ফিচার

নজরদারির হাত থেকে কম্পিউটার রক্ষার উপায়

স্বদেশ খবর ডেস্ক
ম্যালওয়্যারের যে প্রোগ্রামগুলো কম্পিউটারের কাজকর্ম নজরদারি করে, সেগুলো কতটা বিপজ্জনক তা হয়তো আপনার ভাবনাতেই এখনো আসেনি। এগুলো ডিলিট করার জন্য কম্পিউটার কোনো নোটিফিকেশন পাঠাতে পারে না। তারা বরং সিস্টেমে লুকিয়ে থেকে সবকিছু পর্যবেণ ও রেকর্ড করতে থাকে।
স্পাইওয়্যার আপনার ওয়েবক্যাম ফিড থেকে সব কিছু ‘ছিনতাই’ করতে পারে। শুধু তাই নয়, কিবোর্ড ব্যবহার করে কাকে কী লিখছেন, সেগুলোও রেকর্ড করার মতা রাখে। প্রযুক্তি দুনিয়ার এই ‘ভিলেনের’ উদ্দেশ্য আপনার ডিজিটাল জীবন সবার সামনে তুলে ধরা, ব্যাংক হিসাব হাতিয়ে নেয়া অথবা আপনাকে ব্ল্যাকমেইল করা। এই সমস্যা থেকে বাঁচতে কিছু পরামর্শ অনুসরণ করতে পারেন।

সিস্টেম নিরাপত্তা
নিশ্চিন্ত থেকে কম্পিউটার ব্যবহার করতে হলে অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করতে হবে। অধিকাংশ অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম উইন্ডোজ ও ম্যাক দুটির জন্যই কিলগার, ওয়েবক্যাম হ্যাকার এবং অন্য স্পাইওয়্যার প্রতিরোধ করতে পারে। ভালো সেবা পেতে সফটওয়্যারগুলো আপডেট রাখতে হবে।

যে অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করবেন
সব অ্যান্টিভাইরাস সবার জন্য ফ্রি থাকে না। একটা নির্দিষ্ট ধাপ পর্যন্ত অর্থ ছাড়া ব্যবহার করা যায়। পেইড ভার্সন ব্যবহার করলে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।
পেইড ছাড়া ৪টি প্রোগ্রাম আছে, যেগুলো গত কয়েক বছরে বিনা মূল্যে ব্যবহারকারীদের ভালো সেবা দিয়েছে। কখনো কখনো এগুলো কম দামি অ্যান্টিভাইরাসের থেকেও ভালো কাজ করেছে।
এগুলো হলো ডরহফড়ংি উবভবহফবৎ (উইন্ডোজ টেনসহ) অঠএ ঋৎবব, (উইন্ডোজ, ম্যাক দুটিতেই ফ্রি), এটির ফুল ভার্সন পেতে হলে আবার প্রতি বছর ৯০ ডলার খরচ করতে হবে, ইরঃফবভবহফবৎ এবং আধংঃ।
এগুলোর পাশাপাশি আরেকটু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্বিতীয় ধাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। উইন্ডোজের জন্য বিনা মূল্যে ঝঢ়ুনড়ঃ ঝবধৎপয এবং উবংঃৎড়ু আছে। নিয়মিত অ্যান্টিভাইরাস প্যাকেজের সঙ্গে এগুলো শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

কিন ইনস্টল
ভাইরাস, স্পাইওয়্যার, ম্যালওয়্যার থেকে পরিত্রাণ পেতে কম্পিউটার কিন ইনস্টল করতে পারেন। যখন আপনি কিন ইনস্টল করবেন তখন আপনার হার্ড ড্রাইভের সবকিছু মুছে ফেলা হয়। তাই আর কোনো ভাইরাসের অস্তিত্ব থাকে না। যদি স্ক্যান আপনার জন্য কাজ না করে এবং ভাইরাস আপনার কম্পিউটারের রেজিস্ট্রিতে থাকে তবে আপনার জন্য ভালো। কেননা কিন ইনস্টলের পূর্বে আপনি আপনার ছবি, ডকুমেন্ট এবং সব গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ব্যাকআপ হিসেবে রাখতে পারবেন।
ব্যাকআপ ফাইলের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো এক্সটারনাল হার্ড ড্রাইভ ব্যবহার করা বা ফ্যাশ ড্রাইভ বা ডিভিডি বার্ন করা ইত্যাদি। কিন ইনস্টল করা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। শুধু আপনার হার্ড ড্রাইভে এটি কপি করার অপোমাত্র।

বিপদ সংকেত বোঝা
স্পাইওয়্যার থেকে রা পেতে হলে আপনাকে সতর্ক সংকেত বুঝতে হবে। কম্পিউটারে কী ইনস্টল করছেন, কোথা থেকে করছেন সেটি দেখুন। অপরিচিত ঠিকানা থেকে কিছু ডাউনলোড না করাই ভালো। সন্দেহজনক ফাইল দেখলেই কী লেখা আছে পড়ার চেষ্টা করুন। গুগলে সেই বিষয়ে সার্চ দিন।
পুরোনো কম্পিউটার এমনিতে একটু ধীরে কাজ করে, সেটি আরও ধীর হয়ে গেলে বুঝতে হবে বিপদ আসন্ন। এটি একটি সংকেত।
কম্পিউটারে অনেক প্রোগ্রাম চালু নেই, অথচ সফটওয়্যার থেমে যাচ্ছে, গতি কমে যাচ্ছে; বারবার এমন হলে বুঝতে হবে স্পাইওয়্যার ঢুকেছে।
এছাড়া আরো কিছু কারণ আছে। যেমনÑ
কম্পিউটারের কোনো আইকনে কিক করলে রেসপন্ড না করা কিংবা রেসপন্ড করতে দেরি করা। কম্পিউটার স্লো হয়ে পড়ে কিংবা অ্যাপ্লিকেশন চালানো সময় ওপেন হতে দেরি হয়। অনেক সময় কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল করতে না পারা কিংবা ফাইল ডাউনলোড করতে না পারার কারণ ভাইরাস।
কারণ ছাড়াই কম্পিউটার হ্যাং হয়ে যাওয়া। তখন কম্পিউটার রিস্টার্ট করা ছাড়া উপায় থাকে না। ইনস্টল করা অ্যান্টিভাইরাস কাজ করা বন্ধ করে দেয়া। ব্রাউজারে অচেনা বিভিন্ন পপআপ বা অ্যাডঅন ইনস্টল হওয়া। এতে ব্রাউজিংয়ের গতি কমে যায়। হঠাৎ করে ডেস্কটপ থেকে আইকন বা সফটওয়্যারের শর্টকাট হারিয়ে যাওয়া। কিংবা অটো রিমুভ হয়ে যাওয়া।
আপনার কম্পিউটারে যদি এগুলোর কোনো একটি নিয়মিত ঘটতে থাকে তাহলে ধরে নেবেন তা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আরও দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত কাজের একটি অ্যান্টি ভাইরাস ইনস্টল করে নিন। এতে কাজে যেমন গতি আসবে, তেমনি আপনার ডিভাইসটিও সুরতি থাকবে।