প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রতিবেদন

ক্রিকেট কূটনীতি ও পারস্পরিক দৃঢ় বন্ধনে ভারত-বাংলাদেশ

বিশেষ প্রতিবেদক
ক্রিকেটের মাধ্যমে আবারো পারস্পরিক দৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ হলো ভারত ও বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে সঙ্গে নিয়ে ঘণ্টা বাজিয়ে ইডেন গার্ডেনসে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার টেস্ট ম্যাচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার মধ্য দিয়ে ক্রিকেট কূটনীতির এক নবযুগের সূচনা হয়। স্বাগতিক দেশ হিসেবে ভারতীয় কোনো নেতারই এই টেস্ট ম্যাচটি উদ্বোধনের কথা। অথচ ম্যাচটি যৌথভাবে উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
ভারতীয় সময় দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ভিভিআইপি গ্যালারিতে রতি ঘণ্টা বাজিয়ে ভারতে প্রথম দিবা-রাত্রির এই ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচ উদ্বোধন করেন হাসিনা-মমতা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় খেলার আগে দুই দেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তি শচিন টেন্ডুলকার, ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)-র সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলিসহ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্ট ম্যাচে অংশগ্রহণকারী উভয় দেশের খেলোয়াড়বৃন্দ এসময় মাঠে উপস্থিত ছিলেন।
গোলাপি বলে প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচ আয়োজনকে কেন্দ্র করে পুরো ইডেন গার্ডেনসকে বর্ণাঢ্য সাজে সজ্জিত করা হয়। দিবা-রাত্রির টেস্ট ম্যাচ হওয়ায় খেলাটি গোলাপি রঙের বলে অনুষ্ঠিত হয়। ফেয়ার প্লে প্ল্যাকার্ডবাহী শিশুর পোশাক থেকে শুরু করে স্কোর বোর্ড এমনকি ম্যাচের টস কয়েনটিও গোলাপি রঙের ছিল।
বাংলাদেশের অধিনায়ক মমিনুল হক টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। প্রধানমন্ত্রী পরে প্রথম সেশনের খেলা উপভোগ করেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্রিকেটের ঐতিহ্যবাহী ভেন্যু কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে পৌঁছলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি তাঁকে স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রী প্রথম দিনের ম্যাচের পর ইডেন গার্ডেনস স্টেডিয়ামে বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

ক্রিকেট বাংলাদেশ ও ভারতের
জনগণের বন্ধনকে আরো
গভীর করেছে: শেখ হাসিনা
ক্রিকেট বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের বন্ধনকে আরো গভীর করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের গৃহীত বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নয়নমূলক পদেেপ ভারতকে সবসময় পাশে পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বর্তমানে ভারতের মতো বাংলাদেশেও ক্রিকেটকে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা অভিহিত করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য আমরা নানামুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছি। আশা করছি, আমাদের এই অভিযাত্রায় ভারত অতীতের মতো ভবিষ্যতেও আমাদের পাশে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইডেন গার্ডেনে গোলাপি বলে ভারত-বাংলাদেশের প্রথম দিবা-রাত্রির ক্রিকেট টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিনের খেলা শেষে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদত্ত ভাষণে একথা বলেন।
বিগত এক দশকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় আসীন হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ক্রিকেট আমাদের উভয় দেশের জনগণের মধ্যকার বন্ধনকে আরো নিবিড় করেছে।
ভারত-বাংলাদেশের এই সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারিত ও নিবিড়তর হবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত অভিন্ন ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, ইতিহাস ঐতিহ্যসহ বহুবিধ অভিন্ন বন্ধনে আবদ্ধ। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমরা একসঙ্গে রক্ত ঝরিয়েছি।
শেখ হাসিনা এ সময় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য শান্তি নিকেতনে বাংলাদেশ সরকার নির্মিত ‘বাংলাদেশ ভবন’কে বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক বন্ধনের এক ‘মাইলফলক’ বলে উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সহযোগে এই ভবন উদ্বোধনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের জনণের ভাষা ও খাদ্যাভ্যাস এক। আবার আমরা একই কবির জাতীয় সংগীত পড়ে ও গান গেয়ে বড় হয়েছি। আমাদের আবেগ, অনুভুতি, আনন্দ-বেদনার প্রকাশ একই।
তিনি আরো বলেন, আমাদের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে জীবনের সকল েেত্র রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের প্রভাব অপরিসীম।
দেশ স্বাধীনের পর কলকাতায় প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে জাতির পিতা প্রদত্ত ভাষণের উদ্ধৃতি তুলে ধরে একে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মূল ভিত্তি বলে আখ্যায়িত করেন।
জাতির পিতা বলেছিলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত এই সম্পর্ক আমাদের হৃদয়ের। এই বন্ধুত্বের বন্ধন সব সময় দৃঢ় ও চিরস্থায়ী থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পথই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মূল ভিত্তি। সময়ের বিবর্তনে আমাদের এ সম্পর্ক বিশ্ববাসীর নিকট সু-প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের আদর্শ হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার এবং সেদেশের জনগণের অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করছি আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার এবং তার জনগণের অপরিসীম অবদানের কথা। বিশেষ করে, পশ্চিমবঙ্গের জনগণ সেই ঝঞ্ঝাবিুব্ধ দিনগুলোতে যেভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল তা কখনোই ভুলবার নয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলার মানুষ এক বিবেকহীন সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সে সময় ভারত সরকার ও জনগণের সহযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে, বিশেষ করে কলকাতা থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হতো।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০০০ সালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্ট ম্যাচে অংশগ্রহণকারী দুই দেশের খেলোয়াড় যাদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন তাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই মুহূর্তে আমার মনে পড়ছে ২০০০ সালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচের কথা, যে ম্যাচে প্রতিপ দল ভারতের অধিনায়ক ছিলেন বর্তমান বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নবীন সদস্য হলেও বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিভার স্বার রেখেছে। বাংলাদেশ ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয় করেছে। এছাড়া বাংলাদেশের আইসিসি বিশ্বকাপ ম্যাচসহ অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সফলভাবে আয়োজন এবং ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতাসমূহ অত্যন্ত সফলভাবে নিয়মিত আয়োজন করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেনসে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান দিবা-রাত্রির টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত-বাংলাদেশ ঐতিহাসিক দিবা-রাত্রির টেস্ট ম্যাচ দেখতে আমন্ত্রণ জানানোয় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। তাঁকে ও তাঁর প্রতিনিধি দলকে কলকাতায় আন্তরিক আতিথেয়তা ও সেবা প্রদান করায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সিটি অব জয়’ হিসেবে পরিচিত কলকাতা আমাদের অত্যন্ত কাছের। অনেক আবেগ ও স্মৃতিবিজড়িত পশ্চিমবঙ্গে আসতে পারা আমার জন্য সব সময়ই অত্যন্ত আনন্দের।
জাতির পিতার কলকাতার শিাজীবনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ছাত্রজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এই নগরীতেই অতিবাহিত করেছেন। ১৯৪৫-৪৬ সালে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজের ছাত্র থাকাকালে বঙ্গবন্ধু এখানকার বেকার হোস্টেলে থাকতেন বলে উল্লেখ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।
প্রধানমন্ত্রী ২২ নভেম্বর দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এক অবিস্মরণীয় দিন উল্লেখ করে বলেন, আমি নিশ্চিত, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আরো বহু অনুষ্ঠানের সুযোগ আমাদের সামনে আসবে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত সংগীত ‘আনন্দের এই সাগর থেকে’র ৪টি পংক্তি উচ্চারণ করে ভাষণের ইতি টানেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ থেকে বাইসাইকেল
আমদানির আগ্রহ পশ্চিমবঙ্গের
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশ থেকে বাইসাইকেল আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বাইসাইকেলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ পশ্চিমবঙ্গে সাইকেল রপ্তানির এ সুযোগটি কাজে লাগাতে পারে।
কলকাতার তাজ বেঙ্গল হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির মধ্যকার বৈঠকে এ আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
বৈঠকে মমতা এ বিষয়ে দু’টি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা যৌথভাবে পশ্চিমবঙ্গে বাইসাইকেলের কারখানা স্থাপন করতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এ জন্য জমি বরাদ্দ দেবে। দ্বিতীয়ত বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীরা এ ধরনের কারখানা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে স্থাপন করতে পারে। এতে পরিবহন খরচ অনেকটাই কমে যাবে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে শিা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্পকারখানার ওপর সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মমতা ব্যানার্জি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাদের সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচির সম্পর্কে অবহিত করে বলেন, ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলোর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মমতা ব্যানার্জিকে বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির বিষয়ে অবহিত করেন এবং শিা খাতের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদপে তুলে ধরেন।
বৈঠকের শুরুতে শেখ হাসিনা ও মমতা ব্যানার্জি শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ভারতের ইডেন গার্ডেনসে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক দিবা-রাত্রির টেস্ট ম্যাচ দেখার জন্য কলকাতা সফরে আসায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী এবং ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস এ সময় উপস্থিত ছিলেন।