প্রতিবেদন

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে যে মানবিকতার পরিচয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন, সেজন্য তার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান শরণার্থীদেরকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে মানবতার ইতিহাস তৈরি করেছেন এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে রোহিঙ্গাদের যেভাবে আশ্রয় দিয়েছেন, তাতে তাদের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত। আশা করা যায়, সারা বিশ্ব এ বিষয়ে একমত পোষণ করবেন।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ১৯ নভেম্বর তুরস্কের গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার মুস্তফা সেন্তোপের সঙ্গে সৌজন্য সাাৎকালে এ মন্তব্য করেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ-তুরস্ক যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের সভায় অংশ নিতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আঙ্কারা সফর করেন। সেদেশের স্পিকার মুস্তফা সেন্তোপের সঙ্গে সৌজন্য সাাৎ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, যে দুটি কারণে তুরস্ক সারা বিশ্বে অত্যধিক সমাদৃত, তার একটি হলো অসাম্প্রদায়িকতা আর দ্বিতীয়টি হলো জঙ্গিবাদের কারণে বিশ্বের কোথাও কোনো মানুষের যেন তি না হয়, সে বিষয়ে জোরালো পদপে। বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের এই নীতিতে অত্যন্ত সামঞ্জস্য রয়েছে। অসাম্প্রদায়িকতার পাশাপাশি বাংলাদেশও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করে চলেছে।
অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশে আরো বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তুরস্ক যদি বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জায়গা নিতে চায় তাহলে সরকার তাদের সর্বোতভাবে সহায়তা করবে।
অর্থমন্ত্রী যেকোনো উপায়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে তুরস্ককে সহায়তা করার অনুরোধ করেন।
তুরস্কের স্পিকার মুস্তফা সেন্তোপ বলেন, রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে উদারতার এক মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আরাকানের এই মুসলিমদের ওপর যে অবিচার করা হয়েছে, সেটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। তুরস্ক এই সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী ২০ নভেম্বর আঙ্কারায় তুরস্কের সংস্কৃতি ও পর্যটন বিষয়কমন্ত্রী মেহমেত নুরী এরসয়-এর সঙ্গে সাাতকালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান দেশটিকে আঞ্চলিক যোগাযোগ, বিদেশি বিনিয়োগ এবং গ্লোবাল আউটসোর্সিংয়ের একটি কেন্দ্রে পরিণত করেছে। সুতরাং কৌশলগত কারণেই বাংলাদেশকে এড়িয়ে বিশ্বের সার্বিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দণি এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং অত্যন্ত আকর্ষণীয় প্রণোদনার সুযোগ গ্রহণের মাধ্যমে অধিক হারে মুনাফার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশে।
তিনি বলেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে প্রভাবশালী ২০ দেশের তালিকায় আসবে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে যেসব দেশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বাংলাদেশ তার অন্যতম।
মেহমেত নুরী এরসয় বলেন, বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রশংসনীয়। বাংলাদেশ একটি উদীয়মান অর্থনৈতিক তারকা। তুরস্ক ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো।
বাংলাদেশে কৃষি, শিল্প, ুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগ করতে মেহমেত নুরী এরসয় তুরস্কের আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন।
পরে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বাণিজ্য বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সাহায্য সংশ্লিষ্ট যৌথ ইশতেহার স্বারিত হয়। বাংলাদেশের পে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং তুরস্কের পে সংস্কৃতি ও পর্যটন বিষয়কমন্ত্রী মেহমেত নুরী এরসয় স্বার করেন। তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আল্লামা সিদ্দিকী এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মনোয়ার আহমেদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ তুরস্ক যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের প্রথম দিনের বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, আইসিটি, জাহাজ নির্মাণ, নৌ পরিবহন, কৃষি, শিা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে তুরস্কের বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
এদিকে ব্যবসাবাণিজ্য পরিচালনায় বাংলাদেশে কার্যালয় স্থাপন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে তুরস্ক। বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। ২১ নভেম্বর তুরস্কের আঙ্কারায় দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত ওকতায়কে এ আশ্বাস দেন তিনি। বৈঠকে তাদের মধ্যে দ্বিপীয় ব্যবসাবাণিজ্য সম্পর্কে আলোচনা হয়।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তুরস্ক যেহেতু অত্যন্ত সফল, তাই এই দুটি খাতে বাংলাদেশকে সহায়তা প্রদানের ল্েয প্রকল্প প্রেরণের অনুরোধ ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী।
কারিগরি সহায়তা, উৎপাদিত দ্রব্য প্রক্রিয়াজাত এবং অবকাঠামো তৈরির মতো বিভিন্ন খাতে জাপানের জাইকা ও জেত্রো, কোরিয়ার কোইকার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন দেশে তাদের কার্যালয় স্থাপন করে নিজেদের উৎপাদিত দ্রব্য বাজারজাত করে আসছে।
তুরস্কও বাংলাদেশে তাদের কার্যালয় স্থাপন করে কর্মপরিচালনা করতে আগ্রহী জানিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, এ ধরনের কার্যালয় স্থাপন করে কর্মপরিচালনা করলে বাণিজ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবেই অনেক গুণ বেড়ে যাবে। বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন অর্থমন্ত্রী।