রাজনীতি

আওয়ামী লীগে আসছে নতুন নেতৃত্বের চমক!

নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল। এ উপলে সার্বিক প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে দলটি। এ নিয়ে দলের সব পর্যায়ে ব্যস্ততা যেমন আছে, উদ্বেগও আছে। ব্যস্ততা পদ পাওয়া এবং ধরে রাখার জন্য আর উদ্বেগ পদ হারানোর ভয়ে।
ধানমন্ডিতে দলীয় প্রধানের কার্যালয় এখন নেতাকর্মীদের পদচারণে মুখর। সেখানে ভিড় করা নেতাকর্মীদের মধ্যে ঘুরেফিরে আলোচনায় আসছে আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদকের বিষয়টি। নতুন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কারা হচ্ছেন, তা নিয়েও আলোচনা তুঙ্গে।
অনেকেই বলছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরই থাকছেন। আবার নতুনদের মধ্যে আলোচনায় আছে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিামন্ত্রী ডা. দীপু মনির নাম। কেউ কেউ বলছেন, শুধু সাধারণ সম্পাদকই নয়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের সবক’টি পদেও এবার পরিবর্তন আনবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে এবার তিনি নতুনদের প্রধান্য দিতে চান।
নতুনদের প্রাধান্য দিতে গিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে ড. আব্দুর রাজ্জাক ও ডা. দীপু মনির সঙ্গে জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং মাহবুব-উল আলম হানিফের নামটিও উঠে আসছে। জানা গেছে, শেখ হাসিনা চাচ্ছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হবেন সেই ব্যক্তি, যিনি এমপিও নন, মন্ত্রীও নন। কারণ এমপি, মন্ত্রীদের পক্ষে দলীয় কাজে সময় দেয়াটা দুরূহ হয়ে দাঁড়ায়। এতে সংগঠনে স্থবিরতা নেমে আসে।
সে হিসাবে জাহাঙ্গীর কবির নানকের নামটি উজ্জ্বল হয়ে যায় এ কারণেই যে, তিনি এমপিও নন, মন্ত্রীও নন। কিন্তু তিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনিও। কিন্তু তিনি শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বেও আছেন। তাই অনেকে বলছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দৌড়ে দিপু মনির চেয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক কিছুটা হলেও এগিয়ে আছেন। তাছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এমপি পদে মনোনয়ন না দেয়া এবং পরবর্তীতে মন্ত্রিসভায় না রাখার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাকি বড় কোনো দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত হতে নানককে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই বড় দায়িত্বটিই হতে পারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব।
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচন, মন্ত্রিসভা গঠন এবং জাতীয় সংসদের সংরতি আসন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী মনোনয়নের মাধ্যমে একটি বার্তা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তা হলো নতুনদের প্রাধান্য।
ড. আব্দুর রাজ্জাকের নাম গত সম্মেলনের সময়ও আলোচনায় ছিল। ছাত্রজীবনে তিনি ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ছিলেন। দুই মেয়াদে মন্ত্রী হওয়ার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ ফোরাম সভাপতিম-লীর সদস্য তিনি। সে হিসাবে অনেকে বলছেন, সাংগঠনিক দক্ষতা ভালো থাকায় এবং কিন ইমেজের জন্য ড. রাজ্জাককেই আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখতে চান শেখ হাসিনা।
আবার অনেকে বলছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা অনেক আগে থেকেই নারীর মতায়নের ওপর জোর দিয়ে আসছেন। তিনিই দেশে প্রথমবারের মতো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব তুলে দেন একজন নারীর হাতে (সাহারা খাতুন)। জাতীয় সংসদের স্পিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পর পর দুই দফায় দিয়েছেন একজন নারীকে (শিরিন শারমিন চৌধুরী)। এই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সম্মেলনে দলের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন উম্মে কুলসুম স্মৃতি। তাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে একজন নারী এলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না। সেদিক দিয়ে আলোচনায় আছে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির নাম।
আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নেতৃত্ব নির্বাচনের দায়িত্ব কাউন্সিলরদের, যদিও কাউন্সিলররা বরাবরই এ দায়িত্ব তুলে দেন সভাপতি শেখ হাসিনার কাঁধে। তাই পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক কে হবেন তা নির্ভর করবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর।
কাউন্সিলের শেষ দিন দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়ে থাকে। কিছুটা সময় নিয়ে পরে পুরো কমিটি ঘোষণা করা হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
পরপর দুইবার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করার একাধিক নজির আছে আওয়ামী লীগে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চার বার এ দায়িত্ব পালন করেন। তাজউদ্দীন আহমদ তিন বার দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। জিল্লুর রহমান চার বার এ দায়িত্ব পালন করেন। সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ও আব্দুর রাজ্জাক দুই বার করে ওই পদে ছিলেন।
সর্বশেষ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দুই দফায় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ওবায়দুল কাদেরও দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে মনে করছেন দলের অনেক নেতাকর্মী। তবে অনেকে বলছেন, এক ব্যক্তি একাধিকবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের নজির থেকে সরে আসতে চাইছেন সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগের মতো এত বড় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা এক ব্যক্তির একবারের জন্যই যথেষ্ট। সেক্ষেত্রে বলা যায়, নতুন বছরে হয়ত ওবায়দুল কাদেরকে কেবল মন্ত্রিত্ব নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান, পদ্মাসেতু উদ্বোধন হওয়া পর্যন্ত ওবায়দুল কাদেরই সেতু ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী থাকুক; যেহেতু তার হাত ধরেই পদ্মাসেতু ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।