Uncategorized

বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা বিশ্বব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
‘গত এক দশকে বাংলাদেশ অবিশ্বাস্য উন্নতি করেছে’ উল্লেখ করে সফররত বিশ্বব্যাংক গ্রুপের নির্বাহী পরিচালকরা বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
৪ নভেম্বর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এক সৌজন্য সাাৎকালে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকরা বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে অবিশ্বাস্য উন্নয়ন প্রত্য করেছি। বাংলাদেশ সকল সামাজিক সূচকে দণি এশিয়ার অন্য দেশগুলোর চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে।’
বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকরা সরকারের উন্নয়ন নীতিমালা এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পসমূহ সঠিকভাবে বাস্তবায়নে সন্তোষ প্রকাশ এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেন। তারা বেসরকারি খাতের বিকাশে প্রধানমন্ত্রী এবং তার সরকারের ভূমিকারও প্রশংসা করেন।
রোহিঙ্গা ইস্যু প্রসঙ্গে তারা বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় ও সহায়তা করার েেত্র কক্সবাজারের স্থানীয় লোকজনের উদারতা দেখে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।
এ প্রসঙ্গে তারা শেখ হাসিনাকে অবহিত করেন, রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখার জন্য তারা কক্সবাজার পরিদর্শন করেছেন। বিশ্বব্যাংক রোহিঙ্গাদের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ও আওয়ামী লীগের নীতি হলো গ্রামীণ জনগোষ্ঠী যাতে উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারে তা নিশ্চিত করা।
শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, মতায় আসার পর তার নেতৃত্বাধীন সরকার খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা এবং যোগাযোগ ও জ্বালানি খাতে উন্নয়ন নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। সে জন্য এ সকল খাত বেসরকারি খাতের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।
বিভিন্ন আর্থসামাজিক েেত্র দেশের উন্নয়ন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন বাস্তবসম্মত পদেেপর কারণে দারিদ্র্যের হার স্বাধীনতা-পরবর্তী ৮২ শতাংশ থেকে বর্তমানে ২১ শতাংশে নেমে এসেছে।
সাধারণ মানুষের মুক্তিই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু সারা জীবন একটি ুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার জন্য সংগ্রাম করেছেন।
এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সরকার জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার দেশের রেল, সড়ক, নৌ ও বিমান যোগাযোগ উন্নয়ন করছে। স্থানীয় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সারাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ল্য হচ্ছে আরো শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনার কথা সংপ্তিাকারে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, সরকার গ্রামীণ ও দুস্থ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচি সম্প্রসারিত করেছে। যুবসমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে দেশের সব উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করছে, যাতে তারা সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও মাদক থেকে দূরে থাকে।
এর আগে গত ৩ নভেম্বর রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্বব্যাংক কোনো হস্তপে করতে পারে না বলে মত দেয় সংস্থাটি। তাদের মতে, এটি একটি রাজনৈতিক ইস্যু। এই ইস্যু রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হবে।
সোনারগাঁও হোটেলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রশংসা করে এসব কথা জানায় বিশ্বব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। এর আগেও একই জায়গায় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছিল বিশ্বব্যাংক। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক প্যাট্রিজিও প্যাগানো এবং বাংলাদেশ ও ভুটানে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন।
অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, গত দুই দিনে বিশ্বব্যাংক উন্নয়ন ইস্যু ও রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যবেণ করেছে। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি এখন ৮ শতাংশের উপরে রয়েছে। ২০২৪ সালে প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ হবে।
মুস্তফা কামাল বলেন, আমরা বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতার কথা স্বীকার করি। বিশ্বাস করি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ, বৈষম্যহীন দেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, আমাদের সেই ল্য অর্জনে তারা আমাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।
প্যাট্রিজিও প্যাগানো বলেন, আমরা বিশ্বব্যাংক গ্রুপের একটি প্রতিনিধি দল প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসেছি। আমরা অবাক হয়েছি যে, বিশ্বে দ্রুত উন্নতি করা দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে দারিদ্র্য দূরীকরণে বাংলাদেশের অর্জন উল্লেখ করার মতো।
তিনি বলেন, দারিদ্র্য দূর করা বিশ্বব্যাংকের প্রধান কাজ। তাই বাংলাদেশের এই অর্জনে আমরা খুশি। তারপরও বাংলাদেশের বড় একটা অংশ দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে। দেশের সব মানুষই উপকারভোগী হবে Ñ এমন প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক বিনিয়োগ করতে চায়।
প্যাট্রিজিও প্যাগানো বলেন, উন্নয়নে দেশের সব মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে বেসরকারি খাতেরও এ েেত্র সম্পৃক্ত হওয়া দরকার।
প্যাট্রিজিও প্যাগানো বলেন, রোহিঙ্গাসংকট সমাধান রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে। দুই দেশ ও জাতিসংঘকেই এ উদ্যোগ নিতে হবে। বিশ্বব্যাংক কেবল আর্থিক বিষয়টি দেখে। সংকট সমাধানে আমরা বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। এর বাইরে রাজনৈতিকভাবে হস্তেেপর এখতিয়ার আমাদের নেই।
প্যাগানো আরো বলেন, বাংলাদেশ যেমন আমাদের পার্টনার, তেমনি মিয়ানমারও। রাজনৈতিক সমাধান দু’দেশকেই বের করতে হবে। তবে রোহিঙ্গা সংকটে কক্সবাজার এলাকায় নানা ধরনের প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। এসব উন্নয়ন প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করছে।
কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, আগামীতে বাংলাদেশ নিজেই ব্যতিক্রমী হয়ে উঠবে। কারণ, কাগজে-কলমে বাংলাদেশের যে অর্জন, সেটার বাস্তবতাও রয়েছে।