প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রতিবেদন

মাদক নির্মূলে শেখ হাসিনার কঠোর নীতি বাস্তবায়নে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যাচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

এম নিজাম উদ্দিন
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কৌশলগত কমিটির এক সভা ৩০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান ও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি তুলে ধরা হয়।
সভায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত ও এই সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে গণসচেতনতামূলক প্রচার চালাতে নির্দেশনা দেয়া হয়।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. শহিদুজ্জামান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদুল হক, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মিজ জুয়েনা আজিজ, আইন মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দীন আহমেদ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান-র‌্যাব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি ও কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) ও অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক প্রসঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দীন আহমেদ স্বদেশ খবরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার মাদক নির্মূলে যে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে, সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবং সমাজকে মাদকমুক্ত করার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের সমর্থন ও সহযোগিতার কারণে অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝেও আমাদের ব্যাপক সফলতা রয়েছে। কাক্সিক্ষত পর্যায়ে সফলতার দাবি যদিও শতভাগ করা যাবে না, তারপরও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দেশ থেকে মাদক নির্মূলে সর্বাত্মক ও কার্যকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ২০১৭ সালের ২৯ জুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেয়ার পরপরই আমি সরকারের অপরাপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে মাদক নির্মূলকে গুরুত্ব দেই। সমাজ থেকে মাদক নির্মূলের কাজটি যে শুধু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একার নয়, এই কাজটি যে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও অন্যদেরও Ñ প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হই। ফলে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ অপরাপর বাহিনী মাদক নির্মূলকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং দেশে মাদকের চোরাচালান ও ব্যবহার অনেকটা কমে এসেছে।
মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ‘আবগারি’ নামে পরিচিত। ডিজি জামাল উদ্দীন জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে তিনি যে বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন, সেটি হলো মাদকসহ আবগারির হাতে ধরা পড়লে আর রেহাই নেই। মাদক ব্যবসায়ীরা নিশ্চিত হয়েছে, ঘুষ বা উপঢৌকন দিয়ে অন্যদের ম্যানেজ করা গেলেও আবগারির লোকদের ম্যানেজ করা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি অতি প্রাচীন। পূজা-পার্বণ, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান ও বিনোদনে এদেশের অনেক আদি জনগোষ্ঠীর মধ্যে মদ, তাড়ি, পচুঁই ও গাঁজা-ভাং-এর প্রচলন ছিল। উপজাতীয় সংস্কৃতিতে জগরা, কানজি ও দোচোয়ানি ইত্যাদির ব্যবহার এখনও রয়েছে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থে এদেশে আফিম চাষ ও ব্যবসা শুরু করে। ১৮৫৭ সালে প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান সরকার আফিম ব্যবসাকে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীনে এনে এর পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানের জন্য আফিম আইন প্রবর্তন এবং আফিম ডিপার্টমেন্ট প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তীতে ১৮৭৮ সালে সংশোধিত আফিম আইন প্রণয়ন করা হয়। অতঃপর গাঁজা ও মদ থেকেও রাজস্ব আদায় শুরু হয় এবং ১৯০৯ সালে বেঙ্গল এক্সাইজ অ্যাক্ট প্রণয়ন ও বেঙ্গল এক্সাইজ ডিপার্টমেন্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়।
জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বপ্রাপ্ত বেঙ্গল এক্সাইজ ডিপার্টমেন্টকে ষাটের দশকে এক্সাইজ অ্যান্ড ট্যাক্সেশন ডিপার্টমেন্ট নামকরণ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। ১৯৭৬ সালে এ ডিপার্টমেন্টকে পুনরায় নারকোটিকস অ্যান্ড লিকার পরিদপ্তর নামে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত নারকোটিকস অ্যান্ড লিকার পরিদপ্তরের মূল লক্ষ্য ছিল দেশে উৎপাদিত মাদকদ্রব্য থেকে রাজস্ব আদায় করা। আশির দশকে সারা বিশ্বে মাদকাসক্তি ও পাচার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পায়। ১৯৮৪ সালে আফিম ও মদের বিকল্প হিসেবে বহুল ব্যবহৃত মৃতসঞ্জীবনী সুরা এবং ১৯৮৭ সালে গাঁজার চাষ বন্ধ করা হয়। ১৯৮৯ সালে সমস্ত গাঁজার দোকান তুলে দেয়া হয়। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার রোধ, মাদকের ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে গণসচেতনতার বিকাশ এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনকল্পে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯০ প্রণয়ন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (উবঢ়ধৎঃসবহঃ ড়ভ ঘধৎপড়ঃরপং ঈড়হঃৎড়ষ) প্রতিষ্ঠা করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯০ কার্যকর হওয়ার পর থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকা- শুরু হয়।
দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ৩টি পদ্ধতিতে মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে। পদ্ধতি ৩টি হলো ১. চাহিদা হ্রাস, ২. সরবরাহ হ্রাস এবং ৩. ক্ষতি হ্রাস।
দেশে মাদকাসক্তের সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে সারাদেশে আনুমানিক ৭০ লক্ষাধিক লোক মাদকাসক্ত। এদের শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসার জন্য সরকারিভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীতে ১টি করে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র পরিচালনা করছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে দুই শতাধিক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে। সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে বিনামূল্যে রোগীদের থাকা, খাওয়া, ওষুধপত্র ও চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। এমনকি রোগীর পাশাপাশি অভিভাবকদেরও বিশেষ কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে এসব সরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে। কারণ এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসার পাশাপাশি রোগী ও রোগীর অভিভাবকদের সচেতনতা খুবই জরুরি।
এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, মাদক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পৃথক আদালত গঠন করে মাদক অপরাধীদের শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় অপরাধীরা পুনরায় এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তাছাড়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরস্ত্র অবস্থায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমাজের দুর্ধর্ষ ও সশস্ত্র মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অপরাধ দমন কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রায় ১৬ কোটি মানুষের এ দেশে মাদক অপরাধের মতো মারাত্মক একটি অপরাধ মোকাবিলায় অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্টের জনবল মাত্র ৬৫০ জন। এতে প্রতি প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বিপরীতে ১ জন মাত্র মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মচারী নিয়োজিত আছে। এত স্বল্প জনবল নিয়ে মাদকের মতো একটি বিশাল ও আন্তর্জাতিক সমস্যা মোকাবিলা করা এ অধিদপ্তরের জন্য সত্যি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
মাদক নির্মূলে রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে ডিজি জামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগের কথা যেভাবে শোনা যায় বাস্তবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার পর থেকে মাদকবিরোধী অভিযানের দৃশ্যপট সম্পূর্ণরূপে পাল্টে গেছে। এখন মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির সাহস পর্যন্ত কেউ করেন না।
তিনি আরো বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সারাদেশে মাদকবিরোধী প্রচার-প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, আইজিপি, মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তি, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এতে সম্পৃক্ত করা হয়। প্রচারাভিযানে নানা ধরনের কর্মসূচির সাথে মাদকবিরোধী উঠান বৈঠক, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, গোলটেবিল বৈঠক, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, জুমআর নামাজের খুতবার আগে মাদকবিরোধী বয়ানের মতো ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত আছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মূল কর্মকা- সম্পর্কে ডিজি জামাল উদ্দীন আহমেদ জানান, দেশে মাদকদ্রব্যের উৎপাদন, বিপণন, চোরাচালান ও অপব্যবহার সংক্রান্ত গোপন সংবাদ সংগ্রহ ও রিপোর্ট প্রণয়ন; মাদকের সরবরাহ প্রতিরোধের জন্য মাদক অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা ও তল্লাশি; মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার, মাদকদ্রব্য ও আলামত জব্দকরণ মামলা রুজু, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনা, সাক্ষ্য দান ও বিচার কাজে সহায়তা; মোবাইল কোর্ট পরিচালনা; মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম মনিটরিং ও পরিদর্শন; মাদক ও মাদকজাতীয় উদ্ভিদ বিনষ্টকরণ; ইউএনও, ডিসি, আইএনসিবি, সার্ক ও কলম্বো প্ল্যানসহ সকল আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক বৈদেশিক সংস্থার সাথে যোগাযোগ, মাদক অপরাধ সম্পর্কিত তথ্য বিনিময় ও কাজের সমন্বয় সাধন, দেশের অভ্যন্তরে সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয় সাধন; মাদক আইনে দায়ের করা মামলা, আসামি ও আলামত সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণসহ আরো অনেক কাজ করে থাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
ডিজি জানান, সময়ের সাথে সঙ্গতি রেখে ইতোমধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ প্রণীত হয়েছে এবং আইনটি গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন এ আইনে মাদক ব্যবসার নেপথ্যে ভূমিকা পালনকারীদের কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এ আইনে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-ের বিধান রাখা হয়েছে।
ডিজি মো. জামাল উদ্দীন আহমেদ আরো জানান, মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সার্বক্ষণিক পরিবীক্ষণ করা হয়। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে স্ট্র্যাটেজিক কমিটি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিবকে আহ্বায়ক করে এনফোর্সমেন্ট কমিটি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আহ্বায়ক করে মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিক আন্দোলন সংক্রান্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এনফোর্সমেন্ট কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে কোর কমিটি এবং কক্সবাজার ও টেকনাফে ইয়াবা পাচারবিরোধী টাস্কফোর্স গঠিত হয়েছে। বর্ণিত কমিটি সময়ে সময়ে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এ পর্যন্ত মহাপরিচালক পর্যায়ে ৫টি ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি ইয়াবা পাচার রোধকল্পে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে এ পর্যন্ত ৩টি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি সভাতেই মিয়ানমারকে ইয়াবার উৎপাদন ও প্রবাহ বন্ধ করার জন্য এবং মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থিত ইয়াবা তৈরির কারখানা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সবশেষে ডিজি জানান, বাংলাদেশের উন্নয়নের সফল রূপকার ও সন্ত্রাস-জঙ্গি দমনে সফলতার পর সমাজ বা রাষ্ট্র থেকে মাদক নির্মূলেও কঠোর অবস্থানে থাকা সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ প্রদান করেছেন। তাই মাদক ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত মাদক নির্মূলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান চলমান থাকবে।