প্রতিবেদন

রাজধানীর বায়ুদূষণ রোধে আদালতের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় বায়ুদূষণের কারণ ও করণীয় নিয়ে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করতে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকার যেসব ইটভাটা পরিবেশ দূষণ করছে সেগুলো ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিনের মধ্যে বন্ধ করারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ঢাকায় অব্যাহত বায়ুদূষণ নিয়ে করা একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৬ নভেম্বর এসব আদেশ দেয়।
জনস্বার্থে পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ সম্প্রতি এ সম্পূরক আবেদনটি করেন। এর আগে একই সংগঠনের এক রিট আবেদনে হাইকোর্ট গত জানুয়ারিতে বায়ুদূষণ রোধে অন্তর্বর্তীকালীন কিছু নির্দেশনা দিয়েছিল।
আদেশে বলা হয়েছে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে কমিটিতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের দুই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপ (বিআরটিএ) ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) চেয়ারম্যান এবং প্রয়োজনবোধে একজন পরিবেশ বিশেষজ্ঞকে রাখতে বলা হয়েছে। কমিটিতে ১ মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক, ফুটপাত, উড়াল সড়ক ও ওয়াকওভারের যেসব স্থানে ময়লা, ধুলো, কাদা, বর্জ্য ও আবর্জনা জমিয়ে রাখা হয়, প্রয়োজনে অতিরিক্ত লোক দিয়ে সেসব ৭ দিনে অপসারণ করতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে বলা হয়েছে।
আদালতে আবেদনের পে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের পে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক ইনাম। উত্তর সিটি করপোরেশনের পে ছিলেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা।
ঢাকায় বায়ুদূষণ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে প্রতিকার চেয়ে গত ২১ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন এইচআরপিবির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেয়। হাইকোর্টের ৩ দফা অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনায় ছিল, ঢাকা শহরে যাদের কারণে বায়ুদূষণ হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সপ্তাহে ২ দিন পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা, যেসব জায়গায় উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ চলছে এবং যেসব জায়গা থেকে ধুলোবালির উৎপত্তি হচ্ছে সেসব জায়গা ১৫ দিনের মধ্যে ঢেকে কাজ করার পদপে নেয়া এবং যেসব স্থানে ধুলোবালি সৃষ্টি হচ্ছে সেখানে আদেশের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সকাল ও বিকেলে দুই বেলা পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা। আদেশ যথাযথভাবে পালন না হওয়ায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সিইও এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ুমান ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালককে তলবের পাশাপাশি একাধিকবার উষ্মা প্রকাশ করেছিল হাইকোর্ট।

ঢাকার দূষণ রোধে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত
প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের চারপাশের সড়ক আগামী ১৭ ডিসেম্বর থেকে শব্দদূষণমুক্ত ঘোষণা করা হচ্ছে। ওই দিন থেকে সচিবালয়ের চারপাশকে ‘সাইলেন্ট জোন’ ঘোষণা করবে সরকার। এর আগে যানবাহনের চালকদের মধ্যে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মকা- পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে রাজধানীতে আবর্জনা পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সচিবালয়ে ২৫ নভেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, পরীামূলকভাবে আপাতত সচিবালয়ের আশপাশ শব্দদূষণমুক্ত করা হবে। পরবর্তী সময়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকাকে শব্দদূষণমুক্ত করা হবে।
মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, ঢাকা শহরের ৪০টি স্থানে রাতে বর্জ্য পোড়ানো হয়। এটা পরিবেশের জন্য মারাত্মক তিকর। বাতাস দূষিত হওয়ার অন্যতম কারণ এই বর্জ্য পোড়ানো।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঢাকা দণি ও উত্তর সিটি করপোরেশন এখন থেকে রাতের বেলায় আর বর্জ্য পোড়াতে পারবে না।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অবৈধভাবে পরিচালিত ইটভাটাগুলো বন্ধে অভিযান কার্যক্রম জোরালো করা হবে। ঢাকা দণি ও উত্তর সিটি করপোরেশন বর্তমানে রাস্তাঘাটে পানি ছিটিয়ে দায়িত্ব শেষ করে। এতে বায়ুদূষণ রোধ হয় না। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ঝরনার মতো ওপর থেকে পানি ঢালতে হবে। এ জন্য তারা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও কার্যক্রম গ্রহণ করবে। মেট্রো রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের েেত্র সকাল-বিকাল পানি ছিটাতে হবে। দুই সিটি করপোরেশন এখন থেকে আর রাতে ময়লা-আবর্জনা পোড়াবে না। ঢাকায় যেসব অবকাঠামো নির্মাণকাজ চলছে, সেখানে নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক।’
মন্ত্রী জানান, ১ মাস পর আবার বৈঠকে বসে সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর করা হচ্ছে কি না তা দেখা হবে। কার্যকর না হলে পরবর্তী করণীয় স্থির করা হবে।
পরিবেশমন্ত্রী আরো বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণ অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। বায়ুদূষণের দিক থেকে ঢাকা শহর এখন এক নম্বরে। এটা সংকটাপন্ন অবস্থা। আর বায়ুদূষণের পেছনে ৫৮ শতাংশই দায়ী ইটভাটা। নির্মাণকাজ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া ও আবর্জনা পোড়ানো দূষণের অন্যতম কারণ। এখন থেকে কার্যকর পদপে না নিলে ভবিষ্যতে সরকারের যেকোনো উন্নয়ন কর্মকা- ম্লান হয়ে যাবে। তবে বায়ুদূষণের বিষয়ে মানুষের সচেতনতাও জরুরি।

বায়ুদূষণে ঢাকার অবস্থান
প্রতি বছর আন্তর্জাতিক গবেষণায় বায়ুদূষণের তালিকায় ঢাকার নাম বরাবর উপরের তালিকায় স্থান পাচ্ছে। প্রতিকারে আজ পর্যন্ত যথাযথ কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ঘরের মধ্যে থেকেও বায়ুদূষণের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি তির মুখে পড়ছেন।
বায়ুদূষণ পর্যবেণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা এয়ার ভিজ্যুয়ালের রিপোর্ট অনুযায়ী ২৪ নভেম্বর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর ছিল ঢাকা। সংস্থাটি বিশ্বের ৯১ বড় শহরের বায়ুদূষণের মাত্রা পর্যবেণ করে থাকে। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী নভেম্বরে মাসে আরও অন্তত ৮ দিন কোন কোন সময় ঢাকা ছিল বিশ্বের সর্বোচ্চ বায়ুদূষণের শহর।
গবেষণায় উঠে এসেছে, মাত্রাতিরিক্ত ইটভাটা, যানবাহন, নির্মাণকাজ ও কলকারখানার ধোঁয়ার কারণে ঢাকা শহরের প্রায় দেড় কোটি মানুষ এক অবিশ^াস্য বিষাক্ত গ্যাসের মাঝে বাস করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ধুলোবালি। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা-র এক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা গত ১০ বছরে ৮৬ শতাংশ বেড়েছে। জনসংখ্যা দিয়ে বায়ুদূষণ বিবেচনা করলে পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত বায়ুর দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ঢাকার বায়ুদূষণ মাত্রা কত এবং বায়ুদূষণ মাত্রা কমানোর জন্য কী কী পদপে নেয়া হবে তা জরুরি ভিত্তিতে নির্ণয় করে সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্প্রতি মানুষের সবচেয়ে বেশি মোকাবিলা করতে হচ্ছে বায়ুদূষণকে। বায়ুদূষণের প্রভাব মানবদেহে প্রত্যভাবে পড়ছে। বিষাক্ত বাতাস ফুসফুসে ঢুকে প্রতিনিয়ত তিগ্রস্ত হচ্ছে মানুষ। নীরব ঘাতক হয়ে প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।
ঢাকার সড়ক ও ঘরের ভেতরের বায়ুদূষণ নিয়ে সম্প্রতি পরিচালিত দুটি গবেষণায় দেখা গেছে এর ফলে দেশের শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কেন্দ্র ও যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের রসায়ন বিভাগ পরিচালিত যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে ঢাকার রাস্তায় ধুলায় উচ্চমাত্রার সিসা, ক্যাডমিয়াম, দস্তা, ক্রোমিয়াম, নিকেল, আর্সেনিক, ম্যাঙ্গানিজ ও কপারের উপস্থিতি রয়েছে।
অপর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, রাজধানীতে সিসাদূষণের শিকার ৬ লাখ মানুষ। ঢাকার পরই নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর। এই বায়ু দূষণের কারণে মানুষের শ্বাসজনিত সমস্যা, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ক্যান্সারসহ জটিল রোগ দেখা দিচ্ছে। বেশি তির শিকার হচ্ছে শিশুরা।
অ্যানভায়রনমেন্ট চ্যারিটি গ্লোবাল অ্যাকশন প্ল্যানের গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যস্ত রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় বড়দের তুলনায় ৩০ ভাগ বেশি বিষাক্ত বাতাস নিচ্ছে শিশুরা।
এই গবেষণায় বলা হয়েছে, বাতাসের সবচেয়ে নিচের স্তরের মাটির কাছাকাছি থাকে বিষাক্ত ধোঁয়াশা। উচ্চতা কম হওয়ায় এ বিষাক্ত ধোঁয়াশা নিশ্বাসের সঙ্গে বেশি নিচ্ছে শিশুরা। বায়ুদূষণে স্নায়ুবিক তিসহ সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে এই শিশুরাই। এছাড়া গর্ভবতী মা ও গর্ভের শিশুরা ঝুঁকিতে
পড়ছে।
এ বছরই যুক্তরাষ্ট্রের হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট ও ইনস্টিটিউট ফর হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যলুয়েশনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বের ১০টি দেশের মধ্যে বায়ুদূষণে মৃত্যুর সংখ্যায় পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এই রিপোর্টে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুহারের জন্য পঞ্চম ঝুঁকির কারণ হিসেবে বায়ুদূষণকেই দায়ী করা হয়েছে। এই প্রতিবেদন অনুযায়ী বায়ূদূষণ বিশ্বব্যাপী ৫ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর কারণ। এতে দণি এশিয়াকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়েছে, উন্নত দেশের তুলনায় উন্নয়নশীল দেশগুলো ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি দূষণের শিকার হচ্ছে। বায়ুদূষণ বিশ্বব্যাপী গড় আয়ু ১ বছর থেকে ৮ মাস কমিয়ে ফেলে।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংখ্যার প্রতিবেদন বলছে, বায়ুদূষণের কারণে শতকরা ২১ ভাগ নিউমোনিয়া, ২০ ভাগ স্ট্রোক ৩৪ ভাগ হৃদরোগ এবং ৭ ভাগ ফুসফুস ক্যান্সারে মারা যাচ্ছে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালের (মহাখালীতে অবস্থিত ক্যান্সার হাসপাতাল) তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে ২০১৮ সালে ক্যান্সারে মারা যায় ২৬৯ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে, যার সংখ্যা ৫৪।
কিন এয়ার অ্যান্ড সাসটেইনেবল এনভায়রনমেন্ট প্রকল্পের আওতায় চালানো একটি সমীায় দেখা গেছে ইটভাটা এর জন্য দায়ী শতকরা ৫৮ ভাগ, যান্ত্রিক যানবাহন ১০.৪০ ভাগ, রাস্তার ধুলা ৭.৩৭ ভাগ। এছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় অপরিকল্পিতভাবে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও ড্রেনেজ, রাস্তাঘাট, উন্নয়ন, মেরামত এবং সংস্কার কার্যক্রমের নামে রাস্তাঘাট খোড়াখুড়ির কারণে বায়ুতে পার্টিকেল ম্যাটার মিশ্রিত হয়ে যাচ্ছে। ড্রেন পরিষ্কারের পর বর্জ্যসমূহ রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা হয় যা দূষণের বড় কারণ। এছাড়াও কলকারখানার পোড়ানো নির্গত গ্যাসের মাধ্যমে বায়ুতে সিসার পরিমাণ বাড়ছে।
স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগ ও ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে রাজধানীর ১২ স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেখা গেছে, বায়ুতে আদর্শ মানমাত্রার চেয়ে দূষণের মাত্রা বহুগুণে বেশি। প্রতিষ্ঠানটি ধামরাই, সাভার ও কেরানীগঞ্জের ইটভাটার মাধ্যমে বায়ুদূষণের সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা করেছে। গত বছরের এ সংক্রান্ত গবেষণায় বলা হয়েছে, ওসব এলাকায় পার্টিকেল ম্যাটার বা বায়ুর সহনীয় মানমাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানমাত্রার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। সাধারণ পার্টিকেল ম্যাটার বা বস্তুকণার সহনীয় মানমাত্রা ধরা হয়ে থাকে ২.৫ পিপিএম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বস্তুকণাকে ১০ ও ২.৫ মাইক্রোমিটার ব্যাস শ্রেণিতে ভাগ করে তার পরিমাণের ভিত্তিতে ঝুঁকি নিরূপণ করা হয়ে থাকে। বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে ২.৫ মাইক্রোমিটার ব্যাসের বস্তুকণার পরিমাণ (পিপিএম) যদি শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকে, তাহলে ওই বাতাসকে বায়ু মানের সূচকে (একিউআই) ‘ভালো’ বলা যায়। এই মাত্রা ৫১-১০০ হলে বাতাসকে ‘মধ্যম’ মানের এবং ১০১-১৫০ হলে ‘বিপদসীমায়’ আছে বলে ধরে নেয়া হয়। আর পিপিএম ১৫১-২০০ হলে বাতাসকে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১-৩০০ হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-৫০০ হলে ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়।
দেশের সিটি করপোরেশন এলাকার ১১টি স্থানের বাতাসে ২.৫ মাইক্রোমিটার ব্যাস পর্যন্ত অতি ুদ্র বস্তুকণার পরিমাণ নিয়মিত পরিমাপ করা হচ্ছে সিএএসই প্রকল্পের মাধ্যমে। পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, নভেম্বর মাসের শুরুতেই ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ মাত্রায় পৌঁছে যায়। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আসার আগে প্রতিদিনই বাতাসে ভাসমান বস্তুকণার পরিমাণ ছিল ১৫০ পিপিএমের উপরে। গত সপ্তাহে ঢাকার কোনো কোনো এলাকায় এর মাত্রা ২৩৩ পিপিএম পর্যন্ত উঠে যাওয়ার রেকর্ড পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে উন্নয়ন কর্মকা- বেড়ে যাওয়ার ফলে নতুন নতুন দূষণের আবির্ভাব ঘটছে। এসব দূষণরোধে সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। দূষণকারী সেক্টরগুলোতে কার্যক্রম চালাতে হবে। বিশ্বের যেসব দেশ উন্নতির শিখরে গেছে তাদের ইতিহাস ঘেঁটে দেখা গেছে, তারা দূষণের পথ পেরিয়েই উন্নতি লাভ করেছেন। সময় এসেছে বায়ুদূষণরোধে কার্যকর পদপে নেয়ার। দেশের অধিকাংশ মানুষ জানে না বায়ুদূষণের পরিমাণ কত। এটা মানুষকে জানিয়ে সচেতন করাটাও জরুরি হয়ে পড়েছে।