ফিচার

নখ রাঙাতে নেইলপলিশ

স্বদেশ খবর ডেস্ক
একটা সময় মেহেদির কাঁচা পাতা পিষে নখে লাগিয়ে রঙিন করত শৌখিন মেয়েরা। এখনো মেহেদি পরার ধারা বজায় আছে হাত-পায়ে। তবে নখ রাঙানোর জায়গা দখল করে নিয়েছে নানা রকম রঙিন নেইলপলিশ। পলিশ নখের সৌন্দর্যে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। সময়ের পরিক্রমায় তাই বদলে যাচ্ছে নেইলপলিশের ধারা। প্রকৃতি ও সময়ের সঙ্গে বদল ঘটে পলিশের রঙ এবং নখ রাঙানোর নকশার।
সৌন্দর্যের সঙ্গে রঙ ও চিত্রকলার বসবাস চিরকালের। শৌখিন ও সৌন্দর্যপিয়াসী মানুষেরা নানাভাবেই নিজেদের সাজসজ্জায় যুক্ত করে নিয়েছে রঙকে। এমনকি হাত-পায়ের নখকে ক্যানভাস বানিয়ে ফ্যাশনসচেতন মানুষেরা পলিশের তুলির টানে এঁকে নিচ্ছে নানাভাবে নানা রঙের ছোঁয়ায়। কখনো নখে তুলির এক টানে শুধু একরঙা পলিশ ব্যবহার করছে, আবার কখনো দুটি বিপরীত রঙে একটু ভিন্ন ঢংয়ে পরে নিচ্ছে। আবার কখনো কয়েটি রঙের পলিশ দিয়ে বেশ করে নকশা আঁকছে নখে। ফলে নখে ফুটে উঠছে বাহারি রঙের চিত্রশিল্প।
নখে কী ধরনের নকশা করা হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে নখের আকৃতি এবং হাত-পায়ের ধরনের ওপর। চৌকো আকারের নখে যেমন নকশা ভালো লাগবে, তা আবার চোখা, লম্বাটে বা গোলাকার নখে ভালো লাগবে না। ছিমছাম নখের নকশায় বেশ ভালো লাগবে নখের মধ্য থেকে হালকা রঙের এবং তার পাশেই একটা গাঢ় রঙের পলিশ আলতো করে টেনে নিয়ে তার ওপর একটা স্বচ্ছ রঙের প্রলেপ।
আবার ৫টি নখের মধ্যে ৩টি নখে হালকা নকশা করে বাকি ২টিতে একটু ভারী নকশা করা যায়। গাঢ় বেইজ নেইলপলিশের সঙ্গে হালকা রঙের নকশা ভালো মানাবে। নেইলপলিশের সঙ্গে নখে পুঁতি, পাথরের ব্যবহারও করা যায়।
নেইলপলিশ ব্যবহারের আগে অবশ্যই নখ পরিষ্কার করে নেয়া উচিত। নখ কেটে পছন্দমতো আকার দিয়ে হালকা কুসুম গরম পানিতে শ্যাম্পু মিশিয়ে তাতে নখ ভিজিয়ে রাখুন। কিছুণ পর ব্রাশ দিয়ে নখ ঘষে ঝকঝকে করার পর নেইলপলিশ ব্যবহার করা উচিত, এতে নখ ভালো থাকবে। নেইলপলিশ ব্যবহারের পর এর ওপর স্বচ্ছ রঙের নেইলপলিশ দিয়ে কোটিং করে নেয়া উচিত, তাহলে নেইলপলিশ এবড়োথেবড়ো হয়ে উঠে আসবে না। সবচেয়ে ভালো হয় নেইলপলিশ ব্যবহারের আগে নেইলহার্ডনার লাগিয়ে তার ওপরে নেইলপলিশ লাগালে। এরপর পলিশের ওপর আরেক দফা স্বচ্ছ কোটিং করে নিলে অনেক দিন পর্যন্ত নখে স্থায়ী হবে। তবে নখের সুস্থতায় নেইলপলিশ পরার ৭ দিন পর পর এটি তুলে ফেলা উচিত। তারপর নখগুলোকে লেবু দিয়ে ঘষে নিলে নখ ভালো থাকবে।

নেইলপলিশ রিমুভার
একটা রঙ তুলে তারপর নতুন রঙ দেয়ার জন্য ব্যবহার হয় নেইলপলিশ রিমুভার। তবে বেশিমাত্রায় রিমুভার ব্যবহারের কারণে আমাদের নখের এনামেলের পাশাপাশি চামড়ায়ও তিকর প্রভাব পড়তে পারে। নেইল পেইন্ট রিমুভারগুলোতে সাধারণত অ্যাসিটোন নামের এক ধরনের রাসায়নিক উপাদান থাকে। এ ছাড়া রিমুভার তৈরিতে অনেক সময় ইথাইল অ্যাসিটেট ব্যবহার করা হয়। তবে অ্যাসিটোনোর চাইতে ইথাইল অ্যাসিটেট কম সংবেদনশীল হওয়ায় ইথাইল অ্যাসিটেট দিয়ে তৈরি রিমুভার ব্যবহার করা ভালো। তাই রিমুভার কেনার সময় উপাদানের দিকেও খেয়াল রাখা উচিত।
নখের শুভ্রতা ও উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে হলে প্রতিবার রিমুভার ব্যবহারের পরে অবশ্যই কুসুম গরম পানিতে শ্যাম্পু মিশিয়ে ভালোভাবে হাত-পা ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে তিকর রাসায়নিক পদার্থগুলো চামড়া থেকে দূর হয়ে যাবে। ভালো করে হাত-পা পরিষ্কার করার পর পেট্রোলিয়াম জেলি, অ্যালোভেরা বা অলিভ অয়েল লাগাতে পারেন।
মাসে দু’বারের বেশি রিমুভার ব্যবহার করা উচিত নয়। যদি বেশি প্রয়োজন পড়ে সেটা যেন ৬ বারের বেশি না হয়।
একই ব্র্যান্ডের নেইল পলিশ ও রিমুভার ব্যবহার করতে পারলে খুবই ভালো হয়। যত ভালো ব্র্যান্ডই ব্যবহার করা হোক না কেন, তা প্রতি ৩ মাস অন্তর পরিবর্তন করতে হবে। এতে ত্বকের তি হওয়ার আশঙ্কা কমে আসে।
রিমুভার লাগিয়ে কটন-বাড বা কটন-বলের সাহায্যে খুবই আলতো করে ঘষে নেইল পলিশ তুলতে হবে। সতর্কতার সঙ্গে যে বিষয়টি ল্য রাখতে হবে তা হলো, রিমুভার ব্যবহারের সময় যেন তা নখের পাশের চামড়ায় না লাগে।