প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রতিবেদন

জাতীয় শ্রমিক লীগের ১৩তম সম্মেলন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষায় শ্রমিক লীগকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
কৃষক লীগের মতো জাতীয় শ্রমিক লীগেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন মুখ আনা হয়েছে। জাতীয় শ্রমিক লীগের ১৩তম জাতীয় সম্মেলনে প্রায় ৮ বছর ধরে নেতৃত্বে থাকা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দু’জনই বাদ পড়েছেন। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের নতুন সভাপতি হয়েছেন ফজলুল হক মন্টু, সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন কে এম আযম খসরু। কার্যকরী সভাপতি হিসেবে মোল্লা আবুল কালাম আজাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
৯ নভেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলনে তাদের নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
এর আগে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় শ্রমিক লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সেখানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সারাদেশ থেকে আসা প্রায় ৮ হাজার কাউন্সিলর অংশ নেন।
ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতি পদে ৭ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ১৩ জনের নাম প্রস্তাব করা হয়। তাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
বৈঠক শেষে সম্মেলনের মঞ্চে এসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম এসেছিল তাদের নিয়ে আমরা সমঝোতায় বসেছিলাম। সমঝোতায় কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত না আসায় সবাই প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে নতুন কমিটি ঘোষণার দায়িত্ব দেন। প্রধানমন্ত্রী শ্রমিক লীগের ৩ জনের নাম বলেছেন। আশা করি, আপনারা এই নতুন কমিটি নিয়ে শ্রমিক লীগকে সুসংগঠিত করবেন।
পরে তিনি নতুন সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কার্যকরী সভাপতির নাম ঘোষণা করেন।
জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া প্রবীণ শ্রমিক নেতা ফজলুল হক মন্টু সম্মেলনে তাৎণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে শ্রমিক লীগের সভাপতি পদে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করব।
নতুন সাধারণ সম্পাদক কে এম আযম খসরু তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সারাদেশে শ্রমিক লীগকে সুসংগঠিত রাখতে আমরা কাজ করে যাব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিশ্বাস অুণœ রাখব।
এর আগে শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদের সভাপতিত্বে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো জোহানেস পউটিয়ানে, আইটিইউসি-এপির জেনারেল সেক্রেটারি শোয়া ইয়োশিদা এবং দণি এশীয় আঞ্চলিক ট্রেড ইউনিয়ন কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক লণ বাহাদুর বাসনেত বক্তব্য রাখেন।
এসময় আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও আব্দুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও এনামুল হক শামীম, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আজম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শ্রমিক লীগের ১৩তম জাতীয় সম্মেলনের শুরুতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করেন। সম্মেলন উপলে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শ্রমিক লীগের দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন সংগঠনটির সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ।
ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠীর পরিবেশনায় এ সময় জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। পরে শিল্পী ফকির আলমগীরের নেতৃত্বে এই গোষ্ঠীর শিল্পীরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। এরপর বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়।
শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু। শ্রমিক লীগের প্রয়াত সব নেতাকর্মীসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ ১৫ আগস্টের সকল শহীদ, মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
সারাদেশের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার প্রায় ৮ হাজার কাউন্সিলর ও ডেলিগেট সম্মেলনে যোগ দেন।
কমিটির মেয়াদ ৩ বছর হলেও দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর পর জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয় সর্বশেষ ২০১২ সালে। ওই সম্মেলনে সভাপতি হন শুক্কুর মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান সিরাজুল ইসলাম। প্রার্থী তালিকায় নাম থাকলেও তারা দু’জনের কেউই নতুন কমিটিতে পুনর্বহাল হতে পারেননি।
উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালের ১২ অক্টোবর দেশের সর্ববৃহৎ শ্রমিকসংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ঘিরে বর্ণাঢ্য সাজে সজ্জিত করা হয় গোটা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। চরম বৈরী আবহাওয়া, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি এবং ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর কারণে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সারাদেশ থেকে শ্রমিক লীগের প্রায় ৮ হাজার কাউন্সিলর ও ডেলিগেট অংশ নেন সম্মেলনে। তবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের অনেক কাউন্সিলর ও ডেলিগেট কাউন্সিলে উপস্থিত হতে পারেননি বলে মঞ্চ থেকে জানানো হয়।
সম্মেলন উদ্বোধন করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দীর্ঘ ভাষণে শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষায় জাতীয় শ্রমিক লীগকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শ্রমিকদের কল্যাণে আমরা সবসময় আন্তরিক এবং সেটা যেকোনো শ্রেণিই হোক না কেন। মানুষকে আমরা মানুষ হিসেবে গণ্য করি। তাদের শ্রমের মর্যাদা দিই। তাই আমি আশা করি, আমাদের শ্রমিক লীগ দায়িত্বশীল শ্রমিক লীগ হিসেবে গড়ে উঠবে। শ্রমিক শ্রেণির কল্যাণে তারা কাজ করবে। আগামীতেও সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন যে কমিটি আসবে, এই শ্রমিক শ্রেণির কল্যাণে তারা কাজ করবেন। শ্রমিকদের উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের কাজ করে যাচ্ছে।
শ্রমিক লীগের সম্মেলনে শেখ হাসিনা শ্রমিকদের জন্য বঙ্গবন্ধুর নেয়া নানা পদেেপর কথা তুলে ধরেন। শ্রমিকদের জন্য সরকারের নেয়া বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে শ্রমিকদের ভাগ্য পরিবর্তনে বঙ্গবন্ধুর গৃহীত বিভিন্ন পদেেপর কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা কৃষক-শ্রমিক, সরকারি-বেসরকারি, সামরিক-বেসামরিক সবাইকে একত্রিত করে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। দ্রুত অর্থনৈতিক মুক্তি লাভের জন্য তিনি যে প্ল্যাটফর্ম গড়েছিলেন তা-ই ছিল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ, যাকে অনেকেই বলে বাকশাল। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু বন্ধ শিল্পকারখানাগুলোর মালিক, যারা পাকিস্তানি ছিলেন, সেসব কারখানা জাতীয়করণ করে পুনরায় চালু করেছিলেন। ৮২ শতাংশ মানুষ তখন দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করতো। শ্রমিকশ্রেণির ভাগ্য বদলে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে বাংলাদেশকে যখন অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখনই নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের শিকার হচ্ছিল বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সময়ে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল। প্রবৃদ্ধি ছিল সাতের ওপরে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের কাতারে চলে গিয়েছিল। আমাদের দুর্ভাগ্য, সে সময়েই এলো চরম আঘাত। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবার হত্যা করা হলো। আমরা দু’বোন বিদেশে ছিলাম বলে বেঁচে গিয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধুর সেই পরিকল্পনা যদি চালু হতো তাহলে আমাদের এত পিছিয়ে থাকতে হতো না। ’৭৫-পরবর্তী দীর্ঘ ২১ এবং ২০০১-পরবর্তী ৮ এই ২৯ বছর দেশের মানুষ শোষণ-বঞ্চনার শিকার হয়েছে, একমাত্র আওয়ামী লীগ মতায় আসার পর দেশের মানুষ উন্নয়ন ও অগ্রগতি দেখেছে, তার সুফল ভোগ করছে।
টানা তৃতীয়বারের মতো ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে দেশ পরিচালনার সুযোগ দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা আছে বলে মানুষ উন্নয়নের সুফলটা পাচ্ছে। মানুষ উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখছে। শিল্পায়ন এগিয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ আজ সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে।
কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের উন্নতিই সরকারের নীতি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, শ্রমিক সমাজের ভাগ্যোন্নয়নে আওয়ামী লীগ যখনই মতায় এসেছে তখনই কাজ করেছে। কাজ করে যাবে।
এ সময় তিনি তাঁর সরকারের করা শিশুশ্রম নিরসন নীতিমালা-২০১০, বাংলাদেশ শ্রম নীতিমালা-২০১২, গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ১৭০ কোটি টাকা বীমা সুবিধার কথাও উল্লেখ করেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২০০৯ সালে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ছিল মাত্র ১ হাজার ৬০০ টাকা। বর্তমান সরকার মতায় এসে পর্যায়ক্রমে মজুরি বাড়িয়ে সর্বনিম্ন মজুরি ৮ হাজার টাকায় উন্নীত করে। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশও শ্রমিকদের বেতন এত অধিক পরিমাণ বাড়াতে পারেনি। ৪২ সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি বছর শ্রমিকদের জন্য ৫ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১০ টাকায় ৫০ লাখ মানুষকে চাল দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছি। গার্মেন্টস শিল্প থেকে শুরু করে সব েেত্র আমরা প্রশিণের ব্যবস্থা করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা অর্থনীতি শুধু কৃষির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখিনি, শিল্পায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। শ্রমিক সমাজের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগ যখনই মতায় এসেছে শ্রমিকদের ভাগ্যোন্নয়ন হয়েছে। শ্রমিক, মেহনতি মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা এবং তাদের পরিবারের উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের জন্য আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করছে। আমরা এটাই করতে চাই। এই নীতি নিয়েই আমরা দেশ পরিচালনা করি।
শ্রমিকসেবা বাড়াতে ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশন সহজীকরণ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে শ্রমিক পরিদর্শনের একটা বিষয় রয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে। এজন্য শ্রমিক পরিদর্শন অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এর কার্যক্রম শুরুও হয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে যাতে পরিদর্শন করে শ্রমিকের কল্যাণে কাজ করা যায়, সেজন্যই অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে শ্রমিকদের কল্যাণ সাধন।
আওয়ামী লীগ সরকার শ্রমিকবান্ধব হওয়ায় দেশে ট্রেড ইউনিয়নের সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের গৃহীত পদেেপর ফলে ২০১৩ সালে যেখানে তৈরী পোশাক খাতে ট্রেড ইউনিয়নের সংখ্যা ছিল মাত্র ৮২, সেখানে আজ ৮৮২ ট্রেড ইউনিয়ন হয়েছে। তাছাড়া সমস্ত সেক্টরে আমাদের ট্রেড ইউনিয়নের সংখ্যা ৮ হাজার ৩৪। জানি না, পৃথিবীর উন্নত দেশেও এতোগুলো ট্রেড ইউনিয়ন আছে কি না!
প্রধানমন্ত্রী জানান, শ্রমিকশ্রেণির কল্যাণে রাজধানীর বিজয়নগরে ২৫ তলা শ্রম ভবন নির্মাণ করছে সরকার। শিগগিরই এটি উদ্বোধন করা হবে।