রাজনীতি

ক্ষমা চাইলেন জাপার সাংসদ রাঙ্গা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নব্বইয়ের দশকের স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় নিহত শহীদ নূর হোসেনকে ‘অ্যাডিকটেড, ইয়াবাখোর’ বলে মন্তব্য করে বেকায়দায় পড়ে যান জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা। পরে তিনি ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন।
তিনি বলেছিলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কাকে হত্যা করলেন? নূর হোসেন কে? নূর হোসেন একটা অ্যাডিকটেড ছেলে। একটা ইয়াবাখোর, ফেন্সিডিলখোর।
১০ নভেম্বর রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কার্যালয়ে মহানগর উত্তর শাখার উদ্যোগে ‘গণতন্ত্র দিবস’ উপলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালের ১০ অক্টোবর তৎকালীন সামরিক শাসক এরশাদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন চলাকালে রাজধানীর গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট এলাকায় (বর্তমান শহীদ নূর হোসেন স্কয়ার) পুলিশের গুলিতে শহীদ হন যুবলীগ নেতা নূর হোসেন। বুকে-পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ লিখে বিােভ প্রদর্শনকালে পুলিশ তাকে গুলি করে। এরপর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন বেগবান হয়, যার পথ ধরে নব্বইয়ে বিদায় নিতে হয় তৎকালীন স্বৈরাচার সরকারকে।
সেই শহীদ নূর হোসেনকে ইয়াবাখোর, ফেন্সিডিলখোর বলায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গার সংসদ থেকে পদত্যাগের দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ১১ নভেম্বর জাতীয় প্রেসকাবের সামনে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে শহীদ নূর হোসেনের পরিবার।
নূর হোসেনের মামা কালা চান বলেন, নূর হোসেন গণতন্ত্রের প্রতীক। রাঙ্গা তাকে নিয়ে যে কথা বলেছেন জনগণ তার বিচার করবে। এমন মন্তব্য করার পর তার আর সংসদ সদস্য থাকার যোগ্যতা নেই। আমরা তার পদত্যাগ চাই।
অবস্থান কর্মসূচিতে নূর হোসনের মা মরিয়ম বিবি, তিন ভাই আলী হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, আনোয়ার হোসেন, বোন সাহানা বেগম, তাদের সন্তানেরাসহ অনেকে অংশ নেন।
অপরদিকে শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় মশিউর রহমান রাঙ্গার বিরুদ্ধে সাতীরায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
১৪ নেভম্বর সাতীরা সদর আমলী আদালতে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এম শাহ আলম মামলাটি করেন। আদালতের বিচারক মামলাটি গ্রহণ করে আদেশের অপোয় রেখেছেন।
নূর হোসেন সম্পর্কে রাঙ্গার এই বক্তব্যের পরিপ্রেেিত সারাদেশে তীব্র ােভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ১২ নভেম্বর এই বক্তব্যের জন্য মা চেয়ে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠান রাঙ্গা। ১৩ নভেম্বর জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও তিনি তার আপত্তিকর বক্তব্যের জন্য মা প্রার্থনা করে দুঃখ প্রকাশ করেন।
জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, আমি মা চাচ্ছি। আমার কলিগরা আমাকে মাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রতিমন্ত্রী বানিয়েছেন, হয়ত আমার দল মতায় থাকলেও মন্ত্রী হতে পারতাম না।
১৩ নভেম্বর সংসদ অধিবেশনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে কার্যপ্রণালি বিধির ২৭৪ বিধিতে ব্যক্তিগত কৈফিয়ত সম্পর্কিত ধারায় মশিউর রহমান রাঙ্গা এসব কথা বলেন।
রাঙ্গা বলেন, ১০ নভেম্বর গণতন্ত্র দিবস নিয়ে জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ একটি ছোট সভা ছিল। বাইরে কোনো মাইক ছিল না। ভেতরে সাউন্ড বক্সের মাধ্যমে আমরা কথা বলি। একই দিনে ‘নূর হোসেন দিবস’ও ছিল। পুরনো ঢাকা থেকে আমাদের কিছু লোক অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। আসার পথে তারা নূর হোসেন চত্বরে শুনতে পান, এরশাদকে গালাগালি করা হচ্ছে। ‘এরশাদের দুই গালে, জুতো মারো তালে তালে’Ñ এ ধরনের কিছু কথাবার্তা শোনার পরে আমাদের এখানে এসে তা বলেন। আমি দলের মহাসচিব হিসেবে তাদের শান্ত থাকতে বলি।
তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালে আমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করি। ১২ নভেম্বর সরকারি দলের সাংসদরা আমাকে অনেক কথা বলেছেন। আমি মনে করি, তারা আমাকে শাসন করেছেন। আমি একটা ভুল করেছি। এজন্য আমি নূর হোসেনের পরিবারের কাছে মা চেয়েছি। এটি নিয়ে বিবৃতিও দিয়েছি।
তিনি বলেন, এরশাদ গুলি করে মারুন বা না মারুন, এটি সত্য যে, নূর হোসেন মারা গেছেন। নূর হোসেনের মায়ের কাছে মা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন বলেও রাঙ্গা দাবি করেন।