প্রতিবেদন

জনগণের সঙ্গে সদাচরণ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলামের

নিজস্ব প্রতিবেদক
জনগণের সঙ্গে সদাচরণ করতে এবং রাজধানীর থানায় থানায় পুলিশ কর্তৃক সংঘটিত দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, জনগণের সঙ্গে মিশতে হবে, কাজ করতে হবে। কোনো পুলিশ সদস্য ‘ভাব’ নিয়ে চললে চাকরি থাকবে না।
২৬ অক্টোবর ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে ‘কমিউনিটি পুলিশিং-ডে’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার এ কথা বলেন।
ওই অনুষ্ঠানে পুলিশ কমিশনার ‘শুধু সমালোচনা না করে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার’ জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য স্থায়ীভাবে এক জায়গায় থাকেন না, বদলি হয়ে যান। সেই পুলিশ সদস্যকে তথ্য দিয়ে বা সরাসরি সহযোগিতা করলে সমাজের স্থায়ী উপকার হবে। সহযোগিতা না পেলে সমাজের লোকজনই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অনুষ্ঠানে কমিউনিটি পুলিশে যুক্ত ৮ জন সাধারণ নাগরিক এবং ১৬ পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা মহানগর পুলিশের সদরদপ্তর থেকে শোভাযাত্রা বের করে ডিএমপি।
অপরদিকে রাজধানীর ৫০ থানায় মামলা বা জেনারেল ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে মানুষ যাতে হয়রানির শিকার বা ঘুষ প্রদানে বাধ্য না হয়, তা তদারকির জন্য ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশে গঠন করা হয়েছে স্বতন্ত্র সেল বা ক্রাইম সেল। একজন এডিসির নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে ৬ সদস্যের একটি টিম।
থানায় মিথ্যা মামলা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি থানাগুলোতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসিদের দুই ঘণ্টা করে তদারকি করার নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ডিএমপির দায়িত্ব নেয়ার পরপরই রাজধানীর সব থানাকে গণমুখী ও জনবান্ধব করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন শফিকুল ইসলাম। তাঁর এ অঙ্গীকার ও কঠোর বার্তায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।
ডিএমপির অধীনে থাকা রাজধানীর ৫০টি থানার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ডিএমপি ট্রাফিকের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে নতুন ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেছেন, রাজধানীর সব থানাকে জনমুখী করতে প্রয়োজনে নিজেই থানায় গিয়ে ওসিগিরি করবো।
দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে নতুন ডিএমপি কমিশনার মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘মাদকের সাপ্লাই রুখতে চেষ্টা করছি। মাদকের ব্যাপারে আমরা সব সময় জিরো টলারেন্স নীতিতে থাকব। পুলিশের কোনো সদস্য মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে মাদক কারবারির মতো তারও বিচার চলবে।’
তিনি আরো বলেছিলেন, বিপদগ্রস্ত মানুষ স্বাভাবিকভাবে থানায় গিয়ে যাতে কথা বলতে পারে, কোনো রকম হয়রানি ছাড়া মামলা ও জিডি করতে পারে, সে ব্যবস্থা ডিএমপি করবে। থানা থেকে বের হয়ে যেন মানুষের এই বোধটি হয় যে পুলিশ আন্তরিকভাবে তাকে আইনি সেবা দিয়েছে এবং তিনি ন্যায়বিচার পাবেন Ñ সে লক্ষ্যে ডিএমপি কাজ করে যাবে।
ঢাকার বিভিন্ন থানার ওসিরা ঘুরেফিরে ঢাকাতেই থাকছেন, তাদের অনেকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগও রয়েছে, এরপরও পুলিশের ডিসি-এডিসিদের বদলি করা হলেও ওসিদের বদলি করা হয় না Ñ এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অবশ্য দায়িত্ব নেয়ার পর ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলামের কঠোর বার্তানুযায়ী ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি থানার ওসিকে বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর ৫০ থানার কর্মকা-ের চালচিত্র অনেকটাই পাল্টে গেছে। বিশেষ করে হয়রানি, ঘুষ, দুর্নীতি, দুর্ব্যবহারকারী পুলিশ কর্মকর্তারা আছে আতঙ্কে। রাজধানীর থানায় জিডি বা মামলা করতে গেলে কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন তার জন্য থানাগুলোকে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের আওতায় আনায় ডিএমপির অধিভুক্ত থানাগুলোর ওসিদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।
জানা গেছে, এখন থেকে রাজধানীর ৫০ থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত তদারকি করবে পুলিশের একটি স্বতন্ত্র সেল। এই সেলের দায়িত্বে থাকবেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরের ক্রাইম সেলের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। কোনো ঘটনায় থানায় জিডি বা মামলা হলে ১২ ঘণ্টার মধ্যে বাদির নম্বর ও মামলা-সংক্রান্ত তথ্য কেন্দ্রীয় ওই সেলে পাঠাতে হবে Ñ ডিএমপির সদর দপ্তর থেকে এ ধরনের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে থানাগুলোতে। থানায় মামলা-জিডি হলে পরবর্তী করণীয় কী হবে এ সংক্রান্ত নির্দেশনায় মানুষজনের ভোগান্তি-হয়রানির অবসান ঘটানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তাছাড়া রাজধানীর থানাগুলোতে কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো টাকা-পয়সা লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি তদারক করবে ডিএমপি সদর দপ্তরের একটি টিম। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম ডিএমপির সকল থানাকে হয়রানিমুক্ত ও জনবান্ধব করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি থানার পরিবেশ বদলাতে সম্ভাব্য সব কিছু করা হবে। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সব কিছু নজরদারি করবেন। থানায় বসে কেউ পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে Ñ এটা চলতে দেয়া যাবে না। থানার সেবার মান বাড়াতে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় এডিসি ও এসি পদমর্যাদার কর্মকর্তারা থানায় বসবেন। তারা থানার সেবার মান বাড়ানো ও জনবান্ধব করতে সব ধরনের পরামর্শ দেবেন। তাই ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলামের সক্রিয় কর্মকা-ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন রাজধানীবাসী। তারা বলছেন, নতুন কমিশনার দায়িত্বে আসার পর রাজধানীর থানাগুলোতে এক ধরনের শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে বলে মনে হয়।