ফিচার

নিউমোনিয়া নিরাময়ের প্রাকৃতিক কারণ

ডাক্তার আকাশ
নিউমোনিয়া শ্বাস সংক্রান্ত একপ্রকার পরিস্থিতি। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস সংক্রমণের জন্য ফুসফুসে জ্বালাভাব হয়।
মানুষের শরীর সাধারণভাবে এসব অরগ্যানিজমের মাধ্যমে ফসফুসকে সংক্রামিত করা থেকে আটকায়। অবশ্য এসব অরগ্যানিজম অনেক সময়ই রোগ প্রতিরোধ মতাকে দমিয়ে দেয়। অধিকাংশ েেত্র এটা লঘু অবস্থা হিসেবে শুরু হয় এবং ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। অবশ্য অনেক সময় এটা গুরুতর আকার ধারণ করে।
সদ্যপ্রসূত থেকে শুরু করে ৫-৬ বছরের শিশু এবং ৬৫ বছর ও তার বেশি বয়সীদের েেত্র নিউমোনিয়া বিপজ্জনক। দুর্বল রোগ প্রতিরোধমতা যাদের কিংবা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অন্তর্নিহিত কোনো কারণ থাকলেও নিউমোনিয়া হওয়ার প্রবণতা থাকে।
নিউমোনিয়ার প্রচলিত লণের মধ্যে জ্বর, কাশি, কাঁপুনিসহ ঠা-ার অনুভূতি ও নিঃশ্বাসে দুর্বলতা অন্যতম। অন্যান্য লণের মধ্যে মাথাব্যথা, কান্তি, খাবারে অনীহা, ঘাম হওয়া, গা গোলানো, বমি, পেশীর যন্ত্রণা ও কাশির সময় বা গভীরভাবে শ্বাস নেয়ার সময়ে বুকে ব্যথা অন্যতম। বয়স্কদের েেত্র ডিলিরিয়াম বা সংশয় হতে পারে।
নিউমোনিয়ার ধরণ ও লণের গভীরতার ওপর চিকিৎসা নির্ভর করে। বুকে ব্যথা থাকলে, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হলে, অনেকদিন ধরে ১০২ ফারেনহাইট বা তার থেকে বেশি জ্বর কিংবা কাশি থাকলে ডাক্তার দেখানো উচিত। লণ গুরুতর না হলে মূল চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া নিরাময় চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

নিউমোনিয়ার প্রাকৃতিক নিরাময়
১. রসুন: রসুনের অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল গুণ ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের মোকাবিলা করে। এটা শরীরের তাপমাত্রা কমায় এবং বেশি পরিমাণে শ্লেষ্মা বের করে দিয়ে বুক ও ফুসফুস থেকে কফ পরিষ্কার করে দেয়।
রসুন থেঁতো করে নিয়ে গরম দুধ ও পানির সাথে মিশিয়ে খান কিংবা দিনে তিনবার লেবুর রস, মধু ও রসুনের মিশ্রণ খেয়ে সমস্যার সমাধান করুন।
২. গোলমরিচ: এর মধ্যে অধিক পরিমাণে ক্যাপসাইসিন থাকে, যা শ্বাসনালী ও শ্বসনতন্ত্র থেকে শ্লেষ্মা-কফ বেরোতে সাহায্য করে। গোলমরিচ বিটা-ক্যারোটিনের উৎকৃষ্ট উৎস এবং এর জন্য মিউকাস মেমব্রেন সঠিকভাবে বৃদ্ধি পায় ও সুস্থ থাকে।
পানির মধ্যে গোলমরিচ ও লেবুর রস মিশিয়ে সারাদিন বারকয়েক খান। গাজরের রসের সাথেও গোলমরিচ যোগ করতে পারেন। উভয়ই কার্যকরভাবে নিউমোনিয়ার নিরাময় করে।
৩. মেথির বীজ: মেথির বীজে মিউকোলাইটিক গুণ থাকে, যা কফ বের করে দেয়। এ জন্য ঘাম হয়, যা শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয় ও জ্বর কমে যায়। দুই কাপ পানির মধ্যে মেথির বীজ গরম করে নিয়ে সেটা দিয়ে চা বানান। এই মিশ্রণ ছেঁকে নিয়ে খান। মেথির বীজ, আদা, রসুনের কোয়া ও একচিমটে গোলমরিচ দেয়া হার্বাল চা খেতে পারেন। এটা সারাদিন কিছুণ পর পর খান।
৪. হলুদ: এটা মিউকোলাইট হিসেবে কাজ করে শ্বাসনালি থেকে শ্লেষ্মা বের করে দেয়। এর অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য সংক্রমণের মোকাবিলা করে।
গরম সরষে তেলের সাথে হলুদ গুঁড়ার পেস্ট বানিয়ে বুকে মালিশ করুন। দিনে তিনবার এক গ্লাস গরম দুধের সাথে হলুদ গুঁড়া মিশিয়েও খেতে পারেন।
৫. তুলসি পাতা ও গোলমরিচ: ফুসফুসের জন্য উভয় উপাদানই উপকারী। এগুলো নিউমোনিয়ার চিকিৎসায় সাহায্য করে।
কয়েকটা তুলসী পাতার নির্যাস বের করুন। টাটকা গোলমরিচ গুঁড়া করে এক চিমটি মিশিয়ে প্রতি ৬ ঘণ্টা অন্তর খান।