কলাম

গ্যাস সিলিন্ডারের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিস্ফোরক পরিদপ্তরকে কঠোর হতে হবে

রাজধানীর রূপনগরে বেলুনে গ্যাস ভরার সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মুহূর্তেই প্রাণ গেছে ৬ শিশুর, আহত হয়েছে কমপক্ষে ২০ জন, আহত বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
৩০ অক্টোবরের এক সুন্দর বিকেলে ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনা স্তব্ধ করে দিয়েছে দেশবাসীকে। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে দেখা গেছে, শিশুদের কারো হাত নেই, কারো নেই পা, কারও আবার বেরিয়ে গেছে নাড়িভুঁড়ি। ঝলসে গেছে অনেকের চেহারা। মর্মান্তিক সেই দৃশ্য দেখে আঁতকে উঠেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
বেলুনে গ্যাস ভরার সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গ্যাস সিলিন্ডার, কম্প্রেসার, বয়লার ও সেপটিক ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণ বছরে গড়ে ৫ থেকে ৬টি ঘটছে। এতে বছরে ৫০ থেকে ৬০ জনের মৃত্যু ঘটছে। অথচ বিস্ফোরক পরিদপ্তর জানিয়েছে, এ ধরনের গ্যাস তৈরি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বস্তুত নিরাপদ হিলিয়ামের পরিবর্তে নিষিদ্ধ হাইড্রোজেন ব্যবহারের কারণেই বিস্ফোরিত হচ্ছে সিলিন্ডার। বুয়েট বলছে, উন্নত বিশ্বে হাইড্রোজেন দিয়ে বেলুন ফোলানো বন্ধ হওয়ার ২০০ বছর পেরিয়ে গেছে। হিলিয়াম আবিষ্কারের পর এই নিরাপদ গ্যাস দিয়েই তারা বেলুন ফোলায়। অথচ আমাদের দেশে হাইড্রোজেন দিয়ে বেলুন ফোলানোর প্রক্রিয়া এখনও বন্ধ হয়নি। কেন হয়নি, এ প্রশ্ন খুব জোরালোভাবে উঠেছে রূপনগরের ঘটনার পর। আর বিস্ফোরক পরিদপ্তর বলছে তারা পুলিশ প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে বিপজ্জনক সিলিন্ডার ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছে বহুবার। প্রশ্ন হচ্ছে, তাই যদি হয়ে থাকে, তাহলে পুলিশ প্রশাসন কী করেছে?
প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, বেলুনওয়ালারা যখন সিলিন্ডার থেকে বেলুন ফুলিয়ে শিশুদের কাছে বিক্রি করে, তখন পুলিশ কি সামনে এগিয়ে এসে পরীক্ষা করতে চায়, সিলিন্ডারের ভেতরেই গ্যাস প্রস্তুত করে তা ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা? নিশ্চয়ই তারা সেই দায়িত্ব পালন করে না। করলে রূপনগরের ঘটনা ঘটতো না।
সাধারণত দুই কারণে সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হতে পারে। প্রথমত, সিলিন্ডারটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলে; দ্বিতীয়ত, বেলুনে গ্যাস ভরার সময় অসাবধানতাবশত লিকেজ হলে। ব্যবহৃত সিলিন্ডারটি মেয়াদোত্তীর্ণ কি না তা-ও পরীক্ষা করার কেউ নেই! সিলিন্ডারের মেয়াদ ও এর ভেতরে থাকা কী গ্যাস দিয়ে বেলুন ফোলানো হচ্ছে, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটত না।
বেলুনওয়ালা দেখলেই শিশুরা তার সামনে গিয়ে জড়ো হবে এটাই স্বাভাবিক। সিলিন্ডার তাদের মৃত্যুর কারণ ঘটাতে পারে – এ বোধ তাদের না থাকারই কথা। সিলিন্ডার বিস্ফোরণে শিশুদের মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব বড়দেরই। অথচ আমরা অভিভাবক শ্রেণি অথবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এ দায়িত্ব পালন করছি না। এ ব্যাপারে বিস্ফোরক পরিদপ্তরকেও সক্রিয় হতে হবে অবশ্যই।