প্রতিবেদন

শেষ হলো পিকেএসএফ উন্নয়ন মেলা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা উজ্জীবিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উজ্জীবিত করে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গত ২০ নভেম্বর শেষ হলো পিকেএসএফ উন্নয়ন মেলা ২০১৯-এর সপ্তাহব্যাপী আয়োজন।
১৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধান অতিথি হিসেবে উন্নয়ন মেলা উদ্বোধন করেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন আবদুল্লাহ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পিকেএসএফ-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জসীম উদ্দিন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকে কৃষকদের কল্যাণ, দারিদ্র্য নিরসন ও কৃষির উন্নয়ন এবং মানব মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। তার হাতে সম্মাননা স্মারক, প্রশংসাপত্র ও ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সমাপনী অনুষ্ঠানে মেলার ‘সেরা স্টল’ শ্রেণিতে প্রথম পুরস্কার পায় গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র, প্রথম রানার-আপ গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা এবং দ্বিতীয় রানার-আপ উন্নয়ন প্রচেষ্টা। এছাড়াও উন্নয়ন মেলায় প্রদর্শিত পণ্যসমূহের মধ্য থেকে ৩টি পণ্য সেরা সম্ভাবনাময় পণ্য হিসেবে নির্বাচিত হয়: ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের মোজারেলা চিজ, পরিবার উন্নয়ন সংস্থার ভার্টিক্যাল ক্র্যাব কালচার এবং দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নির্মাণসামগ্রী।
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ প্রণীত ‘চবৎংঢ়বপঃরাবং ড়হ চবড়ঢ়ষব-ঈবহঃৎবফ উবাবষড়ঢ়সবহঃ রিঃয চধৎঃরপঁষধৎ জবভবৎবহপব ঃড় ইধহমষধফবংয’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয় এই অনুষ্ঠানে।

স্টল এবং বিক্রি
পিকেএসএফ উন্নয়ন মেলা ২০১৯-এ ১৯০টি স্টলে নানান সেবা ও বাহারি পণ্যের পসরা সাজিয়েছিল দেশের ১২৫টি সংস্থা, যার মধ্যে রয়েছে পিকেএসএফ-এর সহযোগী সংস্থা, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, গবেষণা ও আইটি প্রতিষ্ঠান। পিকেএসএফ-এর সহযোগী সংস্থাসমূহের মাধ্যমে বাস্তবায়িত বিভিন্ন কর্মসূচির আওতাধীন দেশের গ্রামীণ ও প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত এ সকল পণ্যের বিপুল চাহিদা ছিল এ মেলায়; ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৫ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে এ মেলায় এবং মোট বিক্রির পরিমাণ ৪.১৫ কোটি টাকা।
সেমিনার
উন্নয়ন মেলা ২০১৯-এর আরেকটি বিশেষ অংশ ছিলো সেমিনার। দেশের উন্নয়ন বিষয়ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পিকেএসএফ ৫টি সেমিনারের আয়োজন করে। প্রথম ৪টি সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফ-এর চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ এবং শেষ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন আবদুল্লাহ। এসব সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদ ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
১৩ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে আয়োজিত ‘চৎড়সড়ঃরহম গরপৎড়বহঃবৎঢ়ৎরংব রহ ইধহমষধফবংয: ঈঁৎৎবহঃ ঝঃধঃঁং ধহফ ঋঁঃঁৎব চৎড়ংঢ়বপঃং’ শীর্ষক প্রথম সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মো. মুরাদ হাসান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।
১৪ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে আয়োজিত ‘ঊংঃধনষরংযরহম ঐঁসধহ উরমহরঃু ঃযৎড়ঁময ঊঘজওঈঐ চৎড়মৎধসসব ড়ভ চকঝঋ’ শীর্ষক দ্বিতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. মুসলিম চৌধুরী।
১৫ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত ‘ওসঢ়ষবসবহঃধঃরড়হ ড়ভ ঝউএং রহ ইধহমষধফবংয: ঈঁৎৎবহঃ ঝঃধঃঁং ধহফ ঋঁঃঁৎব চৎড়ংঢ়বপঃং’ শীর্ষক মেলার তৃতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং সম্মানিত অতিথি ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুলতানা আফরোজ।
১৬ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে আয়োজিত ‘ঊসঢ়ষড়ুসবহঃ এবহবৎধঃরড়হ রহ জঁৎধষ ইধহমষধফবংয রহ ঃযব ঈড়হঃবীঃ ড়ভ ঞবপযহড়ষড়মরপধষ অফাধহপবসবহঃ’ শীর্ষক চতুর্থ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম।
১৭ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত ‘খরাবষরযড়ড়ফ ঊহযধহপবসবহঃ ঃযৎড়ঁময গড়ফবৎহ অমৎরপঁষঃঁৎধষ চৎধপঃরপবং: চকঝঋ’ং ঊীঢ়বৎরবহপবং’ শীর্ষক শেষ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান।

সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা
পিকেএসএফ উন্নয়ন মেলা ২০১৯-এর একটি বড় আকর্ষণ ছিল মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ১৪-১৮ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত সকলের জন্য উন্মুক্ত প্রতিটি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় দেশের বরেণ্য শিল্পীবৃন্দ যেমন হাজার দর্শক-শ্রোতাকে মুগ্ধ করেন, তেমনি পিকেএসএফ-এর বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার শিল্পীবৃন্দ পরিবেশন করেছেন দেশজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিন্নধর্মী পরিবেশনা, যা মেলায় যোগ করে ভিন্ন মাত্রা।