ফিচার

সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন বিকাশে কার্যকরী উদ্যোগ

হোসনে নাসরিন
পর্যটন শিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সম। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাত, যা একটি দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম পন্থা।
বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা রয়েছে এবং দেশের প্রাকৃতিক সম্পদসমূহ এর যথাযথ উপযোগিতার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি ঘটানো সম্ভব।
দ মানবসম্পদ, অবকাঠামোগত দুর্বলতা বা সমস্যা, যথাযথ প্রচার ও প্রচারণা, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ও উদ্যোগের অভাব, সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা এবং জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় সাধন ইত্যাদি নানাবিধ কারণে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প অদ্যবধি ব্যাপক আকারে প্রসারিত হয়নি। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দেশের জনসাধারণের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ল্েয দেশের সরকারি ও বেসরকারি সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে পর্যটন শিল্পের প্রসারে সমন্বিত ভূমিকা পালন করতে হবে। এই নিবন্ধটি লেখার উদ্দেশ্য, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনের প্রসারে কী ধরনের পদপে নেয়া প্রয়োজন সে বিষয়টি তুলে ধরা।
‘সুন্দরবন’ আরিক অর্থে সুন্দর বন, ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে সুপরিচিত। সুন্দরবন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, যা বাংলাদেশের দণি-পশ্চিম অঞ্চলের পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর মোহনায় অবস্থিত। বাংলাদেশের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতীরা জেলা এবং ভারতের অংশ মিলিয়ে সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার। তন্মধ্যে ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার রয়েছে বাংলাদেশে এবং বাকি অংশ ভারতে।
নৌপথে সুন্দরবনের বিস্তৃত অঞ্চল ভ্রমণ করা সম্ভব। সুন্দরবন বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, স্তন্যপায়ী প্রাণী, কীটপতঙ্গ, সরীসৃপ ও মাছের অভয়ারণ্য। সুন্দরবনের ১৮৭৪.১ বর্গকিমি জলভাগের নদ-নদীতে রয়েছে প্রায় ২১০ প্রজাতির মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি, ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া, ৪৩ প্রজাতির মলাস্কা ও ১ প্রজাতির লবস্টার।
৫০টিরও বেশি সরীসৃপ এবং প্রায় ৮ প্রজাতির উভচর প্রাণী সুন্দরবনে রয়েছে। বনের কোলঘেঁষে বেয়ে চলা নদীতে ‘এধহমবঃরপ জরাবৎ’ প্রজাতির ডলফিনসহ ৬ প্রজাতির ডলফিনের দেখা মেলে।
সুন্দরবনে রয়েছে বিশ্ববিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বানর, শুয়োর, শেয়াল, কুমিরসহ নানা প্রজাতির বন্য প্রাণী এবং সুন্দরী, গেওয়া, গরান, কেওড়াসহ প্রায় ৩৩৪ প্রজাতির গাছ, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল ও ১৩ প্রজাতির অর্কিড। সুতরাং বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অঞ্চলটি নানা রকম জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ।
সুন্দরবনের ওপর নির্ভর করে দেশের দণি-পশ্চিম অঞ্চলের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা। সুন্দরবনের কাঠ, মধু ও মোম আহরণ, কাঁকড়া ও মৎস্য আহরণের পাশাপাশি অন্যান্য বনজ সম্পদ সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে স্থানীয় এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের জনগণ জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। বিভিন্ন অ-কাঠজাত সম্পদ এবং বনায়ন প্রায় অর্ধ মিলিয়ন উপকূলবর্তী মানুষের কর্মসংস্থান ও আয়ের উল্লেখযোগ্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে। দেশের জ্বালানির প্রায় ৪৫ শতাংশ কাঠের জোগান সুন্দরবন এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চল হতে হয়ে থাকে। বিভিন্ন শিল্প (যেমন নিউজপ্রিন্ট, দিয়াশলাই, হার্ডবোর্ড, নৌকা, আসবাবপত্র, ইত্যাদি) সুন্দরবন থেকে আহরিত কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল।
জাতীয় অর্থনীতিতে সুন্দরবনের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের জিডিপিতে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সম। সুন্দরবনের অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং জীববৈচিত্র্যের কারণে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্প গড়ে উঠেছে। পরিকল্পিত পদপে ও প্রয়াসের মাধ্যমে বাংলাদেশে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনের প্রসার ঘটানো সম্ভব।
সুন্দরবনে ক্রমান্বয়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বনবিভাগের সূত্রমতে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশি-বিদেশি ১,৮৩,৪৯০ জন পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণে আসেন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সে অঞ্চলে পর্যটকের সংখ্যা দাঁড়ায় ২,২১,৯৬৯ জন। সুন্দরবনের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলো হচ্ছে করমজল, কটকা, কচিখালী, হাড়বাড়িয়া, মান্দারবাড়িয়া, জামতলা, টাইগার পয়েন্ট, হিরন পয়েন্ট, দুবলার চর ইত্যাদি।
উৎপাদনমুখী ভূমিকার পাশাপাশি সুন্দরবন, ঘূর্ণিঝড়প্রবণ বাংলাদেশের উপকূলবর্তী জনসংখ্যা ও তাদের সম্পদের প্রাকৃতিক নিরাপত্তাবলয় হিসেবে ভূমিকা রাখে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও মনুষ্যসৃষ্ট নানা কারণে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রায়ই বিরূপ প্রভাব পড়ে এবং বন্যপ্রাণী প্রজনন বাধাগ্রস্থ হয়ে থাকে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের সুরায় বাংলাদেশের বন বিভাগ বিভিন্ন পদপে গ্রহণের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ইকো-ট্যুরিজমের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। এছাড়া সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় চারটি নতুন ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যের লীলাভূমি বাংলাদেশ এবং ভারতের সীমান্তজুড়ে বিস্তৃত বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সুরায় নিম্নবর্ণিত পদপেসমূহ গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক:

ক. নীতিমালা, গবেষণা এবং সমন্বয়সাধনমূলক পদপে
ক্স সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন বিকাশে ও জীববৈচিত্র্য সংরণে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।
ক্স বিশ্বের অন্যান্য দেশ প্রাকৃতিক বনভূমিকেন্দ্রিক পর্যটন বিকাশে কিরূপ পদপে গ্রহণ করে থাকে তা বিশ্লেষণপূর্বক গবেষণা পরিচালনা করা।
ক্স আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে বাংলাদেশের পর্যটন প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ স্থাপনে উদ্যোগ গ্রহণ ও পারস্পরিক সমন্বয় সাধন।
ক্স বাংলাদেশে পর্যটকদের আগমন ও অবস্থানকে সহজতর ও নিরাপদ করাসহ অন্যান্য স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মাঝে সমন্বয় প্রয়োজন।
ক্স সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন বিকাশে সরকার, ব্যক্তিখাত, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, স্থানীয় প্রশাসন, এনজিও, নারীসংগঠন ও মিডিয়ার অংশগ্রহণের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের বিকল্প নেই।
ক্স সুন্দরবনের পর্যটন শিল্প ত্বরান্বিতকরণের ল্েয গবেষণা, আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেণ ও বিশ্লেষণপূর্বক যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
ক্স সুন্দরবনের পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও সার্বিক উন্নয়নে গৃহীত পরিকল্পনাসমূহ বাস্তবায়নে জাতীয় নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সকলের অংশগ্রহণ এবং তাদের দিকনির্দেশনা প্রদান।
ক্স সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন বিকাশে ও জীববৈচিত্র্য সংরণে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ভূমিকা অপরিসীম বিধায় এ বিষয়ে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন এবং উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

খ. জনসচেতনতামূলক পদপে
ক্স সুন্দরবনের ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র্য সংরণের পাশাপাশি পর্যটন খাত বিকাশে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় সাধন এবং জনগণের সার্বিক সংশ্লিষ্টতা ও কার্যকরী ভূমিকা পালন নিশ্চিতকরণ। এেেত্র সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় উৎসাহ-উদ্দীপনা প্রদান করা।
ক্স সুন্দরবনের পর্যটন বিকাশে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী, স্থানীয় প্রতিনিধি, গবেষক, জনগণ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকবৃন্দের অংশগ্রহণে নিয়মিত সেমিনার, কনফারেন্স, গোলটেবিল বৈঠক ও আলোচনা সভার আয়োজন করা প্রয়োজন।
ক্স পর্যটন খাতের সাথে সংশ্লিষ্টদের দতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরণে সকলকে অবহিতকরণ।
ক্স স্থানীয় জনগণকে এই খাতের গুরুত্ব এবং প্রত্যেকের দায়িত্ব জ্ঞান সম্পর্কে সচেতন করা।
ক্স জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষকে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরণ, পরিবেশগত সচেতনতা, ইকো-ট্যুরিজম, পানি ও বায়ুদূষণ, বৈশ্বিক উষ্ণতা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, পরিবেশবান্ধব ভ্রমণ ইত্যাদি বিষয়ে অবগতকরণ।
ক্স সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন আকর্ষণসমূহ সংরণ, উন্নয়ন, বিকাশ ও গণসচেতনতা বৃদ্ধিকরণ।

গ. সহযোগিতামূলক পদপে
ক্স সুন্দরবনের পর্যটন বিকাশে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সুবিধা-অসুবিধা পর্যালোচনার মাধ্যমে যুগোপযোগী নিয়ম ও পদ্ধতি বাস্তবায়ন এবং পর্যটকদের উন্নত সুযোগ-সুবিধা প্রদান।
ক্স পর্যটকদের সঠিক তথ্য সরবরাহ, পরামর্শ প্রদান এবং তাদের সুরা নিশ্চিতকরণে কার্যকরী পদপে গ্রহণ।
ক্স পর্যটকরা যাতে আবাসন, যানবাহন, ব্যাংকিং, খাদ্য নিরাপত্তা, শৌচাগার, স্বাস্থ্য সেবা, ম্যাপিং ও দিকনির্দেশনা, বিশ্রামের স্থান, সুপেয় পানি, সুরা ও নিরাপত্তা, মোবাইল নেটওয়ার্ক, জিপিএস ইত্যাদি সুবিধা গ্রহণ করতে পারে সেরূপ ব্যবস্থা সুনিশ্চিতকরণ।
ক্স সুন্দরবনের পর্যটন বিকাশে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার কার্যকরী উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাসমূহকে উৎসাহ এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান।
ক্স সুন্দরবনের পর্যটন আকর্ষণের মান নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের স্বার্থ রায় মানসম্পন্ন পর্যটন সেবা প্রদান নিশ্চিতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
ক্স বৃদ্ধ, নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধাদি নিশ্চিতকরণ।
ক্স বাংলাদেশের যুব সমাজকে পর্যটন খাতের ভূমিকা সম্পর্কে অবহিত করার পাশাপাশি সুন্দরবনের পর্যটন খাতের বিকাশে ভূমিকা পালনে উৎসাহ প্রদান।
ক্স সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন বিকাশে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সহজ শর্তে ঋণ গ্রহণের সুবিধা প্রদান।
ক্স সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের বিকাশে নারীর অধিকার ও অংশগ্রহণ সংরণ।
ক্স সুন্দরবনের পর্যটনসম্পৃক্ত অন্যান্য রুগ্ন শিল্পকে সহায়তা প্রদানকল্পে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান।

ঘ. সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের প্রসার ও প্রচারণামূলক পদপে
ক্স সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরণ ও পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা, বিকাশসহ এই শিল্পসংশ্লিষ্ট উদ্যোগসমূহকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে বিভিন্ন ভাষায় প্রামাণ্যচিত্র প্রস্তুতকরণ এবং তার প্রচার ও প্রচারণা।
ক্স সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন সম্পর্কিত মেলা আয়োজন ও প্রচার বা প্রকাশনামূলক পরিকল্পনা গ্রহণ ও কার্যক্রম পরিচালনা।
ক্স সুন্দরবন হতে আহরিত পণ্যসমূহের বাজারজাতকরণ, বিকাশ ও প্রসার।
ক্স সুন্দরবনের পর্যটন বিকাশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সম। দেশের শিতি জনগণের উচিত সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসমূহকে ব্যবহার করে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের প্রচার ও প্রসার ঘটানো।
ক্স সুন্দরবনের ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র্য, বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বিকাশ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সম। পর্যটন খাতের বিকাশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল খাতের উন্নয়ন প্রয়োজন।
সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন খাতের বিকাশ দেশের দণি-পশ্চিমাঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি সামষ্টিক জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে সম। সামষ্টিক জাতীয় উন্নয়নের ল্যমাত্রা অর্জনে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন খাতের বিকাশে উপরোক্ত পদপেসমূহ বাস্তবায়নের ভূমিকা অপরিসীম। পর্যটন খাতের বিকাশ একটি দেশের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক দিগন্তের বিস্তৃতি ও প্রসার ঘটায়, নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে এবং দেশের জনগণকে জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রসার ঘটায়। বাংলাদেশের রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে এবং দেশকে মধ্যম আয়ের ও উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বদরবারে হাজির করতে দেশের পর্যটন খাতের বিকাশ প্রয়োজন। এ ল্য অর্জনে প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন বিকাশে সরকারি-বেসরকারি কার্যকর পদপে গ্রহণ এবং পরিকল্পনার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন আবশ্যক। পর্যটন বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নে সরকারকে আন্তরিক এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। যারা সুন্দরবনের ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের চেষ্টা চালায় তাদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। সুন্দরবনের পর্যটন বিকাশে ব্যাপক হারে গবেষণা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, জনবলের দতা বৃদ্ধির নিমিত্তে উপযুক্ত পদপে ও সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
সুন্দরবনের পর্যটন বিকাশে বাংলাদেশের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠান গবেষণা ও সচেতনতাকেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তথাপি উক্ত কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ অধিক কার্যকরী। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিমরাড) প্রতিষ্ঠানটিও সুন্দরবনের পর্যটন বিকাশে গবেষণা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় কার্যকারী পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে।
সুতরাং বলা যেতে পারে, সরকারি-বেসরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও দেশের জনগণের যৌথ উদ্যোগ ও সমন্বয় সাধনের দ্বারা সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন বিকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব। সুন্দরবনের উন্নয়ন ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ শুধু সময়ের বিষয় ও যুগোপযোগী উদ্যোগের অপোয়।
লেখক: গবেষণা কর্মকর্তা
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-বিমরাড