প্রতিবেদন

ষষ্ঠ ‘আন্তর্জাতিক ফাইট সেফটি’ সেমিনারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : বিমানের উড্ডয়ন ও রক্ষণাবেণে সবাইকে অধিকতর যত্নবান হওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ অক্টোবর রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ৩ দিনব্যাপী ষষ্ঠ ‘আন্তর্জাতিক ফাইট সেফটি’ সেমিনার শুরু হয়। সেমিনারের সমাপনী দিন ২৩ অক্টোবর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপরে যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই সেমিনারের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘টিম অ্যাফোর্ট ক্যান ইনশিউর টিম সেফটি।’ যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, চীন, মালয়েশিয়া, ভারত, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, সৌদি আরব, মিশর, ওমান, মরক্কো, নাইজেরিয়া, জিম্বাবুয়ে এবং বাংলাদেশসহ ৪টি মহাদেশের ১৬ দেশের বিমান বাহিনীর সদস্য ও আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অথরিটির (আইকাও) প্রতিনিধিরা সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারে বিমান দুর্ঘটনা প্রতিরোধ প্রক্রিয়ার উন্নয়নে দেশি-বিদেশি সামরিক-বেসামরিক সব সংস্থার মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি নিরাপদ উড্ডয়ন সংক্রান্ত নতুন নতুন ধারণা নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরিটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মুহাম্মদ মাফিদুর রহমান এবং ফাইট সেফটি বিভাগের পরিচালক এয়ার কমোডর মোহাম্মাদ মোস্তাফিজুর রহমান বক্তৃতা করেন।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন বিমান বাহিনী প্রধান। বেসামরিক বিমান পরিবহন এবং পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী পরে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের বিনিময়ে সংগৃহীত বিমানের উড্ডয়ন ও রণাবেণে সবাইকে বিশেষ যতœবান হতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পেশাগত দতা ও সততার কোনো বিকল্প নেই। বিমান উড্ডয়ন একটি উচ্চতর কারিগরি পেশা। এখানে পেশাগত দতার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। এ দতা একদিকে যেমন আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে, তেমনি সংশ্লিষ্ট সংস্থার জন্যও বয়ে আনে সুনাম ও মর্যাদা। আমরা বিশ্বের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ স্থাপন করতে চাই। তাই কষ্টার্জিত অর্থের বিনিময়ে সংগৃহীত এই মূল্যবান বিমানের নিরাপদ উড্ডয়ন ও রণাবেণে সবাইকে অধিকতর যতœবান হতে হবে।
কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কথা মাথায় রেখেই বিমানবন্দরগুলোকে উন্নত করতে চাই। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে অধিকতর যোগাযোগ স্থাপনের জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনাও আমরা নিয়েছি।
তিনি বলেন, নেপাল ও ভুটানসহ পার্শ¦বর্তী দেশগুলো ও লাগোয়া ভারতের রাজ্যগুলোর ব্যবহারের জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে ‘আঞ্চলিক বিমানবন্দর’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ইতোমধ্যে আমরা সে কার্যক্রম শুরু করেছি। এটা আন্তর্জাতিক মানের একটি বিমানবন্দরে উন্নীত হবে।
কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে ১২ হাজার ফুটে বর্ধিতকরণসহ সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের উদ্যোগ, বাগেরহাটে খান জাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ এবং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলমান আছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপকে যুগোপযোগী করার ল্েয সরকার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপ আইন-২০১৭ প্রণয়ন করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত পৌনে ১১ বছরে বিমানবহরে আমরা বোয়িং কোম্পানির ৪টি অত্যাধুনিক ড্রিমলাইনারসহ মোট ১০টি বিমান যুক্ত করেছি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ৪টি বি-৭৭৭, ২টি বি-৭৩৭ ও ৪টি বি-৭৮৭।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের গৃহীত পদপেগুলো বিমান ভ্রমণকে আরও সহজ এবং পৃথিবীর অনেক দেশের সঙ্গে নতুন নতুন রুট সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। এতে দেশের পর্যটন শিল্পেরও দ্রুত বিকাশ ঘটবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপ সমন্বিতভাবে কাজ করে নিরাপদ বিমান উড্ডয়ন-চলাচল-অবতরণ নিশ্চিত করে যাচ্ছে। ফলে আমাদের বিমান চলাচলের েেত্র পারস্পরিক প্রশিণ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়েছে।
এভিয়েশন সেক্টরের মানোন্নয়নে সরকারের গৃহীত বিশেষ পদেেপর ফলে এ অঞ্চলের বিমান বাহিনী এবং বেসামরিক বিমানের ফাইট সেফটি রেকর্ড অত্যন্ত সন্তোষজনক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার এভিয়েশন সেক্টরের মান উন্নয়নের জন্য বিশেষ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলে আমাদের বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমানের ফাইট সেফটি রেকর্ড অত্যন্ত সন্তোষজনক।
শেখ হাসিনা বলেন, সম্প্রতি আমাদের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপরে (বেবিচক) ফাইট সেফটি সমীায় ঈর্ষণীয় ৭৫ দশমিক ৪৬ ভাগ নম্বর অর্জন করেছে, যা এশিয়ার দেশগুলোর অন্যতম। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সম্প্রতি নিরাপদ উড্ডয়নের মানদ-ে পাঁচ তারকা আন্তর্জাতিক মান অর্জন করেছে এবং আন্তর্জাতিক এভিয়েশন সেফটি অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটির টেকনিক্যাল রিভিউয়ে ক্যাটাগরি-১ ঘোষণা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।