কলাম

নিত্যপণ্যের ঘাটতি নেই অথচ বাজারে কৃত্রিম সংকট অতি মুনাফালোভীদের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

বেশ কয়েক বছর ধরে দেশে চাল, পিঁয়াজ, লবণ, ভোজ্যতেল, চিনিসহ প্রধান কয়েকটি নিত্যপণ্য চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন হয়। কয়েকটি নিত্যপণ্য পরিমিত আমদানি হলেও বাজারে এসবের যথেষ্ট সরবরাহ থাকে। কিন্তু হঠাৎ হঠাৎ এসব নিত্যপণ্যের দামের েেত্র রীতিমতো নৈরাজ্য শুরু হয়ে যায়। সরবরাহ নেই অথবা মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়ে এবং দাম আরো বেড়ে যাবেÑ এমন আশঙ্কা সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি পিঁয়াজ ও লবণের ক্ষেত্রে এ প্রবণতা দেখা যায়। এখন চাল ও তেল নিয়ে একই প্রবণতা তৈরির চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অথচ ঘাটতি তো নয়ই, বরং পর্যাপ্ত উৎপাদনের ফলে চাল রপ্তানির প্রক্রিয়া যেমন আছে, তেমনি চিনি ও ভোজ্যতেলের পরিমিত আমদানির পর নিজেদের জন্য রেখে, একটি অংশ প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানিরও অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
অথচ একেক দিন একেক পণ্যের হু হু করে দাম বাড়ানো এবং পণ্যটির সংকট তৈরির মধ্য দিয়ে পুরো বাজারব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। একটি অতি মুনাফালোভী অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে অবৈধ মজুদদারির মাধ্যমে পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা লোটার অভিযোগ উঠেছে।
হিসাব অনুযায়ী, ১৭ কোটি মানুষের বছরে চাল লাগার কথা ৩ কোটি ১৯ লাখ টনের মতো। চলতি বছর দেশে চাল উৎপাদন হয়েছে ৩ কোটি ৮৬ লাখ টন। পাশাপাশি জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার টন। তাহলে দেখা যাচ্ছে, বিপুল পরিমাণ চাল উদ্বৃত্ত রয়েছে। অথচ চালের বাজারেও অস্থিরতা। আসলে চালসহ প্রধান প্রায় সব ক’টি নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক এবং কিছু েেত্র উদ্বৃত্ত আছে। তারপরও একটি চক্র পুরো বাজারব্যবস্থাকে তছনছ করে দেয়ার চেষ্টা করছে।
ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার লোভ ও নীতিনৈতিকতার অভাব এবং প্রতিনিয়ত বাজার তদারকির অভাবের কারণে এ ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। প্রচলিত ব্যবস্থায় দেখা যায়, কোনো একটি পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেলেই কেবল ভ্রাম্যমাণ আদালতকে বাজারে দেখা যায়। অথচ সব পণ্যের তদারকির ক্ষেত্রেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের সক্রিয়তা দরকার। বাজারে কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা জরুরি। প্রায় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, দোকানে মূল্যতালিকা টানানোর নিয়মও যথাযথভাবে পালিত হয় না। একই পণ্য একই বাজারে তিন-চার রকম দামে বিক্রি হয়। অনেক দোকানদারকেই বলতে শোনা যায়, ‘এই দামে নিলে নেন, না নিলে নাই’। এমনটি হবে কেন?
অনেকে মনে করেন, নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখা যাচ্ছে। কৃষি, অর্থ, বাণিজ্য, খাদ্য, শিল্প ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে পদপে গ্রহণ করলে বাজারে কিছুতেই অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে না। আমরা মনে করি, অবৈধ মজুদদার এবং অতি মুনাফালোভীদের নিয়ন্ত্রণে বাজার সমিতির নেতাদেরও সক্রিয় ভূমিকা দরকার। বাজার সমিতিকে কিভাবে আরো সক্রিয় করা যায়, সে বিষয়টিও সরকারের সংশ্লিষ্টদের ভেবে দেখা দরকার।