প্রতিবেদন

‘জোনাস ঢাকী-মালেক চক্রের কমিশন বাণিজ্যে কাল্ব রিসোর্ট অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নির্মাণে ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রতিবাদ

সাপ্তাহিক স্বদেশ খবর পত্রিকার ১৮ নভেম্বর-২০১৯, সোমবার, বর্ষ-১৮, সংখ্যা ২২, পৃষ্ঠা-১২ ও ১৩ তে প্রকাশিত ‘জোনাস ঢাকী-মালেক চক্রের কমিশন বানিজ্যে কালব রিসোর্ট অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নির্মাণে ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ’ শীর্ষক প্রতিবেদনটির প্রতিবাদ জানিয়েছে কালব কর্তৃপক্ষ।
প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিগত কমিটির দুর্নীতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কালব-এর বক্তব্য হলো, তাদের দুর্নীতির বিষয়ে প্রমাণসাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং তা আদালতে চলমান রয়েছে। বর্র্তমানে বিষয়টি আদালতের ফায়সালার ওপর নির্ভর করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘পূর্বের বোর্ডের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বর্তমান বোর্ডও বিনিয়োগ করেছে। বিনিময়ে চেয়ারম্যান জোনাস ঢাকী, সেক্রেটারি এমদাদ হোসেন মালেক ও অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার ফিরোজ আলম কমিশন পেয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।’ এ প্রসঙ্গে কালব-এর বক্তব্য খুবই স্পষ্ট, তা হলো- ওই প্রকল্পে নতুন বিনিয়োগের বিষয়টি কালব-এর ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই নেয়া হয়েছে, কারো একক সিদ্ধান্তে নয়। প্রকল্পের নির্মাণ ও সংস্কার কাজের জন্য বিভিন্ন উপকমিটি রয়েছে এবং উপকমিটির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতেই সকল কাজকর্ম পরিচালিত হচ্ছে। এসব উপকমিটি কালব বোর্ড সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন ক্রেডিট ইউনিয়নের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত। এক্ষেত্রে চেয়ারম্যান, সেক্রেটারি বা হিসাব বিভাগের কোনো ব্যক্তির একক হস্তক্ষেপের বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। এখানে কমিশন খাওয়ার যে বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অবাস্তব এবং কারো দ্বারা প্রদানকৃত বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে বলে আমাদের বিশ^াস। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কুচিলাবাড়ি ভবন নির্মাণে আরো বিনিয়োগের বিষয়ে বোর্ড সভায় ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও কয়েকজন বোর্ড সদস্য বিরোধিতা করলেও ঢাকী-মালেক তার তোয়াক্কা করেননি।’
কালব-এর বক্তব্য হলো, কালব ব্যবস্থাপনা কমিটিতে চেয়ারম্যান সেক্রেটারিসহ মোট সদস্য সংখ্যা ১২ জন। বোর্ড সভায় যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে এই ১২ জনের মধ্যে দু’একজন ভিন্নমত পোষণ করতেই পারেন এবং সেটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের ঐকমত্যই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে গণ্য হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। কুচিলাবাড়ী প্রকল্পের কাজের টেন্ডারসহ যে সকল বিষয় এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে তার সকল ক্ষেত্রেই সমবায় আইন ও বিধিমালা এবং কালব-এর নিজস্ব উপ-আইনের ভিত্তিতেই সম্পন্ন করা হয়েছে। কোথাও কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।
দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগ অব বাংলাদেশ লিমিটেড (কালব) বাংলাদেশে ক্রেডিট ইউনিয়নসমূহের জাতীয় পর্যায়ের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান। বিশ^জুড়ে ১০৯টি দেশে সমবায়ভিত্তিক ক্রেডিট ইউনিয়ন আর্থিক ব্যবস্থাপনা চালু রয়েছে। কালব জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি কেন্দ্রীয় সমবায় প্রতিষ্ঠান। কালব-এর পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় নেপালে গড়ে উঠেছে ক্রেডিট ইউনিয়নের বিশাল কর্মযজ্ঞ। এশিয়া মহাদেশের ১৮টি দেশের ক্রেডিট ইউনিয়নের র‌্যাংকিংয়ে বর্তমানে কালব তথা বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। এই অসাধারণ সাফল্য অর্জনে কালব-এর বর্তমান পরিচালনা কমিটির নিরলস প্রচেষ্টা ও অবদান অনস্বীকার্য।
৩ বছর আগে কালব-এর বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটি দায়িত্ব গ্রহণকালে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে ওঠা কালব-এর সদস্যভুক্ত ক্রেডিট ইউনিয়ন সমিতির সংখ্যা ছিল (জুন-২০১৬) ৮৫৮টি আর বর্তমানে কালব-এর সদস্য ক্রেডিট ইউনিয়নের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৪৬টি। সে সময়ে কালব-এর মূলধন ছিল (জুন-২০১৬) ৭০৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। বর্তমানে মূলধন বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে (জুন-২০১৯) ৮৬৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সুতরাং কালব ধংসের পথে নয় বরং বর্তমান কমিটির নেতৃত্বে অগ্রগতির পথেই এগিয়ে চলেছে। সদস্যদের কাছেও বর্তমান কমিটি আস্থা সংকটে নয় বরং দৃঢ়ভাবে আস্থাশীল।
স্বদেশ খবর পত্রিকায় প্রকাশিত অসত্য ও মানহানিকর এ প্রতিবেদনটির আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

প্রতিবেদকের বক্তব্য
যথার্থ অনুসন্ধান, যাচাই-বাছাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিয়ে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে। সংবাদের বিপরীতে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণও রয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পূর্বে অভিযুক্ত মালেক-ঢাকীর বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করলেও তারা সংবাদপত্রের সাথে কথা বলতে রাজি হননি। অথচ সংবাদ প্রকাশের পর তথ্য প্রমাণভিত্তিক সংবাদকে মিথ্যা আখ্যায়িত করে নিন্দা জানানো স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি হুমকি প্রদানের সামিল।
তাছাড়া, এ পত্রিকায় কালব সম্বন্ধে পূর্বে কোনো প্রতিবেদন ছাপা হয়নি। কিন্তু প্রতিবাদে উল্লেখ করা হয়েছে পূর্বেও প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা বক্তব্য।
অন্য দিকে দুর্নীতিতে আপাদমস্তক নিমজ্জিত একটি প্রতিষ্ঠানে সাধারণ কর্মচারী কর্তৃক সাংবাদিকতার নীতিমালা শেখানোর চেষ্টা চরম ধৃষ্টতা। আবার একজন সিনিয়র প্রতিবেদকের প্রতি ‘অজ্ঞতা’ বিশেষণ ব্যবহার আপত্তিজনক ও মানহানিকর।
প্রতিবেদন তৈরির বিপরীতে সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক সম্পাদিত কালবের সকল অডিট রিপোর্ট ও কালবের ইন্টারনাল অডিট রিপোর্টের পূর্ণাঙ্গ কপি ও অন্যান্য ডকুমেন্টস পত্রিকা অফিসে সংরক্ষিত রয়েছে। যে কারণে সংবাদের কোনো অংশই মিথ্যা নয় বলে এ প্রতিবেদক চ্যালেঞ্জ করছেন।
কালব-এর কুচিলাবাড়ী রিসোর্ট অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নির্মাণ করা হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন নামে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলমকে দিয়ে। এই ঠিকাদার নিম্ন মানের কাজ করে মালেক-ঢাকী-ফিরোজকে ম্যানেজ করে বিল তুলে নিচ্ছে। ভবন বুঝে নেয়ার জন্য গঠিত কমিটি অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিল পরিশোধ না করার পরামর্শ দিলেও তা আমলে নেয়া হয়নি।
কালব-এর প্রতিবাদপত্রে ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলমের বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। অথচ ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলমের মাধ্যমেই ‘মালেক-ঢাকী-ফিরোজ’ চক্র সীমাহীন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে।
কালব তার বক্তব্যে বলেছে, কালব ব্যবস্থাপনা কমিটিতে চেয়ারম্যান সেক্রেটারিসহ মোট সদস্য সংখ্যা ১২ জন। বোর্ড সভায় যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে এই ১২ জনের মধ্যে দু’একজন ভিন্নমত পোষণ করতেই পারেন এবং সেটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের ঐকমত্যই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে গণ্য হয়ে থাকে।
স্বদেশ খবর-এর বক্তব্য হলো, ১২ জন বোর্ড সদস্যের মধ্যে দু’একজন ভিন্নমত পোষণ করেননি, বরং দু’একজনের (জোনাস ঢাকী-মালেক) ইচ্ছা অনুযায়ীই কালব-এর কুচিলাবাড়ী রিসোর্ট অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম হয় এবং অলাভজনক একটি প্রকল্পে নতুন করে ২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়।
কালব-এর বক্তব্যে বলা হয়, কুচিলাবাড়ী রিসোর্ট অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নির্মাণ প্রকল্পে নতুন বিনিয়োগের বিষয়টি কালব-এর ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই নেয়া হয়েছে, কারও একক সিদ্ধান্তে নয়। প্রকল্পের নির্মাণ ও সংস্কার কাজের জন্য বিভিন্ন উপ-কমিটি রয়েছে এবং উপ-কমিটির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতেই সকল কাজকর্ম পরিচালিত হচ্ছে। এসব উপ-কমিটি কালব বোর্ড সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন ক্রেডিট ইউনিয়নের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত। এক্ষেত্রে চেয়ারম্যান, সেক্রেটারি বা হিসাব বিভাগের কোনো ব্যক্তির একক হস্তক্ষেপের বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।
স্বদেশ খবর-এর বক্তব্য হলো, কালব-এর কোনো সিদ্ধান্তই সর্বসম্মতভাবে নেয়া হয় না। দু’এক জনের (ঢাকী-মালেক) সিদ্ধান্তেই নেয়া হয়। কালব-এ বিভিন্ন কমিটি, উপ-কমিটি আছে ঠিকই, তবে ঢাকী-মালেকের একচ্ছত্র কর্তৃত্বপনায় কমিটি, উপ-কমিটির কোনো সিদ্ধান্তই আলোর মুখ দেখতে পারে না।