কলাম

বঙ্গবন্ধুর দর্শন: সমবায়ে উন্নয়ন

মো. আমিনুল ইসলাম
২ নভেম্বর ২০১৯, সারাদেশে উদযাপিত হয় ৪৮তম জাতীয় সমবায় দিবস। বাংলাদেশের সমবায়ীদের একটি পতাকাতলে এনে তাদের উৎসাহ প্রদান, উন্নয়নের ধারায় সমবায় কার্যক্রম পরিচালনা এবং সমবায়ের মাধ্যমে আর্থসামাজিক উন্নয়ন তথা স্বয়ম্ভরতা অর্জনের মহান ব্রত নিয়ে ১৯৭২ সাল থেকে যথাযোগ্য মর্যাদায় প্রতি বছর পালিত হয়ে আসছে জাতীয় সমবায় দিবস। এ কারণে বাংলাদেশের সমবায়ীদের কাছে দিবসটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘বঙ্গবন্ধুর দর্শন, সমবায়ে উন্নয়ন’। আমাদের দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিষয়টি সময়োপযোগী এবং মানুষের কল্যাণ, সর্বোপরি দেশের জনগণের সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়নের নিরিখে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি প্রত্যয়।

বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন ও সমবায় দর্শন
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনদর্শন ছিল এ দেশের গণমানুষের সুখ-সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক গভীর মানবিক সংগ্রামী দর্শন (ফববঢ়-ৎড়ড়ঃবফ যঁসধহব ঢ়যরষড়ংড়ঢ়যু ঃড়ধিৎফং ঢ়বড়ঢ়ষব’ং বিষষনবরহম), অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন দর্শন হলো অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক মুক্তি-মধ্যস্থতাকারী উন্নয়নদর্শন, যা বিনির্মাণে নিয়ামক ভূমিকায় থাকবে জনগণ। যার ধারাবাহিকতায় একটি মুক্তি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জন্ম হলো ‘গণপ্রজাতন্ত্রী’ বাংলাদেশ যেখানে সাংবিধানিকভাবেই ‘প্রজাতন্ত্রের ক্ষমতার মালিক জনগণ’ [বাংলাদেশ সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৭ (১) ]। সাধারণ জনগণকে কেন্দ্রে রেখেই তাই বঙ্গবন্ধুর উন্নয়নদর্শন পরিচালিত হয়েছে। এ দর্শনের প্রতিফলন দেখতে পাই আমরা যখন ১৯৭২ সালে মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু গভীর আবেগে বলেন, ‘আমি বাঙালি জাতিকে ভিক্ষুকের জাতি হিসেবে দেখতে চাই না। আমি চাই তারা আত্ম-মর্যাদাশীল উন্নত জাতি হিসাবে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। এ জন্য দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে সোনার বাংলা গড়তে হবে।’
বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সমবায়কে হাতিয়ার করতে চেয়েছিলেন স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে। ৩০ জুন ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়ন কর্তৃক আয়োজিত সমবায় সম্মেলনে প্রদত্ত বাণীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছেন, ‘আমার দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্য পাবে, আশ্রয় পাবে, শিক্ষা পাবে, উন্নত জীবনের অধিকারী হবে Ñ এই হচ্ছে আমার স্বপ্ন। এই পরিপ্রেক্ষিতে গণমুখী সমবায় আন্দোলনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। কেননা সমবায়ের পথ – সমাজতন্ত্রের পথ, গণতন্ত্রের পথ।’
এ পরিপ্রেক্ষিতেই দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্য নিয়ে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের পবিত্র সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছদে বলা হয়েছে ‘রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হইবে মেহনতি মানুষকে-কৃষক ও শ্রমিককে এবং জনগণের অনগ্রসর অংশসমূহকে সকল প্রকার শোষণ হইতে মুক্তি দান করা’। আবার সংবিধানের ১৯ (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ‘মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করিবার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধানদান নিশ্চিত করিবার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।’
এরই ধারাবাহিকতায় সমবায়ের আর্থসামাজিক গুরুত্ব বিবেচনা করে বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের ১৩ (খ) অনুচ্ছেদে দেশের উৎপাদনযন্ত্র, উৎপাদনব্যবস্থা ও বণ্টনপ্রণালিসমূহের মালিকানার ক্ষেত্রে সমবায়ী মালিকানাকে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় মালিকানা খাত হিসাকে ঐতিহাসিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। পবিত্র সংবিধানের ১৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছেÑ ‘উৎপাদনযন্ত্র, উৎপাদনব্যবস্থা ও বণ্টনপ্রণালিসমূহের মালিক বা নিয়ন্ত্রক হইবেন জনগণ এবং এই উদ্দেশ্যে মালিকানা-ব্যবস্থা নিম্নরূপ হইবেÑ ক. রাষ্ট্রীয় মালিকানা, অর্থাৎ অর্থনৈতি জীবনের প্রধান প্রধান ক্ষেত্র লইয়া সুষ্ঠু ও গতিশীল রাষ্ট্রায়ত্ত সরকারি খাত সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের পক্ষে রাষ্টের মালিকানা; খ. সমবায়ী মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে সমবায়সমূহের সদস্যদের পক্ষে সমবায়সমূহের মালিকানা; এবং গ. ব্যক্তিগত মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে ব্যক্তির মালিকানা।’

বঙ্গবন্ধুর সমবায়ভিত্তিক স্বপ্ন
বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখতেন দেশের প্রতিটি গ্রামে সমবায় সমিতি গঠন করা হবে। তিনি গণমুখী সমবায় আন্দোলন গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। সমবায় নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন যে কত গভীরে প্রোথিত ছিল এবং কত সুদূরপ্রসারি চিন্তাসমৃদ্ধ তা লক্ষ্য করা যায় ১৯৭২ সালের ৩০ জুন বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়ন আয়োজিত সমবায় সম্মেলনে প্রদত্ত তাঁর ভাষণের মধ্যে। ওই ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ‘…বাংলাদেশ আমার স্বপ্ন, ধ্যান, ধারণা ও আরাধনার ধন। আর সে সোনার বাংলা ঘুমিয়ে আছে চির অবহেলিত গ্রামের আনাচেকানাচে, চির উপেক্ষিত পল্লীর কন্দরে কন্দরে, বিস্তীর্ণ জলাভূমির আশপাশে আর সুবিশাল অরণ্যের গভীরে। ভায়েরা আমার, আসুন সমবায়ের যাদুস্পর্শে সুপ্ত গ্রাম বাংলাকে জাগিয়ে তুলি। নব-সৃষ্টির উন্মাদনায় আর জীবনের জয়গানে তাকে মুখরিত করি।’
‘আমাদের সংঘবদ্ধ জনশক্তির সমবেত প্রচেষ্টায় গড়ে তুলতে হবে ‘সোনার বাংলা’। এ দায়িত্ব সমগ্র জাতির, প্রত্যেকটি সাধারণ মানুষের এবং তাদের প্রতিনিধিদের। তবেই আমার স্বপ্ন স্বার্থক হবে, সার্থক হবে শহীদের আত্মত্যাগ, সার্থক হবে মাতার অশ্রু। রাজনৈতিক স্বাধীনতা তার সত্যিকারের অর্থ খুঁজে পাবে অর্থনৈতিক মুক্তির স্বাদে, জনসাধারণের ভাগ্যোন্নয়নে। তবেই গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে রূপায়িত হবে সমাজতান্ত্রিক নীতির এবং সেই অভীষ্ট লক্ষ্যে আমরা পৌঁছাবো সমবায়ের মাধ্যমে।

বঙ্গবন্ধুর সমবায় দর্শনের আলোকে সমবায় অধিদপ্তরের কর্মপরিকল্পনা
উন্নয়নের মহাসড়কে অগ্রসরমান বাংলাদেশের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে আমরা সমবায় অধিদপ্তরকে সামগ্রিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নবতর চেতনায় এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সময় (ঞরসব ফৎরাবহ), চাহিদা (উবসধহফ ফৎরাবহ) ও প্রয়োজনের নিরিখে (ঝরঃঁধঃরড়হ ফৎরাবহ) সমবায় অধিদপ্তরের সমবায় ভাবনাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে।
সমবায় অধিদপ্তর সমবায়ের সনাতন সংজ্ঞায় পরিবর্তন এনে সমবায় সমিতিসমূহকে নতুন আঙ্গিকে দেখতে ও প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। সমবায় অধিদপ্তর দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, সমবায় শুধুমাত্র তাত্ত্বিক আদর্শভিত্তিক সনাতনী সংগঠন না হয়ে সৃজনশীল ও উৎপাদনমুখী উদ্যোগ আত্মস্থ করে নিজেরাই নিজেদের এলাকায় সর্বজনীন ও সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের একটি মজবুত সংগঠনে পরিণত হবে।
সমবায় অধিদপ্তর প্রত্যাশা করে যে, বাংলাদেশের সমবায় স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে আধুনিক তথা প্রযুক্তির আশীর্বাদ গ্রহণ ও ব্যবহার করে বাংলাদেশের জনগণের সার্বজনীন ও সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের মজবুত সংগঠন হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সমবায়ের সক্ষমতা ও আর্থসামাজিক দ্যোতনা প্রমাণ করবে।
বর্তমানে সমবায় অধিদপ্তরে চলমান প্রকল্পসমূহ হচ্ছে: ১. উন্নত জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের জীবন-যাত্রার মান উন্নয়ন প্রকল্প। ২. দুগ্ধ ও মাংস উৎপাদনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে গঙ্গাচড়া উপজেলায় ডেইরি সমবায়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্প। ৩. আমার বাড়ী আমার খামার (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ‘সমবায়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার উন্নয়ন’ কম্পোনেন্ট। ৪. সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি (৩য় পর্যায়-সমবায় অংশ)।
সমবায় অধিদপ্তরের বর্তমানে চলমান এবং পূর্বে বাস্তবায়িত প্রকল্পসমূহের শিক্ষা থেকে সমবায় সেক্টরের জন্য নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে Ñ
১. সমবায় অধিদপ্তরের বিদ্যমান দুগ্ধ প্রকল্পের অভিজ্ঞতা নিয়ে সারাদেশে দুগ্ধ সেক্টরের উন্নয়নে চলমান প্রকল্পের পাশাপাশি নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা এবং চরাঞ্চলে এসব প্রকল্পের আওতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি গরু মোটাতাজাকরণ, ছাগল পালন, হাঁস-মুরগি পালন ও মহিষ পালন প্রকল্প গ্রহণ করা।
২. ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত গারো প্রকল্পের অভিজ্ঞতায় দেশের অন্যান্য জেলায় এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করা এবং তাদের পেশার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সমবায়ভিত্তিক ছোট ছোট প্রকল্প গ্রহণ করা।
৩. উৎপাদিত পণ্যের প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাতকরণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা এবং এর আওতায় প্রতিটি জেলা/বিভাগে শো-রুম স্থাপন এবং মার্কেটিং লিংকেজ স্থাপন করা।
৪. কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মূল্য সংযোজনের জন্য প্রকল্পভিত্তিক কৃষি সমবায় সমিতি গঠন করা এবং গঠিত সমবায় সমিতির মাধ্যমে সদস্যদের মাঝে আধুনিক যন্ত্র ও প্রযুক্তি সরবরাহ করা।
৫. সমবায় আন্দোলনকে গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জাতীয় সমবায় ইউনিয়ন, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডসহ জাতীয় পর্যায়ের সমবায় প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালীকরণের জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
৬. সমবায় প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহ (বাংলাদেশ সমবায় একাডেমি/আঞ্চলিক সমবায় ইনস্টিটিউটসমূহ) ও মাঠ পর্যায়ের সমবায় অফিসসমূহকে শক্তিশালী করার জন্য অবকাঠামোসহ আধুনিক সুবিধা নিশ্চিতকরণে প্রকল্প গ্রহণ করা।
৭. আইসিটি ব্যবহারের মাধ্যমে সমবায় অধিদপ্তরের সকল কার্যক্রম ডিজিটালাইজড করা এবং সকল সেবা অনলাইনে প্রদানের জন্য অধিদপ্তরসহ সমবায় সংগঠনসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা।

আমাদের অঙ্গীকার
১৯৭৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘…সুখী ও সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়তে হলে দেশবাসীকে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়াতে হবে। কিন্তু একটি কথা ভুলে গেলে চলবে নাÑচরিত্রের পরিবর্তন না হলে এই অভাগা দেশের ভাগ্য ফেরানো যাবে কি না সন্দেহ। স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও আত্মপ্রবঞ্চনার ঊর্ধ্বে থেকে আমাদের সকলকে আত্মসমালোচনা, আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধি করতে হবে।’
সমবায় অধিদপ্তর বর্তমানে এই ‘আত্মসমালোচনা, আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধি’র মোহনায় দাঁড়িয়ে আছে। সামনে আছে জাতির পিতার সমবায় দর্শন ও প্রধানমন্ত্রীর সমবায় অঙ্গীকার। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৫ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৪৭তম জাতীয় সমবায় দিবস এবং জাতীয় সমবায় পুরস্কার ২০১৬ ও ২০১৭ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘সরকারের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় সমবায় সম্ভাবনাময় শক্তি। সমবায়ের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে সমবায় সহায়ক শক্তি হতে পারে। দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে সমবায় একটি পরীক্ষিত কৌশল।’
জাতির পিতার সমবায় দর্শন এবং প্রধানমন্ত্রীর সমবায় অঙ্গীকারকে পাথেয় করে আমরা সমবায় আন্দোলনকে বাংলাদেশের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নের একটি শক্তিশালী পরীক্ষিত হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। আমরা আমাদের কথা, কাজ ও অঙ্গীকারের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চাই: ‘সমবায় সমিতি হচ্ছে সদস্যদের জন্য, সদস্যদের দ্বারা এবং সদস্যদের কল্যাণে পরিচালিত সংগঠন। (অ ঈড়-ড়ঢ়বৎধঃরাব ঝড়পরবঃু রং ঃযব ড়ৎমধহরুধঃরড়হ ড়ভ ঃযব পড়-ড়ঢ়বৎধঃড়ৎং, ভড়ৎ ঃযব পড়-ঢ়বৎধঃড়ৎং ধহফ নু ঃযব পড়-ড়ঢ়বৎধঃড়ৎং),’ জাতির পিতার সমবায় দর্শন ও উন্নয়ন এখানেই নিহিত রয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
লেখক: নিবন্ধক ও মহাপরিচালক
সমবায় অধিদপ্তর