প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রতিবেদন

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে শতভাগ ডিজিটালাইজেশনের পথে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ

মেজবাহউদ্দিন সাকিল
ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তার আলোকে যে প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ ডিজিটালাইজেশনের পথে এগিয়ে চলেছে, তার নাম জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। এর পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে, তা বাস্তবায়নেও আশানুরূপ সাফল্য দেখাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের সমর্থন ও সহযোগিতা এবং সংস্থার চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলামের সক্রিয় তৎপরতার কারণে শতভাগ ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির সফল বাস্তবায়নে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকা-ে গতিশীলতা এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো. রাশিদুল ইসলামের দক্ষ নেতৃত্বে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমে একদিকে এসেছে গতি এবং সম্মানিত সেবাপ্রত্যাশীগণ দ্রুত সেবা গ্রহণ করছেন; অন্যদিকে কমে এসেছে দুর্র্নীতি।
বছরের পর বছর ধরে অ্যানালগ পদ্ধতিতে কাজ করার কারণে সেবাগ্রহীতাদের ধাপে ধাপে যে সময়ক্ষেপণ হতো, সামান্য কাজে এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ঘুরতে হতো, সেই সময়ক্ষেপণ ও হয়রানি থেকে গ্রাহকদের মুক্তি দিতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সব সেবা একটি সফটওয়্যারের আওতায় অর্থাৎ ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিসে’ নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম। এই সফটওয়্যারের আওতায় চলে আসবে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সব প্রকল্প ও আঞ্চলিক কার্যালয়। এক সফটওয়্যারের মাধ্যমেই মনিটর করা যাবে সব প্রকল্প ও কার্যালয়ের সার্বিক কর্মকা-।
ইতোমধ্যে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে কর্মরত সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতনভাতা, ছুটি, পেনশন পরিশোধে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) প্রবর্তন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির সাফল্যের পর জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সকল কার্যক্রম একটি সফটওয়্যারের আওতায় নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠানটিকে পুরোপুরি ডিজিটালাইজড করার কাজ শুরু হয়েছে। সেবা কার্যক্রম প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সকল কাজে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে ইএফটির পর শতভাগ ডিজিটালাইজেশনের কাজ শুরু হয়েছে বলে স্বদেশ খবরকে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম।
তিনি জানান, বছরাধিককাল আগে তিনি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে দেখতে পান, এখানকার সব কার্যক্রমই মান্ধাতার আমলের রেজিস্টারের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। সরকারঘোষিত ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ার কোনো নাম-নিশানাই নেই। গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কোন প্রকল্পের গ্রাহকসংখ্যা কত জন, সেই গ্রাহকরা কতটি কিস্তি জমা দিয়েছেন; কতটি বাকি আছে, কিস্তির মাধ্যমে প্রাপ্য অর্থ কোন খাতে জমা হচ্ছে, বিভিন্ন ব্যাংকে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক জমাকৃত এফডিআরের পরিমাণ কতো, কোন সালে কোন ব্যাংকে কত এফডিআর জমা হয়েছে Ñ এমন ছোট-বড় সব হিসাবের জন্যই ঢাউস সাইজের জাবেদা ও খতিয়ান বই সংরক্ষণ করা হচ্ছে। একজন গ্রাহক এসে যদি জানতে চান, প্লট বা ফ্যাটের দলিল পুরোপুরি বুঝে পেতে তাকে আর কয়টি কিস্তি প্রদান করতে হবে Ñ এমন ছোট একটি তথ্য পেতেও ওই গ্রাহককে তিন-চার জায়গায় ছুটতে হয়। তথ্য খোঁজার যন্ত্রণা এড়ানোর জন্য প্রায়ই ওই গ্রাহককে শুনতে হয় ‘অমুক স্যারের কাছে যান’ অথবা ‘আগামী সপ্তাহে আসুন’ ইত্যাদি।
অথচ এসব তথ্য যদি কম্পিউটারাইজড সংরক্ষিত হতো, তাহলে ওই কর্মকর্তা বা কর্মচারী একটি কিকের মাধ্যমেই গ্রাহককে জানিয়ে দিতে পারতেন, তিনি কয়টি কিস্তি জমা দিয়েছেন, কয়টি কিস্তি বকেয়া রয়েছে এবং কয়টি কিস্তি বকেয়া হলে জরিমানাসহ জমা দেয়ার শেষ তারিখ তিনি ঘরে বসেই জানতে পারবেন। এমনকি এক্ষেত্রে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের করণীয়ও নির্ধারণ করা যাবে অতি সহজেই।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম স্বদেশ খবরকে জানান, গ্রাহকরা তো বটেই, এমনকি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে কোনো প্রকল্পের একটি তথ্য পেতে তাঁকেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। প্রায় সময়ই শুনতে হয়, ‘নথি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না’। ডিজিটাল এ যুগে যেখানে একটি তথ্য পেতে ১০ সেকেন্ডের বেশি লাগার কথা নয়, সেখানে ১ ঘণ্টায়ও তথ্যটি না পেয়ে তিনি শঙ্কিত হন, ‘গ্রাহকরা না জানি কত হয়রানির সম্মুখীন হন’।
সমস্যা উপলব্ধি করে সংস্থার চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের সাথে পরামর্শ করেন এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে কেরানিনির্ভর প্রতিষ্ঠান থেকে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে অর্থাৎ শতভাগ ডিজিটালাইজড করার সিদ্ধান্ত নেন। এরই অংশ হিসেবে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে কর্মরত সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতনভাতা, ছুটি, পেনশন পরিশোধে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন, যা চলতি বছরের অক্টোবর মাসে কার্যকর হয়। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নভেম্বর-২০১৯ মাসের বেতন-ভাতাও পেয়েছেন ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার পদ্ধতিতে।

ইএফটি’র আওতায়
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ
জানা গেছে, সরকারের অর্থ বিভাগ চাইছে আগামী ৬ মাসের মধ্যে স্বায়ত্তশাসিত সকল প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতি চালু করতে। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষসহ ৪টি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ইএফটি চালুকরণে পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো এ পাইলটিংয়ে ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। সফল হয় কেবল জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। এ পদ্ধতিতে সংস্থার ৩২১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অক্টোবর মাসের পাওনাদি ৭ নভেম্বর পরিশোধ করা হয় মাত্র ৩০ সেকেন্ডে।
উল্লেখ্য, গত ৭ নভেম্বর জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কনফারেন্স রুমে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) কার্যক্রম উদ্বোধনকালে সংস্থার চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম ঘোষণা দেন, এই প্রক্রিয়ায় এখন থেকে এ প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অবসরে গেলে তিনি একদিনের ব্যবধানেই পেয়ে যাবেন তার অবসরভাতা (পেনশন)।
উক্ত অনুষ্ঠানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের (বাজেট-১) অতিরিক্ত সচিব ও সরকারি ব্যয়ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ কর্মসূচির পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের প্রশংসা করে বলেন, ২০১৮ সালের অক্টোবরে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার পদ্ধতি চালু করতে চিঠি দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট অনুবিভাগ। এরপর প্রথম স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ইএফটি পদ্ধতি চালু করতে সক্ষম হলো। বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডসহ আরও ৪টি প্রতিষ্ঠান এ কার্যক্রম শুরু করলেও তারা এখন পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি।
হাবিবুর রহমান আরও বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের কর্মদক্ষ চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলামের নিরলস প্রচেষ্টায় অন্য সব প্রতিষ্ঠানের আগে ইএফটি চালু করা সম্ভব হয়েছে। এজন্য অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে আমি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানাই। আমি আজ আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এখন থেকে আর কেরানিনির্ভর প্রতিষ্ঠান নয়, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান।

শতভাগ ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আসছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও ইচ্ছায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপ আইন-২০০০ প্রণয়ন করে ২০০১ সালের ১৫ জুলাই ‘গৃহসংস্থান অধিদপ্তর’ বিলুপ্ত হয়ে ‘জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপরে বয়স এখন কমবেশি ১৯ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা এই প্রতিষ্ঠানে চেয়ারম্যান হয়ে এসেছেন। সর্বশেষ এসেছেন সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো. রাশিদুল ইসলাম।
তিনি গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপরে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দেখতে পান, ২০০৯ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ডিজিটালাইজড করার যে প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন, ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে তার কার্যকর প্রয়োগ করতে পারেনি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। এই সময়ে বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁরা অধিকাংশ কাজই ম্যানুয়ালি সম্পন্ন করেছেন। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর স্বপ্নপূরণের যাত্রা অনেকটা থমকে ছিল।
অবশ্য সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলছেন, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জাগৃকের চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব পালনের স্বল্প স্থায়িত্বকালও প্রতিষ্ঠানটিকে ডিজিটালাইজড হওয়া থেকে বঞ্চিত করে। উদাহরণ হিসেবে তারা স্বদেশ খবরকে বলেন, ১০-২-২০০৯ থেকে ২১-১০-২০১০ পর্যন্ত মাত্র ২০ মাসে জাগৃকে ৪ জন চেয়ারম্যান দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। ২১-১০-২০১০ থেকে ৪-৯-২০১৮ পর্যন্ত আরো ৫ জন জাগৃকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। মো. রাশিদুল ইসলাম ৪-৯-২০১৮ তারিখে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ২৪তম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১০-২-২০০৯ থেকে ৪-৯-২০১৮ পর্যন্ত সময়ে জাগৃকের চেয়ারম্যান হিসেবে ৯ জন সরকারি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরা প্রত্যেকে গড়ে সর্বোচ্চ ১ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এত কম সময় পাওয়ায় সঙ্গত কারণেই তাদের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকা-ের গভীরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা আরো বলছেন, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মতো একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকা-কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দানের জন্য শীর্ষ পদে দায়িত্বপালনকারী ব্যক্তির স্থায়িত্বকাল অন্যতম ভূমিকা রাখে। জাগৃকের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম ১ বছরের অধিককাল ধরে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন বলেই তাঁর পক্ষে এ প্রতিষ্ঠানটিতে ডিজিটালাইজেশনের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়েছে। তবে এ কাজ শেষ করতে হলে বর্তমান চেয়ারম্যানের কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। অবশ্য অতীতের মতো জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্বের স্থায়িত্বকাল স্বল্প হলে সঙ্গত কারণেই কাজের গতিশীলতায় ভাটা পড়বে।
সে যা-ই হোক, ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণের পর গত ১০ বছরে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন কার্যক্রমের তথ্য পেতে বর্তমান চেয়ারম্যানকে গলদঘর্ম হতে হয়। সব তথ্য ম্যানুয়ালি সংরক্ষিত হওয়ায় গ্রাহকের কাছ থেকে অভিযোগও আসছিল প্রচুর। গ্রাহকরা অভিযোগ করছিলেন, তারা প্লট বা ফ্যাট অথবা দোকানের কিস্তি জমা দিলেও তা অফিসিয়ালি জমা হয়নি। আবার অনেক গ্রাহক কৌশলে কিস্তি জমাদান থেকে বিরত রয়েছেন, যা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতনদের নজরেই আসেনি।
এমতাবস্থায়, সংস্থার বর্তমান চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম অনুধাবন করেন, গ্রাহকদের কিস্তি প্রদানের বিষয়টি যদি ডিজিটালি সংরক্ষিত হতো, তাহলে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান অতি সহজ ও দ্রুত হতো। কারণ ডিজিটালি কিস্তি জমা হলে একজন গ্রাহক কিস্তি জমা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা তার মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ আকারে চলে যেত। যেহেতু ডিজিটাল ব্যবস্থা বাস্তবায়ন হয়নি সেহেতু কেরানিদের ইচ্ছেমাফিক হয়ে পড়ে গ্রাহকের কিস্তি প্রদানের বিষয়টি। ফলে আর্থিক অনিয়মঘটিত অভিযোগের ভাগীদার হতে হয় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে।
এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম স্বদেশ খবরকে বলেন, গ্রাহকসেবা প্রাপ্তি সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে আগে একে ডিজিটালাইজড করতে হবে। সংস্থার সকল কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশনের আওতায় এলেই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা তার কম্পিউটার থেকে সব কার্যক্রম মনিটর করতে পারবেন। পাশাপাশি কেরানিদের ওপর নির্ভর না করে কম্পিউটারে কিক করে মুহূর্তেই জানতে পারবেন প্রয়োজনীয় সকল তথ্য। কারণ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে জাগৃক-এর সকল তথ্য। সেই লক্ষ্য ও পরিকল্পনামাফিক জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের আইটি ডিভাইস স্থাপনের কাজটি দ্রুত এগিয়ে চলছে।
জানা যায়, সরকার কর্তৃক জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নিকট ন্যস্ত বা কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন জমির রক্ষণাবেক্ষণ এবং ওই জমিতে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, ফ্যাট, ইমারত নির্মাণ এবং এগুলো বিক্রয় বা ইজারা প্রদান বা অন্যভাবে বিলি-বণ্টনের ব্যবস্থা করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। এসব কাজ করতে গিয়ে যেসব ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করতে হয়, তার সবই বর্তমানে ম্যানুয়ালি করে প্রতিষ্ঠানটি। মান্ধাতার আমলের পদ্ধতিতে কাজ করতে গিয়ে অনেক অসঙ্গতিই থেকে যায়। এসব অসঙ্গতি দূর করতে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সকল কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে সংস্থার বর্তমান এ উদ্যোগ।
এ প্রসঙ্গে জাগৃক চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম স্বদেশ খবরকে বলেন, ইএফটি’র মাধ্যমে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে ডিজিটালাইজেশনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, আশা করছি আগামী ৬ মাসের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম ডিজিটালাইজড হবে। এতে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কর্মসূচি যেমন বাস্তবায়িত হবে, তেমনি গ্রাহকসন্তুষ্টিও অর্জিত হবে প্রত্যাশিত পর্যায়ে।
তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ‘সকলের জন্য আবাসন/কেউ থাকবে না গৃহহীন’ Ñ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ল্েয জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপ নিরলসভাবে কাজ করছে ঠিকই, কিন্তু সিস্টেমের অভাবে সে কাজে গতি পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য আবাসিক প্লট উন্নয়ন, ফ্যাট নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছে ঠিকই, কিন্তু সে কাজও সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়ায় মান্ধাতার আমলের পদ্ধতিতে কাজ করার কারণে। মোট কথা, সরকারের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের এবং গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাজে গতি আনার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে শতভাগ ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনার কাজ শুরু হয়েছে।
জাগৃক চেয়ারম্যান বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এই কাজ সম্পন্ন করে ইএফটির মতো আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই যে, যাতে সবাই বলে, শতভাগ ডিজিটালাইজড হওয়া স্বায়ত্তশাসিত প্রথম প্রতিষ্ঠান হলো জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, দরিদ্রবান্ধব বর্তমান সরকারের অনুমোদিত জাতীয় গৃহায়ন নীতিমালা-২০১৬ তে মধ্যম ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বস্তিবাসীদের জন্যও সুপরিকল্পিত আবাসনের ল্েয জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপকে ম্যান্ডেট দেয়া হয়েছে। জাতীয় গৃহায়ন নীতিমালা-২০১৬এর যথাযথ বাস্তবায়ন, ‘টেকসই উন্নয়ন ল্যমাত্রা-১১’ অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপ নিম্ন মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত, দরিদ্রতম ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসন সরবরাহের ল্েয বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করছে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জানান, সরকারের কাছ থেকে পাওয়া সব শ্রেণির মানুষের আবাসন তথ্য ইতোমধ্যে একটি ডাটাবেজে সংরক্ষণের কাজ শুরু করেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। এতে সব শ্রেণির মানুষই জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সমান সুযোগ পাবে।
গৃহায়ন কর্তৃপরে আওতায় সারাদেশে ৩৫টি জেলা ও ৭টি উপজেলা পর্যায়ে সর্বমোট ৮ হাজার ৭৭৯.৮২ একর জমির ওপর ৬৫টি হাউজিং এস্টেট রয়েছে। এছাড়া ১৪টি জেলা এবং ৭টি উপজেলায় ১৪টি প্লট উন্নয়ন প্রকল্প, ১৪টি ফ্যাট নির্মাণ প্রকল্প, ৩টি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প এবং অন্যান্য ২টি প্রকল্পসহ মোট ৩৩টি প্রকল্পের বাস্তবায়নকাজ চলমান রয়েছে। এ সকল প্রকল্পে ২ হাজার ৫৯১টি আবাসিক প্লট, ৭ হাজার ১৮৯টি আবাসিক ফ্যাট, ৮১৯টি বাণিজ্যিক দোকান ও বিভিন্ন আয়তনের বাণিজ্যিক স্পেস নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া গৃহায়ন কর্তৃপ কর্তৃক প্রস্তাবিত, যা অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন ২টি প্লট উন্নয়ন প্রকল্প এবং ৮টি ফ্যাট নির্মাণ প্রকল্প এবং অন্যান্য প্রকল্পসহ মোট ১০টি প্রকল্প রয়েছে। এ সকল প্রকল্পে ৩১৯টি আবাসিক প্লট এবং ১১ হাজার ১৯২টি আবাসিক ফ্যাট নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ঢাকা শহরে বসবাসরত বস্তিবাসীদের জন্য মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনে ভাড়াভিত্তিক ৫৩৩টি ফ্যাট নির্মাণ প্রকল্প দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। এ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক ইচ্ছায় শুরু করা হয়েছে এবং তিনি নিজে প্রকল্পটি উদ্বোধন করেছেন। এছাড়া মিরপুর ৯ নম্বর সেকশনে বস্তিবাসীদের জন্য ভাড়াভিত্তিক আরো ৯ হাজার ৪৭৭টি ফ্যাট নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চলমান প্রকল্পটিতে প্রতিটি ফ্যাটের আয়তন ৬৫৭ বর্গফুট। লিফট, সাবস্টেশন, জেনারেটর, উন্মুক্ত জলাধার, খেলার মাঠসহ প্রকল্পটিতে সকল প্রকার আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। ফ্যাটে বসবাসকারী নিম্ন আয়ের বস্তিবাসীদের প্রতিটি ফ্যাটের মাসিক ভাড়া দৈনিক কিস্তিতে ২৪৫ টাকা অথবা মাসিক ভিত্তিতে ৭ হাজার ৩৬৫ টাকা হারে পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে বসবাসরত অবাঙালিদের পুনর্বাসনের ল্েয বসিলার কলাতলী এলাকায় সকল নাগরিক সুযোগ-সুবিধাসহ প্রায় ৮০০টি ফ্যাট নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপরে চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম জানান, প্রক্রিয়াধীন ও চলমান সকল প্রকল্পের সব তথ্যই প্রতিষ্ঠানের সেন্ট্রাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত হবে। এতে প্রতিষ্ঠানের সব তথ্যই এক কিকে জানা যাবে এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাজে গতি এনে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ‘সকলের জন্য আবাসন/কেউ থাকবে না গৃহহীন’ Ñ কার্যক্রমকে বেগবান করা যাবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের
‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে কাজ করছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ
জানা গেছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অনিয়মগুলো শক্ত হাতে দূর করতে শুরু করেন। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপরে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য তিনি দিনরাত অকান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এমনকি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম ছুটির দিনে অঘোষিতভাবে প্রকল্প এলাকা ভিজিট করার কারণে সংশ্লিষ্টরা কাজের গুণগত মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি সজাগ ও সতর্ক থাকেন। এতে ঠিকাদার ও নির্মাণসামগ্রী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কাজের গুণগত মানে গোঁজামিল করার সাহস পান না।
বর্তমান চেয়ারম্যান জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে যোগদানের পর থেকে কোনো ছুটি ভোগ করেননি। তিনি প্রতিদিন সকাল ৮টা-সাড়ে ৮টার মধ্যে অফিসে আসেন এবং অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে নিয়মিত হাজির হওয়ার বিষয়টি তদারকি করেন। এতে দুর্নীতিবাজরা আতঙ্কিত হলেও স্বস্তি এসেছে সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এর আগে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে সেবাগ্রহীতাদের নামজারি করতে সময় লাগত ৩৩ দিন, এখন লাগছে ৩ দিন। অবশ্য ওয়ারিশসূত্রে নামজারির েেত্র কিছুটা জটিলতা থাকায় এেেত্র সময় লাগে ১০ দিন। দায়মুক্তি পেতে আগে সময় লাগত ২১ দিন, বর্তমানে লাগে ৫-১০ দিন। সময় বর্ধিতকরণে আগে সময় লাগত ১৬ দিন, এখন সময় লাগে ৪ দিন। হস্তান্তরের েেত্র পূর্বে কোনো সময় উল্লেখ ছিল না। এখন ১০ দিন সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। পূর্বে হস্তান্তরের কাজটি সদস্য (ভূমি) পর্যায়ে নিষ্পত্তি হতো। বর্তমানে এ কাজটি পরিচালক (ভূমি) পর্যায়ে নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। এতে একটি বড় ধাপ কমে গেছে।
এভাবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপরে সেবা প্রদানের অন্যান্য েেত্রও ধাপ ও সময় কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান প্রশাসন। তাছাড়া সম্প্রতি তিনি সেবাপ্রত্যাশীদের সেবাপ্রাপ্তি সহজীকরণের লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তাকে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে সংস্থার ফ্রন্ট ডেস্কে বসে সারাদেশ থেকে আসা সেবাগ্রহীতাদের কথা শুনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দায়িত্ব বণ্টন করে দেন। এমনকি চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম নিজেও দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে ফ্রন্ট ডেস্কে বসে সেবাগ্রহীতাদের সেবা পাওয়ার বিষয়টি তদারকি করে থাকেন। ফ্রন্ট ডেস্ক থেকে অনেক ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ নির্দেশনা দেয়া হয়ে থাকে।
এমতাবস্থায় ভুক্তভোগীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে চলমান ভোগান্তি ও দীর্ঘসূত্রতা লাঘব হয়েছে বর্তমান চেয়ারম্যানের কার্যকর হস্তক্ষেপের কারণে। তাঁর সংস্কারমূলক এসব সিদ্ধান্তে গ্রাহকরা এখন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ওপর আগের চেয়ে অনেক বেশি আস্থাশীল। যেটুকু আস্থাসংকট আছে তা কেটে যাবে প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ ডিজিটালাইজড হলে।

শেষ কথা
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপরে চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একে একে সারাদেশ থেকে উদ্ধার করে চলেছেন প্রভাবশালীদের দখলে থাকা সরকারি জমি ও অবৈধ স্থাপনা।
জানা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অনেক জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল স্বার্থান্বেষী কিছু মহল। বছরের পর বছর ধরে এসব জমি অপদখল হয়ে থাকলেও উদ্ধারে জোরালো উদ্যোগ ছিল না। বর্তমান চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেয়ার পর প্রায় ৭০০ একরেরও বেশি জমি উদ্ধার করে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন।
জানা যায়, বর্তমান চেয়ারম্যানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অবৈধ দখলে থাকা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উদ্ধারকৃত জমির বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা।
একই সঙ্গে তিনি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অনিয়ম-দুর্নীতিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছেন, যা রুটিন কাজের অংশ হিসেবে এখনও অব্যাহত রয়েছে।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘সবার জন্য আবাসন, কেউ থাকবে না গৃহহীন’ স্লোগানকে সামনে রেখে দেশব্যাপী পরিকল্পিত আবাসন গড়ার ল্েয নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির কাজ প্লট-ফ্যাট, জমি-জমা সংক্রান্ত হওয়ায় গোষ্ঠীবিশেষের স্বার্থহানি হলেই দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ তোলে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং সচিবের নির্দেশনায় জনস্বার্থে সেবা বিকেন্দ্রীকরণ এবং সহজীকরণের অংশ হিসেবে প্লট/ফ্যাটের নামজারি সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে সম্পন্ন হয়ে থাকে। মাঠ পর্যায়ে দখল হস্তান্তর ও নামজারি নিষ্পত্তি হওয়ায় সেবাপ্রত্যাশীগণ অল্প সময়ের মধ্যেই কাক্সিক্ষত সেবা পেয়ে যাচ্ছেন এবং ভোগান্তিও লাঘব হচ্ছে।
এর বিপরীতে একটি দুর্নীতিবাজ চক্র বর্তমান সরকারের উন্নয়নের রূপকল্প বাধাগ্রস্ত করতে একদিকে যেমন উদোর পি-ি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা শুরু করেছে, অন্যদিকে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা মিথ্যাচার করছে। তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাশিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং অনলাইন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রচারে সহযোগিতার মাধ্যমে তাকে হেয় করার চেষ্টা চালাচ্ছে। মহলটির উদ্দেশ্য, গৃহায়ন কর্তৃপরে চেয়ারম্যান পদ থেকে রাশিদুল ইসলামকে সরিয়ে দেয়া। এ কাজে সফল হলে তারা আবারও তাদের খেয়ালখুশিমতো সবকিছু করতে পারবে।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপরে চেয়ারম্যান স্বদেশ খবরকে বলেন, দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে কোনো আপস নয়। সৎভাবে দেশ ও জাতির জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমার বিরুদ্ধে স্বার্থান্বেষী চক্র যা খুশি তা করুক, আমি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাইনি, ঘটতেও দেবো না। আমার কাছে ব্যক্তির ক্ষুদ্র স্বার্থের চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক তথা জাতীয় স্বার্থই বড়। তাই ব্যক্তিবিশেষ সরকারের অর্থ খেয়ালখুশি মতো খরচ করবে আর প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে আমি দেখেও ব্যবস্থা নেব না, তা হতে পারে না।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান স্বদেশ খবরকে আরো বলেন, একটি বিশেষ মহল সংস্থার ইতিবাচক কর্মকা-ে ঈর্ষান্বিত হয়ে ভূয়া, মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরিকল্পিত উপায়ে মিডিয়াকে ব্যবহার করে আমার তথা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসায়ী খারাপ নয়। তবে সংস্থার কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও গুটিকয়েক ব্যবসায়ী মিলে যখন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-কে বাধাগ্রস্ত করে তখন সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। পরবর্তীতে সেই দুর্নীতিবাজ চক্র যদি প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার সাহস ও সুযোগ পায়, তাহলে তো ভবিষ্যতে কোনো সৎ কর্মকর্তা দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ও সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিরুৎসাহিত হবেন।
মো. রাশিদুল ইসলাম দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের পৃষ্ঠপোষকতায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে আমি দু’টি কাজ সম্পন্ন করবোই। এর একটি হলো এই প্রতিষ্ঠানকে আমি শতভাগ ডিজিটালাইজড করবো এবং অন্যটি হলো এই প্রতিষ্ঠান থেকে দুর্নীতির মূলোৎপাটন করবো। আর এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আমি এই দুই কাজে সফল হবোই, ইনশাআল্লাহ!