রাজনীতি

আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কাউন্সিলকেন্দ্রিক ব্যস্ত সময় পার করছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী ৬ নভেম্বর কৃষক লীগ, ৯ নভেম্বর শ্রমিক লীগ, ১৬ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ২৩ নভেম্বর যুবলীগ এবং ২৯ নভেম্বর আওয়ামী মৎসজীবী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১ মাসেরও কম বিরতি দিয়ে ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।
আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কয়েকটি সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। পদপ্রত্যাশীরা সক্রিয় হয়েছেন, তাদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে বহুগুণ। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যালয়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
সম্মেলনের তারিখ যত ঘনিয়ে আসছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর অফিস উৎসবমুখর হয়ে উঠছে। সহযোগী সংগঠনগুলোতে দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় পদপ্রত্যাশী অনেকেই কোণঠাসা ছিলেন। এখন সেই কোণঠাসা নেতারা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রীসহ নিজ নিজ বলয়ে যোগাযোগ বাড়াতে শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আড্ডা ও শোডাউন দিতে শুরু করেছেন পদপ্রত্যাশীরা। এছাড়া এতদিন সংগঠনগুলোর যেসব নেতাকর্মী শীর্ষ নেতাদের সুনজর কাড়তে সক্ষম হননি, তারাও সক্রিয় হতে শুরু করেছেন।
দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয় এখন জমজমাট। দুই অফিসের সামনে টানানো হয়েছে অসংখ্য ব্যানার। শেখ হাসিনার আস্থাভাজন নেতাদের সঙ্গেও কেউ কেউ যোগাযোগ করছেন। শেখ হাসিনার সুনজর পেতে বিভিন্ন কর্মসূচিও হাতে নিচ্ছেন তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিজেদের অবস্থান জানান দিতে শুরু করেছেন অনেকে।
ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর প্রথম দিকে নেতাকর্মীদের খুব বেশি উপস্থিতি দেখা যায়নি যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। তবে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পরদিনই জমজমাট হতে শুরু করে যুবলীগের অফিস। যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনের সর্বশেষ প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বৈঠকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। পুরো বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এলাকায় যুবলীগ নেতাকর্মীদের ভিড় ছিল চোখের পড়ার মতো।
সম্মেলন সামনে রেখে যুবলীগের মতো স্বেচ্ছাসেবক লীগ অফিসেও ভিড় অনেক বেড়েছে। অন্যান্য সময়ের চেয়ে এখন এই অফিসে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় যোগ্য অনেক নেতাই কোণঠাসা হয়ে আছেন। সম্মেলনের আভাস পেয়ে তাদের তৎপরতাও বেড়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন হয় না প্রায় এক যুগ। সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর মহানগর নেতারাও উজ্জীবিত।
জানা গেছে, এবার জাতীয় কাউন্সিল ও চার সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনের আগে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এ জন্যই এই কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো বিতর্কিত দুর্নীতিবাজ যাতে দলের কোনো পদে ভিড়তে না পারেন।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগের আগামী জাতীয় কাউন্সিল ও চার সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনে অনেক পরিবর্তন আসবে। অনেকেই বাদ পড়ে যাবেন। শেখ হাসিনার নির্দেশের পর উপজেলা ও জেলা থেকে অনেকের দুর্নীতি ও অপরাধের তথ্য আসছে। তবে আওয়ামী লীগের ক্লিন ইমেজধারী নেতাকর্মীরা মনে করেন দল থেকে দুর্নীতিবাজ বের করে দিলে সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়বে, দল শক্তিশালী হবে।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ে এবার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। মেয়াদপূর্তির পর প্রায় ৪ বছর পার হয়ে যাওয়ায় চার সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে এক ধরনের বিলাসিতা ভর করেছে। দলের ভাবমূর্তির চেয়ে তারা ব্যক্তিগত লাভকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। তাদের এই মনোভাবের কারণে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চার সহযোগী সংগঠনকেই ঢেলে সাজাবেন। এরই অংশ হিসেবে নতুন পদ-পদবি পাওয়ার জন্য নেতাদের মধ্যে শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ। পুরনো পদ-পদবিওয়ালারা ক্লিন ইমেজধারী হওয়ার চেষ্টা করছেন।
এদিকে দুর্নীতিবিরোধী চলমান অভিযানের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনগুলোতে অনুপ্রবেশকারী বা হাইব্রিডদের তালিকা তৈরি করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এই তালিকায় আছে প্রায় দেড় হাজার জন। তারা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগে অনুপ্রবেশ করেছে। সরকারি দলের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় তারা সুবিধাভোগী। বিগত ১০ বছরে দলটিতে অনুপ্রবেশ করেছে তারা। বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, ফ্রিডম পার্টিসহ বিভিন্ন দল তো বটেই, এমনকি স্বাধীনতাবিরোধী পক্ষের প্রজন্মও অনুপ্রবেশ করেছে। অনুপ্রবেশকারীদের এই তালিকার ভিত্তিতে অ্যাকশন নেয়ার জন্য বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশের অবস্থা এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার ওপর হামলাকারী ফ্রিডম পার্টির লোকজনও দলে ঢুকে পড়েছে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের প্রথম গ্রেপ্তার হওয়া ঢাকা দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়ার বিষয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, খালেদ একসময় ফ্রিডম পার্টি করত। তারপর যুবদল হয়ে যুবলীগে ঠাঁই নিয়েছে। পরে জানা গেল, খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া শুধু ফ্রিডম পার্টি নয়, শেখ হাসিনার ওপর হামলা মামলার আসামিও ছিল। একইভাবে টেন্ডারবাজ জি কে শামীম এক সময় মির্জা আব্বাসের ডানহাত ছিল, করতো যুবদল। সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে দল বদলে যুবলীগ হয়ে গেছে জি কে শামীম। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজানকে। পাগলা মিজানও একসময় ফ্রিডম পার্টি করত এবং শেখ হাসিনার ওপর হামলা মামলার আসামি ছিল। বুয়েটে আবরার ফাহাদকে হত্যার ঘটনায় ছাত্রলীগের ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। ছাত্রলীগের নেতারাই আবিষ্কার করেছেন, এই ১৯ জনের মধ্যে অন্তত ৩ জনের পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড জামায়াত বা বিএনপির।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একটি সাব-কমিটি (উপ-কমিটি) গঠন করা হয়েছে, যাতে এমন ব্যক্তিরা স্থান পেয়েছে যারা জেলা, থানা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত নয়। অথচ দলটির কেন্দ্রীয় সাব-কমিটিতে কিভাবে স্থান পেয়েছে, কারা স্থান করে দিয়েছে Ñ দলের নেতাকর্মীদের মুখে সেই প্রশ্ন। জামায়াত হোক, শিবির হোক, বিএনপি হোক, ফ্রিডম পার্টি হোক তারা তো নিজেদের অতীত ঢাকতে, সুবিধা পেতে আওয়ামী লীগের আড়াল চাইবেই। প্রশ্ন হলো, কারা তাদের আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার, বড় পদ বাগিয়ে নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে? এই সুযোগদাতাদের বিষয়েও খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। বিএনপি, জামায়াত, ফ্রিডম পার্টির নেতাকর্মীরা খোলস বদলে আওয়ামী লীগে ঘাপটি মেরে থাকার বিষয়টি খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা একজন চেঞ্জ মেকার। তিনি সব সময়ই সম্মেলনের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে থাকেন। কাউন্সিলররা দলের সভাপতি শেখ হাসিনার ওপরই কমিটি গঠনের সব দায়িত্ব ছেড়ে দেন। এবারের সম্মেলনের মাধ্যমে নবীন-প্রবীণের সমন্বয় ঘটবে। সম্মেলনের মাধ্যমে অনেক নতুন মুখের জায়গা কমিটিতে হবে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের অনেককে চলে যেতে হতে পারে উপদেষ্টাম-লীতে। আবার উপদেষ্টাম-লীর কিছু সদস্য প্রেসিডিয়ামে চলে আসতে পারেন। তোফায়েল আহমেদ ও আমির হোসেন আমু ফিরে আসতে পারেন প্রেসিডিয়ামে। সহযোগী সংগঠনগুলোতেও এমনটা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মনে করা হচ্ছে, এবার আওয়ামী লীগে খুব বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। ওবায়দুল কাদেরের পরিবর্তে এই পদে আসতে পারেন জাহাঙ্গীর কবির নানক অথবা মাহবুবুল-উল আলম হানিফ।
ওমর ফারুক চৌধুরীকে অব্যাহতি দেয়ার পর যুবলীগ চেয়ারম্যানের পদ এখন শূন্য। আগামী সম্মেলনে যুবলীগ চেয়ারম্যানের পদ পেতে পারেন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম।
মোল্লা মো. আবু কাওছারকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির পদ থেকে অব্যহতি দেয়ার পর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদেও পরিবর্তন আসছে। ১৭ বছর ধরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকা পঙ্কজ দেবনাথকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়টিও অনেকটা নিশ্চিত।
সর্বশেষ ২০১২ সালের ১৪ জুলাই যুবলীগের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল হয়। ওই কাউন্সিলে সংগঠনটির চেয়ারম্যান হন ওমর ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক হন হারুন-অর-রশিদ। ২০১২ সালের ১১ জুলাই মোল্লা আবু কাওসারকে সভাপতি ও পঙ্কজ দেবনাথকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সর্বশেষ কমিটি হয়। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই কৃষক লীগের সর্বশেষ কমিটি হয় মোতাহার হোসেন মোল্লাকে সভাপতি ও খন্দকার শামসুল হক রেজাকে সাধারণ সম্পাদক করে। সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম নেতৃত্বাধীন শ্রমিক লীগের কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ প্রায় ৩ বছর আগে।
জানা গেছে, সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটিতে বিতর্কমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতৃত্ব আনতে চান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ লক্ষ্যে কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে তিনি নিজেই কাজ করে চলেছেন। অন্যান্য সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনের বিষয়টি দেখাশোনার দায়িত্ব দিতেন। এবার এখন পর্যন্ত কোনো নেতাকেই সুনির্দিষ্ট কোনো সংগঠনের সম্মেলনের বিষয়ে দায়িত্ব দেননি। নিজেই দেখভাল করছেন সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন থেকে শুরু করে নতুন নেতৃত্ব আনার বিষয়গুলো। মূলত বিতর্কমুক্ত নেতৃত্ব বাছাইয়ের সতর্কতা হিসেবেই তিনি এ প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছেন বলে জানা গেছে। কারণ, এর আগে সহযোগী সংগঠনগুলোর দায়িত্ব দলের অন্য নেতাদের হাতে ছেড়ে দিয়ে খুব একটা ভালো ফল পাননি তিনি। যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে চলমান শুদ্ধি অভিযানে।
তবে যাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাসের মতো অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে তারা মূল দল এবং সহযোগী সংগঠন Ñ কোথাও স্থান পাবেন না বলে একাধিকার বলেছেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর এমন কঠোর অবস্থানে কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে বড় বড় পদে থাকা অনেক নেতাই পদ হারানোর আতঙ্কে ভুগছেন। পক্ষান্তরে যারা ক্লিন ইমেজধারী তারা এবার আশায় বুক বাঁধছেন এ জন্যই যে, তারা মনে করছেন, তাদেরকে স্থান দেয়ার জন্যই আওয়ামী লীগ সভাপতি দুর্নীতিবিরোধী একটি সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছেন।