুখে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ

বিশেষ প্রতিবেদক
দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের নির্দেশিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী ও দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের অপপ্রচারের মুখে পড়েছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও সংস্থার বর্তমান চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম। সিন্ডিকেটটি বিভিন্ন নামসর্বস্ব অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও অখ্যাত দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও এর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হুবহু একটি প্রতিবেদনই গত কয়েক মাস ধরে প্রকাশ করে যাচ্ছে। এ তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে ইলেকট্রনিক মিডিয়া ‘একুশে টেলিভিশন’। অবাক করা বিষয় হলো, গত জুলাই মাসে বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়া যে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে, গত ১৭ অক্টোবর হুবহু সে প্রতিবেদনটিই প্রচার করে একুশে টেলিভিশন। গত পাঁচ মাস ধরে একটি প্রতিবেদনই বিভিন্ন মিডিয়ায় একই আঙ্গিকে প্রকাশ ও প্রচার হওয়ার কারণে অনেকের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায় যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো. রাশিদুল ইসলাম যে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটটির পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়ে গেছেন, তারাই অনৈতিক সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে গণমাধ্যমকে দিয়ে একটি প্রতিবেদনই কয়েক দিন পর পর প্রকাশ ও প্রচার করে যাচ্ছে।
একুশে টেলিভিশনসহ সবগুলো অনলাইন পোর্টাল ও প্রিন্ট মিডিয়া জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও এর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছে, তাতে সবাই সূত্র হিসেবে ‘একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন’-এর কথা উল্লেখ করেছে। কিন্তু কোনো গণমাধ্যমই গোয়েন্দা সংস্থাটির নাম উল্লেখ করেনি। বাস্তবতা হলো, বিভিন্ন গণমাধ্যমে যখন কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, তখন সেই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়গুলোর সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধানে নামে এবং সত্যতা পেলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করে। কোনো গোয়েন্দা সংস্থাই তাদের অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন গণমাধ্যমের কাছে দিয়ে বেড়ায় না এবং এটা তাদের কাজও নয়।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও এর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঠিক উল্টো ঘটনা ঘটেছে। গোয়েন্দা সংস্থা আগে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ইনভেস্টিগেশনে নেমেছে এবং সেই ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট কুরিয়ার বা ডাক মারফত গণমাধ্যমের অফিসে অফিসে পাঠিয়েছে! এরপর গণমাধ্যম হামলে পড়েছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও এর বর্তমান চেয়ারম্যানের ওপর। সেই তথাকথিত গোয়েন্দা রিপোর্টের সূত্র ধরে সবাই একযোগে বলছে, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ‘টপ টু বটম’ দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, চেয়ারম্যান লাখ লাখ টাকা ঘুষ খাচ্ছেন, বদলি বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন, ফ্ল্যাট দখল করেছেন, এক জনের প্লট অন্যকে দিয়ে ফেলেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু কেউই কোনো সুনির্দিষ্ট সূত্র বা প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারছেন না গোয়েন্দা রিপোর্টের কাল্পনিক সূত্রটি ছাড়া।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে উল্লিখিত তথ্যগুলো আসলেই কোনো গোয়েন্দা প্রতিবেদনের কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কারণ, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের নামে তোলা অভিযোগগুলো এমন সময় সামনে নিয়ে আসা হয়েছে যখন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একে একে সারাদেশ থেকে উদ্ধার করে চলেছেন প্রভাবশালীদের দখলে থাকা সরকারি জমি ও অবৈধ স্থাপনা।
জানা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অনেক জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল স্বার্থান্বেষী কিছু মহল। বছরের পর বছর ধরে এসব জমি অপদখল হয়ে থাকলেও উদ্ধারে জোরালো উদ্যোগ ছিল না। অবশেষে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম দায়িত্ব নেয়ার পর প্রায় ৭০০ একর জমি উদ্ধার করে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অনিয়ম-দুর্নীতিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছেন। কিন্তু জনস্বার্থে কাজ করে প্রশংসিত হওয়ার বদলে স্বার্থান্বেষী দুর্নীতিবাজ একটি সিন্ডিকেটের চক্ষুশূল হয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম। সিন্ডিকেটটি একটি অলীক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের সূত্র ধরে বিভিন্ন নামসর্বস্ব গণমাধ্যমকে দিয়ে একের পর এক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মনগড়া প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রচার করিয়ে যাচ্ছে।
বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল, পত্রিকা ও সর্বশেষ একুশে টেলিভিশনে প্রচারিত প্রতিবেদন সম্পর্কে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বলছে, সংস্থার চলমান সকল ধরনের নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য নির্মাণ সামগ্রী (রড, সিমেন্ট, বালু) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বি.আর.টি.সি. কর্তৃক সময়ে সময়ে পরীক্ষাপূর্বক নির্মাণ সাইটে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের কোড অব স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সকল ধরনের মালামাল এবং ফিটিং/ফিক্সিং লাগানো/ব্যবহার করা হয় বিধায়, নিম্নমানের কোনো মালামাল ব্যবহারের সুযোগ নেই।
অর্থবছর শুরু হওয়ার পূর্বেই সকল ধরনের চলমান প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত হয়। সেই বাজেট মোতাবেক পরবর্তীতে সকল ধরনের আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। নির্ধারিত বাজেটের বাইরে কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অর্থ খরচ করার অভিযোগ অমূলক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘সবার জন্য আবাসন, কেউ থাকবে না গৃহহীন’ স্লোগানকে সামনে রেখে দেশব্যাপী পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির কাজ প্লট-ফ্ল্যাট, জমি-জমা সংক্রান্ত হওয়ায় গোষ্ঠীবিশেষের স্বার্থহানি হলেই দুর্নীতি এবং হয়রানির অভিযোগ তোলে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং সচিবের নির্দেশনায় জনস্বার্থে সেবা বিকেন্দ্রীকরণ এবং সহজীকরণের অংশ হিসেবে প্লট/ফ্ল্যাটের নামজারি সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে সম্পন্ন হয়ে থাকে। মাঠ পর্যায়ে দখল হস্তান্তর এবং নামজারি নিষ্পত্তি হওয়ায় সেবা প্রত্যাশীগণ অল্প সময়ের মধ্যেই কাক্সিক্ষত সেবা পেয়ে যাচ্ছেন এবং ভোগান্তিও লাঘব হচ্ছে।
একুশে টেলিভিশনে প্রচারিত প্রতিবেদনে শেখ আব্দুল মান্নান বীরপ্রতীক তার বক্তব্যে অমূলক অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি ২০১৯ সালের ১৮ আগস্ট জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর একটি আবেদনপত্র দাখিল করেছেন। তার ভাষায়, সরকার কর্তৃক ১৯৬০-৬১ সালে বিহারি কলোনির জন্য হুকুমদখলকৃত এল/এ কেস নং- ১৫৯/১৯৬১-৬২ এর মধ্য হতে ২২নং প্লটটি বরাদ্দ চেয়েছেন। তার আবেদনের সাথে সংযুক্তি হিসেবে স্মারক নং- এমপি-৮৫৪/৯৩/৯৫০৪/কসে, তারিখ: ২৬.১০.৯৩ স্মারকে তার নামে মিরপুরস্থ ১৬নং সেকশনের ১৮ নম্বর প্লটের একটি বরাদ্দপত্র সংযুক্ত করেছেন। নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তার কর্তৃক দাখিলকৃত বরাদ্দপত্রটি জাল ও ভুয়া। প্রকৃতপক্ষে, ২৫.১০.৯৩ তারিখে অনুষ্ঠিত বরাদ্দ কমিটির সভায় শেখ আব্দুল মান্নানের নামে কোনো প্লট বরাদ্দের সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচ্য ১৮ নম্বর প্লটটি ফুল মেহের বিবি, স্বামী- মজম আলী এবং রাহাতুন নেছা, স্বামী- জাবেদ আলীকে ২৫.১০.৯৩ সালে ভূমি বরাদ্দ কমিটির অনুমোদনের প্রেক্ষিতে স্মারক নং- এমপি-১৩২৪/৯৩, এমপি-১২৯৭/৯৩/২১৫৯, তারিখ: ২৩.০৩.৯৪-এর মাধ্যমে বরাদ্দ প্রদান করা হয়। বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত একজন মুক্তিযোদ্ধা ভুয়া/জাল কাগজপত্র নিয়ে একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রদান করার ঘটনা দুঃখজনক।
একুশে টেলিভিশন কর্তৃক প্রচারিত প্রতিবেদনে কাজী আব্দুল মান্নান নামে একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার বক্তব্য প্রচারিত হয়েছে। তিনি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চলমান কোনো প্রকল্পে আবেদন করেননি কিংবা প্লট বরাদ্দের নোটিশ প্রকাশের প্রেক্ষিতে আবেদন করেননি। বরাদ্দ নির্দেশিকা অনুযায়ী যথাযথভাবে আবেদন না করায় তার আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে। ২০১৮ সালের ৫ আগস্ট তারিখে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলমান এবং এই প্রক্রিয়ায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের প্রতিবেদন প্রয়োজন হওয়ায় এটি নিষ্পত্তির বিষয় সময়সাপেক্ষ।
প্রতিবেদনে আয়নামতি মিতা নামের একজন তার ফ্ল্যাট অন্যের নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়ার বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অপ্রাসঙ্গিক। প্রকৃতপক্ষে, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের স্মারক নং- জাগৃক/ভূসব্য/রূপ-২১৩/৯০/৮৮৬০, তারিখ: ২৩.১১.১৭ এর মাধ্যমে মিরপুরস্থ রূপনগর আবাসিক এলাকার রোড-১৩, প্লট-৩৪ এ নির্মিত ৭/এ ফ্ল্যাটটি আয়নামতি মিতার নিকট হস্তান্তরের জন্য আমমোক্তারনামা গ্রহীতা সপ্তসিন্ধু ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জালাল উদ্দিনকে অনুমতি প্রদান করা হয়। ডেভেলপার কোম্পানি এবং আয়নামতি মিতার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ক্রয়-বিক্রয় এবং রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে নামজারি অনুমতির জন্য আবেদন করতে হবে। কিন্তু আয়নামতি মিতা ক্রয়সূত্রে নামজারির জন্য কোনো আবেদন করেননি। ডেভেলপার কোম্পানি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কারো নিকট ফ্ল্যাট বিক্রয় করেছে কি না তা কর্তৃপক্ষের পক্ষে জানা সম্ভব নয়, সেটি ক্রেতা-বিক্রেতার দ্বিপক্ষীয় বিষয়। অননুমোদিত ক্রেতা নামজারির আবেদন করলে তা নাকচ হয়ে যাবে।
প্রচারিত প্রতিবেদনটিতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ক্যাশিয়ার মো. মনসুর আলম এবং উচ্চমান সহকারী মো. দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কক্ষ দখল এবং জেলে থাকার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং কল্পনাপ্রসূত। তারা নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থেকে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করছেন। একাধিকবার দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করেছে এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত কোনো সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সত্যতা পায়নি।
একুশে টেলিভিশনের প্রতিবেদনটিতে সিরাজগঞ্জ ও কুমিল্লায় বিশ্বব্যাংক এবং সরকারের যৌথ অর্থায়নে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য উন্নত জীবন ব্যবস্থা শীর্ষক প্রকল্পে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করার অভিযোগ করা হয়েছে; যা সম্পূর্ণ বানোয়াট, অসত্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রকল্পটির মোট মূল্য ৩০৪ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা। এই প্রকল্পে এ যাবৎ ৩৮ কোটি ৫৯ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে, যার মধ্যে ১২ কোটি টাকা জমি অধিগ্রহণ ব্যয় অন্তর্ভুক্ত। ৩০৪ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার প্রকল্পে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ভাগ-বাটোয়ারার প্রশ্ন বানোয়াট, হাস্যকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্লট/ফ্ল্যাট/দোকান বরাদ্দের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী খালি প্লট/ফ্ল্যাট/দোকান ক্রয়ে আগ্রহী নাগরিকদের উদ্দেশে পত্রিকায় এবং ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে আবেদনকারীদের উপস্থিতিতে প্রকাশ্য লটারির মাধ্যমে বরাদ্দপ্রাপক নির্বাচন করা হয়। ওই লটারি অনুষ্ঠানে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মনোনীত কর্মকর্তা ব্যতীত প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকেন। এছাড়া জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত লটারির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের মনোনীত প্রতিনিধি উপস্থিত থাকেন। মিরপুরস্থ স্বপ্ননগর-২ প্রকল্পের ফ্ল্যাট বরাদ্দের লটারি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে বরাদ্দ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।
একুশে টেলিভিশনের প্রতিবেদনে মিরপুরস্থ ১০/বি-১/৯ প্লটটি জনৈক মিজানুর রহমানকে ২ কোটি টাকার বিনিময়ে বিনামূল্যে বরাদ্দ প্রদানের অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতিবেদকের বক্তব্য সম্পূর্ণ মনগড়া, বানোয়াট ও কাল্পনিক। আলোচ্য প্লটটি ১৪.০৮.১৯৭৫ সালে নাজিরা আক্তার বেগমের নামে বরাদ্দ এবং ০২.০১.১৯৭৬ সালে বাস্তব দখল হস্তান্তর করা হয়েছে। নাজিরা আক্তার বেগমের একমাত্র পুত্র আহমেদ নেওয়াজ ভূইয়া ওয়ারিশসূত্রে প্লটটির মালিক হয়ে জনৈক মো. মিজানুর রহমানের নিকট হস্তান্তর/বিক্রয় করেন, যা ০৯.০৪.২০১৩ সালে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ হতে হস্তান্তর অনুমতি প্রদান করা হয়। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান প্লটটি বিনামূল্যে বরাদ্দ প্রদানের প্রশ্নই উঠে না। এ সংক্রান্ত মূল নথিপত্র গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি মন্ত্রণালয় কর্তৃক তদন্তনাধীন।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বরাদ্দ নির্দেশিকা অনুযায়ী চেয়ারম্যান কর্তৃক কোনো ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকে প্লট/ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে আহ্বানকৃত এবং প্রাপ্ত আবেদনকারীদের মধ্যে প্রকাশ্য লটারির মাধ্যমে প্লট/বরাদ্দ দেয়া হয়। অর্থের বিনিময়ে কাউকে প্লট/ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগ শুধু অবাস্তবই নয়, হাস্যকরও বটে। স্পষ্টতই অভিযোগটি সম্পূর্ণ মনগড়া, বানোয়াট, ষড়যন্ত্রমূলক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
জানা যায়, মো. রাশিদুল ইসলাম ০৪.০৯.২০১৮ সালে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়োগ পদ্ধতি সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা থাকলেও আলোচ্য প্রতিবেদনে এ ধরনের তথ্য উল্লেখ করার কথা নয়। সরকার অনেক চিন্তাভাবনা করে যোগ্য ব্যক্তিকেই কোনো প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদে নিয়োগ দিয়ে থাকেন। অর্থ খরচ করে পদায়ন- এটি সরকারের একটি মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ; যা কখনোই কাম্য হতে পারে না। এ ধরনের অভিযোগ অবান্তর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাষ্ট্রীয় কর্মকা-ে সরাসরি হস্তক্ষেপ।
প্রচারিত প্রতিবেদনটিতে রাজশাহী তেরখাদিয়া প্রকল্পে প্লট বরাদ্দের অনিয়মের বিষয় উত্থাপন করা হয়েছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কল্পনাপ্রসূত। ১৬.০৪.২০১৮ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তরের পূর্ত ভবন অডিটোরিয়ামে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, রাজশাহী জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, রাজশাহী পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদনকারীর উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে রাজশাহীর তেরখাদিয়ার ৫০টি প্লট বরাদ্দের লটারি অনুষ্ঠিত হয়, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের তৎকালীন চেয়ারম্যানও ওই লটারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। লটারির ফলাফল বোর্ড সভায় অনুমোদনের পর বিজয়ীদের নামে বরাদ্দপত্র জারি করা হয়েছে। এতদবিষয়ে ব্যক্তিবিশেষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুরোধে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন-২) কর্তৃক বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে। দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কোটা থেকে আবেদনের ভিত্তিতে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম এর নামে তৎকালীন চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে কর্তৃপক্ষের ১৮৪তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত ৮৮ ফ্ল্যাট প্রকল্পে ১টি ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেয়া হয়, যা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অন্যান্য কর্মকর্তাদের ন্যায় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি তার প্রাপ্য।
সরকারি চাকরিতে বদলি একটি স্বাভাবিক ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সকল সরকারি অফিসেই নিয়মিতভাবে বদলির কার্যক্রম হয়ে থাকে। এটি বাণিজ্য নয়। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকায়, জনবলের অভাবে বিভিন্ন দপ্তরের চাহিদা থাকায়, মাদক ও চুরির সংশ্লিষ্টতা থাকায় কয়েকজন কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে। আর্থিক অনিয়মের কারণে চলতি দায়িত্বে থাকা একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে চাকরিচ্যুত করাসহ আরো বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।
প্রতিবেদনে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে, যা সর্বৈব মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ই-জিপি’র মাধ্যমে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকে; যেখানে চেয়ারম্যানের কোনো অনৈতিক ভূমিকা নেয়ার সুযোগই নেই। অধিকন্তু, মিরপুরস্থ জয়নগর প্রকল্পের ঠিকাদার প্রজেক্ট বিল্ডার্স লিমিটেড এবং মোহাম্মদপুরস্থ এফ ব্লক ফ্ল্যাট প্রকল্পের ঠিকাদার বি.আলম ব্রাদার্সকে নির্মাণকাজে অনিয়ম এবং চুক্তিভঙ্গের কারণে তাদের চুক্তি বাতিল করে ই-জিপির মাধ্যমে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি’র সুযোগ্য নেতৃত্বে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সরকারের পরিকল্পিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করে চলেছে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অসদুপায় অবলম্বনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কিন্তু কোনো বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও নিশ্চিত তথ্য-উপাত্ত ছাড়া অনুমানভিত্তিক ও অসত্য তথ্য দিয়ে মনগড়া খবর প্রকাশ করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, সুযোগসন্ধানী ও স্বার্থান্বেষী মহল মনগড়া প্রতিবেদন ব্যবহার করে সরকারের আসল উদ্দেশ্য ব্যাহত করতে পারে। প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদধারীকে নিয়ে মনগড়া ঢালাও মন্তব্যকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সরকারের চলমান উন্নয়ন ধারাকে বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
সুনির্দিষ্ট ও নিশ্চিত তথ্য-উপাত্ত ছাড়াই অনুমানভিত্তিক বানোয়াট ও অসত্য তথ্য দিয়ে মনগড়াভাবে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। অসত্য হলেও নিজ কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে এ ধরনের নেতিবাচক সংবাদ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সকল সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। প্রতিবেদন প্রণয়নকারী সঠিক তথ্য-উপাত্ত ব্যতীত একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে এরূপ মন্তব্য করতে পারেন না। এ ধরনের অসত্য তথ্য ও সংবাদ পরিবেশন করে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সংবাদ প্রচারের জন্য সংবাদ পরিবেশনকারী সংশ্লিষ্টদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।
গণমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সমাজ ও রাষ্ট্রের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ অর্জন যেমন গণমাধ্যমের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়, তেমনি গণমাধ্যমের অনুমানভিত্তিক ও প্রভাবিত হয়ে অসত্য তথ্য দিয়ে তৈরি প্রতিবেদন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের বা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়নে উপকারভোগী জনগণের প্রত্যাশায় অবিশ্বাস জন্ম নিতে পারে, যা রাষ্ট্র এবং সমাজের জন্য মঙ্গলজনক নয়। তাই আমরা গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা আশা করি। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে ইতিবাচক সমালোচনা ও সঠিক তথ্যভিত্তিক এবং জনউপকারী সংবাদ/প্রতিবেদন প্রকাশ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। একই সাথে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও এর কর্মকর্তাদের নিয়ে যথাযথ তথ্যসূত্র ছাড়া অনুমাননির্ভর, মনগড়া, কাল্পনিক ও অসত্য প্রতিবেদন প্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এ ধরনের অসত্য প্রতিবেদন প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্যও অনুরোধ করা হলো।

দুই.
একুশে টেলিভিশনে প্রচারিত প্রতিবেদনের বিপরীতে অনেকে বলছেন, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী নাগরিক সেবা সহজ করার ব্যবস্থা করে রাশিদুল ইসলাম সব শ্রেণির মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছেন।
জানা যায়, আগে নামজারি করতে সময় লাগত ৩৩ দিন, এখন লাগছে ৩ দিন; তবে ওয়ারিশসূত্রে নামজারির ক্ষেত্রে কিছুটা জটিলতা থাকায় এক্ষেত্রে সময় লাগে ১০ দিন। দায়মুক্তি পেতে আগে সময় লাগত ২১ দিন, বর্তমানে ৫-১০ দিন। সময় বর্ধিতকরণে আগে সময় লাগত ১৬ দিন, এখন সময় লাগে ৪ দিন। হস্তান্তরের ক্ষেত্রে পূর্বে কোনো সময় উল্লেখ ছিল না। এখন ১০ দিন সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। পূর্বে হস্তান্তরের কাজটি সদস্য (ভূমি) পর্যায়ে নিষ্পত্তি হতো। বর্তমানে এ কাজটি পরিচালক (ভূমি) পর্যায়ে নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। এতে একটি বড় ধাপ কমে গেছে।
এভাবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সেবা প্রদানের অন্যান্য ক্ষেত্রেও ধাপ ও সময় কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেন বর্তমান চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম। এতেই আঁতে ঘা লাগে ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। মূলত এসব পরিবর্তন দেখার পরই চিহ্নিত চক্রটি তাঁর পেছনে লেগেছে। দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত প্রকৌশলী, ঢাকার বাইরে বদলি হওয়া কর্মচারী এবং মিরপুর এলাকার একটি ডেভেলপার কোম্পানির কর্তাব্যক্তিরা তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে প্রপাগান্ডা চালাতে শুরু করে। এরপরও অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম। তিনি ইতোমধ্যে একাধিক জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জনসাধারণকে সতর্ক করেছেন। সেবাগ্রহীতারা যেন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনে না জড়ান এবং দালালের খপ্পরে না পড়েনÑ এ ধরনের জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
এতকিছুর পরও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার থেমে নেই। স্বার্থান্বেষী দুর্নীতিবাজ মহলের অপপ্রচারের নেপথ্য কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেয়ার পর সারাদেশে অবৈধ দখলে থাকা গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রায় ৭০০ একর জমি উদ্ধার হয়েছে। অপদখলে থাকা সংস্থার আরো জমি যখন অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে উচ্ছেদের পরিকল্পনা করছেন ঠিক তখনই তাঁকে সরিয়ে দেয়ার চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে হাতেগোনা কয়েকজন স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি। প্রতিষ্ঠানটির বেশ কয়েকজন কর্মচারীকে দায়িত্বে অবহেলা ও বিভিন্ন অপকর্মের কারণে বদলি করা হয়েছে। এদের অনেকেই অফিস চলাকালীন অফিসকক্ষেই মাদক সেবনের সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছে। তারা অফিসের গোপন তথ্য পাচার, নথির ফটোকপি করে বাইরের লোককে দেয়া এবং ডাক ও টেলি যোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের মোহাম্মদপুরের বাড়ি উচ্ছেদের তথ্যও পাচার করে দেয়ার কারণে উচ্ছেদ কার্যক্রম সফল হয়নি। পরবর্তীতে মামলা মোকাবিলা করে উচ্ছেদ কার্যক্রম সফল করতে হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্প্রতি কিছু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং অনলাইন গণমাধ্যমে একই ধরনের তথ্য ও ভাষারীতিতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলামকে টার্গেট করে পরিকল্পিত উপায়ে সংবাদ প্রকাশ করছে। এসব সংবাদে তাঁকে এমন সব কর্মকা-ের সঙ্গে যুক্ত দেখানো হয়েছে, যখন তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বেই ছিলেন না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও কর্মঠ কর্মকর্তা হিসেবে ইতোমধ্যেই ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জনবান্ধব এই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অনিয়মগুলো শক্ত হাতে দূর করতে শুরু করেন। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য তিনি দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এমনকি শুক্র-শনিবার সরকারি ছুটির দিনেও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে বিভিন্ন প্রকল্পের উন্নয়নকাজ সরেজমিনে পরিদর্শনসহ ঝটিকা সফর শুরু করেন। এর ফলে আতঙ্ক নেমে আসে অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে জড়িত এবং আশ্রয়-প্রশ্রয়দানকারী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটটির মাঝে।
সূত্র জানায়, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলামের হাতে উদ্ধারকৃত জমির বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা।
জানা গেছে, রাশিদুল ইসলাম জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে যোগদানের পর কোনো ছুটি ভোগ করেননি। তিনি প্রতিনিয়তই বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে থেকে কাজের গুণগত মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে যথাযথ নির্দেশনা দিয়ে আসছেন। কিন্তু একটি দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট বর্তমান সরকারের উন্নয়নের রূপকল্প বাধাগ্রস্ত করতে একদিকে যেমন উদোর পি-ি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা শুরু করেছে, অন্যদিকে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা মিথ্যাচার করছে। তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাশিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং অনলাইন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রচারে সহযোগিতার মাধ্যমে তাকে হেয় করার চেষ্টা চালাচ্ছে। মহলটির উদ্দেশ্য গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদ থেকে রাশিদুল ইসলামকে সরিয়ে দেয়া। এ কাজে সফল হলে তারা তাদের খেয়ালখুশিমতো সবকিছু করতে পারবে।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম স্বদেশ খবরকে বলেন, দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে কোনো আপস নয়। সৎভাবে দেশ ও জাতির জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমার বিরুদ্ধে স্বার্থান্বেষী সিন্ডিকেট যা খুশি তা করুক, আমি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাইনি, ঘটাতেও দেবো না।
আমার কাছে ব্যক্তির ক্ষুদ্র স্বার্থের চেয়ে সরকার তথা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থই বড়। তাই ব্যক্তিবিশেষ সরকারের অর্থ খেয়ালখুশি মতো খরচ করবে আর প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে আমি দেখেও ব্যবস্থা নেব না, তা হতে পারে না।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম স্বদেশ খবরকে আরো বলেন, একটি বিশেষ মহল সংস্থার ইতিবাচক কর্মকা-ে ঈর্ষান্বিত হয়ে ভুয়া, মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরিকল্পিত উপায়ে মিডিয়াকে ব্যবহার করে আমার তথা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।
মো. রাশিদুল ইসলাম আক্ষেপ করে স্বদেশ খবরকে বলেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসায়ী খারাপ নয়। তবে সংস্থার কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও গুটিকয়েক ব্যবসায়ী মিলে যখন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-কে বাধাগ্রস্ত করে তখন সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। পরবর্তীতে সেই দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটটি যদি প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার সাহস ও সুযোগ পায়, তাহলে তো ভবিষ্যতে কোনো সৎ কর্মকর্তা দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে কঠোর ও সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিরুৎসাহিত হবেন।