প্রতিবেদন

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : ফোর্সেস গোল-২০৩০ এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নে কাজ করছে সরকার

এম নিজাম উদ্দিন
যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ২১ নভেম্বর বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিনের শুরুতে দেশের সকল সেনানিবাস, নৌ ঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটির মসজিদগুলোতে দেশের সমৃদ্ধি ও কল্যাণ এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরামন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীকে পৃথকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পুষ্পস্তবক অর্পণকালে শহীদদের স্মরণে বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে রতি পরিদর্শন বইয়ে স্বার করেন।
এর আগে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে এসে পৌঁছলে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানগণ এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার তাঁদের স্বাগত জানান।
২১ নভেম্বর বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। অনুষ্ঠানে প্রদত্ত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি, সর্বাবস্থায় চেইন অব কমান্ড মেনে এবং সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে দেশ গঠনে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।
শেখ হাসিনা বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে জাতির পিতার নির্দেশে প্রণীত প্রতিরা নীতিমালার আলোকে ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করা হয়েছে। এর আওতায় তিন বাহিনীর পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের কার্যক্রমসমূহ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে সরকার।
প্রত্যেকটি বাহিনীকে যুগোপযোগী করার পদপে সরকার নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির প্রয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাজেই আধুনিকায়নের দিকে আমাদের যেতে হবে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্যই সেেেত্র আমাদের সরকার সবসময় পদপে নিয়ে থাকে, আমরা তা-ই নিচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক আখ্যায়িত করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জনকল্যাণে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি এ সময় সাম্প্রতিককালের ঘুর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর সাফল্যেরও উল্লেখ করেন।
সশস্ত্র বাহিনী দিবসে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে শাহাদতবরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মরণে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আবু মোজাফফর মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব চৌধুরী এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত নিজ নিজ বাহিনীর প থেকে সম্মিলিতভাবে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
শিখা অনির্বাণে পুস্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে যান। সেখানে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং মহাপরিচালকবৃন্দ। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানগণ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাাৎ করেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী এবং নির্ধারিতসংখ্যক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের হাতে সম্মানী চেক ও উপহার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে ৯ জন সেনা, ২ জন নৌ এবং বিমান বাহিনী ৩ জন সদস্যসহ মোট ১৪ জনকে ২০১৮-১৯ সালের শান্তিকালীন পদকে ভূষিত করা হয়। ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠের নিকটাত্মীয়সহ ১০১ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের উত্তরাধিকারীরা সংবর্ধনায় যোগ দেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক (অব.), সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের উত্তরাধিকারীদের সাথে চা চক্রে মিলিত হন। এদিকে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলে সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান ও বিমান বাহিনী প্রধানগণ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাাতে মিলিত হন।
অপরদিকে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলে নৌবাহিনী প্রধান নৌবাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা প্রদান করেন। বিমান বাহিনী প্রধান ২২ নভেম্বর বিমান বাহিনীর এবং সেনাবাহিনী প্রধান ২৫ নভেম্বর সেনাবাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, তাঁদের পরিবারবর্গের সম্মানার্থে পৃথক সংবর্ধনার আয়োজন করেন।
স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, ১৪ দলীয় নেতৃবৃন্দ, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ রাজনীতিক ও বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং তাদের সহধর্মিনীগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সিনিয়র সদস্যবৃন্দ, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং বিদেশি কূটনীতিকসহ অনুষ্ঠানে আগত অতিথিবৃন্দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী এর আগে সম্প্রসারিত ও পুনঃনির্মিত সেনাকুঞ্জের বর্ধিতাংশ উদ্বোধন করেন।
সশস্ত্র বাহিনী দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার সিলেট, রামু ও পটুয়াখালীতে ৩টি পূর্ণাঙ্গ পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সেনাবাহিনীর প্রশিণ, অস্ত্র, সরঞ্জামাদি ও জনবলের অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছে।
জাতিসংঘ ১৯৮২ সালে সমুদ্রসীমা আইন করলেও ১৯৭৪ সালেই জাতির পিতা বাংলাদেশে এই আইন করে যান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতে জয়লাভের মাধ্যমে আমরা ভারত ও মিয়ানমারের কাছ থেকে দু’দফায় ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি সমুদ্রসীমায় অধিকার লাভ করেছি।
সমুদ্রসীমা নিরাপদ রাখার পাশাপাশি ‘ব্লু ইকোনমি’র সর্বোচ্চ উপযোগ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়নের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশীয় শিপইয়ার্ডে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পেট্রোলক্রাফট নির্মাণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বিমান বাহিনীকে আমরা আধুনিক শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনে দিচ্ছি এবং প্রশিণেরও ব্যবস্থা নিচ্ছি।
সশস্ত্র বাহিনীর কল্যাণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদেেপর কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ইতোমধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, টেকনিক্যাল ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং তাঁদের আবাসন সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে।
১৯৯৬ সালে সরকারে থাকার সময় ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) স্থাপন, ওয়ার কলেজ স্থাপন, মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।
আমাদের মিলিটারি একডেমি সারা বিশ্বে এখন প্রশংসিত এবং এখানে প্রশিণের জন্য সমগ্র বিশ্বের শিার্থীদের সমাবেশ ঘটে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে উন্নত করার পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের দিকেও আমরা দৃষ্টি দিচ্ছি।
সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই এবং দেশকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে চাই।
দেশ পরিচালনায় জাতির পিতার দূরদর্শী নীতির কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতা-উত্তর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু গভীর প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টি নিয়ে একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।
বঙ্গবন্ধুর সময়ে সেনাবাহিনীর প্রশিণ ও সাংগঠনিক কাঠামোর উন্নতির জন্য মিলিটারি একাডেমি, কম্বাইন্ড আর্মড স্কুল ও প্রতিটি কোরের জন্য ট্রেনিং স্কুলসহ বিভিন্ন সামরিক প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং ১৯৭৩ সালেই বিমান বাহিনীতে অত্যাধুনিক সুপারসনিক মিগ অন্তর্ভুক্তির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূ-রাজনৈতিক প্রয়োজনে একটি অত্যাধুনিক নৌবাহিনী গঠন করার প্রত্যয়ে বঙ্গবন্ধু একই সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ৩টি ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে ১৯৬৬ সালে দেয়া ৬ দফায় তিনি তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে নৌবাহিনীর সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, মাত্র সাড়ে ৩ বছরে একটি রাষ্ট্র পরিচালনার প্রয়োজনীয় বুনিয়াদ তৈরি করে দেন জাতির পিতা।
প্রধানমন্ত্রী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী ১১ লাখেরও বেশি মিয়ানমারের নাগরিককে সহায়তা এবং জাতিসংঘ শান্তিরা মিশনে নিয়োজিত নারী সদস্যসহ বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
জাতিসংঘ মিশনে বিশ্বশান্তি প্রচেষ্টার উদ্যোগকালে শাহাদত বরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলে অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অতিথিদের শুভেচ্ছা জানান এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার এবং জনগণের সহযোগিতাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকায়ন এবং যুগোপযোগী করে গড়ে তোলায় সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে পাশে দাঁড়ানো দেশগুলোর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য জাতিসংঘ শান্তিরা মিশনে বাংলাদেশি সৈনিকদের প্রেরণ করার মাধ্যমে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত রাখারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবো। আর সে সময়কে মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে; যখন বাংলাদেশে আর দরিদ্র থাকবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ২০০৫-০৬ সালের ৪১ শতাংশ দারিদ্র্য থেকে বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ২১ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। এটিকে অন্তত ১৫ থেকে ১৭ শতাংশের মধ্যে নামাতে পারলে দেশে আর দরিদ্র থাকবে না। আর সেটা বাস্তবায়নে সশস্ত্র বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের সরকার সকল কর্মপ্রয়াস অব্যাহত রেখেছে।