প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রতিবেদন

আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন-ন্যামের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী : রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে ন্যাম নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা চান শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারকরণের আহ্বানের মধ্য দিয়ে আজারবাইজানের রাজধানী বাকু-তে ২৫ অক্টোবর জোটনিরপে আন্দোলনের ১৮তম সম্মেলন শুরু হয়ে ‘বাকু ঘোষণা’ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ২৬ অক্টোবর শেষ হয়।
বাকু কংগ্রেস সেন্টারে বিশ্বের ১২০টি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের ফোরাম ন্যামের ২ দিনব্যাপী এই সম্মেলন উদ্বোধন করেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম এলিয়েভ। অন্য সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধান ও রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাকু কংগ্রেস সেন্টারের প্ল্যানারি হলে সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা সম্মেলনস্থলে পৌঁছলে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট তাঁকে স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ অক্টোবর আজারবাইজানের বাকু কংগ্রেস সেন্টারের প্ল্যানারি হলে ১৮তম ন্যাম সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেন। শেখ হাসিনা এবং সম্মেলনে যোগদানকারী অন্যান্য দেশের নেতৃবৃন্দ ২ দিনব্যাপী সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনেও অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং অংশগ্রহণকারী দেশের প্রতিনিধিবৃন্দ বাকু কংগ্রেস সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে ‘বাকু ঘোষণা গ্রহণ’ করেন।
জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন নেতৃবৃন্দকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমারের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সাথে তাদের নিজ ভূমিতে স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়াই সংকটের একমাত্র সমাধান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাকু কংগ্রেস সেন্টারে জোটনিরপে আন্দোলনের (ন্যাম) ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে সমসাময়িক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত ও পর্যাপ্ত পদপে নিশ্চিত করতে বাংডুং নীতিমালা সমুন্নত রাখা বিষয়ে ২৫ অক্টোবর এক সাধারণ আলোচনায় দেয়া ভাষণে এ কথা বলেন।
আর্থসামাজিক সাফল্য সত্ত্বেও বাংলাদেশ বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সংকট এই দু’টি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি রাজনৈতিক সংকট এবং এর মূল মিয়ানমারে গভীরভাবে প্রোথিত। তাই এর সমাধানও মিয়ানমারের অভ্যন্তরেই খুঁজতে হবে।
রোহিঙ্গা সংকট কেবল বাংলাদেশে নয়, এর বাইরেও অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারেÑ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে কেবলমাত্র মানবিক কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছি এবং রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য আমরা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। শেখ হাসিনা বলেন, বরাবরের মতো এবারও আমরা জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের মতো বৃহৎ এ ফোরামে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সহায়তা কামনা করছি।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের েেত্র বাংলাদেশের দায় খুবই নগণ্য হওয়া সত্ত্বেও দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবে প্রবলভাবে তিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোকে অবশ্যই জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের প্রতি পূর্ণ সম্মান জানাতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তি বজায় রাখতে ন্যামের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্রাথমিকভাবে জাতিসংঘ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা মোকাবিলায় দায়িত্ব পালন করে। তবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক ফোরাম হিসেবে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় ন্যাম সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে। যেকোনো অঞ্চলের যেকোনো দেশকে রায় শক্তি ও প্রভাব ব্যবহারে আমাদেরকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
নিরস্ত্রীকরণ ও পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ সম্পর্কে বাংলাদেশের অবস্থানের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মনে করি, নিরস্ত্রীকরণ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য একটি হাতিয়ার। বাংলাদেশ নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে সবসময় সক্রিয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ এবং এর শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের প্রতিও দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ।
জোটনিরপে আন্দোলনের ল্েযর প্রতি বাংলাদেশ দৃঢ় বিশ্বাসী বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যামের নীতিমালা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিতে নানাভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ন্যামের গুরুত্বের প্রতি স্বীকৃতি জানিয়ে এর আলজিয়ার্স শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু ওই শীর্ষ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘পৃথিবী দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে শোষক, আরেকদিকে শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে।’ ২০২০ সালের মার্চে আমরা এই মহান নেতার জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফিলিস্তিন বিষয়টি সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম জটিল সমস্যা। ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকরী পদেেপর অভাবে ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকারবঞ্চিত রয়েছে। বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, এ অবৈধ দখলদারিত্বের অবশ্যই অবসান হওয়া উচিত।
জোটনিরপে আন্দোলনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করায় আজারবাইজানকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ন্যামের নতুন প্রেসিডেন্ট ইলহাম এলিয়েভকে বাংলাদেশের সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, এই খাতে আমরা নজিরবিহীন অগ্রগতি অর্জন করেছি। আমাদের জিডিপি বর্তমানে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে। জনগণের বিশেষ করে নারীর মতায়নের মাধ্যমে আমরা গণতন্ত্র ও বিচারব্যবস্থাকে জোরদার করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দারিদ্র্য হ্রাসে, প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবায়, নারীর মতায়নে এবং লিঙ্গ সমতায় আমাদের সাফল্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রশংসা অর্জন করেছে।
বাংলাদেশকে ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ হিসেবে বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক চোরাচালান এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদপে গ্রহণ করেছি। আমাদের এ পদপে সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে।

১৮তম ন্যাম সম্মেলনের আদ্যোপান্ত
স্নায়ুযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা ৫৮ বছরের পুরনো জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের অষ্টাদশ শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বের ১২০টি উন্নয়নশীল দেশের পাশাপাশি পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকা ১৭টি দেশ ও ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করে। ২৫ অক্টোবর ন্যাম সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী অতিথিদের নিয়ে ফটোসেশনের পর শুরু হয় শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশন। সম্মেলন শেষ হয় ২৬ অক্টোবর। অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন ন্যামের বিদায়ী চেয়ারম্যান ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। এরপর বক্তব্য দেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ও সংস্থার নতুন চেয়ারম্যান ইলহাম আলিয়েভ।
এবারকার ১৮তম জোটনিরপেক্ষ শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো যোগ দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি, কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ-ক্যানেল, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ, জিবুতির প্রেসিডেন্ট ইসমাইল ওমর, ঘানার প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আড্ডো, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভী, ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি এম ভেনকাইয়া নাইডু, তুর্কমেনিস্তানের প্রেসিডেন্ট গুরবাংগুলি বেরদিমুহামেদো, চেয়ারম্যান অব দি প্রেসিডেন্সি অব বসনিয়া অ্যান্ড হার্জগোভিনা বাকির ইজতেবেগোভিচ, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণি এবং লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ মুস্তাফা আল-সারাজ।
ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট এবং ন্যামের বর্তমান চেয়ারপারসন নিকোলাস মাদুরো সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত ভাষণ দেন। তার ভাষণের পরই আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম এলিয়েভ সর্বসম্মতিক্রমে আগামী ৩ বছরের জন্য ন্যামের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর প্রদত্ত ভাষণে ইলহাম এলিয়েভ ন্যামকে বাংডুং আদর্শের ভিত্তিতে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনের সভাপতি তিজানি মুহাম্মাদ-বান্দে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
পূর্ব ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত এই সম্মেলনের আয়োজক-দেশ আজারবাইজানের ভৌগোলিক অবস্থান এবং এর জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি। দেশটির শতকরা ৯৬ জন নাগরিকই ইসলাম ধর্মের অনুসারী।
সম্মেলনের শুরুতেই ২০১৬ সালে ভেনিজুয়েলায় অনুষ্ঠিত ১৭তম ন্যাম সম্মেলনের পর থেকে এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারী ন্যাম নেতৃবৃন্দের সম্মানে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
১৮তম ন্যাম শীর্ষ সম্মেলনের সাধারণ বিতর্কের বিষয়বস্তু ছিল- ‘সকলের সম্মিলিত এবং পর্যাপ্ত সাড়া প্রদানের মাধ্যমে বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে বাংডুং নীতিমালা সমুন্নত করা।’
উল্লেখ্য, বর্তমানে ন্যাম বিশ্বের ১২০টি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত একটি ফোরাম, যা বড় কোনো পাওয়ার ব্লকের সঙ্গে বা বিপে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত নয়। জাতিসংঘের পর এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক ফোরাম। এতে ১৭টি পর্যবেক রাষ্ট্র এবং ১০টি পর্যবেক সংস্থা জড়িত রয়েছে। বর্তমান বিশ্বের প্রায় ৫৫ শতাংশ জনগণ ন্যামের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অধিবাসী। এই দেশগুলোতে বিশ্বের তেলের ৭৫ শতাংশেরও বেশি মজুদ এবং ৫০ শতাংশেরও বেশি গ্যাস মজুদ রয়েছে, পাশাপাশি বৃহত্তম মানব ও প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে।
১৯৬১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু, মিশরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জামাল আবদুল নাসের ও সাবেক যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট জোসেফ ব্রজ টিটোর উদ্যোগে ১৯৫৫ সালে বাংডুং সম্মেলনে সম্মত নীতিমালা প্রণয়নের পর যুগোস্লাভিয়ার বেলগ্রেডে ন্যাম প্রতিষ্ঠিত হয়।
ভেনেজুয়েলার মারগারিটা দ্বীপে ২০১৬ সালে ১৭তম ন্যাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থার পতন এবং আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকাসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং পরাশক্তির মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন ন্যাম প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর ক্রিয়াগুলো ডিকোনাইজেশন প্রক্রিয়ার মূল কারণ ছিল, যা পরে অনেক দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা অর্জন এবং বহু নতুন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে পরিচালিত করে।
ঐতিহাসিকভাবেই ন্যাম বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার েেত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ৩টি প্রধান করণীয়কে কেন্দ্র করে ন্যাম-এর চেয়ারম্যানশিপ গঠিত হয়, যার মধ্যে আন্দোলনের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে সংগঠনের সুনাম বৃদ্ধির বিষয়টি রয়েছে। এছাড়া বাংডুং নীতি সমুন্নতকরণ এবং আন্দোলকারীদের মধ্যে সংহতি জোরদারকরণের বিষয়টি রয়েছে।

ঢাকা-বাকু দ্বিপাকি সম্পর্ক জোরদারে সম্মত
আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম এলিয়েভ এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাকি সম্পর্ক এবং বিভিন্ন েেত্র সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয়েছেন।
২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই নেতা বাংলাদেশ ও আজারবাইজানের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের বিষয়ে আলোচনা করেন। এটি ছিল দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ হিসেবে আজারবাইজানের সহযোগিতার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
এ সময় আজারবাইজানের প্রতি বাংলাদেশের সহযোগিতার কথাও স্মরণ করেন প্রেসিডেন্ট এলিয়েভ।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ইস্যুতে নৈতিক ও বৈষয়িক সহযোগিতা প্রদানের জন্য আজারবাইজানের প্রতি ধন্যবাদ জানান। দুই নেতাই আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামীতে আজারবাইজানে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির ত্রেটি আরো প্রসারিত হবে।
এলিয়েভ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এত বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে বিস্ময় প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে এলিয়েভ তা সাদরে গ্রহণ করেন। শেখ হাসিনা ভবিষ্যতে আজারবাইজানে বাংলাদেশের একটি দূতাবাস খোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

ঢাকা-বাকু সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি স্বার
বাংলাদেশ ও আজারবাইজানের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারে ২৬ অক্টোবর দুই দেশের মধ্যে একটি সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি স্বারিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম এলিয়েভের মধ্যে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপীয় বৈঠক শেষে চুক্তিটি স্বার হয়।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এবং আজারবাইজানের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী ড. আবুলফাস গারায়েভ স্ব স্ব দেশের পে ওই চুক্তিতে স্বার করেন।

রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞের বিচারের দাবি
জানিয়েছেন মাহাথির মোহাম্মদ
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞের বিচার দাবি করে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, এ সমস্যা সমাধানে যা প্রয়োজন মালয়েশিয়া এবং অন্যান্য আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্র তার সবকিছুই করবে। ‘আমি মনে করি, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছে এবং এর বিচার হতে হবে।’
১৮তম ন্যাম সম্মেলনের সাইড লাইনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদের মধ্যে ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দ্বিপাকি বৈঠকে মাহাথির এই দাবি করেন।
ড. মাহাথির বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেন, কক্সবাজারে মালয়েশিয়া তার হাসপাতালের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং ভাসানচরের যে দ্বীপে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করা হবে, সে সম্পর্কেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান।
শেখ হাসিনা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে দ্বীপটির নিরাপত্তা ও সুরাসহ বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেন। একইসঙ্গে দ্বীপটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও তাঁর কাছে ব্যাখ্যা দেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ান সরকার আরো বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগে কাজ অব্যাহত রাখবে। তিনি মালয়েশিয়ায় নিয়োজিত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং সুরার বিষয়েও কথা বলেন।
বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার সম্পর্ককে অত্যন্ত গভীর আখ্যায়িত করে ড. মাহাথির ভবিষ্যতে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ান বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও আশ্বাস প্রদান করেন।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে
বাংলাদেশের পাশে থাকবে ইরান
ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, তেহরান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতে কাজ করে যাবে। আমরা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এবং বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের ফেরত নেয়ার জন্য মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে প্রয়োজনীয় সবকিছুই করে যাব।
বাকু কংগ্রেস সেন্টারে ১৮তম ন্যাম সম্মেলনের সাইড লাইনে ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এই আশ্বাস দেন।
রুহানি প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় প্রদান করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ইরান জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
রোহিঙ্গা সমস্যার প্রতি তাঁর অঙ্গীকারের জন্য শেখ হাসিনা ইরানের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং ইসলামি বিশ্ব একটি বৃহৎ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে, যদি নিজেদের মধ্যকার সংঘাতগুলো নিজেরাই মিটিয়ে ফেলে একতাবদ্ধ হতে পারে।

বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে
পিটিএ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার গুরুত্বারোপ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ এবং নেপালের মধ্যে ব্যবসাবাণিজ্য জোরদারের অংশ হিসেবে প্রিফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
১৮তম ন্যাম সম্মেলনের ফাঁকে ২৬ অক্টোবর নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। দুই প্রধানমন্ত্রী যোগাযোগ, বন্দর সুবিধা এবং ব্যবসাবাণিজ্য জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন। নেপালি প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা বিবিআইএন (বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল) উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আজারবাইজান
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে পুনরায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যারা অপরাধ করবে তাদের বিরুদ্ধে আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে, সে যে-ই হোক এবং যে দলই করুক না কেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ অক্টোবর হিলটন হোটেলে আজারবাইজানে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সাাৎকালে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা দেখেছেন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। যদি আমাদের দলেরও কেউ অপরাধে জড়িত হয়, সে তৎণাৎ শাস্তি ভোগ করছে।
অন্যকে শিা দেয়াটা নিজের ঘর থেকেই শুরু করা উচিত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সেটাই করছি (দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ) এবং আমি এটি অব্যাহত রাখবো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের সাথে আলোচনা চলছে। রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচরে আবাস গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু কিছু এনজিও তাদেরকে সেখানে যেতে দিতে চায় না।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশে স্বাস্থ্য, আইসিটি, সামাজিক নিরাপত্তা সেক্টরে ব্যাপক সাফল্যের কারণে বিশ্বে উন্নয়নের জন্য রোল মডেলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ।