প্রতিবেদন

আওয়ামী যুবলীগের ৭ম জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করলে দলমত নির্বিশেষে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না

মেজবাহউদ্দিন সাকিল : কৃষক, শ্রমিক ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের মতো দেশের সর্ববৃহৎ যুবসংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের নতুন কমিটি গঠনেও চমক দেখালেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। যার হাত ধরে গড়ে উঠেছিল যুবলীগ, বর্তমানে চরম ভাবমূর্তি সংকট থেকে উত্তরণে সেই শহীদ শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশকে যুবলীগের চেয়ারম্যান হিসেবে বেছে নিলেন শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সবগুলো সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনলেন তিনি।
২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত যুবলীগের ৭ম জাতীয় কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল।
যুবলীগের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির ৭ম জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করলে এবার সে যে-ই হোক, দলমত নির্বিশেষে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে ৫১ বছর বয়সী শেখ ফজলে শামস পরশ এতদিন রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন। শিকতা নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের এই সাবেক ছাত্র। আগামী ৩ বছরের জন্য যুবলীগের চেয়ারম্যান হিসেবে সংগঠনটির ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের বড় চ্যালেঞ্জ নিয়েই রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করলেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র শেখ পরশ। তার ছোট ভাই ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস অনেক বছর আগেই রাজনীতিতে এসে সংসদ সদস্য হয়েছেন, আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বে রয়েছেন।
যুবলীগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তাৎণিক প্রতিক্রিয়ায় শেখ পরশ বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ বঙ্গবন্ধুকন্যার ওপর আস্থাশীল। তারা দেখেছেন, প্রধানমন্ত্রী কিভাবে গত ১০ বছরে দেশকে আর্থসামাজিকভাবে দাঁড় করিয়েছেন। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, আমরা যেন কর্মের মাধ্যমে বিশ্বাস ও আস্থার এই বন্ধনকে সুদৃঢ় করতে পারি। আমাদের এখন থেকে একটাই পরিচয়, আমরা সবাই বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সাধারণ কর্মী। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যার ফলে তার দ্বিতীয় বিপ্লব কর্মসূচি সম্পন্ন হয়নি। বর্তমানে তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স কর্মসূচিকে দ্বিতীয় বিপ্লবের একটি কর্মসূচি হিসেবে নিয়েছেন। যুবলীগের সব কর্মীকে নিয়ে এই কর্মসূচিকে সফল করার জন্য কাজ করব। যুবসমাজকে নোংরা রাজনীতি থেকে বের করে এনে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’র পতাকাতলে নিয়ে এসে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাব।
ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর বিকেলে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বসে যুবলীগের দ্বিতীয় কাউন্সিল অধিবেশন, যাতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কাউন্সিলে নেতৃত্ব নির্বাচনের অধিবেশনে কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান চয়ন ইসলাম পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে শেখ পরশের নাম প্রস্তাব করেন আর বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ তা সমর্থন করেন। আর কোনো নামের প্রস্তাব না ওঠায় শেখ ফজলে শামস পরশকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ৬ জনের নাম প্রস্তাব করা হয়। তারা হলেন মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, বেলাল হোসাইন মনজুর আলম শাহীন, সুব্রত পাল, বদিউল আলম বদি, ইকবাল মাহমুদ বাবলু ও মাইনুল হোসেন খান নিখিল। পরে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে সাধারণ সম্পাদকের নাম চূড়ান্ত করার জন্য ২০ মিনিট সময় দেয়া হয়। তবে সমঝোতা না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করে তার মতামত অনুসারে নিখিলকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন ওবায়দুল কাদের।
যুবলীগ চরম ভাবমূর্তিসংকটে পড়ার পর প্রথমে এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে শেখ ফজলে নূর তাপসের নাম বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে চাউর হয়। অবশ্য পরে তা সত্য হয়নি। তবে সম্মেলন প্রস্তুতির জন্য যুবলীগের যে কমিটি হয়েছিল, তাতে শেখ ফজলে শামস পরশের নাম যুক্ত হওয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন তিনি। এছাড়া ২২ নভেম্বর ওবায়দুল কাদের যখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনের মঞ্চ দেখতে এসেছিলেন, তখন তার সঙ্গে শেখ পরশও ছিলেন। এরপর সম্মেলনের অভ্যর্থনা উপকমিটির বৈঠকে যোগ দিতে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কার্যালয়ে গেলে কর্মীরা করতালি দিয়ে পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে পরশকে শুভেচ্ছা জানান।
জানা গেছে, এতদিন ধরে রাজনীতিবিমুখ শেখ ফজলে শামস পরশ তার ফুপু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই রাজনীতিতে নামতে রাজি হন। সৎ ও মেধাবী নেতৃত্ব তুলে আনার অংশ হিসেবেই শেখ পরশের মতো একজনকে রাজনীতিতে এনে চমক দেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।
শেখ পরশ যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে শেখ পরশের বাবা-মাও শহীদ হন। ওই সময় তিনি ও তার ছোট ভাই ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। ওই সময় পরশের বয়স ছিল ৬ বছর এবং তাপসের বয়স ছিল ৪ বছর। পঁচাত্তর ট্র্যাজেডিতে বাবা-মাকে হারানো শেখ পরশ-তাপসের বেড়ে ওঠা চাচাদের সঙ্গে। তার চাচা আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমও যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর যুবকদের সংগঠিত করার ল্য নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গড়ে তুলেছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। ওই সময় তিনি সংগঠনটির দায়িত্ব দেন নিজের ভাগ্নে, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মনিকে; যিনি যুবলীগের নতুন চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের পিতা।
এর আগে যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে পৌনে এক ঘণ্টার ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগের নেতাদের ত্যাগের মন্ত্রে দীতি হওয়ার পাশাপাশি বিপথে গেলে তাঁর কঠোর অবস্থানের কথা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন। সঙ্গে সঙ্গে বিগত সরকারগুলোর দুর্নীতিকে নীতি হিসেবে গ্রহণ, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-দুর্নীতির অভয়ারণ্য সৃষ্টি, বর্তমান সরকারকে বিপদে ফেলতে ষড়যন্ত্রসহ বিএনপি-জামায়াত জোটের অপশাসন-দুঃশাসনের কথাও দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দেন।
সারাদেশ থেকে আসা যুবলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সবসময় সবাইকে মনে রাখতে হবে, সততাই সবচেয়ে বড় শক্তি। একটা দেশ গড়ে তুলতে হলে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন যুবসমাজের মেধা, তাদের শক্তি, তাদের মননকে কাজে লাগানো। আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে, ভোগে নয়, ত্যাগেই হচ্ছে মহত্ব। কী পেলাম কী পেলাম না, সে চিন্তা না, মানুষকে কতটুকু দিতে পারলাম, কতটুকু মানুষের জন্য করতে পারলাম, সেটাই হবে রাজনীতিবিদের চিন্তাচেতনা। দুর্নীতি করে, সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদী মনোভাব দেখিয়ে অনেক টাকা বানাতে পারেন, এ টাকা দিয়ে জৌলুস করতে পারেন, চাকচিক্য বাড়াতে পারেন, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের জিনিস পরে ঘুরতে পারেন, এতে হয়ত আত্মতুষ্টি পাওয়া যেতে পারে, মানুষ চেয়ে চেয়ে দেখতে পারে; কিন্তু সম্মান পাওয়া যায় না, মানুষের হৃদয় জয় করা যায় না। রাজনীতিবিদ যে হবেন, তার জীবনে ত্যাগ ও মানুষের কল্যাণের আদর্শ থাকতে হবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলনে যুবলীগ নেতাকর্মীদের ভূমিকা ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদর্শ নিয়ে চলতে হবে। আদর্শের মধ্য দিয়েই কিন্তু একটা সংগঠন যেমন গড়ে ওঠে, দেশকেও কিছু দেয়া যায়। এই কথাটা সব সময় মাথায় রাখতে হবে। উড়ে এসে জুড়ে বসে মতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে এই সংগঠন গড়ে ওঠেনি। গড়ে উঠেছে নির্যাতিত মানুষ, শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করার ল্য নিয়েই। সেই আদর্শ থেকে কখনও যদি কেউ বিচ্যুত হয়ে যায়, তাহলে দেশকে কিছু দিতে পারে না।
বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং জমকালো আয়োজনে যুবলীগের ৭ম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। স্বপ্নের পদ্মাসেতুর আদলে গড়ে তোলা দৃষ্টিনন্দন সুবিশাল মঞ্চে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথমেই জাতীয় সংগীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন যুবলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চয়ন ইসলাম। এরপর শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তুতি কমিটির প থেকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং তাঁকে ক্রেস্ট উপহার ও উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয়। যুবলীগের প্রকাশনা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন চয়ন ইসলাম ও হারুনুর রশীদ।
এর পরই মূল মঞ্চের পাশে আরেকটি মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আনজুম মাসুদের পরিচালনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ ও ভারতের জনপ্রিয় শিল্পী শুভ মিতার গানের সঙ্গে সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা। এরপর যুবলীগের থিম সং ‘অনাবিল স্বপ্নের ঠিকানা, আওয়ামী যুবলীগ’ গানের সঙ্গেও শিল্পীরা কোরিওগ্রাফিতে অংশ নেন। ‘দেশের মেধা দেশেই ফলুক’ নিয়ে একটি সংপ্তি মঞ্চ নাটকও উপস্থাপন করা হয়। একই সময় মঞ্চের পাশেই দেশের চার বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী অল্প সময়ের মধ্যে জলরঙ ব্যবহার করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুটি ছবি এঁকে প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন।
পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের পর শুরু হয় আলোচনা পর্ব। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চয়ন ইসলামের সভাপতিত্বে প্রথমেই শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেলাল হোসাইন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অভ্যর্থনা উপকমিটির আহ্বায়ক যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী। সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট উপস্থাপন করেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য-সচিব ও বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থেকে একজন রাজনীতিক কিভাবে আদর্শ নিয়ে চলতে পারেন, তা জানার জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’ এবং জাতির পিতার বিরুদ্ধে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা যেসব প্রতিবেদন তৈরি করেছিল, তা নিয়ে করা প্রকাশনাগুলো পড়ার জন্য যুবলীগের নেতাকর্মীদের পরামর্শ দেন।
মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ সময় পদ্মাসেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ সততার সঙ্গে মোকাবিলার বিষয়টি যুবলীগের জাতীয় কংগ্রেসে তুলে ধরে বলেন, আমাদের ওপর অনেকে বদনাম দিতে চেয়েছিল। এক পদ্মাসেতু নিয়ে যখন অভিযোগ এনেছিল বিশ্বব্যাংক, তখন আমি চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম। বলেছিলাম যে, নিজের অর্থায়নেই পদ্মাসেতু করব। আমরা আজ প্রমাণ করেছি, নিজস্ব অর্থায়নেও আমরা করতে পারি। কারণ আমার কাছে সততাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় শক্তি। বিশ্বব্যাংক কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি।
এতিমের টাকা আত্মসাৎ ও দুর্নীতির মামলায় দ-িত খালেদা জিয়ার সঙ্গে আফ্র্রিকার কালো মানুষের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার বন্দিত্বের যে তুলনা বিএনপি নেতারা করেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি নেত্রী, যিনি এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে, তাঁকে তুলনা করা হয় নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে! আমি মনে করি, এতে নেলসন ম্যান্ডেলাকে অপমান করা হচ্ছে। কারণ নেলসন ম্যান্ডেলা তাঁর জাতির স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করে কারগারে ছিলেন, দুর্নীতি করে কারাগারে যাননি।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমরা দেশকে সব দিক থেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সমস্ত কর্মসূচিতে আছে একেবারে তৃণমূল মানুষেরা। তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের কথা চিন্তা করেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এই চলার পথে কেউ যদি বিপথে যায়, সে যে-ই হোক, আমি তাদের ছাড়ব না। কারণ, দিনরাত পরিশ্রম করি দেশের মানুষের জন্য। আর জাতির পিতা শুধু দেশকে স্বাধীন করে যাননি, মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য তিনি রক্ত দিয়ে গেছেন। এই কথাটা আমাদের মনে রাখতে হবে। কাজেই এই দেশ ব্যর্থ হতে পারে না। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, মাদক, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে, তা অব্যাহত থাকবে।
আগামী বছর মুজিববর্ষ উদযাপন করার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ২০৭১ সালে স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপন করবে আগামী দিনের প্রজন্ম। সেই প্রজন্ম একটা উন্নত-সমৃদ্ধ দেশের গর্বিত জাতি হিসেবে শতবর্ষ উদযাপন করবে।
সরকারঘোষিত শত বছরের ডেল্টা প্ল্যান-২১০০এর কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শত বছরের পরিকল্পনা নিয়ে সেখানেই থেমে থাকিনি। বাংলাদেশ ‘বদ্বীপ অঞ্চল’। এই দেশের মানুষের জীবন যাতে সবসময় সুখী সমৃদ্ধিশালী হয়, বাংলাদেশ যেন সোনার বাংলা হিসেবে চিরস্থায়ী হয়, সেদিকে ল্য রেখেই আমরা ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন শুরু করেছি, যাতে করে এই বাংলাদেশ, এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে।