প্রতিবেদন

২০২০ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০ অর্থনীতির দেশের তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকবে বাংলাদেশ -ইকোনমিস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী ২০২০ সালে ‘বিশ্বের দ্রুততম উদীয়মান শীর্ষ ১০ অর্থনীতির দেশ’ তালিকায় বাংলাদেশ তৃতীয় স্থানে থাকবে বলে জানিয়েছে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সাপ্তাহিক ইকোনমিস্ট।
সম্প্রতি সাপ্তাহিকীটির ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ইন ২০২০’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেবল দণি আমেরিকার ছোট্ট দেশ গায়ানাকে বাদ দিলে এই শীর্ষ উদীয়মান ১০ দেশের সবই আফ্রিকা ও এশিয়ার। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা কিংবা অস্ট্রেলিয়ার কোনো দেশ এই তালিকায় ঠাঁই পায়নি।
ইকোনমিস্টের হিসাবে ২০২০ সালের বিশ্বের দ্রুততম উদীয়মান শীর্ষ ১০ অর্থনীতির দেশগুলো হলো গায়ানা, সিরিয়া, বাংলাদেশ, রুয়ান্ডা, ইথিওপিয়া, ভুটান, মিয়ানমার, নেপাল, আইভরিকোস্ট ও ভারত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে জ্বালানি তেল পাওয়া দেশ গায়ানা, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়া, তৃতীয় সর্বোচ্চ ৭.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বাংলাদেশ। এছাড়া আফ্রিকান দেশ রুয়ান্ডার প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৭.৫ শতাংশ, ইথিওপিয়ার ৭.৪ শতাংশ, ভুটানের ৭.৩ শতাংশ, মিয়ানমারের ৭ শতাংশ, নেপালের ৬.৯ শতাংশ, আইভরিকোস্টের ৬.৮ শতাংশ এবং ভারতের ৬.৭ শতাংশ।
প্রতিবেদনে এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে বাংলাদেশের উঠে আসা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ২০০৪ সালের পর বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে।
২০২০ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৭.৭ শতাংশ। মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ২ হাজার ৮০ মার্কিন ডলার। মূল্যস্ফীতি ৫.১ শতাংশের মধ্যে অবস্থান করবে। বাজেট ঘাটতিও নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই জিডিপির ৪.৭ শতাংশে থাকবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবকাঠামো পদ্মাসেতু প্রকল্পের কাজ ২০২০ সালে সম্পন্ন হবে। দেশটির স্বপ্নের এই সেতু ২০২১ সালে খুলে দেয়া হবে; যা দেশটির উত্তর ও দণি-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে আরও বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার তৃতীয় দফায় সরকার পরিচালনা করছে। সরকারের মূলধনী প্রকল্পে বিনিয়োগের কারণে বাজেট ঘাটতি বাড়বে। কারণ যেভাবে সরকারের উন্নয়ন ব্যয় বাড়ছে সে তুলনায় রাজস্ব আয় বাড়ছে না। একইভাবে দেশটির মুদ্রানীতিও শিথিল থাকবে। অন্য উদীয়মান বাজারগুলোর মতো আয় বৃদ্ধি না পেলেও কাছাকাছি থাকবে।
অপরদিকে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) এক ব্লগ পোস্টে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে নিবন্ধে মন্তব্য করা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন সুসময় পার করছে। লাফিয়ে লাফিয়ে এগোচ্ছে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা। এটি অব্যাহত থাকলে ২০২০ সালে বাংলাদেশের মোট জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৮ শতাংশ। তখন দণি এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধির দেশ হবে বাংলাদেশ।
নিবন্ধে বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের সময় দেশটি অত্যন্ত দরিদ্র ছিল। কিন্তু এখন সেই দেশের গড় প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশ। বাংলাদেশের এই অর্জন বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে, ২০২৪ সালে পুরোপুরি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।
এর মানে বাংলাদেশের মোট জাতীয় আয় যেমন বেড়েছে, তেমনি সমতা বেড়েছে মানবসম্পদ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলার। এখন প্রতিবেশী ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানের চেয়ে দ্রুত গতিতে বাড়ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। ২০২০ সালে দণি এশিয়ায় অর্থনৈতিক েেত্র ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে থাকবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়। এেেত্র ৭.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ভারত দ্বিতীয়, ৬.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে মালদ্বীপ ও নেপাল যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকবে। আর ২.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে সবার নিচে থাকবে পাকিস্তান।
এদিকে অর্থনীতির েেত্র বাংলাদেশকে আরেক সুসংবাদ দিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে প্রকাশিত বৈশ্বিক সংযোগসূচক (জিসিআই)। এতে ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর মধ্যে ‘টপ মুভার’ হিসেবে শীর্ষ চারে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। তালিকায় বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে শুধু ইউক্রেন, দণি আফ্রিকা ও আলজেরিয়া।
হুয়াওয়ে জানিয়েছে, ২০১৫ থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিশ্বের অগ্রগতি মূল্যায়ন করে এ সূচক প্রকাশ করা হয়েছে। এতে আলোচনা করা হয়েছে ৭৯টি দেশের ৮৪ শতাংশ জনসংখ্যা এবং বিশ্ব প্রবৃদ্ধির ৯৫ শতাংশ নিয়ে।