কলাম

মাদকাসক্তি নির্মূলে পারিবারিক-সামাজিক বন্ধন ও জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে

পারিবারিক-সামাজিক রীতিনীতি ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে না চলায় দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। কৌতূহল, পারিবারিক অশান্তি, বেকারত্ব, প্রেমে ব্যর্থতা, বন্ধুদের প্ররোচনা, অসৎ সঙ্গ, নানা রকম হতাশা ও আকাশ-সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার মূল কারণ। পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ কম Ñ এমন পরিবারের সদস্যরা অতি সামান্য কারণে মাদকে আসক্ত হচ্ছে। সমাজের বহু মেধাবী ও সম্ভাবনাময় প্রতিভা মাদকের নেশায় পড়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে সামাজিক অবয়ের পথে পা বাড়াচ্ছে।
মাদকাসক্তরা শুধু নিজেদের মেধা ও জীবনীশক্তিই ধ্বংস করছে না, তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের শান্তিশৃঙ্খলাও বিঘিœত করছে নানাভাবে। যেসব পরিবারের সদস্য নেশাগ্রস্ত হয়েছে, সেসব পরিবারের দুর্দশা অন্তহীন। জীবনবিধ্বংসী মারণনেশার কবলে পড়ে অসংখ্য তরুণের সম্ভাবনাময় জীবন নিঃশেষিত হচ্ছে। মাদকাসক্তি আসলে নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির বিবেক-বুদ্ধি, বিচারমতা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, ব্যক্তিত্ব, আদর্শ সবকিছুকে খেয়ে ফেলে।
সামাজিক আন্দোলন, গণসচেতনতা ও সক্রিয় প্রতিরোধের মাধ্যমে মাদকাসক্তির মতো জঘন্য সামাজিক ব্যাধির প্রতিকার করা সম্ভব। যার যার ঘরে পিতা-মাতা থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ পাড়া-মহল্লা বা এলাকায় মাদকদ্রব্য ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে ঘৃণা সৃষ্টি করতে হবে। মাদকদ্রব্যের মারাত্মক পরিণতি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তুলতে নিয়মিত সভা-সমিতি, সেমিনার, কর্মশালার আয়োজন করতে হবে এবং শিাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিামূলক কাস নিতে হবে। মাদকদ্রব্য উৎপাদন, চোরাচালান, ব্যবহার, বিক্রয় প্রভৃতি বিষয়ে প্রচলিত আইনের কার্যকর প্রয়োগ ও কঠোর বিধান নিশ্চিত করতে হবে।
মাদক নিরাময়ে চাই পরিবারের আন্তরিকতা ও পারস্পরিক ভালোবাসা। পিতা-মাতারা যদি তাদের কর্মব্যস্ত সময়ের একটা নির্দিষ্ট অংশ নিজ সন্তানের জন্য বরাদ্দ রাখেন, তাদেরকে ধর্মীয় অনুশাসন শিা দেন, তাদের সঙ্গে সদাচরণ করেন, তাদের জীবনের জটিল সমস্যাবলি সমাধানে সচেতন ও মনোযোগী হন, তাহলেই যুবসমাজে মাদকাসক্তির প্রতিরোধ বহুলাংশে সম্ভব।
ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবন থেকে মাদককে উৎখাত এবং মাদকাসক্তি নির্মূল করতে হলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি দরকার মানুষের বিবেক ও মূল্যবোধের জাগরণ, জবাবদিহিতা প্রয়োগ, সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ এবং ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন। এর জন্য প্রত্যেক ব্যক্তির মধ্যে গণসচেতনতা জাগাতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী যে যুদ্ধ ও আন্দোলন, তার সূতিকাগার হবে পরিবার। প্রতিটি পরিবারকে তাদের সন্তানদের বান্ধুবান্ধব সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। সন্তান কখন কোথায় যায়, কেন যাচ্ছে বা কাদের সাথে কেন মেলামেশা করছে Ñ এসব নিয়মিত মনিটর করতে হবে। সামাজিক অবয় রোধে পারিবারিক অনুশাসন, নৈতিক মূল্যবোধ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।