রাজনীতি

আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্ব থেকে বাদ পড়ছে বিতর্কিতরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগসহ দলের সব সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বিতর্কিত ও অভিযুক্তদের সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে হটিয়ে তাদের জায়গায় পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির তরুণ নেতৃত্ব আনতে চান তিনি। যাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের মতো অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে তারা আওয়ামী লীগের মূল দল বা সহযোগী কিংবা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন Ñ কোথাও কোনো স্থান পাবেন না, এটি স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফলে আসন্ন জাতীয় কাউন্সিল ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও ৫ সহযোগী সংগঠনের আসন্ন কাউন্সিলকে ঘিরে চাঙা হয়ে উঠেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। কাউন্সিলকে ঘিরে নেতাকর্মীদের পদভারে মুখরিত ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়।
৪ সহযোগী সংগঠন ছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দণি আওয়ামী লীগকেও সম্মেলনের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও একসঙ্গে ৬টি সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনে নিজেদের পদ-পদবি টিকিয়ে রাখা এবং নতুন পদপ্রত্যাশীদের পদচারণায় দলটিতে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। একদিকে যেমন ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে তেমনি পদপ্রত্যাশী ও পদে থাকা নেতাদের টেনশনের পারদও ততই বাড়ছে। সবাই তাকিয়ে আছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে।
সম্মেলনে বিতর্কিতরা বাদ পড়ছেন, সেেেত্র ভাগ্য খুলতে পারে কিন ইমেজধারী পদবঞ্চিত নেতাদের। ভাবমূর্তি ফেরাতে সম এমন নেতাদের বাছাই করে সহযোগী সংগঠনগুলো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ হাসিনা।
জানা গেছে, সম্মেলন সামনে রেখে কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বর্তমান অনেক নেতার বিরুদ্ধে একাধিক রিপোর্ট এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে। সবার আমলনামা পর্যবেণ করে এরই মধ্যে অনেককে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে অব্যহতিও দিয়েছেন তিনি। যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোল্লা আবু কাওছার এদের অন্যতম। এরই মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথকে সংগঠনের সকল কর্মকা- থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তাছাড়া দল ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অনেক প্রভাবশালী নেতার ব্যাংক হিসাব তলব ও জব্দ করা হয়েছে, অনেকের বিদেশ যাওয়া আটকে গেছে। পাশাপাশি মাত্রাতিরিক্ত বিতর্কিতদের আগামী জাতীয় সম্মেলনে পদ-পদবি থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুনদের ব্যাপারেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা একজন চেঞ্জ মেকার। তিনি সব সময়ই সম্মেলনের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে থাকেন। কাউন্সিলররা দলের সভাপতি শেখ হাসিনার ওপরই কমিটি গঠনের সব দায়িত্ব ছেড়ে দেন। এবারের সম্মেলনের মাধ্যমে নবীন-প্রবীণের সমন্বয় ঘটবে। সম্মেলনের মাধ্যমে অনেক নতুন মুখের জায়গা হবে কমিটিতে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের অনেককে চলে যেতে হতে পারে উপদেষ্টাম-লীতে। আবার উপদেষ্টাম-লীর কিছু সদস্য প্রেসিডিয়ামে চলে আসতে পারেন। সহযোগী সংগঠনগুলোতেও এমনটা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জানা গেছে, এবার আওয়ামী লীগেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। ওবায়দুল কাদেরের পরিবর্তে এই পদে আসতে পারেন জাহাঙ্গীর কবির নানক।
যুবলীগ চেয়ারম্যানের পদ পেতে পারেন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদেও এবার পরিবর্তন আসছে। কারণ, সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটিতে বিতর্কমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতৃত্ব আনতে চান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ ল্েয কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে তিনি নিজেই কাজ করে চলেছেন। আগে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনের বিষয়টি দেখাশোনার দায়িত্ব দিতেন। এবার এখন পর্যন্ত কোনো নেতাকেই সুনির্দিষ্ট কোনো সংগঠনের সম্মেলনের দায়িত্ব দেননি, নিজেই দেখভাল করছেন সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন থেকে শুরু করে নতুন নেতৃত্ব আনার বিষয়গুলো। মূলত বিতর্কমুক্ত নেতৃত্ব বাছাইয়ের সতর্কতা হিসেবেই তিনি এ প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছেন বলে জানা গেছে। কারণ এর আগে সহযোগী সংগঠনগুলোর দায়িত্ব দলের অন্য নেতাদের হাতে ছেড়ে দিয়ে খুব-একটা ভালো ফল পাননি তিনি, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে চলমান শুদ্ধি অভিযানে।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক নেতারা জানিয়েছেন, টানা তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারি দলে। এর ফলে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীই মতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না শেখ হাসিনা। এ কারণে তিনি নিজ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট নেতাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অভিযুক্ত কাউকে যেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিতেও না রাখা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর এমন কঠোর অবস্থানে কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে বড় বড় পদে থাকা অনেক নেতাই পদ হারানোর আতঙ্কে ভুগছেন।