প্রতিবেদন

২০২১ সালে ব্যবসা পরিচালনা সূচকে ডাবল ডিজিটে পৌঁছাবে বাংলাদেশ: ডিসিসিআই সেমিনারে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ নভেম্বর রাজধানীর সিক্স সিজন হোটেলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সমতা: চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ’ প্রেতি শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনার বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকারের গৃহীত কর্মকা- যথাসময়ে বাস্তবায়ন সম্ভব হলে ২০২১ সালে বাংলাদেশ ব্যবসা পরিচালনা সূচকে ২ অংকের ঘর অর্থাৎ ডাবল ডিজিটে পৌঁছাবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি খাতে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিতে হবে।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণের সহজলভ্যতা এখনও একটি চ্যালেঞ্জ, এেেত্র দীর্ঘ মেয়াদি অর্থায়নের জন্য ব্যাংকের বিকল্প হিসেবে পুঁজিবাজারে বন্ড মার্কেট স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার পাশাপাশি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানবসম্পদের দতা উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।
সালমান এফ রহমান নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশ ব্যবসা পরিচালনা সূচকে ডাবল ডিজিটে পৌঁছাবে।
সেমিনারে বিজিএমইএ-র সভাপতি ড. রুবানা হক, এটুআই প্রকল্পের পলিসি অ্যাডভাইজর আনির চৌধুরী এবং প্রাণ-আরএফএলের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সানেম-এর নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান।
বক্তারা বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ব্যবসাবাণিজ্য সংক্রান্ত নীতিমালা সংস্কারের বেশকিছু পদপে গ্রহণ করেছে এবং সরকার কর্তৃক গৃহীত উদ্যোগগুলো সাধারণ জনগণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিম-লে পৌঁছানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ করে চলেছেন। তিনি যে দেশেই সফরে যাচ্ছে, সেখানকার ব্যবসায়ীদের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছেন। বাংলাদেশে বিনিয়োগ কেন নিরাপদÑ সে বিষয়েরও ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।
বক্তারা বলেন, এই কাজ শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একার নয়, এটি দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়েরও কাজ। দেশের একজন ব্যবসায়ী ব্যবসাবাণিজ্য সংক্রান্ত নীতিগুলো বিদেশি ব্যবসায়ীদের কাছে উপস্থাপন করে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসতে পারেন।
মূল প্রবন্ধে ড. সেলিম রায়হান বলেন, বাংলাদেশ বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে পিছিয়ে পড়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে জিডিপিতে রপ্তানি, প্রবাসী আয় ও বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ বেশ কমেছে।
তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিতকরণে ব্যবসাবাণিজ্য বিষয়ক নীতিমালা দ্রুত সংস্কার ও কার্যকরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে দ্রুততার সঙ্গে মেগা প্রকল্পসমূহের কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও মানবসম্পদের দতা উন্নয়নে ওপর আরও বেশি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, বৃহৎ পরিমাণে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের েেত্র রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহ মূল নির্ণায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে।
রুবানা হক সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দ্রুত বাস্তবায়নের ল্েয সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থাসমূহের আন্তঃসমন্বয় আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, পোশাক খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে উদ্ভাবন, গবেষণা ও উন্নয়নের ওপর জোর দিতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য পোশাক খাত ছাড়াও অন্যান্য রপ্তানি খাতের পণ্যের বহুমুখীকরণ ও বাজার সম্প্রসারণে কাজ করতে হবে।
এটুআই প্রকল্পের পলিসি অ্যাডভাইজর আনির চৌধুরী দ মানবসম্পদ উন্নয়নে আমাদের বিদ্যমান শিাব্যবস্থার আধুনিকায়নের প্রস্তাব করেন, যার মাধ্যমে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধা গ্রহণ করা সম্ভব। তিনি জানান, সরকার দ মানবসম্পদ তৈরির ল্েয শিতি যুবকদের আইওটির (ইন্টারনেট অফ থিংকস) ওপর প্রশিণ প্রদান করছে।
সেমিনারে প্রাণ-আরএফএলের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী বলেন, প্রতিটি শিল্প খাতের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সমতা বৃদ্ধিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বন্দরসমূহের আধুনিকায়ন ও প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণের ওপর জোর দেন।
স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ওসামা তাসীর বেসরকারি খাতকে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি উল্লেখ করে বলেন, দেশের সমতার ওপর বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো বিষয়সমূহ অনেকাংশে নির্ভর করে। গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেস রিপোর্ট-২০১৯ সূচক অনুযায়ী পৃথিবীর ১৪১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৫তম, যেখানে সিঙ্গাপুর প্রথম স্থানে রয়েছে এবং সম্প্রতি প্রকাশিত ডুইং বিজনেস ইনডেক্স অনুসারে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৮তম।
অবকাঠামো খাতে সরকার গৃহীত ফাস্ট ট্র্যাকের প্রকল্পসমূহের কাজ সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের সমতা বাড়বে। তবে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ন, বেকারত্ব ও অদতা, বাণিজ্যিক নীতিমালা সংস্কারের ধীরগতি, জলবায়ু পরিবর্তন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুবিধা গ্রহণের অপারগতা সর্বোপরি শিল্প খাতের অবকাঠামো স্বল্পতার ফলে আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাংলাদেশ প্রবল প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয়েছে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার নিজেদের অবস্থান উন্নয়নে আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং এেেত্র ডুইং বিজনেস ইনডেক্স ও কম্পিটিটেভনেস ইনডেক্সে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ যদি প্রতিযোগিতাসমতায় দৃশ্যমান উন্নতি করতে পারে, তাহলে আমাদের ব্যবসাবাণিজ্য বিশেষ করে চামড়া, প্লাস্টিক পণ্য, সিরামিক, ফার্নিচার, পাট, ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আরও বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারবে।