প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রতিবেদন

বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে শেখ রাসেলের ৫৬তম জন্মদিনে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : শিশুহত্যা ও নির্যাতনে জড়িতদের কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ অক্টোবর গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৫৬তম জন্মদিন পালিত হয়েছে। ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে শেখ রাসেল জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সাথে এই নিষ্পাপ শিশুকেও ঠা-া মাথায় খুন করা হয়েছিল। মৃত্যুর সময় তিনি ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে। বনানী কবরস্থানে শেখ রাসেলসহ ১৫ আগস্টে নিহত শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানায় আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন। এসময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এস এম কামাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দণি আওয়ামী লীগ, আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাঁতিলীগ, শ্রমিকলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, মহিলা শ্রমিক লীগ, কৃষকলীগসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শহীদ শেখ রাসেলের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। পরে বনানী কবরস্থান মসজিদে শেখ রাসেলসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দণি যুবলীগ, মহানগর উত্তর ও দণি স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহানগর উত্তর ও দণি ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ জন্মদিন উপলে দাবা, চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ছাত্রছাত্রীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলে বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের উদ্যোগে কাকরাইলস্থ আইডিইবি ভবনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশগ্রহণ করে পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, শিশু রাসেলকে হত্যার মধ্য দিয়ে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধু পরিবারের শেষ প্রদীপ নিভিয়ে দিতে চেয়েছিল। শেখ রাসেল তার নিষ্পাপ প্রাণ উৎসর্গ করে বঙ্গবন্ধুর অনুসারীদের মধ্যে যে দীপশিখা জ্বালিয়ে গেছেন, তা আজ ল কোটি রাসেল-অনুসারীর মাঝে ছড়িয়ে আছে।
ছোট ভাই শেখ রাসেলের ৫৬তম জন্মদিনে প্রতিটি শিশুর জন্য সুন্দর ভবিষ্যতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শিশুহত্যা ও নির্যাতনে জড়িতদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ ধরনের অন্যায়-অবিচার কখনোই বরদাশত করা হবে না।
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুপুত্র শেখ রাসেলের নির্মম হত্যাকা-ের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, আমরা চাই আমাদের শিশুরা আর কখনোই যেন এই ধরনের নৃশংস হত্যাকা-ের শিকার না হয়। প্রত্যেকটি শিশু যেন সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে। আর প্রতিটি শিশুর জীবন যেন অর্থবহ হয়, তা নিশ্চিত করাই আমাদের একমাত্র ল্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫-এর খুনিদের বিচার না করে বরং আইন করে বিচারের পথ রুদ্ধ করে সে সময় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে খুনিদের পুরস্কৃত করে শিশু ও নারী হত্যা ও নির্যাতনকে উৎসাহিত করা হয়। আমি আমার বাবা, মা ও ভাইয়ের খুনিদের বিচার চাইতে পারিনি, এমনকি একটি মামলাও আমাদের করতে দেয়া হয়নি।
সম্প্রতি সমাজে গর্হিত অপরাধ বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে একজন বিকৃত মানসিকতাসম্পন্ন পিতার নিজের শিশুপুত্রকে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেদিন (’৭৫-এর ১৫ অগাস্ট) নারী-শিশুসহ জাতির পিতা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার বিচার হলে সমাজে এই ধরনের অপরাধ সংঘটিত হতে পারতো না।
শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা ‘শিশুঅধিকার আইন’ প্রণয়ন করে যান। তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে ২১ বছর পর আমরা সরকার গঠন করে নীতিমালা, আইন, শিশুদের চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ তাদের বেড়ে ওঠা, খেলাধুলাসহ সবকিছুর ব্যবস্থাই ধীরে ধীরে করেছি।
শিশুদের মেধা, মনন ও শক্তিকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়াই সরকারের ল্য উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, একইসঙ্গে আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য আধুনিক প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন হয়ে যাতে আমাদের শিশুরা বেড়ে উঠতে পারে সেজন্য কম্পিউটার শিা থেকে শুরু করে প্রযুক্তি শিাসহ সব ধরনের শিার ওপর আমরা গুরুত্ব দিয়েছি।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি মো. রকিবুর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সংগঠনের সদস্য-সচিব মাহমুদুস সামাদ, উপদেষ্টা তরফদার রুহুল আমিন এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম শহীদুল্লাহ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা, চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং সারাদেশ থেকে আগত শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুরা যাতে ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কাজ না করে সেই ধরনের ব্যবস্থাও সরকার নিয়েছে। তাদেরকে শিা-দীা দিয়ে, এমনকি ঝরেপড়া শিশু এবং যারা শিার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল সেসব শিশুরও শিা ও প্রশিণের ব্যবস্থা করেছে। এতিম, প্রতিবন্ধী ও অটিজম আক্রান্ত শিশুদের জন্যও কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় অটিজম আক্রান্ত শিশুদের আপন করে নিয়ে সমাজের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করার জন্য উপস্থিত শিশু-কিশোরদের প্রতি আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি আজকে এখানে যেসব শিশু উপস্থিত রয়েছে তাদেরকে একটা কথাই বলবো, তোমাদের আশপাশে যখন কোনো প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক বা দরিদ্র শিশু দেখবে তাদেরকে কখনো অবহেলা করো না। তাদেরকে আপন করে নিও। তাদের পাশে থেকো, তাদেরকে সহযোগিতা করো। কারণ, তারাও তোমাদের মতোই একজন। যেন কোনোভাবেই তারা অবহেলার শিকার না হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেল জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫-এর ১৫ অগাস্ট কালরাতে জাতির পিতার পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে ঘাতক চক্র।
নিজের ছোটভাই শেখ রাসেল সম্পর্কে বলতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা, আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। স্মৃতি রোমন্থনে ছোট্ট, চঞ্চল, সদা হাস্যোজ্জ্বল রাসেলকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশু-কিশোরদের মানসপটে তুলে আনেন তিনি। বলেন, আজকে ৫৫ বছর বয়স পূর্ণ করেছে শেখ রাসেল। ঘাতকদের নির্মমতার কারণে আজকে রাসেল আমাদের মাঝে নেই।
শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের সদস্যদের উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি রাসেলকে হারিয়েছি, কিন্তু লাখো রাসেলকে পেয়েছি।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু দরিদ্র মানুষের সঙ্গে নিজের খাবার ভাগ করে খেতেন। ঠিক সেই গুণটি রাসেলের মধ্যেও ছিল। গ্রামে গেলে দরিদ্র শিশুদের যে কিছু দিতে হবে তা সে চিন্তা করতো। রাসেলের খুব শখ ছিল বড় হয়ে সে আর্মি অফিসার হবে। সেভাবেই যেন নিজেকে গড়ে তুলছিল। সে কাঠের বন্দুক বানাতো। সেটা নিয়ে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলা করতো। সেসব শিশুর জন্য মাকে বলতো যে কাপড়-চোপড় কিনে দিতে হবে। মা ঠিকই কাপড়-চোপড় কিনে দিতেন। সে তাদের প্যারেড করাতো। প্যারেড করানো শেষে তাদের খাবার দিত। আর সবাইকে একটা করে টাকা দিত। এটা সে করবেই।
শেখ হাসিনা বলেন, বেঁচে থাকলে দেশের জন্য অনেক কিছু করতে পারতো রাসেল। কিন্তু ঘাতকরা এই ছোট্ট শিশুকেও বাঁচতে দেয়নি।
শেখ হাসিনা বলেন, ঠিক যেই মুহূর্তে রাসেল জন্মায় তখন আব্বা খুব ব্যস্ত। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, ফাতেমা জিন্নাহ প্রার্থী। তিনি সেই নির্বাচনে প্রচারের কাজে চট্টগ্রামে ছিলেন। অত্যন্ত ব্যস্ত ছিলেন। রাসেলের জন্ম হওয়ার পর আমরা তাঁকে খবর দিই।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা ১৯৬৭ সালে যখন কারাগারে গেলেন, রাসেলের বয়স তখন ২ বছরও হয়নি। তখনই সে বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হলো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কারাগারে যেতাম আব্বার সঙ্গে দেখা করতে। রাসেল কিছুতেই ফিরতে চাইতো না। সে বাবাকে ছাড়া আসবে না। বাবাকে নিয়ে ঘরে ফিরবে। সেই সময় আমার বাবা বলতে বাধ্য হতেন, এটা আমার বাড়ি। আমি আমার বাড়িতে থাকি। তুমি তোমার মায়ের বাড়িতে যাও। তখন সে ভালো করে কথাও বলতে পারে না। তারপর সে প্রচ- কান্নাকাটি করত। তাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে নিয়ে আসতে হতো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে দিন আমরা জেলখানায় দেখা করতে যেতাম সেই দিন সে খুব অস্থির থাকত। ঘুমাতে চাইতো না, খেতে চাইতো না। অনেক সময় মধ্যরাতে উঠে বসে থাকতো, আমাদের সবাইকে ডাকতো। আমরা সব ভাই-বোন গিয়ে তার কাছে বসতাম। সে কিছু বলতে পারছে না। সে তার মনের ব্যথাটা জানাতে পারছে না। কিন্তু তার বেদনাটা আমরা বুঝতে পারতাম।
শেখ হাসিনা বলেন, কারাগারে গিয়ে একবার সে আব্বার মুখের দিকে তাকাতো, আব্বা বলে ডাকতো। আবার মায়ের দিকে তাকাতো। তখন মা বলেছিলেন, ও যেহেতু আব্বা আব্বা বলে কান্নাকাটি করে তাই আমি বলেছি আমাকেই আব্বা ডাকতে।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধচলাকালীন স্মৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, রাসেল খুব চাপা স্বভাবের ছিল, সহসাই কাউকে কিছু বলতো না। তার চোখে সব সময় পানি। যদি কখনো বলতাম তোমার চোখে পানি কেন? বলতো চোখে কী যেন পড়েছে। ওইটুকু ছোট বাচ্চা, সে তার নিজের মনের ব্যথাটা পর্যন্ত কিভাবে লুকিয়ে রাখতো, আমার ভাবতেও অবাক লাগে!
শেখ হাসিনা বলেন, আমার ভাই শেখ কামাল মুক্তিযুদ্ধে চলে গিয়েছিল। জামাল বন্দিখানা থেকে বের হয়ে নিজেও মুক্তিযুদ্ধে চলে যায়। যখন আক্রমণ হতো, বিশেষ করে যখন বিমান হামলা হতো, রাসেল সব সময় পকেটে একটু তুলা রাখতো। নিজের কানে দিত, ছোট্ট জয়ের কানে দিয়ে দিত, যেন ওই আওয়াজে জয়ের কোনো তি না হয়। ছোট্ট জয়ের প্রতি তার খুব খেয়াল ছিল। আবার স্বাধীনতার পর আব্বা যখন ফিরে এলো, আপনারা দেখবেন সব সময় আব্বার পাশে রাসেল। রাসেল যেন আব্বাকে ছাড়তেই চাইতো না।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৫ আগস্টের ৬ বছর পর যখন দেশে আসি, যখন টুঙ্গিপাড়া যাই সেখানে একটা আলমারি ছিল। সেই আলমারির ভেতরে দেখি অনেকগুলো ছোট ছোট শিশুদের জামা তখনও পড়ে আছে। আমি জানতাম যে, এগুলো রাসেল গ্রামের গরিব শিশুদের মাঝে বিতরণ করতো। তাদের আর্থিক সহায়তা দিত।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি তার বড় বোন, আমি কোলে-পিঠে করেই তাকে আসলে মানুষ করেছি। আমাদের অতি আদরের ছিল সে। কিন্তু ঘাতকের নির্মম বুলেট তাকে বাঁচতে দেয়নি।
পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের খেলাধুলায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চায় শিশুদের অংশ নিতে হবে। আর সমাজের খারাপ দিকগুলো, যেমন মাদক, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস Ñ এসব থেকে দূরে থাকতে হবে। সততার সঙ্গে জীবনযাপন করতে হবে। শুধু নিজে খাব, নিজে করবো তা ভাবলে হবে না। অন্যদের বিষয়েও চিন্তা করতে হবে।
বক্তৃতা পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী সংগঠনের শিশু-কিশোরদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।